বাবুই পাখি

বাবুই পাখি আর বাবুই পাখির দৃষ্টি নন্দন বাসা। বলতে গেলে বাবুই পাখির বাসা আজ অনেকটা স্মৃতির অন্তরালে চলে যাচ্ছে। অথচ আজ থেকে ২/৩ বছর আগে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেল তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছে চোখে পড়ত ব্যাপকভাবে বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখির এসব বাসা যে শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল তা নয় মানুষের মনে চিন্তা ও নিপুন কারুকার্য আজও মানুষের মনে সাড়া জাগায় এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করে । গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে সুপারি গাছের ডালে সেই চির চেনা কারিগর বাবুই পাখি বাসা। শোনা যাচ্ছিল বাবুই পাখির সুমধূর ডাক।

গাছে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে দক্ষ কারিগরের ন্যায় ঝুড়ির মতো করে অত্যন্ত চমৎকার বাসা বুনে বাস করছে চির চেনা এসব বাবুই পাখি। আর এ জন্য অনেকেই এই বাবুই পাখিকে তাতি পাখি বলেও ডেকে থাকেন। জানা যায়, সারা বিশ্বে বাবুই পাখি প্রজাতির সংখ্যা ১১৭।



বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য এরা জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে আবার ছেড়ে দেয়। প্রজনন সময় ছাড়া অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী পাখির গায়ে কালো কালো দাগসহ পিঠ হয় তামাটে বর্ণের। নিচের দিকে কোনো দাগ থাকে না। ঠোঁট পুরো মোছাকার আর লেজ চৌকা। তবে প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির রঙ হয় গাঢ় বাদামি। বুকের ওপরের দিকটা হয় ফ্যাকাশে। অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির চাঁদি পিঠের পালকের মতোই বাদামি।

বুকের কালো ডোরা কাটা দাগ ততোটা স্পষ্ট না হলেও কানের পেছনে একটি সুন্দর ফোঁটা থাকে। বাবুই পাখি সাধারণত তাল, খেজুর, নারিকেল, সুপারি ও আখ ক্ষেতে বাসা বেধে থাকে। ধান, চাল, গম ও পোকামাকড় প্রভৃতি তাদের প্রধান খাবার। বর্তমানে তাল গাছ যেমন হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে সেই চির চেনা বাবুই পাখি।