পোস্টগুলি

কার্তিক পূজা

ছবি
দেব সেনাপতি সুদর্শন কার্তিক একজন পৌরণিক দেবতা। তিনি শিব, মা দূর্গার পুত্র। ছয় জন মাতৃকা দেবী কৃত্তিকা তাঁকে ধাত্রীরূপে স্তন্যপান করিয়েছিলেন বলে তাঁর নাম হয় কার্তিকেয়। আমরা সংক্ষেপে বলি কার্তিক। তাঁর ভাইয়ের নাম গণেশ। দেবতা কার্তিক অত্যন্ত সুন্দর, সুঠাম দেহ এবং অসীম শক্তির অধিকারী। পুরাণে আছে তরকাসুরের আধিপত্য থেকে স্বর্গরাজ্য উদ্ধার করার জন্য স্বর্গের দেবতারা তাকে সেনাপতিরূপে বরণ করেছেন। তাঁর দেহাবরণ উত্তপ্ত স্বর্ণের মতো। এ কারণে তাঁকে ষড়ানন বলা হয়।



কার্তিকের ছয়টি আনন। আনন মানে মুখ। তবে তাঁর একটি মুখযুক্ত রূপই প্রচলিত। সে রূপেই তাঁকে পূজা করা হয়। যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে কার্তিকের হাতে তীর, ধনুক ও বল্লম দেখা যায়। তার বাহন সুদৃশ্য পাখি ময়ূর। কার্তিক বিভিন্ন অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। এ সকল যুদ্ধে তিনি জয় লাভ করেছিলেন। পুরাণ অনুসারে তারকাসুরকে বধ করার জন্য কার্তিকের জন্ম হয়েছিল। তিনি বলির পুত্র বাণাসুরকেও পরাজিত করেছিলেন। কার্তিকের আরেক নাম স্কন্দ, মহাসেন, কুমার গুহ ইত্যাদি। স্কন্দ পুরাণ কার্তিককে নিয়ে রচনা করা হয়েছে। আজ কার্ত্তিক পূজা।

সকলকে জানাই কার্ত্তিক পূজার শুভেচ্ছা।

নিবেদিতা সেতু

ছবি
নিবেদিতা সেতু হল কলকাতা শহরের কাছে অবস্থিত একটি কেবল-স্টেয়ড সেতু। এটির আগেকার নাম ছিল দ্বিতীয় বিবেকানন্দ সেতু। সেতুটি বিবেকানন্দ সেতুর সমান্তরালে এবং ৫০ মিটার ভাটিতে অবস্থিত। সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্যা ও সমাজকর্মী ভগিনী নিবেদিতার নাম অনুসারে। জাতীয় সড়ক ২ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে এই সেতুর উপর দিয়ে গিয়েছে। এই সেতুটি জাতীয় সড়ক ২-এর সঙ্গে কলকাতা শহরেরও যোগাযোগ রক্ষা করছে। এই সেতুর উপর দিয়ে দৈনিক গড়ে ৫০,০০০ গাড়ি যাতায়াত করে।



জগদ্ধাত্রী পুজো

ছবি
জগদ্ধাত্রী হলেন দেবী দুর্গার আর এক রূপ। উপনিষদে এঁনারই নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ রয়েছে । তবে এই দেবীর আরাধনা মূলত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। তবে কলকাতার তুলনায় হুগলির চন্দননগর ও নদিয়ার কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো বেশি জনপ্রিয় । জগদ্ধাত্রী শব্দের আভিধানিক অর্থ জগৎ+ধাত্রী। অর্থাৎ জগতের (ত্রিভুবনের) ধাত্রী (ধারণকর্ত্রী, পালিকা)। ব্যাপ্ত অর্থে দুর্গা, কালী সহ অন্যান্য শক্তিদেবীগণও জগদ্ধাত্রী।

