পোস্টগুলি

March, 2016 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বসন্ত উৎসব শান্তিনিকেতন

ছবি
শান্তিনিকেতনে দোলোৎসবই বসন্ত উৎসব বলে প্রচলিত। ফাগুন মাস বসন্তকাল, এবং দোল অর্থাৎ হোলিখেলা এই মাসেরই অঙ্গ। জাতিধর্ম নির্বিশেষে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই সামিল হই এই উৎসবে। এই বিশেষ উৎসব শান্তিনিকেতনে এক নতুন মাত্রায় মাত্রা পায়। দোলের সাতদিন আগে থেকে সাজো সাজো রব পরে যায় শান্তিনিকেতনে বীরভূম জেলায়। সাধারণত ভুবন মাঠেই এই উৎসব পালিত হয়।

বিরাট মঞ্চ বাঁধা হয় মাঝখানে এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা তৈরী হয় মূল মঞ্চে পৌঁছানোর। কলাকুশলীরা অর্থাৎ বিশ্বভারতীর ক্ষুদে ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে বড়রা সামিল হয় এই উৎসবে। শাড়ি পরিহিত সুন্দর সাজ তাদের। মেয়েরা হলুদ ও সবুজ রঙের শাড়ি পরে, গলায় উত্তরীয়, চুলে বা খোঁপায় পলাশ ফুল, কপালে চন্দনের টিপ্। ছেলেরা পরনে রঙিন ধুতি, পাঞ্জাবি, গলায় উত্তরীয়। যেটা শান্তিনিকেতনের প্রাচীন ঐতিহ্য।



অনুষ্ঠান শুরু হয়, ছোট শিশুদের নাচ দিয়ে। নাচতে নাচতে তারা মঞ্চের দিকে ঢুকে যায়। তারপরে এক এক করে আস্তে থাকে নাচের দল। নাচের সাথে সাথে কবি গুরুর গান ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগলো যে দোল।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন রঙের স্রোত বয়ে চলেছে এমনই নাচের ছন্দ, এমনই নৃত্য সুষমা। আবার কেহ ডান্ডি…

দোল বিলাসে রঙিন পুরনো কলকাতা

ছবি
দোল এসেছে। তবু রঙের ছোঁয়া লাগে না সাবেক রুপোর পিচকারিতে। আবিরের রেকাবিও আজ শূন্য। সময়ের স্রোতে রুপোর পিচকারি জৌলুস হারিয়ে বাতিলের দলে নাম লিখিয়েছে। মেটিয়াবুরুজের পিয়ারা সাহেব কিংবা বারানসীর মৈজুদ্দিন সাহেব আর নতুন ‘হোলির’ গান বাঁধেন না। নানা রঙের ফুল ও গাছের ছাল গুঁড়িয়ে আজ কে-ই বা তৈরি করেন বিশুদ্ধ আবির?

বাজারে রঙের সংখ্যা হয়তো প্রতি বছরই বৃদ্ধি পায়। এসেছে ভেষজ আবিরও। কিন্তু ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে বাঙালির নিজস্ব দোলের রং। দোলের সেই আয়োজনটাই বদলে গিয়েছে। দোল মানে কি শুধুই একে অপরকে রং দেওয়া? বাঙালির দোলের সঙ্গে মিশে আছে বাবুয়ানি এবং আভিজাত্যও। পুজোআচ্চার পাশাপাশি ছিল রঙে আতর মেশানোর রেওয়াজ। রং খেলা হত রুপোর পিচকারিতে। ফাগ খেলার শেষে গোলাপ জল ছেটানোর ঐতিহ্য কিংবা দোলের বিশেষ কিছু খাওয়াদাওয়া। আজও হাতে গোনা কিছু পরিবারে সেই সব আচার অনুষ্ঠান টিকে আছে।

তখন দোল ছিল অনেক রঙিন। আজও পুরনো রীতি মেনেই গৃহদেবতা রাধা গোবিন্দজিউ-র দোল খেলা হয় দোলের পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদে। দোলের দিন সন্ধ্যায় হয় চাঁচর। পরের দিন দোলের বিশেষ পুজো। দোলের আগের দিন হয় নারায়ণের চাঁচর। সাবেক রীতি মেনে আজও এই ঐতিহ্য চলছে। সন্…

হোলিকা দহন

দোল পূর্ণিমার পূর্ব দিন আমরা একটি খড়ের ঘর তৈরী করে তাকে আগুনে পোড়াই। লোক চলতি ভাষায় একে বুড়ীর ঘর পোড়ানো বলা হয় । এই উৎসব হোলিকা দহন নামে পরিচিত । এই সম্পর্কে একটি ঘটনার উল্লেখ পুরাণে পাই। বিষ্ণু হিরণ্যক্ষকে বধ করে। এরপর কশ্যপ মুনির অপর সন্তান হিরণ্যকশিপু ভায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তীব্র ভাবে বিষ্ণু বিরোধী হয়ে পড়েন।



হিরণ্যকশিপুর স্ত্রী কয়াদুর গর্ভে প্রহ্লাদের জন্ম হয় । হিরণ্যকশিপু তাঁর পুত্রকে আসুরিক বিদ্যা গ্রহণের জন্য অসুর গুরু শুক্রের আশ্রমে প্রেরন করলো। তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন বিষ্ণু এক পরিকল্পনা করলো । হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক এমন ব্যবস্থা করা হল এতে প্রহ্লাদ পুড়ে মরবে। একদা হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে চিতায় উঠলো। চিতায় আগুন ধরানো হলে পাহাড় প্রমান আগুনের শিখা উঠলো। এই দিনটি হোলিকা দহন নামে পালিত হয়ে আসছে।