Friday, December 30, 2016

Kolkata New Year

Kolkata New Year

At the end of the year, the people of Kolkata celebrates and dance in great joy. The streets of this historic city attracts a large crowd, who spend the 31 December night in gala dinners, dances, jokes, operas, trendy clubs and mundane bars. Fantastic exhibitions and numerous events like concerts and operas are of great attraction as well as the smash hit musicals of the year offers a wide range of entertainment for the day and the New Year's Eve.

31st December Kolkata New Year Party 2017

Kolkata New Year Party 31st December

The New Year in Kolkata is incomplete without its authentic food and music parties. As the New Year approaches, singers are hired by neighbourhoods for concerts and musical events involving Bollywood stars and celebrities. Large crowds gather to watch these shows, and maybe get a photo with some stars.

Thursday, December 29, 2016

বড়দিন, ক্রিসমাস ও ২৫ ডিসেম্বর

আজ শুভ বড়দিন । প্রতিবছর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালিত হয় এই দিনটি। বড়দিন খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি সকল ধর্মবর্ণের মানুষের কাছে উৎসবের দিন হয়ে ওঠে। বাঙালি উৎসব মুখর জাতি। তাই বড়দিনে উৎসবের কোনো কমতি থাকে না । এই দিনটিতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে খ্রিস্টান ধর্মালম্বীরা । গির্জায় গির্জায় চলে প্রার্থনা, প্রীতি ভোজ। সান্তা কজ দেন মজাদার নানা উপহার। বড়দিনের নানামাত্রিক এইসব আয়োজন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

উৎসবের সাজ: বড়দিন উপলে খ্রিস্টানরা তাদের ঘর বাড়ি আকর্ষণীয় ভাবে সাজায়। ঘরে নানা ধরণের আলোকসজ্জা, আল্পনা আঁকা, গাছের গোড়ায় চুন দেওয়া, ঘরের চালায় আলো দিয়ে তারা বানানোসহ নানা ভাবে সাজানো হয় বাড়ি ।

ক্রিসমাস ট্রি: প্রতিটি সামর্থ্যবান খ্রিস্টান পরিবার তাদের ঘরে ক্রিসমাস ট্রি কিনে আনেন এবং মনের মতো করে সাজান। নানা ধরণের আলো এবং রঙিন কাগজ ও প্লাস্টিক দিয়ে সাজানো হয় এই ক্রিসমাস ট্রি ।

Kolkata Christmas wallpaper

সান্তা ক্লজ: বড়দিনে শিশুদের কাছে বড় আকর্ষণ হচ্ছে সান্তা কজ। শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও আকর্ষণ থাকে সান্তা কজের প্রতি। সান্তা ক্লজকে বলা হয় ক্রিসমাস ফাদার । শিশুদের পরম বন্ধু হচ্ছে সান্তা কজ। পিঠে বড় ঝুলি আর ঝুলির ভেতরে থাকে শিশুদের জন্য উপহার। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের মধ্য থেকেই একজনকে সান্তা ক্লজ বানায় । মাথায় লাল টুপি, লাল জামা, লাল প্যান্ট, শুভ্র লম্বা দাঁড়ি-গোঁফ, বানানো ভূরি, আকর্ষণীয় জুতা, পিঠে ঝোলা ব্যাগ এসবই হলো সান্তা ক্লজ সাজার উপকরণ । সান্তা ক্লজ নানা রকম মিনিংলেস ভাষায় কথা বলে থাকেন। তাই তার সাথে থাকে একজন অনুবাদক। অনুবাদক নিজের মতো করে সান্তা ক্লজর ভাষা অনুবাদ করে সবাইকে বলে । সান্তা কজ মূলত শিশুদের চকলেট বা ক্যান্ডি জাতীয় উপহার দিয়ে থাকেন। তিনি সারাদিন গীর্জা প্রাঙ্গনেই থাকেন, নানা ভাবে বিনোদন দেন।

প্রীতিভোজ: বড়দিনে গির্জা প্রাঙ্গণে অথবা সুবিধাজনক জায়গায় আয়োজন করা হয় প্রীতিভোজের। সবাই একসাথে অংশগ্রহণ করেন এই প্রীতিভোজে। নানা রকম পিঠা ও সুস্বাধু খাবার-দাবার থাকে এই প্রীতিভোজে। প্রার্থনা: বড়দিনে সকাল থেকেই গির্জাগুলোতে শুরু হয় প্রার্থনা । প্রার্থনা চলে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। সকলের জন্য শুভকামনা করে প্রার্থনা করা হয় । প্রার্থনা শেষে সবাই নিজেদের মধ্যে কুশলাদি বিনিময় করে এবং একে অন্যের বাড়ি বেড়াতে যান।

প্রাক-বড়দিন: বড়দিনের ১০-১২ দিন আগে করা হয় প্রাক বড়দিন। যে যার কর্মস্থলের সঙ্গীদের সঙ্গে বড়দিনের আগে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উৎসবকে ভাগাভাগি কারার জন্য আয়োজন করে প্রাক বড়দিনের ।



Wednesday, November 9, 2016

জগদ্ধাত্রী পুজো

জগদ্ধাত্রী হলেন দেবী দুর্গার আর এক রূপ। উপনিষদে এঁনারই নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ রয়েছে । তবে এই দেবীর আরাধনা মূলত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। তবে কলকাতার তুলনায় হুগলির চন্দননগর ও নদিয়ার কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো বেশি জনপ্রিয় । জগদ্ধাত্রী শব্দের আভিধানিক অর্থ জগৎ+ধাত্রী। অর্থাৎ জগতের (ত্রিভুবনের) ধাত্রী (ধারণকর্ত্রী, পালিকা)। ব্যাপ্ত অর্থে দুর্গা, কালী সহ অন্যান্য শক্তিদেবীগণও জগদ্ধাত্রী।

তবে শাস্ত্রনির্দিষ্ট জগদ্ধাত্রী রূপের নামকরণের পিছনে রয়েছে সূক্ষ্মতর ধর্মীয় দর্শন। সাধারণত কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে নবমীর দিনই তিন বার পুজোর আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করা হয়। অন্যদিকে কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দুর্গাপুজোর ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পুজো করে থাকেন। কোথাও বা প্রথম বা দ্বিতীয় পুজোর পর কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। দুর্গাপুজোর ন্যায় জগদ্ধাত্রী পুজোতেও বিসর্জনকৃত্য বিজয়াকৃত্য নামে পরিচিত। এমনকি এই পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণামে মন্ত্রের সঙ্গে দুর্গাপুজোর মিল রয়েছে৷

উপনিষদে একটি উপাখ্যানে বলা হয়েছে – একবার দেবাসুর যুদ্ধে দেবগণ অসুরদের পরাস্ত করলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁরা ভুলে গেলেন নিজ শক্তিতে নয়, বরং ব্রহ্মের বলে বলীয়ান হয়েই তাঁদের এই জয়। ফলত তাঁরা হয়ে উঠলেন অহংকারী। তখন ব্রহ্ম যক্ষের বেশ ধারণ করে তাঁদের সামনে আসেন। তিনি একটি তৃণখণ্ড দেবতাদের সামনে পরীক্ষার জন্য রাখলেন। কিন্তু অগ্নি ও বায়ু কেউই তাঁদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও এই তৃণখণ্ডটিকে পোড়াতে বা সরাতে পারলেন না। তখন দেবগণ ইন্দ্রকে যক্ষের পরিচয় জানবার জন্য পাঠালেন । ইন্দ্র অবশ্য অহংকার-প্রমত্ত হয়ে যক্ষের কাছে না এসে, এসেছিলেন জিজ্ঞাসু হয়ে।

তাই ব্রহ্মরূপী যক্ষ তাঁর সামনে থেকে সরে গিয়ে আকাশে দিব্য স্ত্রীমূর্তিতে আবির্ভূত হলেন হৈমবতী উমা। আর উমা ব্রহ্মের স্বরূপ ব্যাখ্যা করে ইন্দ্রের জ্ঞানপিপাসা মিটিয়েছিলেন বলেই কথিত। সেই জগদ্ধাত্রী দেবী ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী। তাঁর চার হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ রয়েছে আর গলায় দেখা যায় নাগযজ্ঞোপবীত। বাহন সিংহ করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ হস্তীরূপী অসুরের পিঠের উপর দাড়িয়ে রয়েছেন৷। দেবীর গায়ের রঙ উদিয়মান সূর্যের মতো। উপনিষদে অবশ্য উমার রূপবর্ণনা নেই। সেখানে কেবলমাত্র তাঁকে হৈমবতী অর্থাৎ স্বর্ণালঙ্কারভূষিতা বলা হয়েছে।

তবে এই হৈমবতী উমাই যে দেবী জগদ্ধাত্রী সে প্রত্যয় জন্মে কাত্যায়ণী তন্ত্রের ৭৬ তম অধ্যায় উল্লিখিত এক কাহিনিতে রয়েছে । সেই কাহিনি অনুসারে : ইন্দ্র, অগ্নি, বায়ু ও চন্দ্র – এই চার দেবতা এমন অহংকারে মত্ত হয়ে ভুলে যান যে তাঁরা দেবতা হলেও তাঁদের স্বতন্ত্র কোনও শক্তি নেই – মহাশক্তির শক্তিতেই তাঁরা বলীয়ান। এই দেবগণের ভ্রান্তি দূর করতে দেবী জগদ্ধাত্রী কোটি সূর্যের তেজ ও কোটি চন্দ্রের প্রভাযুক্ত এক দিব্য মূর্তিতে তাঁদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন।

এই অ্যাখ্যানের পরের অংশ অবশ্য উপনিষদে দেওয়া তৃণখণ্ডের কাহিনির অনুরূপ। দেবী প্রত্যেকের সম্মুখে একটি করে তৃণখণ্ড রাখলেন; কিন্তু চার দেবতার কেউই তাকে স্থানচ্যুত বা ভষ্মীভূত করতে পারলেন না। তখন দেবগণ নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেন। তখন দেবী তাঁর তেজোরাশি স্তিমিত করে এই অনিন্দ্য মূর্তি ধারণ করলেন। সেই মূর্তি ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা, রক্তাম্বরা, সালংকারা, নাগযজ্ঞোপবীতধারিনী ও দেব-ঋষিগণ কর্তৃক অভিবন্দিতা এই মঙ্গলময়ী মহাদেবীর মূর্তিকে দেখে দেবগণও তাঁর স্তবে বসেন ৷

জগদ্ধাত্রী পুজো বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি বিশিষ্ট উৎসব হলেও তা দুর্গা বা কালী পুজোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত আধুনিক । অষ্টাদশ শতকে নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এই পুজোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও তার আগে, শূলপাণি খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে কালবিবেক গ্রন্থে কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পুজোর উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া পূর্ববঙ্গের বরিশালে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে নির্মিত জগদ্ধাত্রীর একটি প্রস্তরমূর্তি পাওয়া যায়।

আবার কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালের আগে নির্মিত নদিয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবমন্দির ও কোতোয়ালি থানার রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরের ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি লক্ষ্য করা যায়। এই গুলি থাকলেও মনে করা হয়, বাংলার জনসমাজে কৃষ্ণচন্দ্রে পূর্বে জগদ্ধাত্রী পূজা বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি কেবলমাত্র কিছু ব্রাহ্মণের ঘরে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পুজো হত।

কৃষ্ণনগরে এই পুজো শুরুর ঘিরে নানা মত রয়েছে ৷ কিংবদন্তী অনুসারে নবাব আলিবর্দির রাজত্বকালে মহাবদজঙ্গ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছ থেকে বারো লক্ষ টাকা নজরানা দাবি করেছিলেন। সেই নজরানা দিতে না পারায় রাজাকে বন্দী করে মুর্শিদাবাদে (মতান্তরে মুঙ্গেরে) নিয়ে যাওয়া হয়৷। এরপর মুক্তির পর নদীপথে কৃষ্ণনগরে ফেরার সময় ঘাটে বিজয়াদশমীর বিসর্জনের বাজনা শুনে তিনি বুঝতে পারেন সেই বছর দুর্গাপুজোর সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তাই দুর্গাপূজার আয়োজন করতে না পেরে রাজা অত্যন্ত দুঃখিত হন। সেই রাতেই দুর্গা জগদ্ধাত্রীর রূপে রাজাকে পরবর্তী শুক্লানবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী দুর্গার পূজা করার আদেশ দেন।

কেউ কেউ আবার কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্রকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রবর্তক মনে করেন। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দরজা জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় এখনও খোলা রাখা হয়। আবার ১৭৭২ সালে রাজবাড়ির দেখাদেখি কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়ায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজারা জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন। যা বুড়িমার পুজো নামে পরিচিত, এই পুজো শুরু হয়েছিল ঘটে ও পটে। প্রথম দিকে স্থানীয় গোয়ালারা দুধ বিক্রি করে এই পুজোর আয়োজন করতেন।

১৭৯০ সাল নাগাদ গোবিন্দ ঘোষ ঘটপটের পরিবর্তে প্রতিমায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন। এছাড়া কৃষ্ণনগরের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পুজো রয়েছে যাদের সংখ্যা ২০০ বেশি, যা জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত চন্দননগর মহানগরের চেয়েও বেশি।

Jagadhatri Puja

কথিত আছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রবর্তক ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ এই ইন্দ্রনারায়ণ ছিলেন চন্দননগরের ফরাসি সরকারের দেওয়ান। প্রায় আড়াইশো বছর আগে, কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজো দেখে মুগ্ধ হয়ে ইন্দ্রনারায়ণ চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জ চাউলপট্টির নিচুপাটিতে জগদ্ধাত্রী পুজো সূচনা করেন। এটিও চন্দননগরে আদি পুজো বলে পরিচিত। এখনও পর্যন্ত পুরুষানুক্রমে দেওয়ান চৌধুরীদের উত্তরপুরুষের নামে এই পুজোর সংকল্প হয়।

লক্ষ্মীগঞ্জ কাপড়পট্টির জগদ্ধাত্রীই হল চন্দননগরে দ্বিতীয় প্রাচীনতম পুজো। ১৭৬৮ সালে চাউলপট্টির চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতান্তর হওয়ায় কাপড় ব্যবসায়ী শ্রীধর বন্দ্যোপাধ্যায় (মতান্তরে শশধর) রীতিমতো চাঁদা তুলে এই পুজোর প্রবর্তন করেছিলেন। এই অঞ্চলের অপর দুটি পূজা হল লক্ষ্মীগঞ্জ চৌমাথা (স্থাপিত ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ) ও লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারের (স্থাপিত ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ) পূজা। এখানকার পুজো শুধু নবমীর বদলে সপ্তমী অষ্টমী নবমীতেই হতে দেখা যায়৷

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রীপুজো ঘিরে আলোর রোশনাই জাঁকজমক খুবই বিখ্যাত ৷ আর তা দেখতে নানা স্থান থেকে এসে এই সময় লোকেরা চন্দননগরে ও তার আশপাশে ভিড় করে যার জন্য বিশেষ ট্রেনেরও ব্যবস্থা করা হয় ৷ এদিকে বাঁকুড়া জেলার জয়রামবাটী গ্রামে মা সারদা দেবীর জন্মভিটায় জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করে রামকৃষ্ণ মিশন। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সারদা দেবীর বাপের বাড়িতে প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করেছিলেন তাঁর মা শ্যামাসুন্দরী দেবী।

কথিত আছে প্রতি বছর শ্যামাসুন্দরী দেবী প্রতিবেশী নব মুখুয্যের বাড়ির কালীপূজা উপলক্ষ্যে নৈবেদ্যের চাল পাঠাতেন কিন্তু ওইবছর কোনও কারণে নব মুখুজ্যে চাল নিতে অস্বীকার করেন। নৈবেদ্যদানে অসমর্থ হয়ে শ্যামাসুন্দরী দেবী অত্যন্ত মর্মাহত হন। সেই রাতেই তিনি দেবী জগদ্ধাত্রীকে স্বপ্নে দেখেন এবং তাঁর স্বপ্নাদেশে ওই চালে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করেন। জীবদ্দশায় প্রতি বছরই জগদ্ধাত্রী পূজায় উপস্থিত থাকতেন সারদা দেবী।

পূজা পরিচালনার জন্য তিনি সাড়ে দশ বিঘার কিছু বেশি জমি দেবোত্তর সম্পত্তিরূপে দিয়ে যান। ১৯১৯ সালে সারদা দেবী এই পূজায় শেষবার উপস্থিত ছিলেন। পরের বছর তিনি প্রয়াত হন। প্রথম পুজোর ঐতিহ্য অনুযায়ী এখনও শুক্লা নবমীতে মূল পুজোর পরও দুদিন প্রতিমা রেখে দিয়ে বিশেষ পুজার আয়োজন করা হয়। পুজোর সঙ্কল্প হয় সারদা দেবীর নামে।

Tuesday, November 1, 2016

ভাইফোঁটা

"ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোটা - যমের দুয়ারে পড়লো কাটা" ভাই ফোটার দিন বোনেরা এই প্রার্থনা করেন ভাইয়ের জন্য। ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গলের জন্য বোনেরা এদিন উপবাসী থেকে ভাইদের ফোটা দেন। ভাই ফোটা কার্ত্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় । এদিন ভাইরাও বোনের ফোটা নিয়ে বোনের বাড়ীতে রান্না করা খাবার খান। নিয়ম এমনটাই ।

ভাই ফোটার সাথে জড়িয়ে আছে যমরাজ ও যমুনা দেবীর ঘটনা । যম আর যমুনা সূর্য দেবতার পুত্র। পুরান শাস্ত্র এমটাই বলে। পুরানের ঘটনা শোনা যাক। সূর্য দেবতার প্রথম স্ত্রী হলেন সংজ্ঞা । সংজ্ঞার সন্তান সন্ততি হলেন যম ও যমুনা। সূর্যের প্রবল তেজ সহ্য করতে না পেরে একদিন সংজ্ঞা তারই মতোন দেখতে এক নারীকে সৃষ্টি করে সূর্য লোক থেকে পৃথিবীতে চলে আসেন। সেই সৃষ্ট নারী সংজ্ঞার ছায়া মূর্তি ছিল । তাঁর নামা ছায়া। ছায়ার সন্তান হলেন শনি দেবতা ।

একদিন যম আর যমুনা জানতে পারেন এটি তাঁদের গর্ভ ধারিনী মা নন, বরং তার মতোন দেখতে অন্য নারী। যমুনা তখন মাকে খুঁজতে পৃথিবীতে আসেন ও নদী রূপে প্রবাহিতা হলেন । সেই শোকে যম রাজাও বোনকে খুঁজতে বের হলেন। যমুনা ত সূর্য লোকে ফিরতে নারাজ। কিন্তু যম রাজা শোকাকুল। দেবর্ষি নারদের পরামর্শে যমুনা দেবী, যমরাজ কে ভাই ফোটা দিলেন ।

ললাটে দিলেন চন্দনের তিলক । সেই থেকে ভাইফোটা মর্তে প্রচলন হল। ভাইফোঁটা যমের প্রিয় অনুষ্ঠান। বলা হয় ভাইফোঁটা উৎসব যে ভাই বোনেরা পালন করেন, তাঁদের ওপর যমের কোপ দৃষ্টি পড়ে না। তারা দীর্ঘায়ু হন ।

Bhai Phota images

আজও এই প্রথা নিষ্ঠা সহকারে পালিত হয়। বোনেরা উপবাসী থেকে ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোটা দেন। ধান, দূর্বা, পান, প্রদীপ দিয়ে ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন। ভাইকে মিষ্টি মুখ করান, বস্ত্র উপহার দেন। ভাইরাও এদিন বোনকে মিষ্টি, শাড়ী উপহার দিয়ে বোনের হাতে রন্ধন ভোজন করেন। এই অনুষ্ঠান ভাই বোনের মধুর সম্পর্ককে আরও উজ্জ্বল করে। দ্বিতীয়া তিথিতে হয় বলে এই অনুষ্ঠানের নাম ‘ভাতৃ দ্বিতীয়া’ ।

পারিবারিক এই অনুষ্ঠানটি সকল ভাই এর প্রতি বোনদের যে মমতা তুলে ধরে তা অনন্য । ভাইফোঁটা তাই সকল ভাইয়ের, সকল বোনের অনুষ্ঠান । ভাইদের
মঙ্গল কামনায় উন্মুখ বোনের হৃদয় মাঙ্গলিক নানা অনুষ্ঠানে ধরা দেয় ভাইফোঁটায় । পারিবারিক নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় । সাধারনত ভাইরা বোনেদের কাছে এসে চন্দন চর্চিত ফোটা নেয় । বোন ছোট হলে দাদা আর্শীবাদ করে থাকেন । সেই সাথে দাদার পক্ষে বোনদের জন্য স্পেশাল কোনো গিফট তো থাকছেই ।

বোন বড় হলে আদরের ভাইকে ফোঁটার সাথে ভাইকে উপহার দেয়া হয়ে থাকে । ভাই ফোটা অনুষ্ঠানের কোনো ধর্মীয় মন্ত্র নেই । বিষয়টি কোনো ধর্মীয় গন্ডীর অনুষ্ঠানও নয় । সাধারণত প্রদীপ জালিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে মাঙ্গলিক পরিবেশে অনুষ্ঠানটি হয়ে থাকে । সবশেষে ভাইকে মিষ্টি খাইয়ে, প্রণাম ও আর্শীবাদ দেয়া নেয়ার মধ্যে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে ।

ভাই বোনের সম্পর্কটা যে কতটা আন্তরিক, মধুর ও স্নেহের পরশ মাখানো তা এই ভাই ফোঁটার দিনটা আসলে আরো গভীর ভাবে অনুভব করা যায়।

আগামী কাল ভাইফোঁটা। সকলকে শুভেচ্ছা জানাই ।

Thursday, October 6, 2016

শুভ মহা ষষ্ঠী

আমরা সারা বছর ব্যাকুল অপেক্ষায় বসে থাকি কখন, শহরের মাটির পুতুলের গ্রাম-কুমারটুলি, পটুয়াপাড়ার সেই পছন্দ করা মাটির মূর্তিরা আমাদের পাড়ার প্যান্ডেলে আসবে।

ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু, ক্ষীরোদসাগরের তীরে মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মান করেছিলেন, বাঙালি পন্ডিত ভবদেব ভট্টও বিধান দিয়েছিলেন মাটির দুর্গামূর্তির পুজোর। আবার দেবী মৃন্ময়ীর স্বপ্নাদেশেই তো বাংলার প্রাচীন দুর্গাপুজো, বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের মল্লরাজবংশের কুলদেবীকে গঙ্গামাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়।

দেবী মহাস্নানে ব্যবহার করেন বৃষশৃঙ্গমৃত্তিকা, গজদন্তমৃত্তিকা, নদীতীরের, রাজদ্বারের, চৌমাথার, বেশ্যাদ্বারের মাটি, সর্বতীর্থের ভূমি। মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার অকালবোধনে আমরা চাষাবাদের উর্বর জমিই যেন গায়ে দি।

মেটে রঙের খাদির উপর কাঁথা কাজের শাড়ি পরে, শিশিরভেজা সোঁদামাটির গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে উঠি। বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির গনেশ গলায় ঝুলিয়ে আমরা গনেশজননীর উদ্দেশে বলে উঠি- “জাগো যোগমায়া, জাগো মৃন্ময়ী, চিন্ময়ী রূপে তুমি জাগো...”

maha sasthi durga puja

Monday, September 5, 2016

আলপনা - ডিজাইন, ছবি, নকশা

রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষী পুজো । যা সকল হিন্দু সম্প্রদায় মহা ধুমধামে পালন করে থাকে । অনেক মুখো রুচক খাবারের আয়োজন ও করে । এর ভিতর সন্দেশ অন্যতম এবং সকলের কাছে পছন্দনীয় খাবার । লক্ষ্মীপুজোয় যে আল্পনা দেওয়া হয়, তাতে মায়ের পায়ের ছাপও আঁকা হয়। বিশ্বাস ওই পথেই মা ঢুকবেন গৃহস্থের ঘরে।

তিনি বিষ্ণুপ্রিয়া । তিনি শ্রী বিষ্ণুর সহধর্মিণী । তিনি সীতা , তিনি রাধা তথা রুক্মিণী । তিনি মহাপ্রভুর সহধর্মিণী লক্ষ্মীপ্রিয়া । শরত ঋতুতে আমরা যে দুর্গাদেবীর পূজো করি তিনিও মহালক্ষ্মী স্বরূপা । দেবী লক্ষ্মী মহামায়া আদিশক্তির এক অংশ । আসুন আমরা সকলে কোজাগরী পূর্ণিমার শুভ তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্রতী হই ।

alpona kojagori lokkhi puja

মূলত সাদা আলপনার চল থাকলেও এবার আপনার বাড়ির আলপনায় আনুন রং এর বৈচিত্র৷ আলপনা যত বেশি কালারফুল হবে তত বেশি লোকের চোখ টানবে৷এমন কোনও রং ব্যবহার করবেন না যা বেমান৷ উজ্জ্বল রং ব্যবহার করুন৷যাতে আলপনাও উজ্জ্বল দেখায়৷

এবার আপনার বাড়ির আলপনাতেও আনুন জ্যামিতিক প্যাটার্নের ছোঁয়া৷ এই ধরনের প্যাটার্ন দেখতে যেমন ভালো হয় তেমনি উচ্চ চিন্তাভাবনার পরিচয় দেয়৷ এত কষ্ট করে আঁকা আলপনা যদি একবার মোছাতেই উঠে যায় কি কষ্ট হয় তাই না? একদমই তাই৷ সেজন্য এবার আলপনা দিন ফেব্রিক দিয়ে৷ এতে আলপনা দীর্ঘস্থায়ী হয়৷

Thursday, August 25, 2016

Mayapur Iskcon


The Hare Krishna movement is the name by which is best known International Society for Krishna Consciousness, or ISKCON, the association founded in New York in 1966 by the spiritual master Bhaktivedanta Swami Prabhupada. ISKCON movement is based on the teaching of the mystical Bengali Chaitanya, according to a disciplic line of spiritual teachers (guru parampara) that the Gaudiyas date back to Krishna.

The doctrine, as for other current Gaudiya, is based on the focus of religious faith in the figure of Krishna, here understood as the Bhagavad. God, the Supreme Person, in one with his eternal, Radha, here understood as a manifestation of the same Bhagavat, and in that of Chaitanya and its Panca-tattva, here understood as the manifestation of deity Krishna and his eternal paredra Radha , and the promotion of an active missionary activity.

Wednesday, August 17, 2016

রাখি বন্ধন উৎসব - ছবি ও ইতিহাস

ইতিহাস সবসময় একাধিক মতবাদ প্রদান করে, এই একাধিকত্তের মধ্যে কোনটি উল্লেখযোগ্য তা নিজ নিজ গ্রহণযোগ্যতার উপর নির্ভরশীল। এবার চলে আসা যাক অতীতে, এই রাখির প্রবর্তন হয় কি ভাবে? কি ভাবে সূত্রপাত এই ভারতব্যাপী নিদারুণ বন্ধুত্বতার মহোৎসবের?

রাখিবন্ধনের দিন গণেশের বোন গণেশের হাতে একটি রাখি বেঁধে দেন। এতে গণেশের দুই ছেলে শুভ ও লাভের হিংসে হয়। তাদের কোনো বোন ছিল না। তারা বাবার কাছে একটা বোনের বায়না ধরে। গণেশ তখন তাঁর দুই ছেলের সন্তোষ বিধানের জন্য দিব্য আগুন থেকে একটি কন্যার জন্ম দেন। এই দেবী হলেন গণেশের মেয়ে সন্তোষী মা। সন্তোষী মা শুভ ও লাভের হাতে রাখি বেঁধে দেন।

পুরাণ বলছে , মহাভারতে আছে, একটি যুদ্ধের কৃষ্ণের কবজিতে আঘাত লেগে রক্তপাত শুরু হলে পাণ্ডবদের স্ত্রী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। এতে কৃষ্ণ অভিভূত হয়ে যান। দ্রৌপদী তাঁর অনাত্মীয়া হলেও, তিনি দ্রৌপদীকে নিজের বোন বলে ঘোষণা করেন এবং দ্রৌপদীকে এর প্রতিদান দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। বহু বছর পরে, পাশাখেলায় কৌরবরা দ্রৌপদীকে অপমান করে তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে কৃষ্ণ দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে সেই প্রতিদান দেন। এইভাবেই রাখিবন্ধনের প্রচলন হয় ।