তবে শাস্ত্রনির্দিষ্ট জগদ্ধাত্রী রূপের নামকরণের পিছনে রয়েছে সূক্ষ্মতর ধর্মীয় দর্শন। সাধারণত কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে নবমীর দিনই তিন বার পুজোর আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করা হয়। অন্যদিকে কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দুর্গাপুজোর ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পুজো করে থাকেন। কোথাও বা প্রথম বা দ্বিতীয় পুজোর পর কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। দুর্গাপুজোর ন্যায় জগদ্ধাত্রী পুজোতেও বিসর্জনকৃত্য বিজয়াকৃত্য নামে পরিচিত। এমনকি এই পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামে মন্ত্রের সঙ্গে দুর্গাপুজোর মিল রয়েছে৷

উপনিষদে একটি উপাখ্যানে ব…

ছট পূজার ইতি কথা

ছবি
ভারতবর্ষের হিন্দিভাষী হিন্দুদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পূজা ছট্‌ পূজা। ছট্‌ অর্থাৎ ছটা বা রশ্মির পূজা। এই রশ্মি সূর্য থেকেই পৃথিবীর বুকে আসে। সুতরাং এই পূজা আসলে সূর্যদেবের পূজা। প্রত্যক্ষভাবে ছট পূজা হলেও এই পূজার সঙ্গে জড়িত আছেন স্বয়ং সূর্যদেব, আছেন মা গঙ্গা এবং দেবী অন্নপূর্ণা।

পৌরাণিক কাহিনিতে রয়েছে — বর্ষার আগমন ঘটেছে। কিন্তু বৃষ্টি তেমন হয়নি। চাষিদের মাথায় হাত। মাঠের ফসল মাঠেই মারা যাচ্ছে। মা অন্নপূর্ণা ক্রমশ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হতে থাকেন। সকল দেবতা মা অন্নপূর্ণার এহেন দুর্দশায় ব্যথিত। ঘরে ঘরে অন্নাভাব হাহাকার ওঠে। সূর্যের তাপ হ্রাস করে বাঁচার জন্য মা অন্নপূর্ণা সূর্যদেবের ধ্যান করতে শুরু করেন। তাতে হিতে বিপরীত হয়। সূর্যের প্রখর ছটায় মা অন্নপূর্ণা দিন দিন শ্রীভ্রষ্টা হয়ে ক্ষীয়মান হতে থাকেন।



দেবলোকে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দেবতারা সম্মিলিতভাবে সূর্যদেবের কাছে গেলে তিনি মা অন্নপূর্ণার এই দশার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। এবং বলেন, মা অন্নপূর্ণা যেন গঙ্গাদেবীর আশ্রয় নেন। সূর্যদেব আরও বলেন, অস্তগমনকালে গঙ্গাদেবীর আশ্রয়ে থেকে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে এবং সপ্তমীর উদয়কালে মা অন্নপূর্ণা গঙ্গাদেবীর আ…

ভাইফোঁটা

ছবি
"ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোটা - যমের দুয়ারে পড়লো কাটা" ভাই ফোটার দিন বোনেরা এই প্রার্থনা করেন ভাইয়ের জন্য। ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গলের জন্য বোনেরা এদিন উপবাসী থেকে ভাইদের ফোটা দেন। ভাই ফোটা কার্ত্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় । এদিন ভাইরাও বোনের ফোটা নিয়ে বোনের বাড়ীতে রান্না করা খাবার খান। নিয়ম এমনটাই ।

ভাই ফোটার সাথে জড়িয়ে আছে যমরাজ ও যমুনা দেবীর ঘটনা । যম আর যমুনা সূর্য দেবতার পুত্র। পুরান শাস্ত্র এমটাই বলে। পুরানের ঘটনা শোনা যাক। সূর্য দেবতার প্রথম স্ত্রী হলেন সংজ্ঞা । সংজ্ঞার সন্তান সন্ততি হলেন যম ও যমুনা। সূর্যের প্রবল তেজ সহ্য করতে না পেরে একদিন সংজ্ঞা তারই মতোন দেখতে এক নারীকে সৃষ্টি করে সূর্য লোক থেকে পৃথিবীতে চলে আসেন। সেই সৃষ্ট নারী সংজ্ঞার ছায়া মূর্তি ছিল । তাঁর নামা ছায়া। ছায়ার সন্তান হলেন শনি দেবতা ।

