-->
your code goes here
কলকাতা রঙ্গ. Created by Techly420
¯\_(ツ)_/¯
Something's wrong

We can't seem to find the page you are looking for, we'll fix that soon but for now you can return to the home page

Bookmark

রকি হ্যান্ডসাম মুভি রিভিউ

ফিল্মের প্রেক্ষাপট গোয়া৷ কবীর আহলাওয়াত (জন আব্রাহাম) একটি বন্ধকী দোকান চালায়৷ কালো পোশাক আর হুডেড জ্যাকেট পরে ঘুরে বেড়ায় গোটা গোয়া৷ কখনও কেউ তাকে হাসতে দেখেনি৷ কথা বলতেও খুব কম দেখা যায়৷ শুধু প্রতিবেশা নাওমির (দিয়া চালওয়াড়) প্রতি তার কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে৷ নাওমির মা অ্যানা (নাথালিয়া কউর) ড্রাগ মাফিয়ার চক্করে প্রাণ হারায়৷ তার শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ বিক্রি করে দেয় কেভিন (নিশিকান্ত কামাত ) আর তার ভাই লিউক (টেডি মৌর্য)৷ নায়োমিকে নিয়ে তারা কার্লা আন্টির (সুহাসিনী মুলে) কাছে রাখে৷

পরে তারও চোখ উপড়ে বিক্রি করবে বলে৷ ড্রাগ মাফিয়া মান্টোকে মেরে কেভিন আর লিউক হয়ে ওঠে গোয়ার এক নম্বর মাফিয়া৷ ক্রমে পুলিশ আর কবীর আবিষ্কার করে কেভিন আর লিউকের মূল ব্যবসা হল অর্গান ট্রেড৷ রীতিমতো র্যাকেট চালায় তারা৷ পুলিশ যথারীতি হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে কেভিন আর লিউককে৷ কিন্ত্ত যেহেতু ফিল্মের হিরোও আলাদাভাবে ভিলেনদের খুঁজতে থাকে তাই পুলিশ ফেল মেরে যায়৷ আর তারপরেই পরিত্রাতা রূপে হাজির হয় কবীর৷ ওয়ান ম্যান আর্মি৷ হাত, চাকু, বন্দুক কিছুই তাকে দাবিয়ে রাখতে পারে না৷ শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই হয়৷ মারামারি, গোলাগুলি চলার পর নায়োমিকে ফিরে পায় কবীর, আসলে যে ছিল সরকারি এজেন্ট৷

গল্পটা শুনে মাথা গুলিয়ে গেল? যারা ছবিটা দেখেছে তাদের কথা ভেবে অন্তত নিজেকে ভাগ্যবান মনে করুন৷ প্রথম অর্ধে জন মোটামুটি বিশ্রামেই ছিলেন৷ অভিনয়টা তিনি পারেন না৷ তাই সে চেষ্টাও করেননি৷ অ্যাকশনটা করতে পারেন৷ কিন্ত্ত কোনও অজানা কারণে তিনি ভায়োলেন্স বেছে নেননি৷ বিরতিতে স্ক্রিন অর্ধেক বয়ে যায় যেখানে ট্রানজিশন শট এ দেখা যায় দু'দিকে দুই জন আব্রাহাম একজন রকি আর অন্যজন হ্যান্ডসাম৷



দর্শকরা যাতে ভুল না বোঝেন সে জন্য শটটা মার্জ করিয়ে বোঝানো হয় দু'জনে আসলে একই ব্যক্তি৷ যখন থেকে জন মারপিট করতে শুরু করলেন, ততক্ষণে অর্ধেক দর্শক উঠে বেরিয়ে গিয়েছে৷ যারা আছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিভৃতে সঙ্গীর সঙ্গে গল্প করছে, বাকিরা ঘুমোচ্ছে৷

ফলে হ্যান্ডসাম রকি কিনা, সে সাংঘাতিক নৃশংস স্পেশাল এজেন্ট কিনা কারও কিচ্ছু এসে গেল না৷ এবার আসা যাক বাকিদের কথায়৷ নিশিকান্ত কামাত৷ দৃশ্যম, মুম্বই মেরি জান, ফোর্স করার পর কেন যে তাঁর এই মতিভ্রম হল তা কেবল তিনিই বলতে পারবেন৷ তবে অভিনয়টা অবশ্য মন্দ করেননি৷ শ্রীতি হসন প্রথম দৃশ্যে এলেন, যথেষ্ট শরীর দেখালেন৷ নায়ককে মহান প্রেমিক, একাকী, নিঃসঙ্গ, প্রখর পুরুষ বোঝানোর জন্য তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে মরেও গেলেন৷ ফিল্মে বাচ্চা থাকলে এমনিই ছবি হিট৷ বজরঙ্গি ভাইজান তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ৷ কিন্ত্ত দিয়া চালওয়াড়ও ছবি টানতে পারলো না৷

আরও একটু ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং এর প্রয়োজন ছিল বোধহয়৷ শরদ কেলকার পুলিশ হয়ে কী করলেন, কেন করলেন কিছুই বোধা গেল না৷ এদের মধ্যে আনন্দ দিলেন কাজু প্যাট্রিক ট্যাং৷ তাঁর কাইনেটিক মার্শল আর্ট দেখে মন ভরে যায়৷ অ্যাকশনে অবশ্য নিন্দুকেরাও জনকে খারাপ বলতে পারবেন না৷ কিন্ত্ত সমস্যাটা হল যতক্ষণে তিনি ওয়ার্ম-আপ করে অ্যাকশন শুরু করলেন ততক্ষণে দর্শকদের যা ধৈর্য্যচ্যুতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে৷

ফিল্মের গান বা মিউজিকও কোনও ছাপ ফেলতে পারে না৷ তাই সব শেষে জনকে অনুরোধ টাকাগুলো বাড়িতেই থাক না৷ কী দরকার এরকম ফিল্ম বানানোর? আর যদি বানানই তাহলে ভালো পরিচালক নিন৷ যিনি পুরো কাজটা করে দেবেন আর আপনি ক্ষীরটা খাবেন৷ যেমন মাদ্রাস ক্যাফে তে করে নিয়েছিলেন সুজিত সরকার৷
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন