Saturday, September 23, 2017

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা

মান্না দে’র সেই সুবিখ্যাত গান কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই - কোথায় হারিয়ে গেলো সোনালী বিকেলগুলো সেই - আজ আর নেই। ইন্ডিয়ান কফি হাউজ যার আদি নাম এ্যালবার্ট হল। এ্যালবার্ট হলেন রাণী ভিক্টেরিয়ার স্বামী। গত ৮ মার্চ কলকাতায় ইন্ডিয়ান কফি হাউজে ঢু মারি ঠিক রাত সোয়া আটটায়। টানা পঁয়তাল্লিশ মিনিট কফি হাউজের আড্ডারুদের পর্যবেক্ষণ করি। দেওয়ালে বিশ্বকবির প্রতিকৃতি টাঙানো। উপরের ব্যালকুনি জুড়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা অবধি চলে কফি, স্যান্ডউইচ, কোল্ড কফি, চিকেন ফ্রাইড, টোস্ট, ডিমের অমলেট সহ সস্তাদরের সব নাস্তাখাবার।

৪ টাকা থেকে ৫২ টাকার মধ্যে সবকিছুরদাম। আড্ডাটা বিকেল থেকে জমজমাট হয়। কলকাতার বইপাড়া হলো কলেজস্ট্রিট। নামিদামি প্রকাশনী থেকে শুরু করে অনেক বইয়ের দোকান এখানে। কফি হাউস, ইন্ডিয়ান কফি হাউস বা এ্যালবার্ট হল উত্তর কলকাতার কলেজ স্ট্রিট চত্বরে অবস্থিত বাঙালির-আড্ডাস্থল, কলকাতার কফি হাউসগুলির মধ্যে সেন্ট্রাল এ্যাভিনিউ এবং কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউজ- দুটিই প্রাচীনতম।

Indian Coffee House kolkata images

ইন্ডিয়ান কফি বোর্ডের উদ্যোগে বাঙালি কফি সেবীদের জন্য সেন্ট্রাল এ্যাভিনিউর কফি হাউজ খোলা হয় ১৯৪১-৪২ সাল নাগাদ আর তার কিছুদিন পরেই ১৯৪৫ সালে চালু হয় কলেজ স্ট্রিটের কফি-হাউজটি। পরে ১৯৫৭-৫৮ সাল নাগাদ কফি-হাউজ (অ্যালবার্ট হল) ইন্ডিয়ান কফি বোর্ডের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিক সমব্যয়ের আওতায় আসে।

দুটি কফি-হাউজই ছিল এককালের বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রধান আড্ডাস্থল। নিকটতম বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছাত্রছাত্রীদের ভিড় করা ছাড়াও নামিদামী বুদ্ধিজীবী-লেখক, সাহিত্যিক, গায়ক, অভিনেতা, চিত্রপরিচালক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিদেশি পর্যটকদের আড্ডা দেওয়ার অবারিত জায়গা হিসাবে এটি খ্যাত ছিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরোনো বইয়ের বাজার ও নতুন বইয়ের বাজার সামনে আছে বলে হাউসটিতে সব সময়ই ভিড় থাকে।

চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়, লেখক শক্তি চট্টোপাধায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, জয় গোস্বামীদের মতো কবিরা, বাঙালি অভিনেতা রূদপ্রসাদ সেনগুপ্তর মত প্রমুখ ব্যক্তিরাও এই কফি হাউসটিতে আড্ডা দিয়ে গেছেন। কফি হাউসটি কলেজ স্ট্রিটের মর্মস্থলে অবস্থিত যেখানে প্রখ্যাত সব বুদ্ধিজীবিরা ঘন্টার পর ঘন্টা এক কাপ কফি নিয়ে আড্ডা জমান। পূর্বে অ্যালবার্ট হল নামে পরিচিত এই হলঘর বহু ঐতিহাসিক সভা বা জমায়তেরও সাী। কফি হাউজের নীচতলায় ৪২ খানা টেবিল ও ২১ খানা বৈদ্যুতিক পাখা ঝুলছে।



বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব

উত্তর কলকাতার বাগবাজার সার্বজনীনের দুর্গা প্রতিমা একেবারেই সাবেকি। একচালায় ডাকের সাজে মায়ের অপরূপ প্রতিমা এখানে দেখতে পাবেন। বাগবাজারে দুর্গাপূজা সার্বজনীন অভিহিত হয় ১৯২৬ সালে। এই পূজা আগে ছিল বারোয়ারি। এই পূজার উদ্যোক্তা ছিলেন—রামকালী মুখার্জি, দীনেন চ্যাটার্জি, নীলমণি ঘোষ, বটুকবিহারী চ্যাটার্জি প্রমুখ। সঠিক অর্থে এই পূজাই কলকাতা তথা তত্কালীন ভারতবর্ষের প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপূজা।

