হোটেল টি এখন যেই সাইট এ দাঁড়িয়ে আছে, সেটা উনিশ শতকের প্রথম দিকে একজন কর্নেল গ্র্যান্ড সাহেব এর ব্যক্তিগত বসবাস হিসাবে ১৩ নং চৌরঙ্গী রোড এ তৈরী করা হয়েছিল| ঘর টি পরে মিসেস অ্যানি মংক এর দ্বারা একটি বোর্ডিং বাড়িতে রূপান্তরিত হয় যিনি, পরে তার ব্যবসা প্রসারিত করার জন্য ১৪, ১৫ এবং ১৭ নাম্বার কে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন|
১৬ নম্বর চৌরঙ্গী একটি থিয়েটার এর দখলে ছিল যার মালিক এবং পরিচালক ছিলেন এরাথুন স্টিফেন নামক এসফাহন থেকে আসা একজন আর্মেনিয়ান| ১৯১১ সালে যখন সেই থিয়েটার পুড়ে যায়, তখন এটা স্টিফেন কেনা এবং সময়ের সাথে, এই সাইট টাকে পুনর্নির্মাণ করে এখনকার আধুনিক হোটেল এর মত করে তোলে| একটি অসংযত নব্যধ্রুপদী ধরনে নির্মিত এই হোটেল টি শীঘ্রই কলকাতার ইংরেজ জনসংখ্যার মধ্যে একটি জনপ্রিয় স্পট হয়ে ওঠে|
এটা পরিচিত ছিল, বিশেষ করে তার বার্ষিক নববর্ষের পার্টি জন্য, সাথে বরফ শ্যাম্পেন এবং দামী উপহার এর জন্য এবং নৃত্যশালায় বারোটা বাচ্চা শূকর মুক্তি করার জন্য| যিনি একটি বাচ্চা শূকর ধরবে, সেটা তার হয়ে যাবে|
১৯৩০ সালে, স্টিফেন এর মৃত্যুর কিছু পরে, কলকাতার একটি টাইফয়েড মহামারী তে হোটেলে ছয় জনের মৃত্যু হয়| হোটেলে এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উপর সন্দেহ হয়েছিল এবং সেটি ১৯৩৭ সালে বন্ধ হয়ে যায়| এই সম্পত্তি টি মোহন সিং ওবেরয় লিজ নেন যিনি ১৯৩৯ সালে হোটেল টি পুনরায় খোলেন এবং ১৯৪৩ সালে সরাসরি সম্পত্তি টা কিনে নেন|
হোটেল টির প্রধান লিফট হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন আন্দাজ ৪০০০ সৈন্য এখানে থাকত এবং নিয়মিত পার্টি করত| হোটেলে মার্কিন নৌ বল এর মত ঘটনা তখনকার সময়ের দর্শক দের কথা মনে করিয়ে দেয়|



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন