পোস্টগুলি

September, 2017 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সিদুঁর খেলা রাঙিয়ে উমা বিদায়

ছবি
উৎসবের শেষে বিষাদের সুর। আজ বিজয়া দশমী। ঘরের উমার এ বার বাপের ঘর থেকে বিদায় নেওয়ার পালা।মনের কোণে বিষাদ। ফের এক বছরের অপেক্ষা।সকাল থেকেই বিভিন্ন বাড়িতে এবং মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সিঁদুর খেলা। মঙ্গল কামনা করে একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে দিচ্ছেন মহিলারা। দেশের বাইরেও প্রবাসী বাঙালিরা মেতে উঠেছেন সিঁদুর খেলায়।

জমজমাট খাওয়াদাওয়া, দেদার আড্ডা সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং। কদিন এটাই ছিল রুটিন। উৎসবের আনন্দ পূর্ণতা পেল সিদুঁর খেলায়।



আজ মহানবমী - ছবি

ছবি
যেও না নবমী নিশি লয়ে তারা দলে, তুমি গেলে দয়াময়ী এ পরাণ যাবে। নবমীর নিশি পোহালেই মার যাবার পালা। মন সবারই ভারাক্রান্ত, একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা। মন খারাপের রঙ জামকে নিয়েই আমাদের নবমীর রাতের সোনামুখী সিল্ক।

তবুও যেন এ রঙ পরিতৃপ্তির, চারদিনের উৎসবের টুকরো টুকরো সোনালী স্মৃতি ছিটিয়ে আছে মীনা কাজের মধুবনী আঁকা আঁচলে, আমরা গেঁথে রাখছি মঙ্গলসূত্রে। ভোগের বেগুনভাজার ব্যঞ্জনবর্ণ, পঞ্চকশাইয়ের জাম ফল, খুঁজে পাওয়া জারুল ফুল, আবার নবমী পুজোর ব্যবহৃত খাল, বিলে ফুটে থাকা বেগুনী কুমুদ ফুলকে পেয়েছি আমরা কুরশের কাজের রুমালে।

এই রঙ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের পশ্চিম প্রান্তে, আরব সাগরের পারে। সব্বাই মেতে উঠেছে নবরাত্রির গরবা, ডান্ডিয়ার রাসে। নৃত্যবিলাসীরাও সেজে উঠছে এই একই নির্দিষ্ট রঙে।

নবমীর সকাল হলেই যেন মনটা কেমন খারাপ হতে থাকে। বেলা গড়িয়ে যতই বিকেল হতে থাকে ততই গভীর হতে থাকে মন খারাপ। আর সন্ধের পর থেকে ঢাকের আওয়াজেও যেন বিষাদের সুর। নবমীর রাতটা এলেই মনে হতে থাকে আজই পুজো শেষ। কাল ভাসান হলেই আবার সেই একঘেয়ে জীবনে ফেরা। আর মাত্র এক দিন ছুটি। তারপরই অফিস। আবার অফিস যেতে হবে ভাবলেই মুড অফ হয়ে যায়। আর নবমীর রাতে ন…

দূর্গা পূজা

ছবি
দুর্গা মূলত শক্তি দেবী। বৈদিক সাহিত্যে দুর্গার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে দুর্গার বিশেষ আলোচনা ও পূজাবিধি তন্ত্র ও পুরাণেই প্রচলিত। যেসকল পুরাণ ও উপপুরাণে দুর্গা সংক্রান্তআলোচনা রয়েছেসেগুলি হল মৎস্যপুরাণ, মার্কণ্ডেয় পুরাণ, দেবীপুরাণ, কালিকাপুরাণ ও দেবী-ভাগবত। তিনি জয়দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা, চণ্ডী, নারায়ণী প্রভৃতি নামে ও রূপে পূজিতা হন ।

বছরে দুইবার দুর্গোৎসবের প্রথা রয়েছে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষেশারদীয়া এবং চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে বাসন্তী দুর্গাপূজা। দুর্গা অর্থাৎ যিনি দুর্গ বা সংকট থেকে রক্ষা করেন । অন্যমতে, যে দেবী দুর্গম নামক অসুরকে বধকরেছিলেন । দেবী দুর্গার অনেকগুলি হাত। তাঁর অষ্টাদশভূজা, ষোড়শভূজা, দশভূজা, অষ্টভূজা ওচতুর্ভূজা মূর্তি দেখা যায় ।

