-->
your code goes here
কলকাতা রঙ্গ. Created by Techly420
¯\_(ツ)_/¯
Something's wrong

We can't seem to find the page you are looking for, we'll fix that soon but for now you can return to the home page

Bookmark

পূর্ব কলকাতা জলাভূমি

১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলির সংরক্ষণ এবং যুক্তিসঙ্গত দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের স্বার্থে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশগুলি নিজেদের মধ্যে এক চুক্তি সম্পাদন করে । ১৯৮২ সালে ভারতবর্ষ এই রামসার চুক্তির সাথে যুক্ত হয় এবং ২০০২ সালে পূর্ব কোলকাতার জলাভূমি 'রামসার’ স্বীকৃতি পায় ।

সারা পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ২২০০ গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি রামসার তালিকা ভুক্ত, ভারতের মাত্র ২৬ টি জলাভূমি এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অধিকারী এবং তার মধ্যে অন্যতম পূর্ব কোলকাতার জলাভূমি। উল্লেখ্য উড়িষ্যার ভিতর কনিকা ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং জলাভূমিও এই রামসার তালিকাভুক্ত।

কলকাতার পূর্ব প্রান্তের প্রাকৃতিক এবং মনুষ্যসৃষ্ট ১২৫০০ হেক্টরের এই জলাভূমি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক কিডনী । পূর্ব কোলকাতার জলাভূমি ময়লা জল এবং জঞ্জাল পুনঃব্যবহার, পরিশোধন এবং বর্জ্য থেকে উৎপাদনের অনন্যসাধারণ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম নজির ।

ঐতিহাসিক কাল থেকে বর্তমানের লবনহ্রদ অঞ্চল থেকে পিয়ালি পর্যন্ত বিদ্যাধরী নদীর একটি খাত বজায় ছিল এবং ব্রিটিশ জমানার প্রাথমিক যুগে সেন্ট্রাল লেক চ্যানেল মারফৎ কোলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা এই বিদ্যাধরী খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিল । পরবর্তীতে বিভিন্ন কারনে বিদ্যাধরীর এই খাত মজে যাওয়ায় ক্রমশ কোলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা সঙ্কটগ্রস্ত হয়ে পরে।

অবশেষে ক্লার্ক সাহেবের পরিকল্পনায় কোলকাতা শহরের ময়লা জল হুগলী নদীতে ফেলার পরিবর্তে ১৮৭৫ সালে কোলকাতা শহরের ভূগর্ভ পয়ঃপ্রণালী তৈরি হয় । ৩৮ মাইলের ইঁটের এবং ৩৭ মাইলের পাইপের পয়ঃপ্রণালী কোলকাতা শহর ছেয়ে ফেলে । শহরের সমস্ত ময়লা জল বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে পাম্প করে সেন্ট্রাল চ্যানেলের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হতে থাকে বিদ্যাধরী নদীর মুখে ।

পরবর্তীতে গঙ্গাদূষনের কারন অনুসন্ধানে দেখা গেল যে গঙ্গার তীরের প্রতিটি বড় শহর যখন শহরের বর্জ্য সরাসরি গঙ্গায় ফেলে গঙ্গা দূষণ ঘটাচ্ছে তখন একমাত্র কোলকাতা শহর গঙ্গার পরিবর্তে শহরের বর্জ্য এবং ময়লা জল আজ থেকে ১০০বছর আগে থেকেই শহরের পূর্বপ্রান্তের বিস্তীর্ণ জলাভূমির মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে শোধন করে গঙ্গার উল্টোদিকে চালান করেছে ।

১৯৫৬ সালে কলকাতার পূর্বপ্রান্তে এইরকম ময়লা জলে মাছ চাষ করার ভেড়ি ছিল প্রায় ৮০০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে, তার পর থেকে অপরিকল্পিত উন্নয়নের ঠেলায় শুরু হয়েছে কমার পালা। আজথেকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর পূর্বে কলকাতার এই অমূল্য কিডনির পচন ধরা শুরু হয়েছিল সল্টলেক স্থাপনের মাধ্যমে, প্রাকৃতিক ভারসাম্যর কথা মাথায় না রেখে, এই সমস্ত ভেড়ি, জলাভূমি বুজিয়ে প্রথমে গড়ে ওঠে পরিকল্পিত নগরী বিধান নগর, তার পরে সেক্টর ফাইভ, ইস্টার্ন মেট্রপলিটান বাইপাস, কসবা শিল্পাঞ্চল, মুকুন্দপুর এবং রাজারহাটের একটি অংশ ।