Rakhi Bandhan Kolkata images wallpapers

অন্য মতে, একটি জনপ্রিয় গল্প অনুযায়ী, চিতোরের রানি কর্ণবতী ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে একটি রাখি পাঠান। গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহ চিতোর আক্রমণ করলে বিধবা রানি কর্ণবতী অসহায় বোধ করেন এবং তিনি হুমায়ুনকে একটি রাখি পাঠিয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। কর্ণবতীর রাখি প্রেরণে অভিভূত হয়ে হুমায়ুন চিতোর রক্ষা করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেন।

আবার ইতিহাসের সবচেয়ে নবীনতম মতবাদ অনুযায়ী, বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাঙালির এই প্রথম জাতীয়তাবাদী জাগরণের পেছনে রবীন্দ্রনাথ যে প্রেরণা দিয়েছেন তাঁর প্রাথমিক বীজবপন করেছিলেন রাখিবন্ধনের মধ্য দিয়ে। রাখিবন্ধন উত্সব প্রবর্তন করে হিন্দু-মুসলিমে সম্প্রীতি ও সান্নিধ্যের সুযোগ তৈরি করতে চাইলেন। নিজে পথে নামলেন, সাধারণ মুসলিম প্রবীণের হাতে রাখি পরালেন, মিছিলের পুরোভাগে থেকে গাইলেন বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান। তাই তো তিনি লিখতে পেরেছিলেন বাঙালির প্রাণ বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন এক হউক, এক হউক, এক হউক, হে ভগবান।

Monday, August 15, 2016

ভারতের স্বাধীনতা দিবস - সংগ্রাম, ইতিহাস

স্বাধীনতা দিবস হল ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি জাতীয় ছুটির দিন। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসনকর্তৃত্ব থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। তারই স্মৃতিতে প্রতি বছর ১৫ অগস্ট ভারতে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রধানত অহিংস অসহযোগ ও আইন অমান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘ স্বাধীনতা আন্দোলনের পর ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজিত হয়ে ভারত অধিরাজ্য ও পাকিস্তান অধিরাজ্য নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এই বিভাজনের সময় ধর্মীয় দাঙ্গায় প্রচুর জীবন ও সম্পত্তি হানি ঘটেছিল। ভারত বিভাজনের ফলে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন জওহরলাল নেহেরু। এই দিন দিল্লির লাল কেল্লার লাহোরি দরজার উপর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর পর থেকে প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলন করে ভাষণ দেন।

স্বাধীনতা দিবসে সারা ভারতে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ভারতীয়রা এই দিন তাঁদের পোষাক-পরিচ্ছদ, যানবাহন ও বাড়িতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত করেন। দেশাত্মবোধক গান ও দেশপ্রেমমূল চলচ্চিত্র সম্প্রচারিত হয়। এই দিনটি পারিবারিক পুনর্মিলন ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একত্রে মিলিত হওয়ার একটি দিনও বটে।

যে সব চলচ্চিত্র বা গ্রন্থে স্বাধীনতা ও দেশভাগের কথা রয়েছে, সেগুলিও এই দিন সম্প্রচারিত বা পঠিত হয়ে থাকে। ১৫ অগস্ট এবং তার আগের ও পরের দিনগুলিতে দেশে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি হানার আশঙ্কা থাকে। তাই এই সময় দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা

Independence Day Kolkata

১৭শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় বণিকরা ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করতে শুরু করে।.১৮শ শতাব্দীতে অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তির বলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি স্থানীয় রাজ্যগুলিকে পরাজিত করে ভারতে নিজেদের শাসন কায়েম করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারত শাসন আইন (১৮৫৮) পাস হয় এবং ব্রিটিশ রাজশক্তি ভারতের প্রত্যক্ষ শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেয়। পরবর্তী কয়েক দশকে ধীরে ধীরে ভারতে সুশীল সমাজ গড়ে ওঠে।

এই গড়ে ওঠার পিছনে অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি ছিল ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার প্রভৃতি শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে উদ্যোগী হয়। সেই সঙ্গে দমনমূলক রাওলাট আইনও পাস হয়। এর ফলে ভারতীয় আন্দোলনকারীরা স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি জানাতে থাকেন। এই সময় ভারতীয় জনসাধারণের অসন্তোষ সারা দেশব্যাপী অহিংস অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের জন্ম দেয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোহনদাস করমচন্দ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী)।

১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার ভারতে আংশিক স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করার পর আইনসভা গঠিত হয়। এরপর নির্বাচনে কংগ্রেস জয়লাভ করে। পরবর্তী দশকটি ভারতের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার দশক। এই দশকেই ভারত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়, কংগ্রেস সর্বশেষ বারের জন্য অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে এবং অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের ইসলামি জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটে। এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটে ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে। তবে স্বাধীনতা লাভের আগে ভারতীয় উপমহাদেশ ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে বিভাজিত হয়।

১৯২৯ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং ২৬ জানুয়ারি তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কংগ্রেস জনসাধারণের কাছে আবেদন জানায়, যতক্ষণ না ভারত পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করছে ততক্ষণ তারা যেন আইন অমান্য কর্মসূচি পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস কর্তৃক প্রচারিত নির্দেশাবলি অনুসরণ করেন। এই ধরনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ধারণার প্রসার এবং ভারতের স্বাধীনতা অনুমোদনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা।

১৯৩০ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস ২৬ জানুয়ারি তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে এসেছে। সেই সময় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জনসভার আয়োজন করা হত। সেই জনসভায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীনতার শপথ গ্রহণ করতেন। জওহরলাল নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, এই জনসভাগুলি ছিল শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর এবং এই সব সভায় কোনও প্রকার ভাষণ দেওয়া হত না বা কোনও সনির্বন্ধ মিনতি জ্ঞাপন করাও হত না।

গান্ধী ভেবেছিলেন যে এই সব জনসভার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কিছু সৃজনশীল কাজও করা যায়। যেমন, চরকা কাটা, সামাজিকভাবে অস্পৃশ্যদের সেবা করা, হিন্দু-মুসলমান সমন্বয়, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অথবা এই সব কটি কাজই। ১৯৪৭ সালে ভারত প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি তারিখে। সেই থেকে ২৬ জানুয়ারি তারিখটি ভারতে সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে

১৯৪৬ সালে ব্রিটেনে লেবার সরকার গঠিত হয়। সদ্যসমাপ্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের সরকারি অর্থভাণ্ডার প্রায় নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে, ভারতে ক্রমবর্ধমান অস্থির পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা স্বদেশের সম্মতি বা আন্তর্জাতিক সাহায্য তো পাবেই না, তার উপর স্থানীয় বাহিনীর উপরেও নির্ভর করতেও পারবে না। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি ঘোষণা করেন, ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই ভারতকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের অধিকার প্রদান করবে।

ভারতের নবনিযুক্ত ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন মনে করেন, কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে ক্রমান্বয়িক বিতর্ক অন্তর্বর্তী সরকারের পতনের কারণ হতে পারে। তাই তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনটি এগিয়ে আনেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের দ্বিতীয় বার্ষিকী ১৫ অগস্ট তারিখটিকে ক্ষমতা হস্তান্তরের তারিখ হিসেবে নির্ধারিত করেন।