তবে দশভূজা রূপটিই বেশি জনপ্রিয়। তাঁর বাহন সিংহ । মহিষাসুরমর্দিনী- মূর্তিতে তাঁকে দেখা যায় । হিন্দুশাস্ত্রে দুর্গা শব্দটিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে: দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ। উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।। রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ । ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চা কারঃ পরিকীর্তিত । অর্থাৎ, "দ" অ…

ম্যাডক্স স্কোয়্যার

ছবি
ম্যাডক্সের আড্ডা। আর সুন্দরীদের টানে পারলে পুজোর চার দিনই ওখানে কাটিয়ে দেওয়া যায়। এটাই আসলে পুজোর ম্যাজিক। সেখানে দেদার খাওয়া হত।



কুমারী পূজার ইতিহাস

ছবি
মাতৃপূজার প্রচলন পৃথিবীর বিভিন্নভাবে দেখা গেলেও ভারতবর্ষের মতো শক্তির সাধনা আর কোথাও দেখা যায়না। এখানে বহুরূপে শতনামে শক্তির আরাধনা হয়। দুর্গাপূজার সময় কিছু কিছু পূজামণ্ডপে দেবীর কুমারী রূপের পূজার আয়োজন করা হয়। মহাশক্তির বরেণ্য সাধক-সন্তান শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরীজী তাঁর শ্রীশ্রী দশমহাবিদ্যা গ্রন্থে নানাভাবে দর্শন করেছেন নিখিল ব্রহ্মাণ্ডের প্রসূতী ব্রহ্মবিদ্যারূপিণী আদ্যাশক্তি মা’কে।

তাঁর দৃষ্টিতে এই মা ব্রহ্মশক্তি ব্রহ্মময়ী, নির্গুণ ব্রহ্মের অচিন্ত্যগুণ প্রকাশিনী আদ্যাশক্তি সনাতনী, সমগ্র জীব-জগতের আশ্রয় স্বরূপ। নিষ্কলা হয়েও পরমাকলা-পরম ঐশ্বর্য্যময়ী। তাঁর বাণী- আকাশে আকাশবরণী নিত্য প্রকাশ ইনি যে দুহিতর্দিবঃ।। মাগো তুমি যে আকাশেরই মেয়ে! তুমি আকাশ ক্রোড়ে আকাশরাণী।

মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত দেবী মাহাত্ম্য শ্রীশ্রী চণ্ডী নারায়ণীস্ততির পঞ্চদশ শ্লোকে রয়েছে- কোমারী রূপ সংস্থানে নারায়ণী নমোহস্তুুতে।। কুমারী কে? অপাপবিদ্ধা নিত্যশুদ্ধা সৃজনকারিণী ব্রহ্মশক্তি। কুমারী ব্রহ্মরূপিণী স্ত্রীশক্তি। এটির ইংরেজী প্রতিশব্দ নিষ্কল পবিত্র ও অসঙ্গা।

তন্ত্রসারে এক থেকে ষোল বছর পর্যন্ত নারীকে কুমারী…

আজ মহাষ্টমী পূজা

ছবি
শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহাষ্টমী। মহাষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা ও সন্ধি পূজা পালন হবে আজ। গতকাল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ উদ্দীপনা ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে মহাসপ্তমী। ভোরে নবপত্রিকা স্নান দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের সপ্তমীর দিন। এরপর ছিল স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ, ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, চন্ডি ও মন্ত্র পাঠ, দেবীর পায়ে ভক্তদের পুস্পাঞ্জলী প্রদানসহ নানা আয়োজন।

মহাসপ্তমী শেষে শারদীয় দুর্গাপুজার সবচেয়ে আকর্ষনীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন আজ। দেবীর সন্ধিপূজা আর কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে পালান হবে দিনটি। কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা। শাস্ত্রে ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুস্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মন অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে।