Bagbazar Sarbojanin durga puja

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সার্বজনীন দুর্গোৎসব

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সার্বজনীন দুর্গোৎসব সেই ১৯৩৬ সালে শিয়ালদহ অঞ্চলের সার্পেন্টাইন লেনে চ্যাটার্জীদের একচিলতে জমিতে জন্ম। সার্পেন্টাইন লেনের একচিলতে জমিতে জায়গা না হওয়াতে স্বাধীনতার সমসাময়িক কালে এই পূজা উঠে আসে অতীতের সেণ্ট জেমস্ স্কোয়ার অধূনা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে অর্থাৎ লেবুতলা পার্কে। এই পুজোও বিবর্তনের হাত থেকে বাদ যায়নি। রমেশ পাল হিমালয়-কন্যা রূপে মা দুর্গাকে তৈরী করে সারা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।



১৯৯৫ সালে মণ্ডপ ছিল লোটাস টেম্পল-এর আদলে। ১৯৯৬ সালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের জন্ম শতবর্ষে নেতাজীকে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে ইতিহাস ঘেটে তাঁর ব্যবহৃত কামাতামারু জাহাজের আদলে পূজা মণ্ডপ তৈরী করে বিশ্বের মণ্ডপ সজ্জার ইতিহাসে শুরু হল আলোড়ন।

মহম্মদ আলি পার্ক দূর্গা পুজো

মধ্য কলকাতার অন্যতম সেরা দূর্গা পুজো বলতে মনের কোণে উঁকি দেয় মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গা পুজো। শহরের যে কোনও প্রান্ত থেকে এক বাসে বা মেট্রোয় সেন্ট্রাল এভিনিউ। সেখান থেকে কয়েক পা হাঁটলেই মহম্মদ আলি পার্ক। মধ্য কলকাতার মহম্মদ আলি পার্ক সর্বজনীন শহরের আর একটি বড়ো পুজো। এদের থিম-ভাবনা একটু আলাদা রকমের–কিছুটা যেন থিম আর সাবেকিয়ানার মেলবন্ধনের প্রয়াস।






একডালিয়া এভারগ্রিন দূর্গা পুজো

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত বিখ্যাত দূর্গা পুজো একডালিয়া এভারগ্রিন। ১৯৪৩ থেকে গড়িয়াহাটে এই ক্লাবের পুজো হয়ে আসছে। সিংহি পার্কের পুজোই মূলত একডালিয়া এভারগ্রিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিবছরই দেশের কোনও না কোনও বিখ্যাত মন্দিরের আদলে প্যান্ডেল তৈরি করেন একডালিয়া এভারগ্রিনের উদ্যোক্তারা। শুধু প্যান্ডেল নয়, সেইসঙ্গে একডালিয়া এভারগ্রিনের অন্যতম আকর্ষণ ঝাড়বাতি। মণ্ডপ প্রাঙ্গনে বিশালাকারের ঝাড়বাতি লাগানো হয়।

শুধু জাঁকের বহরেই একডালিয়া কলকাতার প্যান্ডেল হপারদের আবশ্যিক ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে। নয়ের দশক থেকে শহরে থিম পুজোর আগ্রাসন শুরু হলেও উত্তরের বাগবাজার, সিমলা ব্যায়াম সমিতি বা মধ্য কলকাতার কলেজ স্কোয়ারের মতোই একডালিয়াকে তা স্পর্শ করতে পারেনি। তবে, বাকিদের মতো সাবেকিয়ানা আঁকড়ে থাকলেও প্রতিমা, মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জায় স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে একডালিয়া।



কলকাতার সর্বজনীন পুজোর নিরিখে উত্তর কলকাতাই ছিল পথিকৃত। শহরের বেড়ে ওঠার আর্থ-সামজিক ইতিহাসের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাগবাজার থেকে সিমলা ব্যায়াম সমিতির মতো পুজো কলকাতার বারোয়ারি পুজোর সংজ্ঞা নিরূপণ করেছিল। যদিও প্রায় একই সময়ে সংলগ্ন এলকায় আরও অনেক সর্বজনীন পুজোর সূচনা হয়। পরে সেই রেশ গিয়ে পড়ে দক্ষিণে। এতশত বারোয়ারি পুজোর ভিড়ে এখনও শতায়ু পুজো হাতে গোনা। তবে উত্তরে নয়ের কোঠায় পা রাখা পুজো খুঁজে পাওয়া যায়। নানা ঝড়-ঝাপটা সামলে তারা আজও টিকে আছে সসম্মানে।