১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে, সরকার ব্রিটিশ ভারতকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে এবং উক্ত দুই রাষ্ট্রের সরকারকে অধিরাজ্য মর্যাদা দেওয়া হবে এবং ব্রিটিশ কমনওয়েলথ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্ণ অধিকারও দেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ পাস হয়।

উক্ত আইন বলে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ব্রিটিশ ভারত দ্বিধাবিভক্ত হয় এবং স্বাধীন ভারতীয় অধিরাজ্য ও পাকিস্তান অধিরাজ্য (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখণ্ড সহ) গঠিত হয়। দুই রাষ্ট্রেরই গণপরিষদের উপর রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ আইনি কর্তৃত্ব স্বীকৃত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই এই আইনটি ব্রিটিশ রাজশক্তির সম্মতি লাভ করেছিল।

Thursday, March 24, 2016

বসন্ত উৎসব শান্তিনিকেতন

শান্তিনিকেতনে দোলোৎসবই বসন্ত উৎসব বলে প্রচলিত। ফাগুন মাস বসন্তকাল, এবং দোল অর্থাৎ হোলিখেলা এই মাসেরই অঙ্গ। জাতিধর্ম নির্বিশেষে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই সামিল হই এই উৎসবে। এই বিশেষ উৎসব শান্তিনিকেতনে এক নতুন মাত্রায় মাত্রা পায়। দোলের সাতদিন আগে থেকে সাজো সাজো রব পরে যায় শান্তিনিকেতনে বীরভূম জেলায়। সাধারণত ভুবন মাঠেই এই উৎসব পালিত হয়।

বিরাট মঞ্চ বাঁধা হয় মাঝখানে এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা তৈরী হয় মূল মঞ্চে পৌঁছানোর। কলাকুশলীরা অর্থাৎ বিশ্বভারতীর ক্ষুদে ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে বড়রা সামিল হয় এই উৎসবে। শাড়ি পরিহিত সুন্দর সাজ তাদের। মেয়েরা হলুদ ও সবুজ রঙের শাড়ি পরে, গলায় উত্তরীয়, চুলে বা খোঁপায় পলাশ ফুল, কপালে চন্দনের টিপ্। ছেলেরা পরনে রঙিন ধুতি, পাঞ্জাবি, গলায় উত্তরীয়। যেটা শান্তিনিকেতনের প্রাচীন ঐতিহ্য।



অনুষ্ঠান শুরু হয়, ছোট শিশুদের নাচ দিয়ে। নাচতে নাচতে তারা মঞ্চের দিকে ঢুকে যায়। তারপরে এক এক করে আস্তে থাকে নাচের দল। নাচের সাথে সাথে কবি গুরুর গান ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগলো যে দোল।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন রঙের স্রোত বয়ে চলেছে এমনই নাচের ছন্দ, এমনই নৃত্য সুষমা। আবার কেহ ডান্ডি নাচছে, কেউ বা রবীন্দ্রীক, কেউ মনিপুরী। কারণ সর্ব ভারতীয় মিলন ক্ষেত্র এই শান্তিনিকেতন। কবিগুরু তো চেয়েছিলেন, ছেলেমেয়েরা সব কিছুতেই পারদর্শী হয়ে উঠুক। সকাল সাতটায় শুরু হয় এই অনুষ্ঠান। সবশেষে আবীর ছড়াতে ছড়াতে সবাই এক হয়ে যায়। সে দৃশ দেখে মনে হয়, এক স্বর্গীয় সুন্দর্য।

সন্ধাবেলায় এখানেই নৃত্যনাট্য হয়। সেও এক সুন্দর মনোরঞ্জন অনুষ্ঠান। কোথাও কোথাও বাউলদের গান শোনা যায়। তাঁরাও এই উৎসবেরই এক অঙ্গ। তাঁদের গানে বোলপুরের আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। চারিদিকে আলোর রোশনাই, সে এক জমজমাট হৈ হৈ রব পরে যায় বোলপুরের শান্তিনিকেতনে।







Kolkata Holi Celebration

Kolkata Holi party

The play of colors, but it's due to the story of Radha and Krishna. The young man asked his mother why his beloved Radha was clear and he was so dark. The mother then told him that coloring the complexion of Radha, he would not have noticed the difference. It's game launch color reminds one of the erotic games that Krishna used to do with the Gopis Young cowherd, of which there are various artistic representations , such as in a painting of 1788 in Kangra.

হোলিকা দহন

দোল পূর্ণিমার পূর্ব দিন আমরা একটি খড়ের ঘর তৈরী করে তাকে আগুনে পোড়াই। লোক চলতি ভাষায় একে বুড়ীর ঘর পোড়ানো বলা হয় । এই উৎসব হোলিকা দহন নামে পরিচিত । এই সম্পর্কে একটি ঘটনার উল্লেখ পুরাণে পাই। বিষ্ণু হিরণ্যক্ষকে বধ করে। এরপর কশ্যপ মুনির অপর সন্তান হিরণ্যকশিপু ভায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তীব্র ভাবে বিষ্ণু বিরোধী হয়ে পড়েন।

Holika Dahan holi

হিরণ্যকশিপুর স্ত্রী কয়াদুর গর্ভে প্রহ্লাদের জন্ম হয় । হিরণ্যকশিপু তাঁর পুত্রকে আসুরিক বিদ্যা গ্রহণের জন্য অসুর গুরু শুক্রের আশ্রমে প্রেরন করলো। তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন বিষ্ণু এক পরিকল্পনা করলো । হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক এমন ব্যবস্থা করা হল এতে প্রহ্লাদ পুড়ে মরবে। একদা হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে চিতায় উঠলো। চিতায় আগুন ধরানো হলে পাহাড় প্রমান আগুনের শিখা উঠলো। এই দিনটি হোলিকা দহন নামে পালিত হয়ে আসছে।


হোলি উৎসব

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হোলির রীতি ও বিশ্বাস বিভিন্ন। বাংলা অঞ্চলে বৈষ্ণব প্রাধান্য রীতি প্রচলিত। রঙ উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে। শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে থেকে সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একতা থাম বানিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করে ‘হোলিকা দহন’ হয়। পরের দিন রঙ খেলা। বাংলাতেও দোলের আগের দিন এইরকম হয় যদিও তার ব্যাপকতা কম, একে আমরা বলি ‘চাঁচর’।

এই চাঁচরেরও অন্যরকম ব্যাখ্যা আছে। দোল আমাদের ঋতুচক্রের শেষ উৎসব। পাতাঝরার সময়, বৈশাখের প্রতীক্ষা। এই সময় পড়ে থাকা গাছের শুকনো পাতা, তার ডালপালা একত্রিত করে জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্যে এক সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে নতুনের আহ্বান হচ্ছে এই হোলি। বাংলায় দোলের আগের দিন ‘চাঁচর’ উদ্যাপনকে এভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়।

অঞ্চল ভেদে হোলি বা দোল উদ্যাপনের ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত লোককথার ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু উদযাপনের রীতি এক। ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন পূর্বভারতে আর্যরা এই উৎসব পালন করতেন। যুগে যুগে এর উদ্যাপন রীতি পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। পুরাকালে বিবাহিত নারী তার পরিবারের মঙ্গল কামনায় রাকা পূর্ণিমায় রঙের উৎসব করতেন।