একদিন যম আর যমুনা জানতে পারেন এটি তাঁদের গর্ভ ধারিনী মা নন, বরং তার মতোন দেখতে অন্য নারী। যমুনা তখন মাকে খুঁজতে পৃথিবীতে আসেন ও নদী রূপে প্রবাহিতা হলেন । সেই শোকে যম রাজাও বোনকে খুঁজতে বের হলেন। যমুনা ত সূর্য লোকে ফিরতে নারাজ। কিন্তু যম রাজা শোকাকুল। …

সিদুঁর খেলা রাঙিয়ে উমা বিদায়

ছবি
উৎসবের শেষে বিষাদের সুর। আজ বিজয়া দশমী। ঘরের উমার এ বার বাপের ঘর থেকে বিদায় নেওয়ার পালা।মনের কোণে বিষাদ। ফের এক বছরের অপেক্ষা।সকাল থেকেই বিভিন্ন বাড়িতে এবং মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সিঁদুর খেলা। মঙ্গল কামনা করে একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে দিচ্ছেন মহিলারা। দেশের বাইরেও প্রবাসী বাঙালিরা মেতে উঠেছেন সিঁদুর খেলায়।

জমজমাট খাওয়াদাওয়া, দেদার আড্ডা সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং। কদিন এটাই ছিল রুটিন। উৎসবের আনন্দ পূর্ণতা পেল সিদুঁর খেলায়।



আজ মহানবমী - ছবি

ছবি
যেও না নবমী নিশি লয়ে তারা দলে, তুমি গেলে দয়াময়ী এ পরাণ যাবে। নবমীর নিশি পোহালেই মার যাবার পালা। মন সবারই ভারাক্রান্ত, একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা। মন খারাপের রঙ জামকে নিয়েই আমাদের নবমীর রাতের সোনামুখী সিল্ক।

তবুও যেন এ রঙ পরিতৃপ্তির, চারদিনের উৎসবের টুকরো টুকরো সোনালী স্মৃতি ছিটিয়ে আছে মীনা কাজের মধুবনী আঁকা আঁচলে, আমরা গেঁথে রাখছি মঙ্গলসূত্রে। ভোগের বেগুনভাজার ব্যঞ্জনবর্ণ, পঞ্চকশাইয়ের জাম ফল, খুঁজে পাওয়া জারুল ফুল, আবার নবমী পুজোর ব্যবহৃত খাল, বিলে ফুটে থাকা বেগুনী কুমুদ ফুলকে পেয়েছি আমরা কুরশের কাজের রুমালে।

এই রঙ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের পশ্চিম প্রান্তে, আরব সাগরের পারে। সব্বাই মেতে উঠেছে নবরাত্রির গরবা, ডান্ডিয়ার রাসে। নৃত্যবিলাসীরাও সেজে উঠছে এই একই নির্দিষ্ট রঙে।

নবমীর সকাল হলেই যেন মনটা কেমন খারাপ হতে থাকে। বেলা গড়িয়ে যতই বিকেল হতে থাকে ততই গভীর হতে থাকে মন খারাপ। আর সন্ধের পর থেকে ঢাকের আওয়াজেও যেন বিষাদের সুর। নবমীর রাতটা এলেই মনে হতে থাকে আজই পুজো শেষ। কাল ভাসান হলেই আবার সেই একঘেয়ে জীবনে ফেরা। আর মাত্র এক দিন ছুটি। তারপরই অফিস। আবার অফিস যেতে হবে ভাবলেই মুড অফ হয়ে যায়। আর নবমীর রাতে ন…