উত্তরের থেকে ভিড় দক্ষিণে টেনে আনার ক্ষেত্রে মাইলস্টোন অবশ্যই একডালিয়া। সেই আকর্ষণের নিরিখে সাতের দশকের শুরুতে দক্ষিণ কলকাতার পুজো বলতে লোকে একডালিয়াকেই বুঝত। পাশের বালিগঞ্জ কালচারাল, সমাজসেবী, সংঘশ্রী, আদি বালিগঞ্জ, মুদিয়ালি, কলকাতার বারোয়ারি পুজোর ইতিহাসে দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বকারী হলেও একমাত্র একডালিয়া বাকিদের পিছনে ফেলে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। পরে নয়ের দশকের শেষ পর্ব থেকে সুরুচি, শিবমন্দির, কসবা শীতলামন্দির, বাদামতলা বারোয়ারির ময়দানে নামলেও তাঁর একডালিয়া কাউকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে না।

কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব

মধ্য কলকাতার কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীনের দুর্গা পুজো কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত পুজোগুলির অন্যতম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কলেজ স্কোয়ারে আয়োজিত এই পুজোটির সঙ্গে থিমের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সুবিশাল মণ্ডপ ও সুসজ্জিতা মাতৃপ্রতিমা প্রতিবছরই এখানকার প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকে। কলেজ স্কোয়ারের পুজোর উদ্দীপনাই আলাদা। অন্যান্য বারের মতো এবারেও কলেজ স্কোয়ারের মাতৃ মূর্তি সাধারণ অথচ অপরূপ। এখানে দেবীর অঙ্গসজ্জা হয় পূজাকমিটির নিজস্ব সোনার অলংকারে। মণ্ডপের মধ্যে একটি সুবিশাল বেলোয়াড়ি ঝাড়ও দেখার মতো।



আধুনিক হয়েও সনাতন ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানা জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন। আড়ম্বরের আতিশয্য নেই, নেই থিম-বিষয় ভাবনার চাকচিক্য, তবু আজকের পৃথিবীর রুক্ষ মাটিতে চূড়ান্ত বাস্তব। কিন্তু এই থিমের লড়াইয়ের মধ্যে পড়েও সনাতনী ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানা থেকে এতটুকু সরে আসেনি কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন। পোশাকি নাম বিদ্যাসাগর উদ্যান। কিন্তু খ্যাতি কলেজ স্কোয়ার নামেই। মধ্য কলকাতার সবথেকে বিখ্যাত পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এই পুজো।

কোনওদিনই থিমের মোহজাল ছিল না, আজও নেই। তবে চিরকালই সমাজ সচেতনতার একটা বার্তা দিয়ে এসেছে এই পুজো কমিটি। আর প্রতিমাসজ্জায় যথারীতি সাবেকিয়ানা। পুরাতনী সুসজ্জিতা মাতৃপ্রতিমাই যে বরাবরের প্রধান আকর্ষণ এই পুজোর। এখানে দেবীর অঙ্গসজ্জা হয় পুজোকমিটির নিজস্ব অলঙ্কারে। আর আলোকসজ্জা তো থাকবেই।

Monday, September 18, 2017

মহালয়া - মন্ত্র, গান, পাঠ

আজ শুভ মহালয়া । আজকের এই দিনে দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে জগতের সকল অসুর ও আসুরীক শক্তি নিধধের জন্য সর্বশক্তির অধীকারি জগৎজননী মহামায়া শ্রী শ্রী দূর্গা মায়ের আহবানের মধ্য দিয়ে মাকে জাগ্রত করা হয় । মা মহামায়া দূর্গা এই পৃথিবী জগতে মহালয়ার দিনে ১০ দিনের জন্য এসে, জগতের সকল অশুভ শক্তি ধংস করে, জগৎকে তার মায়াই আবদ্ধ করে আবার দশমিতে চলে যায় । তাই জাগ্রতিক কল্যানের জন্য আসুন আমরা সবাই শ্রী শ্রী মহামায়া দূর্গার আহবান করি এবং তাকে পূনরায় জাগ্রত করি ।

আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জিত ধরনীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত । জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা, আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি, অসীম ছন্দে বেজেউঠে, রূপলোক ও রসলোকে আনে নবভাবনা ধূলির সঞ্জীবন, তাই আনন্দিতা শ্যামলী মাতৃকার চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আবাহন । সাথে সাথে শেষ হবে পিতৃপক্ষ ও সূচনা হবে দেবীপক্ষের ।



মহালয়া উপলক্ষেশুনতে পাবেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে সেই সুমধুর মহালয়া । শরতে আজ কোন্‌ অতিথি এল প্রাণের দ্বারে । আনন্দগান গা রে হৃদয়, আনন্দগান গা রে ।। নীল আকাশের নীরব কথা শিশির-ভেজা ব্যাকুলতা বেজে উঠুক আজি তোমার বীণার তারে তারে ।। শস্যক্ষেতের সোনার গানে যোগ দে রে আজ সমান তানে, ভাসিয়ে দে সুর ভরা নদীর অমল জলধারে । যে এসেছে তাহার মুখে দেখ্‌ রে চেয়ে গভীর সুখে, দুয়ার খুলে তাহার সাথে বাহির হয়ে যা রে ।।

জয় মা দূর্গা। সবাইকে শুভ মহালয়ার শুবেচ্ছা ও অভিনন্দন ।

Saturday, September 16, 2017

বিশ্বকর্মা পূজা - মন্ত্র, পদ্ধতি

বিশ্বকর্মা পুজো মানেই ঘুড়ি লাটাই আর দুপুরে জমিয়ে খাসির মাংস খাওয়া-দাওয়া । হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে বিশ্বকর্মা ছিলেন দেবশিল্পী। বিষ্ণুপুরাণের মতে প্রভাসের ঔরসে বৃহস্পতির ভগিনীর গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম হয় । বেদে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বকর্মা বলা হয়েছে। বিশ্বকর্মা মূলত সৃষ্টিশক্তির রূপক নাম । সেই অর্থে ইনি পিতা, সর্বজ্ঞ দেবতাদের নামদাতা । বিশ্বকর্মা সর্বমেধ-যজ্ঞে নিজেকে নিজের কাছে বলি দেন। বিশ্বকর্মা বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা, বিধাতা ।

ঋগবেদের মতে ইনি সর্বদর্শী ভগবান। এঁর চক্ষু, মুখমণ্ডল, বাহু ও পা সর্বদিক বিদ্যমান। বাহু ও পায়ের সাহায্যে ইনি স্বর্গ ও মর্ত্য নির্মাণ করেন । বিশ্বকর্মা শিল্পসমূহের প্রকাশক ও অলঙ্কারের স্রষ্টা,দেবতাদের বিমান-নির্মাতা । এঁর কৃপায় মানুষ শিল্পপকলায় পারদর্শিতা লাভ করে। ইনি উপবেদ, স্থাপত্য-বেদের প্রকাশক এবং চতুঃষষ্টি কলার অধিষ্ঠাতা । ইনি প্রাসাদ, ভবন ইত্যাদির শিল্পী ।

ইনি দেবতাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করেন । মহাভারতের মতে– ইনি শিল্পের শ্রেষ্ঠ কর্তা, সহস্র শিল্পের আবিস্কারক, সর্বপ্রকার কারুকার্য-নির্মাতা । স্বর্গ ও লঙ্কাপুরী ইনিই নির্মাণ করেছিলেন । রামের জন্য সেতুবন্ধ নির্মাণকালে ইনি নলবানরকে সৃষ্টি করেন । কোনো কোনো পুরাণ মতে, বিশ্বকর্মা বৈদিক ত্বষ্টা দেবতার কর্মশক্তিও আত্মসাৎ করেছিলেন। এই জন্য তিনি ত্বষ্টা নামেও অভিহিত হন । বিশ্বকর্মার কন্যার নাম ছিল সংজ্ঞা। ইনি এঁর সাথে সুর্যের বিবাহ দেন ।

সংজ্ঞা সুর্যের প্রখর তাপ সহ্য করতে না পারায়, ইনি সুর্যকে শানচক্রে স্থাপন করে তাঁর উজ্জলতার অষ্টমাংশ কেটে ফেলেন । এই কর্তিত অংশ পৃথিবীর উপর পতিত হলে, উক্ত অংশের দ্বারা বিশ্বকর্মা বিষ্ণুর সুদর্শনচক্র, শিবের ত্রিশূল, কুবেরের অস্ত্র, কার্তিকেয়ের শক্তি ও অন্যান্য দেবতাদের অস্ত্রশস্ত্রাদি নির্মাণ করেন ।
বলা হয়ে থাকে, শ্রীক্ষেত্রের প্রসিদ্ধ জগন্নাথমূর্তি বিশ্বকর্মা প্রস্তুত করেন ।

বাঙালী হিন্দু গণ যে বিশ্বকর্মার মূর্তি পূজো করেন তিনি চতুর্ভুজা । এক হাতে দাঁড়িপাল্লা, অন্য হাতে হাতুরী, ছেনী, কুঠার থাকে । অবশ্যই এগুলি শিল্পের প্রয়োজনীয় জিনিষ, তাই শিল্প দেবতা বিশ্বকর্মা এগুলি ধারন করে থাকেন । দাঁড়িপাল্লার একটি কারন আছে ।