বাঙালির ঘরের মেয়ে উমা এসেছে বাপের বাড়িতে। তারই নাকি আবার পুজো। প্রকাণ্ড প্রতিমার সামনে বসেছে আমাদের ছোট্ট চিন্ময়ী দেবী, মহাশক্তি রূপে। গঙ্গাস্নানের পরে সে পরেছে রক্ত-লাল বেশ, চন্দন, কুমকুমে চর্চিত, পুষ্পে শোভিত, আলতা, সিন্দুরে অর্চিত সে। শুরু…

মহাসপ্তমী আজ - ছবি

ছবি
দুর্গাপুজোর অন্যতম আচার নবপত্রিকা স্নান। সপ্তমীর সকালে হয় স্নান। নবপত্রিকার আক্ষরিক অর্থ 'নয়টি পাতা'। এগুলি হল কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম্ব, অশোক, মান ও ধান। একটি কলাগাছের সঙ্গে অপর আটটি গাছের পাতা বা ডাল বেঁধে দেওয়া হয়। অপরাজিতা লতা দিয়ে বাঁধা হয়। তার পরে লাল পাড়ওয়ালা সাদা শাড়ি জড়িয়ে তাকে ঘোমটাপরা বধূর রূপ দেওয়া হয়। সিঁদুর পরানো হয়। নবপত্রিকার প্রচলিত নাম 'কলাবউ' হলেও তিনি কারও বউ নন।

শাস্ত্র মতে নবপত্রিকা ন'জন দেবীর প্রতীক। কলা রূপে ব্রহ্মাণী, কচু রূপে কালিকা, হলুদ রূপে উমা, জয়ন্তী রূপে কার্তিকী, বেল রূপে শিবানী, দাড়িম রূপে রক্তদন্তিকা, অশোক রূপে শোকরহিতা, মান রূপে চামুণ্ডা এবং ধান রূপে লক্ষ্মী। শাস্ত্রানুসারে নবপত্রিকা হল নয় পাতায় বাস করা নবদুর্গা। দুর্গার ডানদিকে তথা গণেশের পাশে রাখা হয় নবপত্রিকাকে। কলাবউকে অনেকে গণেশ ঠাকুরের বউ মনে করলেও সেটা একেবারেই ভুল।

স্বপ্নে এমনটাই আদেশ ছিল বোধহয় তাঁর। সেই থেকেই কৃষ্ণনগরের চট্টোপাধ্যায় পরিবারে অপরাজিতা রঙের দেবী পুজোর প্রচলন। ভক্তের কাছে তিনি নীল দুর্গা। বনেদি বাড়ির আনাচে, কানাচের অভিজাত বৈভব, তাঁর রাজকীয় নীল রঙে…

নবপত্রিকা এবং কলা বৌ স্নান

ছবি
মার্কণ্ডেয় পুরানের যুগ থেকে আনুমানিক ১২০০/১৩০০ বছর আগে রামায়নে বর্ণিত না থাকলেও সেকালে নবপত্রিকার নবরাত্রি উৎসব ছিল। নয়টা বিশেষ ঔষধীয় গুন্সম্পন্ন গাছের মানুষ পুজা করত। এই নয়টা গাছ হল কদলী, কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, অশোক, বিল্ব, দাড়িম্ব, মান, ধান্য।

কদলী যেমন খাদ্যমূল্য আছে তেমনি অনেক রগেরও ঔষধ। সর্বাংশ কাজে লাগে। তাই ধরা হয় কদলীতে যে প্রাশক্তির অধিষ্ঠান তার নাম ব্রহ্মাণী। সে কালে আলু ছিল না, লকে কচু খেত। এর বিভিন্ন ধরনের গুন। কচুর মধ্য অনেক গুন থাকায় এর শক্তির যে শক্তির অধিষ্ঠান তাকে বলা হয় কালিকা।