Kolkata holi shantineketan basanta utsav

দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি মীমাংসা’য় রঙ উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক হোলিকোৎসব পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়। হর্ষবর্ধনের নাটক রত্নাবলী তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ আছে। এমনকি আল বেরুনীর বিবরণে জানা যায় মধ্যযুগে কোন কোন অঞ্চলে মুসলমানরাও হোলিকোৎসবে সংযুক্ত হত।

মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের রঙ উৎসব। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়।শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে। দোলের পূর্বদিন খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বিশেষ বহ্নুৎসবের আয়োজন করা হয়। এই বহ্নুৎসব হোলিকাদহন বা মেড়াপোড়া নামে পরিচিত। উত্তর ভারতে হোলি উৎসবটি বাংলার দোলযাত্রার পরদিন পালিত হয়।

দোলযাত্রা উৎসব শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসব নামে পরিচিত। অতীতে শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয়ে বসন্তের আগমন উপলক্ষ্যে একটি ছোটো ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নাচগান, আবৃত্তি ও নাট্যাভিনয় করা হত। পরবর্তীকালে এই অনুষ্ঠানটি পরিব্যপ্ত হয়ে শান্তিনিকেতনের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব বসন্তোৎসবের আকার নেয়। ফাল্গুনী পূর্ণিমা অর্থাৎ দোলপূর্ণিমার দিনই শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসবের আয়োজন করা হয়। পূর্বরাত্রে বৈতালিক হয়। দোলের দিন সকালে ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল গানটির মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সন্ধ্যায় গৌরপ্রাঙ্গনে রবীন্দ্রনাথের কোনো নাটক অভিনীত হয়।

Monday, February 15, 2016

হাওড়া স্টেশন

ভারতের ব্যস্ততম রেল স্টেশন হল হাওড়া স্টেশন। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে প্রাচীন স্টেশন হাওড়া ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানির মালিকানাধীন। ১৮৪৭ সালের জানুয়ারি মাসে, ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানি তৈরী হয়, ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি ও গ্রেট ওয়েস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি কে একত্রিত করে।

১৭ই অগাস্ট ১৮৪৯ সালে, তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানির সাথে, কলকাতা থেকে বর্ধমান পর্যন্ত একটি পরীক্ষামূলক রেল লাইন বসানোর চুক্তি করে। যদিও এর আগেই ১৮৪৫ সালেই, ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পরে এই রেল লাইন চালুর আবেদন করেছিল।

ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানির তৎকালীন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ ইঞ্জিনিয়ার জর্জ টার্নবুল ও কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা, ৭ই মে ১৮৫০ সালে, হাওড়া থেকে বর্ধমান পর্যন্ত লাইন পরীক্ষা করে, ট্রেন চালানোর পক্ষে সবুজ সংকেত দেন। ১৮৫৪ সালের ১৫ই অগাস্ট, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে হুগলির উদ্দেশ্যে প্রথম ট্রেনটি ছাড়ে। উল্লেখ্য যে, ২৪ মাইল যাত্রাপথের প্রথম ট্রেনের জন্য, রেল কোম্পানি প্রায় ৩ হাজার আবেদন পত্র পেয়েছিল।

ট্রেনটিতে ছিল, ৩টি প্রথম শ্রেণী, ২টি দ্বিতীয় শ্রেণী, তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য ৩টি 'ট্রাকস' এবং গার্ডের জন্য একটি ব্রেক ভ্যান। এগুলি সবই কলকাতায় তৈরী করা হয়েছিল। প্রথম যাত্রায়, হাওড়া থেকে হুগলী যেতে সময় লেগেছিল ৯১ মিনিট। হাওড়া-হুগলী যাত্রাপথের মাঝে, ট্রেন থামত, তিনটি স্টেশনে- বালি, শ্রীরামপুর ও চন্দননগরে। ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর ভাড়া ছিল ৩ টাকা ও তৃতীয় শ্রেণীর ভাড়া ছিল ৭ আনা।

জর্জ টার্নবুল, ১৭ই জুন ১৮৫১ সালে, প্রথম হাওড়া স্টেশন বিল্ডিং এর জন্য প্ল্যান জমা দেন। যদিও, সরকারি আধিকারিকরা, হাওড়া স্টেশনের জন্য কোম্পানি যতটা জমি চেয়েছিল ততটা জমি দিতে রাজি ছিলেন না। যদিও, রেল কোম্পানির ক্রমাগত বর্ধিত হতে থাকা লাভের অংক দেখে, পরে তাদের মত পরিবর্তন ঘটে।

Howrah Station

১৮৫২ সালের জুন মাসে, জর্জ টার্নবুল, পুনরায় হাওড়া রেল স্টেশনের সম্পুর্ন ও পরিমার্জিত প্ল্যান জমা দেন। এবারে, সেই প্ল্যান গৃহীত হয় ও স্টেশন তৈরীর জন্য টেন্ডার ডাকা হয়। ১৮৫২ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত, ৪টি টেন্ডার জমা পড়ে। তখনকার দিনে জমা পড়া ৪টি টেন্ডারের দর ছিল ১লক্ষ ৯০ হাজার টাকা থেকে ২লক্ষ ৭৪ হাজার ৫২৬ টাকার মধ্যে। হাওড়া স্টেশন তৈরীর জন্য, রেল কোম্পানি আনুমানিক খরচের হিসাব ছিল ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

রেল কোম্পানি, বর্তমান হাওড়া রেল স্টেশনের জমি অধিগ্রহণ করার আগে, সেই জমিটি ছিল একজন পর্তুগিজ ব্যক্তির, যিনি সেখানে একটি অনাথ আশ্রম চালাতেন ও এর সাথে একটি চার্চ ছিল। কোম্পানি তাঁর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করে, তার অনাথ আশ্রম ও চার্চটিকে কলকাতায় সরিয়ে নিয়ে যাবার ব্যাবস্থা করে দেয়।

যেহেতু তখন হাওড়া সেতু ছিলনা, তাই হাওড়া স্টেশনে যেতে হত নৌকা দিয়ে হুগলী নদী পার করে। আর হাওড়া স্টেশনের দিকে কোন ঘাট না থাকার জন্য, যাত্রীদের আর্মেনিয়ান ঘাটে নেমে, সেখানে থাকা রেল কোম্পানির টিকিট কাউন্টারে ট্রেনের টিকিট কাটতে হত। ট্রেনের টিকিটের সাথে, নদী পারাপার হবার ভাড়াও জুড়ে দেওয়া থাকত। ১৮৮৬ সালে, হাওড়া পন্টন ব্রীজ তৈরী হবার পরে, এই পদ্ধতি বন্ধ হয়।

১৮৬০ সালে বর্তমানের লাল ইঁট দিয়ে তৈরী হাওড়া স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১৮৬৫ সালের আগে পর্যন্ত হাওড়া স্টেশনে একটি মাত্র প্লাটফর্ম ছিল। ১৮৬৫ সালে, ট্রেন আসা ও যাওয়ার জন্য, দুটি আলাদা প্লাটফর্ম তৈরী করা হয়। ১৮৯৫ সালে, আরো একটি নতুন প্লাটফর্ম বানানো হয় ও হাওড়ায় মোট প্লাটফর্মের সংখ্যা হয় ৩টি। এই প্লাটফর্মগুলি দৈর্ঘ্যে এমনকিছু বড় ছিল না। এর জন্য ট্রেনের প্রায় ৫টি বগি প্লাটফর্মের বাইরেই থাকত। প্রথমের কোচগুলো ছিল ৪ চাকার। ৮ চাকার কোচ, ১৯০৩ সাল থেকে চালু হয়।