আমরা যদি দাঁড়িপাল্লা কে ভালো মতো লক্ষ্য করি দেখি সুপাশে সমান ওজনের পাল্লা থাকে। ওপরের মাথার সূচক যখন সমান ভাবে ঊর্ধ্ব মুখী হয়- তখন বুঝি মাপ সমান হয়েছে । এভাবে একটি পাল্লায় বাটখারা রেখে অপর টিতে দ্রব্য রেখে পরিমাপ হয় । এর তত্ত্ব কথা আছে । আমাদের জীবনের কাটাতি আত্মিক বিন্দুতে স্থির রাখতে হবে । দুই পাল্লার একদিকে থাকবে জ্ঞান আর কর্ম।

জ্ঞানের দিকে বেশী ঝুকে পড়লে কর্ম কে অবহেলা করা হবে পরিণামে আসবে দুঃখ, অভাব। আর কাটাতি কর্মের দিকে বেশী ঝুকে পড়লে তবে আসবে আধ্যাত্মিক অকল্যাণ । তাই কাটাতি দুয়ের মাঝে সমন্বয় করে রাখতে হবে । কোন দিকেই না যেনো বেশী ঝুকে পড়ে। এই নিয়ম না মেনে চললে বিশ্বপ্রেম, বিশ্ব ভাতৃত্ব সচেতনতা কোন টাই সম্ভব না।

Viswakarma Puja

বিশ্বকর্মার মূর্তি যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখি তাঁর বাহন হস্তী । কলকাতার কর্মকার সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতা শিক্ষা ব্রতী স্বর্গত হরষিত কেশরী রায় প্রথম বিশ্বকর্মার হস্তী বাহন বিগ্রহের পূজা করেন । হাতী কেন বাহন? পুরানের প্রনাম মন্ত্রে বিশ্বকর্মা কে মহাবীর বলে বর্ণনা করা হয়েছে । হাতীর কত টা শক্তি তার আন্দাজ করতে পারি। নিমিষে গাছ পালা মাথা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেয় ।

কারোর ওপর চরণ ভার দিলে তার মুখ দিয়ে রক্ত উঠে মৃত্যু আর অস্থি সকল চূর্ণ চূর্ণ হবে । এমন প্রবাদ আছে, হাতী নাকি একটু বড় পাথর শুঁড়ে তুলে ছুঁড়ে মারতে পারে । প্রাচীন কালে রাজারা যুদ্ধে হস্তী বাহিনীর প্রবল ভাবে ব্যবহার করতেন । তাই এই মহা শক্তিমান প্রানী এই দিক থেকে মহা যোদ্ধা বিশ্বকর্মার বাহন হবার যোগ্যতা রাখে ।

হস্তীর হাত নেই । তবে একটি ‘কর’ বা ‘শুন্ড’ আছে । কর আছে বলেই হাতীর এক নাম ‘করী’ । ‘কৃ’ ধাতু থেকেই ‘কর’ শব্দটির উৎপত্তি। সে এই শুন্ডের সাহায্যেই গাছের ডাল টানে, জল খায়, স্নান করে । আবার দেখি শিল্পের মাধ্যমেই কর্ম সংস্থান । তাই বিশ্বকর্মা কর্মের দেবতা । এই শূন্ড দ্বারা কর্ম করা – এই দিক থেকে হস্তী একভাবে বিশ্বকর্মার বাহন হিসাবে মানানসই ।

হস্তীকে দিয়ে অনেক কাজ করানো হয় । বন দপ্তর হস্তীকে দিয়ে কাঠ সরানোতে কাজে লাগায় । মোটা মোটা গাছের গুঁড়ি, কান্ড মাহুতের নির্দেশে হাতী এক স্থান থেকে আর এক স্থানে নিয়ে যায়, আবার কখনো সে গাছের ডাল বয়ে নিয়ে যায় মাহুতের নির্দেশে । আবার বন্য হাতীদের তাড়াতে বন দপ্তর পোষা হাতী গুলিকে কাজে লাগায়। হাতীর জীবন টাই এই রকম কাজের। নিজের খাদ্য আরোহণ থেকে, মাল বওয়া সব সময় কাজ ।

আর শিল্পের সাথে কর্মের সংস্থান জল আর ঠান্ডার মতো। জলে যেমন ঠান্ডা ভাব থাকে তেমনই কর্মের মাধ্যমেই শিল্পের বিকাশ। তাই বিশ্বকর্মা হলেন কর্মেরও দেবতা । এই দিকে থেকে শ্রমিক হাতী বিশ্বকর্মার বাহন হিসাবে একেবারে মানানসই ।