কাচা হলুদ চর্মরোগের ঔষধ। হলুদের হলুদেরগুন থাকায় একে মানুষ পুজা করত। এর পরাশক্তির তার নাম দুর্গা। জয়ন্তী লতা শ্বেতী রোগে ব্যবহার হয়। এতে যে শক্তি আছে তার নাম কার্ত্তিকী। অশোক ফুল নানা রগের ঔষধ। স্ত্রীরোগের ঔষধ অশোকারিষ্ট। এর দেবীর নাম হল শোকরোহিতা।

কাঁচা বেল বহু গুন সম্পন্ন। এর অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম শিবা। দাড়িম্ব বা ডালিম । খাদ্য হিসাবে ঔষধীয় গুন সম্পন্ন । এতে যে দেবীর কল্পনা করা হয় তার নাম রক্তদন্তিকা মান কচুতে যে দেবীর অধিষ্ঠান কল্পনা করা হয় তার নাম চামুণ্ডা।

আর ধানে যে দেবীর অধিষ্ঠান তার নাম …

শুভ মহা ষষ্ঠী

ছবি
আমরা সারা বছর ব্যাকুল অপেক্ষায় বসে থাকি কখন, শহরের মাটির পুতুলের গ্রাম-কুমারটুলি, পটুয়াপাড়ার সেই পছন্দ করা মাটির মূর্তিরা আমাদের পাড়ার প্যান্ডেলে আসবে।

ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু, ক্ষীরোদসাগরের তীরে মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মান করেছিলেন, বাঙালি পন্ডিত ভবদেব ভট্টও বিধান দিয়েছিলেন মাটির দুর্গামূর্তির পুজোর। আবার দেবী মৃন্ময়ীর স্বপ্নাদেশেই তো বাংলার প্রাচীন দুর্গাপুজো, বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের মল্লরাজবংশের কুলদেবীকে গঙ্গামাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়।

দেবী মহাস্নানে ব্যবহার করেন বৃষশৃঙ্গমৃত্তিকা, গজদন্তমৃত্তিকা, নদীতীরের, রাজদ্বারের, চৌমাথার, বেশ্যাদ্বারের মাটি, সর্বতীর্থের ভূমি। মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার অকালবোধনে আমরা চাষাবাদের উর্বর জমিই যেন গায়ে দি।

মেটে রঙের খাদির উপর কাঁথা কাজের শাড়ি পরে, শিশিরভেজা সোঁদামাটির গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে উঠি। বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির গনেশ গলায় ঝুলিয়ে আমরা গনেশজননীর উদ্দেশে বলে উঠি- “জাগো যোগমায়া, জাগো মৃন্ময়ী, চিন্ময়ী রূপে তুমি জাগো...”


বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব

ছবি
উত্তর কলকাতার বাগবাজার সার্বজনীনের দুর্গা প্রতিমা একেবারেই সাবেকি। একচালায় ডাকের সাজে মায়ের অপরূপ প্রতিমা এখানে দেখতে পাবেন। বাগবাজারে দুর্গাপূজা সার্বজনীন অভিহিত হয় ১৯২৬ সালে। এই পূজা আগে ছিল বারোয়ারি। এই পূজার উদ্যোক্তা ছিলেন—রামকালী মুখার্জি, দীনেন চ্যাটার্জি, নীলমণি ঘোষ, বটুকবিহারী চ্যাটার্জি প্রমুখ। সঠিক অর্থে এই পূজাই কলকাতা তথা তত্কালীন ভারতবর্ষের প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপূজা।



সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সার্বজনীন দুর্গোৎসব

ছবি
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সার্বজনীন দুর্গোৎসব সেই ১৯৩৬ সালে শিয়ালদহ অঞ্চলের সার্পেন্টাইন লেনে চ্যাটার্জীদের একচিলতে জমিতে জন্ম। সার্পেন্টাইন লেনের একচিলতে জমিতে জায়গা না হওয়াতে স্বাধীনতার সমসাময়িক কালে এই পূজা উঠে আসে অতীতের সেণ্ট জেমস্ স্কোয়ার অধূনা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে অর্থাৎ লেবুতলা পার্কে। এই পুজোও বিবর্তনের হাত থেকে বাদ যায়নি। রমেশ পাল হিমালয়-কন্যা রূপে মা দুর্গাকে তৈরী করে সারা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।



১৯৯৫ সালে মণ্ডপ ছিল লোটাস টেম্পল-এর আদলে। ১৯৯৬ সালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের জন্ম শতবর্ষে নেতাজীকে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে ইতিহাস ঘেটে তাঁর ব্যবহৃত কামাতামারু জাহাজের আদলে পূজা মণ্ডপ তৈরী করে বিশ্বের মণ্ডপ সজ্জার ইতিহাসে শুরু হল আলোড়ন।

মহম্মদ আলি পার্ক দূর্গা পুজো

ছবি
মধ্য কলকাতার অন্যতম সেরা দূর্গা পুজো বলতে মনের কোণে উঁকি দেয় মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গা পুজো। শহরের যে কোনও প্রান্ত থেকে এক বাসে বা মেট্রোয় সেন্ট্রাল এভিনিউ। সেখান থেকে কয়েক পা হাঁটলেই মহম্মদ আলি পার্ক। মধ্য কলকাতার মহম্মদ আলি পার্ক সর্বজনীন শহরের আর একটি বড়ো পুজো। এদের থিম-ভাবনা একটু আলাদা রকমের–কিছুটা যেন থিম আর সাবেকিয়ানার মেলবন্ধনের প্রয়াস।






একডালিয়া এভারগ্রিন দূর্গা পুজো

ছবি
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত বিখ্যাত দূর্গা পুজো একডালিয়া এভারগ্রিন। ১৯৪৩ থেকে গড়িয়াহাটে এই ক্লাবের পুজো হয়ে আসছে। সিংহি পার্কের পুজোই মূলত একডালিয়া এভারগ্রিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিবছরই দেশের কোনও না কোনও বিখ্যাত মন্দিরের আদলে প্যান্ডেল তৈরি করেন একডালিয়া এভারগ্রিনের উদ্যোক্তারা। শুধু প্যান্ডেল নয়, সেইসঙ্গে একডালিয়া এভারগ্রিনের অন্যতম আকর্ষণ ঝাড়বাতি। মণ্ডপ প্রাঙ্গনে বিশালাকারের ঝাড়বাতি লাগানো হয়।

শুধু জাঁকের বহরেই একডালিয়া কলকাতার প্যান্ডেল হপারদের আবশ্যিক ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে। নয়ের দশক থেকে শহরে থিম পুজোর আগ্রাসন শুরু হলেও উত্তরের বাগবাজার, সিমলা ব্যায়াম সমিতি বা মধ্য কলকাতার কলেজ স্কোয়ারের মতোই একডালিয়াকে তা স্পর্শ করতে পারেনি। তবে, বাকিদের মতো সাবেকিয়ানা আঁকড়ে থাকলেও প্রতিমা, মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জায় স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে একডালিয়া।



কলকাতার সর্বজনীন পুজোর নিরিখে উত্তর কলকাতাই ছিল পথিকৃত। শহরের বেড়ে ওঠার আর্থ-সামজিক ইতিহাসের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাগবাজার থেকে সিমলা ব্যায়াম সমিতির মতো পুজো কলকাতার বারোয়ারি পুজোর সংজ্ঞা নিরূপণ করেছিল। যদিও প্রায় একই সময়ে সংলগ্ন এলকায় আরও অন…

কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব

ছবি
মধ্য কলকাতার কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীনের দুর্গা পুজো কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত পুজোগুলির অন্যতম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কলেজ স্কোয়ারে আয়োজিত এই পুজোটির সঙ্গে থিমের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সুবিশাল মণ্ডপ ও সুসজ্জিতা মাতৃপ্রতিমা প্রতিবছরই এখানকার প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকে। কলেজ স্কোয়ারের পুজোর উদ্দীপনাই আলাদা। অন্যান্য বারের মতো এবারেও কলেজ স্কোয়ারের মাতৃ মূর্তি সাধারণ অথচ অপরূপ। এখানে দেবীর অঙ্গসজ্জা হয় পূজাকমিটির নিজস্ব সোনার অলংকারে। মণ্ডপের মধ্যে একটি সুবিশাল বেলোয়াড়ি ঝাড়ও দেখার মতো।