হাওড়ার ওপরে, ক্রমাগত যাত্রীর চাপ বাড়ার জন্য, ১৯০১ সালে, নতুন করে হাওড়া স্টেশনকে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নতুন হাওড়া স্টেশনের নকশা করেন ব্রিটিশ স্থপতি হেলসেই রিকার্ডো। ১৯০৫ সালে, নতুন ৬ প্লাটফর্মের (সাথে আরো ৪টি নতুন প্লাটফর্ম তৈরী করার জায়গা সমেত) হাওড়া স্টেশন সম্পূর্ণ হয় এবং এর উদ্বোধন হয় ১৯০৬ সালে।

Sunday, February 14, 2016

Kolkata Valentine Day


San Valentino, also known as Saint Valentine in Terni or Valentine from Interamna, was a Roman, martyr bishop. Venerated as a saint by the Catholic Church, by the Orthodox and later by the Anglican Church, is considered the patron saint of lovers and protector of epileptics.

Saturday, February 13, 2016

১৪ ফেব্রুয়ারী ভ্যালেন্টাইন ডে - ভালবাসা দিবসের কবিতা, এসএমএস, উপহার, ইতিহাস

ষোড়শ শতাব্দী থেকে শুরু হয় আধুনিক ভ্যালেন্টাইন ডে রীতি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের একটি নাম ভ্যালেনটাইনেস ডে। ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিরোধ আছে। যে কাহিনীই শুনি, সেইটাকেই সত্য বলে মনে হয়। তরুণ-তরুণীরা মনের মানুষের কাছে চিঠি, এসএমএস, ভিডিও বার্তায় ভালোবাসার নিমন্ত্রণ পাঠায়। ১৯৩৬ সালের পূর্বে কাগজের কার্ডের পরিবর্তে তামার পাত বা কাঠের ফলকে খোদাই করে মনের কথা পাঠানো হতো। ইউরোপে ১৪ ফেব্রুয়ারি আসার এক সপ্তাহ পূর্ব থেকেই উৎসব শুরু হয়ে যায়।

পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এ দিবস ঘটা করেই পালন করা হয়। শিশুরা স্কুলে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ সঙ্গীত পরিবেশন করে। বিশেষ খাবারের আয়োজন করে ইতালির অধিবাসীরা। আর কাগজের তৈরি লাল ফুল বিনিময় করে ডেনমার্কবাসী। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। রয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন পরিষদ, ‘যৌতুক নয় ভালোবাসায় জীবন গড়ি’ স্লোগান নিয়ে ১৯৯৮ সালে এ দেশে তাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

গত কয়েক বছর ধরে অনেক দেশে এই দিবস পালনের রীতি চালু হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন হোক বা না হোক দিবস পালনের নিষেধাজ্ঞা চোখে পড়ে না। বরং কিছু কিছু মিডিয়া এমনভাবে অনুষ্ঠান প্রচার ও লেখালেখি করে যাতে অর্ধ-মৃত মানুষেরও ঘুম ভেঙে যায় এই দিবস পালনের তাড়নায়। কারো কারো কাছে এ দিবস যেন অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার। তারা নানাভাবে উপার্জনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এ শুরুর ইতিহাস হিসেবে একাধিক ঘটনা জানা যায়। কোনটি সঠিক বলা মুশকিল। প্রত্যেকেই তার নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রাচীন রোমবাসী কুমারী মেয়েরা ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনে ভালোবাসার কাব্য লিখে মাটির পাত্রে জমা করত আর যুবকরা পাত্র থেকে একটি লেখা তুলে নিতো। যুবকের হাতে যার লেখা উঠে আসতো সেই মেয়েটিকেই সে ভালোবাসতো। (বিশ্ব দিবস)।

Valentine's Day Kolkata images

অপর একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, রোমান সা¤্রাজ্যে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ হওয়ার পর ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ইতালির সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক একজন চিকিৎসক খ্রিস্টান পাদ্রিকে তৎকালীন রোমান স¤্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস বন্দি করেন। বন্দি অবস্থায় কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার ফলে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েটির সঙ্গে ভ্যালেন্টাইন ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কারাবন্দি অবস্থায় সে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়লে রাজা তাকে মৃত্যুদ- দেন (১৪ ফেব্রুয়ারি)। এরপর থেকেই খ্রিস্টান সম্প্রদায় ভ্যালেন্টাইনের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এ দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করতে থাকে।

ভ্যালেন্টাই দিবসের মতো খ্রিস্টানরা আরো অনেক দিবস পালন করে থাকে। যেমন- সেন্ট এন্ডু ডে (৩০ নভেম্বর), সেন্ট মার্টিন ডে (১১ নভেম্বর), সেন্ট বার্থেলোমিজম ডে (২৪ আগস্ট), সেন্ট জর্জ ডে (২৩ এপ্রিল), সেন্ট পথাট্রিক ডে (১৭ মার্চ)। কিন্তু উৎসবের প্রকাশভঙ্গি গির্জার চেতনাবিরোধী হয়ে পড়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ হয়।

আজকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি এলেই এক শ্রেণীর প্রেমিক-প্রেমিক দু’জন দু’জনকে একান্তে পাওয়ার ইচ্ছায় নানা কিছু করে। কার্ড, ফুল, চকলেট, লটারি, বিনোদন, ডেটিং, বৈশিষ্ট্যের পার্টিতে যোগদান, নানা কিছু উপহার দেয়া, মন বিনিময়, মত বিনিময় এ দিবসের মূল লক্ষ্য। উপহারকে যে যত বেশি আকর্ষণীয় করতে পারে তার ভালোবাসা যেন ততই পূর্ণতা লাভ করে। কেউবা তার প্রেমিকাকে এভাবে বলে, পৃথিবীর সকল উপহারই তোমার কাছে তুচ্ছ। তাই তোমার জন্য আমি নিজেই জীবন্ত উপহারের উপকরণ।

Wednesday, February 10, 2016

Kolkata Disco Nightclub

park street nightclub pub disco

Kolkata nightclub is characterized by a atmosphere and soft music generally live. Usually you can consume alcoholic beverages, and you can dance. The difference with the bar and the pub is the presence of live music or a disc jockey and a dance floor. Some nightclubs also have other types of attractions, including dancers pole dance, lap dance, cubist or strippers. In these cases, the difference with the strip club is very labile. In fact, usually, only the adults can enter.

Tuesday, February 9, 2016

South City Mall

South City mall kolkata jadavpur

South City Mall shopping center is a homogeneous building complex specially designed and built to accommodate a number of businesses stores of large retail chains, stores specialized retail, wholesale or temporary, retail chains in franchising, cinemas, restaurants, banks and other services to person as hairdressers gyms and more.

Wednesday, February 3, 2016

Joynagarer Moa


Joynagarer moa is one of popular sweets in Bengal. This Bengali sweet available during winter season is a famous but rustic sweet and a must taste during winters which is sweet, round and quintessentially Bengali made from khoi, kheer and nolen gur, and is only a winter treat.