পোস্টগুলি

October, 2015 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নাখোদা মসজিদ

নাখোদা মসজিদ কলকাতার প্রধান মসজিদ। এটি মধ্য কলকাতার বড়বাজার এলাকার জাকারিয়া স্ট্রিট ও রবীন্দ্র সরণির সংযোগস্থলে অবস্থিত। কচ্ছের একটি ছোট্ট সুন্নি মুসলমান সম্প্রদায় কুচ্চি মেমন জামাত আগ্রার সিকান্দ্রায় অবস্থিত মুঘল সম্রাট আকবরের সমাধি সৌধের অনুকরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। কুচ্চি মেমন জামাত সম্প্রদায়ের নেতা আবদুর রহিম ওসমান এই মসজিদের স্থাপক। তিনি নিজে ছিলেন বিশিষ্ট নাবিক। নাখোদা শব্দেরও অর্থ নাবিক। ১৯২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই মসজিদটি স্থাপিত হয়। সেই সময় মসজিদটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছিল ১,৫০০,০০০ টাকা।

কলকাতা চিৎপুর অঞ্চলে অবস্থিত নাখোদা মসজিদ কলকাতার প্রধান মসজিদ। মহাত্মা গান্ধী রোড থেকে চিত্পুর, রবীন্দ্র সরণি ধরে দক্ষিণমুখী ৫ মিনিটের পথে জাকারিয়া স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এই নাখোদা মসজিদ। এটি কলকাতার বৃহত্তম মসজিদ। আগ্রার সিকান্দ্রাতে তৈরি আকবরের সমাধির আদলে ইন্দো-শৈলীতে লাল বেলে পাথরে রূপ পেয়েছে নাখোদা মসজিদটিতে। একত্রে ১০ হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ পড়তে পারেন। পাশেই রয়েছে সিঁদুরিয়া পট্টিতে হাফিজ জালাল উদ্দিনের মসজিদ। আর সুন্দর কারুকার্যময় মানিকতলায় কারবালা মসজিদ।

এখানে আগে একটা ছ…

সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে কলকাতা

ছবি
আশির দশকের শেষ সময় কলকাতার পার্ক স্ট্রিট এলাকার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্ক-এর সামনে বাম শ্রমিক সংগঠনের তরফে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য পশ্চিমবঙ্গে কম্পিউটারকে প্রবেশ করতে না দেওয়া। বাম শ্রমিক ইউনিয়নের ধারণা ছিল যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে চাকরি হারাবে শ্রমিকরা।
কিন্তু নব্বই-এর দশকের গোড়া থেকেই বদলে যেতে থাকে শহর কলকাতার চেহারা। কখনো যে কলকাতাকে বলা হয়েছে মিছিল নগরী সেই কলকাতা আজ বদলে গেছে অনেকটাই।

সভ্যতার অপ্রতিরোধ্য গতিতে যে অঞ্চলটিতে এক সময় কম্পিউটার প্রবেশের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠেছিল সেই পার্ক স্ট্রিট এখন ওয়াই-ফাই জোন।
আশির দশক পেরিয়ে নব্বই দশকের শেষ পর্যন্ত যানজট ছিল কলকাতার অঙ্গ। দীর্ঘ যান বাহনের সারিতে অপেক্ষা করতে হত নিত্য যাত্রী থেকে রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সকেও। শহরের মধ্যের পরিবহন আর শহরের বাইরে থেকে আসা মাল বোঝাই গাড়ির ভিড়ে হাঁসফাঁস করত কলকাতা। উড়াল পুল বলতে ব্রবোন রোডের উড়াল পুল সহ ছিল হাতে গোনা গুটিকতক উড়াল পুল। সময়ের সাথে সাথে বাড়ে শহরের রাস্তার পরিমাণ।

ভারতের মেট্রো শহর গুলির মধ্যে সবথেকে কম পরিমাণ রাস্তার শহর কলকাতার যান চলাচলকে সহজ করতে তৈরি হয়েছে …

শিশির ভেজা শিউলি ফুল

ছবি
ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা পড়ছে। আশ্বিনের ডাক মানেই পুজোর ডাক! বাড়ির কাছের নদীর জলে উপুড় হয়ে চুম্বন করল কি পুজো এল-পুজো এল আকাশ?ভোরের মাটিতে শিউলি ঝরে পড়ছে। আজও সকালে হিমেল হাওয়ায় শিউলির সুবাস খুঁজে বেড়াই, এই সময় শিউলিতলা কেমন আলো করে থাকত, ভোরের শিশির মেখে সূর্যের কিরণ যখন তার উপর এসে পড়ত শিউলির তখন নববধূর বেশ। শিউলি গুলো চৌকো ফ্রেমে ধরা দিয়েছে বাড়ির জানলায়।

জানালার ধারে একটা শিউলি গাছ ছিল। ভোরের রাতে শিউলি ফুলের গন্ধে ভরে যেত সারাটা ঘর। ঝরে পড়া শিউলি ফুলের হালকা টুপটাপ শব্দ শোনা যেত সারাটা রাত ধরে। সেই টুপটাপ শব্দ শুনতে শুনতে এক সময় ষষ্ঠীর সকাল এসে পড়ত। ঠিক তখনই সারা ঘরে একটা মায়াবী আলো ছড়িয়ে পড়ত।



শিউলি ফুল দক্ষিণ এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব থাইল্যান্ড থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশ, ভারত, উত্তরে নেপাল, ও পূর্বে পাকিস্তান পর্যন্ত এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়। এটি শেফালী নামেও পরিচিত। এই ফুল পশ্চিমবঙ্গের ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের রাষ্ট্রীয় ফুল। শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল বিশিষ্ট হয় এবং ১০ মিটারের মত লম্বা হয়।

গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরী…

শরতের কাশ ফুল

ছবি
ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা পড়ছে কি? ভাদ্র কেটে আশ্বিন এল বলে! বাড়ির কাছের নদীর জলে উপুড় হয়ে চুম্বন করল কি পুজো এল-পুজো এল আকাশ? ভোরের মাটিতে শিউলি ঝরে পড়ল বলে পদ্মেরা মাথা তুলছে, কাশ দল দোল দিচ্ছে মনের বনের আনাচ-কানাচ। স্কুলফেরত খুদেদের দাপাদাপি কাশের বনে। কাশফুল মাথায় দিয়ে গ্রামের সেই কিশোরী যেন এই পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানবী! অচিন নদীতে নৌকো ভাসিয়ে দু’পারের কাশের জঙ্গল পেরিয়ে অজানা পথ পাড়ি দেয় যে মাঝি।



শরৎ এলেই সাদা কাশফুলে ছেয়ে যায় গ্রামবাংলার প্রান্তর। তবে এই কাশফুল দেখতে নগরবাসীকে দূরে যেতে হয় না। শরতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই এখন ছুটছেন এসব কাশবনে। বিকেল ঘনাতেই জমজমাট হয়ে উঠছে ফাঁকা এলাকাগুলো।

বাংলার মিষ্টান্ন

ছবি
যদি মিষ্টি খেতে মিষ্টি না হয়ে অন্য কোন স্বাদের হতো, সেক্ষেত্রে মিষ্টির নাম হতো কি? মিষ্টি একাধারে যেমন একটি স্বাদের নাম, ঠিক তেমনি মিষ্টি একটি বিশেষ মিষ্টান্ন জাতীয় খাদ্য প্রকার। চা’য়ে চিনি দিলে বলা হয় মিষ্টি চা। চিনি দিয়ে তৈরী বিস্কুটকে বলা হয় মিষ্টি বিস্কিট। শরবতে লবনের পরিবর্তে চিনি দিলে বলা হয় মিষ্টি শরবত। তাই যদি হয়, তাহলে বলুন তো, মিষ্টিতে চিনি দিলে সেটাকে কি বলা হবে? মিষ্টি চিনি?

মিষ্টি নিয়ে যতসব মিষ্টি মিষ্টি কথা না বাড়িয়ে, চলুন শুনি কিছু মিষ্টি কাহিনী। মিষ্টি হলো চিনির বা গুড়ের রসে ভেজানো ময়দার গোলা কিংবা দুধ- চিনি মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন আকৃতির ছানার/ময়দার টুকরো করা খাবার। বাঙ্গালির খাওয়া-দাওয়ায় মিষ্টি একটি অতি জনপ্রিয় উপকরণ। বাঙ্গালির কোন উপলক্ষ-অনুষ্ঠানই মিষ্টি ছাড়া পূর্ণতা পায় না। মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে।

বঙ্গ দেশে মিষ্টিকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য নামী-দামী মিষ্টির দোকান। সেই আদিযুগের লাড্ডু থেকে শুরু করে সন্দেশ, কালোজাম পেরিয়ে আজ মিষ্টির প্রকারভেদ শিল্পের সমপর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, স্বাদ ও আকারে এমনকি নামকরণের ভিন্নতা নিয়ে স্বতন্ত্র…

কলকাতা রেস কোর্স

ছবি
কলকাতা রেস কোর্স আজও প্রাসঙ্গিক। প্রথম দিনের অভিঘাতের তীব্রতা স্বাভাবিক ভাবেই আর নেই, কিন্তু উত্তেজনা অবশ্যই আছে। যদিও চল্লিশ বছর আগের সেই প্রথম দিন রেসের মাঠে গিয়েছিলেন মধ্যবিত্তের অপরাধবোধ নিয়েই। কিন্তু মাঠে গিয়ে যখন দেখলেন সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র, গায়ক দেবব্রত বিশ্বাস বসে আছেন, তখন ধারণাটা গুলিয়ে গিয়েছিল। আর সেই প্রথম দিনেই একই রকমভাবে ছুটন্ত ঘোড়ার পা পড়ে গিয়েছিল ‘ফক্স হোল’-এ। পা ভেঙে গিয়েছিল। তাকেও এই ভাবেই ক্যানভাসের ঘোরাটোপের মধ্যে নিষ্কৃতি-মৃত্যু দেওয়া হয়েছিল।

তবে ঘোড়দৌড়ের রক্ত ছলকে ওঠা উত্তেজনার মতো এই রক্তপাতও গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। পুরসভার ‘মৃত পশুবাহী’ গাড়ি যখন মাঠে ঢুকছে, তখনই লাউড স্পিকারে ঘোষণা হচ্ছে, জকি জখম হয়েছেন। তাঁর বদলি এক জকি বাকি রেসগুলো দৌড়বেন। সবাই বই উল্টে দেখতে শুরু করে দিয়েছেন, চৌহানের জন্য বেছে রাখা ঘোড়ার সঙ্গে নতুন জকির কম্বিনেশন কতটা ‘আপসেট ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারে।

কোন ঘোড়ার জন্য কোন জকি, সেটা ঠিক করেন ট্রেনার। ঘোড়া কেনার ক্ষেত্রেও ট্রেনারদের মতামতই শেষ কথা। যদিও ‘হেভিওয়েট’ মালিকরা নিজেদের নামীদামি ঘোড়ার মানানসই জকি অনেক সময় নিজেরাই পছন্দ করে …