আধুনিক হয়েও সনাতন ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানা জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন। আড়ম্বরের আতিশয্য নেই, নেই থিম-বিষয় ভাবনার চাকচিক্য, তবু আজকের পৃথিবীর রুক্ষ মাটিতে চূড়ান্ত বাস্তব। কিন্তু এই থিমের লড়াইয়ের মধ্যে পড়েও সনাতনী ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানা থেকে এতটুকু সরে আসেনি কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন। পোশাকি নাম বিদ্যাসাগর উদ্যান। কিন্তু খ্যাতি কলেজ স্কোয়ার নামেই। মধ্য কলকাতার সবথেকে বিখ্যাত পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এই পুজো।

কোনওদিনই থিমের মোহজাল ছিল না, আজও নেই। তবে চিরকালই সমাজ সচেতনত…

কুমোরটুলি

ছবি
উমার সাজ প্রায় সম্পূর্ণ। শেষবেলার রং-তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। উমার সাজঘরের কুশীলবেরা এখন দিন-রাত এক করে মৃণ্ময়ীকে সাজাতে ব্যস্ত। কুমোরটুলি সারাটা বছর থাকে প্রচারের আড়ালে। কিন্তু, এই দুর্গাপুজোর সময়টায় সেই বিশ্বকর্মা'রা আসেন যেন অন্য রূপে! জীবন আর মাটির স্বর্গ যেন একাকার হয়ে যায় প্রতিমা বেরিয়ে পড়ছে সাজঘর ছেড়ে যাচ্ছে মণ্ডপ আলো করে মানুষের মনের আলো জ্বালাতে উৎসবের কাল এল।কুমোরপাড়ার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেল সেই কাল, গভীর রাতে শিল্পী আর কারিগরদের আড্ডা, সাত-সকালের ঘুমভাঙা জীবন, মাটির টান আর সে জীবনের পরতে পরতে ভেসে আসে বন্দনার সুর। মা আসছেন।



উত্তর কলকাতার গঙ্গার ধারে কুমোরটুলি। বছরের এই সময়টা পুজোর গন্ধ গায়ে মাখতে হাজির হন অনেকেই। উৎসাহী চোখ, কিংবা ক্যামেরার ক্লিক কিংবা শিল্পীর ব্যস্ত হাতের নিঁখুত টান এই সবের কোলাজে মন্দ লাগে না। যদিও শুধু এই সময়টা নয়, সারা বছর ধরে খড়ের গায়ে মাটি লাগিয়ে চলে দেব দেবীদের মূর্তি গড়ার কাজ। এ পাড়ায় অনেক বছর আগে থেকেই বহু লোকের বাস। উৎসাহী ছেলে ছোকরার দল আজ থেকে অনেক বছর আগেই ভেবেছিলো পাড়ার মাঝখানে একটা দুর্গাপুজো করবে। সেই পুজোর নাম কুমোরটুলি…

মহালয়া - মন্ত্র, গান, পাঠ

ছবি
আজ শুভ মহালয়া । আজকের এই দিনে দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে জগতের সকল অসুর ও আসুরীক শক্তি নিধধের জন্য সর্বশক্তির অধীকারি জগৎজননী মহামায়া শ্রী শ্রী দূর্গা মায়ের আহবানের মধ্য দিয়ে মাকে জাগ্রত করা হয় । মা মহামায়া দূর্গা এই পৃথিবী জগতে মহালয়ার দিনে ১০ দিনের জন্য এসে, জগতের সকল অশুভ শক্তি ধংস করে, জগৎকে তার মায়াই আবদ্ধ করে আবার দশমিতে চলে যায় । তাই জাগ্রতিক কল্যানের জন্য আসুন আমরা সবাই শ্রী শ্রী মহামায়া দূর্গার আহবান করি এবং তাকে পূনরায় জাগ্রত করি ।

আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জিত ধরনীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত । জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা, আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি, অসীম ছন্দে বেজেউঠে, রূপলোক ও রসলোকে আনে নবভাবনা ধূলির সঞ্জীবন, তাই আনন্দিতা শ্যামলী মাতৃকার চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আবাহন । সাথে সাথে শেষ হবে পিতৃপক্ষ ও সূচনা হবে দেবীপক্ষের ।