Friday, September 15, 2017

ইঞ্জিনিয়ার দের কাজ কী

ইঞ্জিনিয়ার দের কাজ কী?? এরা আসলে কি করে, কেনই বা এদেরকে উচ্চবেতনে চাকরি দেয় শিল্পমালিক রা। অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার নাম শুনলেই নাক সিটকান,
বলেন এইটা কোন ইঞ্জিনিয়ারিং হইল, আবার কিসের ইঞ্জিনিয়ারিং? শতকরা ৮০ভাগ লোকই জানেন না যে ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি মানে ইঞ্জিনিয়ারিং না। এটি সম্পূর্ন ম্যানুফ্যাকচারিং বেসড একটি প্রসেস যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ার কে মেশিন সেটাপ থেকে শুরু করে প্রসেস কন্ট্রোল, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, গিয়ার মেকানিসম এবং মেইন্টেনেন্স নিয়ে কাজ করতে হয়।

স্পিনিং এর ইঞ্জিনিয়ার দের প্রোগ্রাম ইনপুট দেয়া জানতে হয়। ওয়েট প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ার দের প্রথম সারির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। নাসার বিজ্ঞানিরা যারা দীর্ঘদিন যাবত মহাকাশে মানুষ পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ার দের গবেষনায় নিযুক্ত করে স্পেস স্যুট এবং ন্যানোফাইবার, কার্বন ফাইবারের শিল্ড তৈরীর জন্য।



অতি সম্প্রতি বুয়েট নন-ওভেন জূট টেকনোলজী কে জিও টেক্সটাইল হিসেবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজে ব্যবহার শুরু করেছে, আগামিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়মিত বিষয় হিসেবে যখন জিও-টেক্সটাইল পড়ানো হবে তখন এই কোর্সের জন্য ইঞ্জিনিয়ার দেরকেই শিক্ষক হিসেবে পাবে তারা। সত্যি বলতে কী ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টের সাথে সব চেয়ে বেশি মিল রয়েছে আইপিই ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে।

যাই হোক, পেশা হিসেবে অনেকের অ্যালার্জি থাকলেও একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং শুরু করেছে। এই হল বস্ত্র প্রকৌশল বিষয়ে সারসংক্ষেপ। যারা এই ব্যাতিক্রমধর্মী কিন্তু অত্যন্ত সম্মানিত এই বিষয়ে পড়তে চাও তাদের জন্য আশা করি কিছুটা হলেও ধারনা দিতে পারবে এই লেখাটি।

Tuesday, September 12, 2017

স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো বক্তৃতা

আজ ১১ সেপ্টেম্বর।১৮৯৩ সালের আজকের দিনে এক অখ্যাত ভারতীয় সন্যাস্যী যুক্তরাষ্ট্রএর শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা প্রথম বারের মত ভারতের বেদান্ত ধর্মের সাথে পরিচিত করান বিশ্বমঞ্চের অন্যান্য জাতি ও মতবাদের সাথে আর বৈদিক দর্শনের বিজয় পতাকা উড়ান বিশ্ব সভায়।

১৮৯৩, ১১ই সেপ্টেম্বর চিকাগো ধর্ম-মহাসভার প্রথম দিবসের অধিবেশনে সভাপতি কার্তিন্যল গিবন্‍স্ শ্রোতূমণ্ডলীর নিকট পরিচয় করাইয়া দিলে অভ্যর্থনার উত্তরে স্বামীজী বলেনঃ হে আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ, আজ আপনারা আমাদিগকে যে আন্তরিক ও সাদর অভ্যর্থনা করিয়াছেন, তাহার উত্তর দিবার জন্য উঠিতে গিয়া আমর হৃদয় অনিবর্চনীয় আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে।

পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসি-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি। সর্বধর্মের যিনি প্রসূতি-স্বরূপ, তাঁহার নামে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোটি কোটি হিন্দু নরনারীর হইয়া আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ দিতেছি।

এই সভামঞ্চে সেই কয়েকজন বক্তাকেও আমি ধন্যবাদ জানাই, যাঁহারা প্রাচ্যদেশীয় প্রতিনিধিদের সম্বন্ধে এরূপ মন্তব্য প্রকাশ করিলেন যে, অতি দূরদেশবাসী জাতিসমূহের মধ্য হইতে যাঁহারা এখানে সমাগত হইয়াছেন, তাঁহারাও বিভিন্ন দেশে পরধর্মসহিষ্ণুতার ভাব প্রচারের গৌরব দাবি করিতে পারেন। যে ধর্ম জগৎকে চিরকাল পরমতসহিষ্ণুতা ও সর্বাধিক মত স্বীকার করার শিক্ষা দিয়া আসিতেছে, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি।

আমরা শুধু সকল ধর্মকেই সহ্য করিনা, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি। যে ধর্মের পবিত্র সংস্কৃত ভষায় ইংরেজী ‘এক্সক্লুশন’ (ভবার্থঃ বহিষ্হকরণ, পরিবর্জন) শব্দটি অনুবাদ করা যায় না, অমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া গর্ব অনুভব করি। যে জাতি পৃথিবীর সকল ধর্মের ও সকল জাতির নিপীড়িত ও আশ্রয়প্রার্থী জনগণকে চিরকাল আশ্রয় দিয়া আসিয়াছে, আমি সেই জাতির অর্ন্তভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি।