বর্তমানে ১২৫০০ হেক্টরের পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই প্রাকৃতিক কিডনির মধ্যে ৫৮৫২ হেক্টর জলাজমি এবং ভেড়ি (জলকর) ৪৭১৮ হেক্টরের মত নিচু ধানের জমি, ৬০২ হেক্টর মত বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং চাষের জমি এবং মধ্যে মধ্যে ১৩২৬ হেক্টরের মত বসত জমি । দুই ভেড়ির মাঝে চলার পথ, মানুষের বসতি ,ছোট ছোট গ্রাম বর্তমান । কলকাতা শহরের প্রত্যহ ৭৫০ মিলিয়ন লিটার ময়লা জল বিনা পয়সায় শোধন হয়ে যায় এই প্রাকৃতিক জলাভূমির মাধ্যমে ।

অনবদ্য দক্ষতায় অঞ্চলের মৎস্যচাষিরা কলকাতা শহরকে এই দুষিত জলের ভেড়ি থেকে উপহার দেয় ১১০০০ টনের থেকেও বেশী মিষ্টি জলের মাছ । রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, মৃগেল, সিলভার কার্প, চারা পোনা, ট্যাংরা, গ্রাস কার্প গরীব মানুষের পাতে সস্তায় প্রোটিন যোগায়। এই অনবদ্য দক্ষ চাষিদের কারনে কলকাতা শহরে এখনো মাত্র ৩০ টাকায় মাছ ভাত এবং ২০ টাকায় সবজী ভাত পাওয়া যায় । জলা জমির কচুরিপানা শোষণ করে নেয় ময়লা জলের তেল । কঠিন জঞ্জালের সারের ফলে উৎপাদন হয় ৩৭০০০ টনের ওপর চাল এবং কলকাতা শহরের প্রায় অর্ধেক টাটকা সবজি, কলা সরবরাহ হয় এই অঞ্চল থেকে ।

প্রায় ১২৮০-১৩০০ কোটি টাকার সম্পদ সৃষ্টি হয় এই প্রাকৃতিক কিডনির সহায়তায় । মেকানিক্যাল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের বিপুল খরচা বাঁচায় কর্পোরেশন এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করে এই বিস্তীর্ণ জলাভূমী অঞ্চল । আর এই বিপুল কর্মকাণ্ডের পেছনে ব্যাঙ্কের কোন অনুদান নেই, বিজ্ঞান বা প্রযুক্তিগত কোন সাহায্য নেই, এলাকার রাজবংশি, বাগদি, আদিবাসী এবং নমশূদ্র জনসম্প্রদায়ের দক্ষতা, ভুপৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য, সৌরশক্তির এক চমৎকার সংযোজনে গড়ে উঠেছে এই স্বনির্ভর প্রযুক্তির অনুকরণীয় নজির ।

এই অঞ্চলের ওপর নির্ভর প্রায় ১০০,০০০ অধিবাসী ,রাজ্যের অন্যান্য কৃষক বা কৃষি শ্রমিকের তুলনায় ইর্শনীয় পরিমাণ বেশী অর্থ উপার্জন করেন, কলকাতা শহরের টাটকা সবছি, মাছ ইত্যাদির দাম সস্তা রাখতে সাহায্য করেন এবং বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নিজ দক্ষতায় ভুপৃষ্টের বৈশিষ্ট্যে পরিষ্কার করেন । সাধারণ জনতার এই জ্ঞান এবং দক্ষতার পরিচয় অনুভব করতে যে কোন কলকাতা বাসী একবার বানতলা চর্মনগরী ঘুরে আসতে পারেন সেখানে বসানো হয়েছে ভারতের সর্ববৃহৎ সেডিমেন্টেসন ট্যাঙ্ক।
১টি মন্তব্য

১টি মন্তব্য

  • irinapictures
    irinapictures
    ২৮ আগস্ট, ২০১১ এ ১:০৭ PM
    This photo can inspire great landscape painting.
    Reply