মহালয়া উপলক্ষেশুনতে পাবেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে সেই সুমধুর মহালয়া । শরতে আজ কোন্‌ অতিথি এল প্রাণের দ্বারে । আনন্দগান গা রে হৃদয়, আনন্দগান গা রে ।। নীল আকাশের নীরব কথা শিশির-ভেজা ব্যাকুলতা বেজে উঠুক আ…

ইঞ্জিনিয়ার দের কাজ কী

ছবি
ইঞ্জিনিয়ার দের কাজ কী?? এরা আসলে কি করে, কেনই বা এদেরকে উচ্চবেতনে চাকরি দেয় শিল্পমালিক রা। অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার নাম শুনলেই নাক সিটকান,
বলেন এইটা কোন ইঞ্জিনিয়ারিং হইল, আবার কিসের ইঞ্জিনিয়ারিং? শতকরা ৮০ভাগ লোকই জানেন না যে ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি মানে ইঞ্জিনিয়ারিং না। এটি সম্পূর্ন ম্যানুফ্যাকচারিং বেসড একটি প্রসেস যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ার কে মেশিন সেটাপ থেকে শুরু করে প্রসেস কন্ট্রোল, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, গিয়ার মেকানিসম এবং মেইন্টেনেন্স নিয়ে কাজ করতে হয়।

স্পিনিং এর ইঞ্জিনিয়ার দের প্রোগ্রাম ইনপুট দেয়া জানতে হয়। ওয়েট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ার দের প্রথম সারির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। নাসার বিজ্ঞানিরা যারা দীর্ঘদিন যাবত মহাকাশে মানুষ পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ার দের গবেষনায় নিযুক্ত করে স্পেস স্যুট এবং ন্যানোফাইবার, কার্বন ফাইবারের শিল্ড তৈরীর জন্য।



অতি সম্প্রতি বুয়েট নন-ওভেন জূট টেকনোলজী কে জিও টেক্সটাইল হিসেবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজে ব্যবহার শুরু করেছে, আগামিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিত বিষয় হিসেবে যখন জিও-টেক্সটাইল পড়ানো হবে তখন এই কোর্সের জন্য ইঞ্জিনিয়ার দেরকেই শিক্ষক হিসেবে …

স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো বক্তৃতা

আজ ১১ সেপ্টেম্বর। ১৮৯৩ সালের আজকের দিনে এক অখ্যাত ভারতীয় সন্যাস্যী যুক্তরাষ্ট্রএর শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা প্রথম বারের মত ভারতের বেদান্ত ধর্মের সাথে পরিচিত করান বিশ্বমঞ্চের অন্যান্য জাতি ও মতবাদের সাথে আর বৈদিক দর্শনের বিজয় পতাকা উড়ান বিশ্ব সভায়।

১৮৯৩, ১১ই সেপ্টেম্বর চিকাগো ধর্ম-মহাসভার প্রথম দিবসের অধিবেশনে সভাপতি কার্তিন্যল গিবন্‍স্ শ্রোতূমণ্ডলীর নিকট পরিচয় করাইয়া দিলে অভ্যর্থনার উত্তরে স্বামীজী বলেনঃ হে আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ, আজ আপনারা আমাদিগকে যে আন্তরিক ও সাদর অভ্যর্থনা করিয়াছেন, তাহার উত্তর দিবার জন্য উঠিতে গিয়া আমর হৃদয় অনিবর্চনীয় আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে।

পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসি-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি। সর্বধর্মের যিনি প্রসূতি-স্বরূপ, তাঁহার নামে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোটি কোটি হিন্দু নরনারীর হইয়া আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ দিতেছি।

এই সভামঞ্চে সেই কয়েকজন বক্তাকেও আমি ধন্যবাদ জানাই, যাঁহারা প্রাচ্যদেশীয় প্রতিনিধিদের সম্বন্ধে এরূপ মন্তব্য প্রকাশ করিলেন যে, অ…