আমি আপনাদের এ-কথা বলিতে গর্ব অনুভব করিতেছি যে, আমরাই ইহুদীদের খাঁটি বংশধরগণের অবশিষ্ট অংশকে সাদরে হৃদয়ে ধারণ করিয়া রাখিয়াছি; যে বৎসর রোমানদের ভয়ংঙ্কর উৎপীড়নে তাহদের পবিত্র মন্দির বিধ্বস্ত হয়, সেই বৎসরই তাহারা দক্ষিণভারতে আমাদের মধ্যে আশ্রয়লাভের জন্য আসিয়াছিল। জরথুষ্ট্রের অনুগামী মহান্ পারসীক জাতির অবশিষ্টাংশকে যে ধর্মাবলম্বিগণ আশ্রয় দান করিয়াছিল এবং আজ পর্যন্ত যাহারা তাঁহাদিগকে প্রতিপালন করিতেছে, আমি তাঁহাদেরই অন্তর্ভুক্ত।



কোটি কোটি নরনারী যে-স্তোত্রটি প্রতিদিন পাঠ করেন, যে স্তবটি আমি শৈশব হইতে আবৃত্তি করিয়া আসিতেছি, তাহারই কয়েকটি পঙক্তি উদ্ধৃত করিয়া আমি আপনাদের নিকট বলিতেছিঃ ‘রুচীনাং বৈচিত্র্যাদৃজুকুটিলনানাপথজুষাং। নৃণামেকো গম্যস্ত্বমসি পয়সামর্ণব ইব।।‘–বিভিন্ন নদীর উৎস বিভিন্ন স্থানে, কিন্তু তাহারা সকলে যেমন এক সমুদ্রে তাহাদের জলরাশি ঢালিয়া মিলাইয়া দেয়, তেমনি হে ভগবান্, নিজ নিজ রুচির বৈচিত্র্যবশতঃ সরল ও কুটিল নানা পথে যাহারা চলিয়াছে, তুমিই তাহাদের সকলের একমাত্র লক্ষ্য।

পৃথিবীতে এযাবৎ অনুষ্ঠিত সন্মেলনগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাসন্মেলন এই ধর্ম-মহাসভা গীতা-প্রচারিত সেই অপূর্ব মতেরেই সত্যতা প্রতিপন্ন করিতেছি, সেই বাণীই ঘোষণা করিতেছিঃ ‘যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্। মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।'–যে যে-ভাব আশ্রয় করিয়া আসুক না কেন, আমি তাহাকে সেই ভাবেই অনুগ্রহ করিয়া থাকি। হে অর্জুন মনুষ্যগণ সর্বতোভাবে আমার পথেই চলিয়া থাকে।

সাম্পদায়িকতা, গোঁড়ামি ও এগুলির ভয়াবহ ফলস্বরূপ ধর্মোন্মত্ততা এই সুন্দর পৃথিবীকে বহুকাল অধিকার করিয়া রাখিয়াছে। ইহারা পৃথিবীকে হিংসায় পূর্ণ করিয়াছে, বরাবার ইহাকে নরশোণিতে সিক্ত করিয়াছে, সভ্যতা ধ্বংস করিয়াছে এবং সমগ্র জাতিকে হতাশায় মগ্ন করিয়াছে। এই-সকল ভীষণ পিশাচগুলি যদি না থাকিত, তাহা হইলে মানবসমাজ আজ পূর্বাপেক্ষা অনেক উন্নত হইত।

তবে ইহাদের মৃত্যুকাল উপস্থিত; এবং আমি সর্বতোভাবে আশা করি, এই ধর্ম-মহাসমিতির সন্মানার্থ আজ যে ঘন্টাধ্বনি নিনাদিত হইয়াছে, তাহাই সর্ববিধ ধর্মোন্মত্ততা, তরবারি অথবা লিখনীমুখে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রকার নির্যাতন এবং একই লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর ব্যক্তিগণের মধ্যে সর্ববিধ অসদ্ভাবের সম্পূর্ণ অবসানের বার্তা ঘোষণা করুক।

Monday, September 4, 2017

শিক্ষক দিবস

শিক্ষক দিবস বা গুরু পূর্নিমা সাধারণত হিন্দু এবং বৌদ্ধরা পালন করে থাকে। গুরু শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘গু’ যার অর্থ অন্ধকার এবং ‘রু’ যার অর্থ যিনি অন্ধকার দূর করেন।গুরু হচ্ছেন তিনি যিনি আমাদের মধ্যে থেকে অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করেন। আষাঢ় মাসের পূর্নিমা তিথিতে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়। এইদিনে ভক্তরা পুজার্চনার মাধ্যমে গুরুকে সম্মান প্রদর্শন করেন। বৌদ্ধরা ভগবান বুদ্ধের সম্মানে এই দিনটি পালন করেন, কারন এই দিনে তিনি প্রথম ধর্ম-উপদেশ দিয়েছিলেন। হিন্দুরা এইদিনটি পালন করেন মহান ঋষি বেদব্যাস কে স্মরণ করে। বেদব্যাস শুধু জন্মগ্রহন করেন নি, এইদিনে তিনি ‘ব্রহ্ম সুত্র’ লেখা শেষ করেন। এটাকে ব্যাস পূর্নিমাও বলা হয়। এইদিনে হিন্দুরা তাদের শিক্ষকদের সম্মান প্রদর্শন করেন। হিন্দু যোগী এবং তপস্বীরা তাঁদের গুরুর পূজা করেন।

Teachers Day wallpaper images

Saturday, August 26, 2017

মাদার তেরেসার বাণী, উক্তি ও ছবি

মাদার তেরেসা বিখ্যাত উক্তি সমূহ

১। ছোট বিষয়ে বিশ্বস্ত হও কারন এর উপরেই তোমার শক্তি নির্ভর করে।

২। আমি ঈশ্বরের হাতের একটি ছোট পেন্সিল যা দ্বারা ঈশ্বর পৃথিবীতে ভালোবাসার চিঠি লিকছেন।

৩। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি। প্রভু, আমাদের যোগ্য করো, যেন আমরা সারা পৃথিবীতে যেসব মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে ক্ষুধার মধ্যে জীবন যাপন করেন, মৃত্যুমুখে পতিত হন, তাদের সেবা করতে পারি।

৪। কেবল সেবা নয়, মানুষকে দাও তোমার হৃদয়। হৃদয়হীন সেবা নয়, তারা চায় তোমার অন্তরের স্পর্শ।

৫। আনন্দই প্রার্থনা, আনন্দই শক্তি, আনন্দই ভালোবাসা।

৬। হৃদয়কে স্পর্শ করতে চায় নীরবতা। কলরবের আড়ালে নীরবেই পৌঁছাতে হয় আর্তের কাছে।

৭। তুমি যখন কারো সঙ্গে দেখা করো তখন হাসিমুখ নিয়েই তার সামনে যাও। কেননা হাস্যোজ্জ্বল মুখ হলো ভালোবাসার শুরু।

৮। আমার শরীরজুড়ে প্রবাহিত আলবেনিয়ান রক্ত, নাগরিকত্বে একজন ভারতীয় আর ধর্মীয় পরিচয়ে আমি একজন ক্যাথলিক নান। তবে নিজের অন্তর্নিহিত অনুভূতি দিয়ে আমি অবগাহন করি বিশ্বময় এবং মনে-প্রাণে আমার অবস্থান যিশুর হৃদয়ে।

৯। ভালবাসার কথাগুলো হয়তো খুব সংক্ষিপ্ত ও সহজ হতে পারে কিন্তু এর প্রতিধ্বনী কখনো শেষ হয় না।

১০। তুমি যদি মানুষকে বিচার করতে যাও তাহলে ভালোবাসার সময় পাবে না।

১১। শান্তির জন্য কাজ করলে তাতেই যুদ্ধ কমে যায়। কিন্তু রাজনীতির মধ্যে আমি যাব না। রাজনীতি থেকেই যুদ্ধের উদ্ভব হয়। সেজন্য রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে আমি চাই না। রাজনীতির মধ্যে যদি আমি বাঁধা পড়ে যাই, তাহলে আর ভালোবাসতে পারব না। কেননা, তখন সকলের পক্ষে আর নয়, আমাকে দাঁড়াতে হবে একজনের পক্ষে।

১২। ঈশ্বর পৃথিবীকে ভালোবাসেন এবং তিনি আপনাকে, আমাকে পাঠিয়েছেন তার ভালোবাসা এবং সহায়তা দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

১৩। তুমি কী করলে তার চাইতে তুমি কতটা ভালোবাসা দিয়ে করলে তা-ই মুখ্য।

১৪। তুমি দৃশ্যমান মানুষকে ভালোবাসতে না পারো তবে অদৃশ্য ঈশ্বরকে কি করে ভালোবাসবে?

১৫। আমাদের মধ্যে সবাই সব বড় কাজগুলো করতে পারে না, কিন্তু আমরা অনেক ছোট ছোট কাজ করতে পারি আমাদের ভালোবাসা দিয়ে।

১৬। নেতার জন্য বসে থেকো না, একাই ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তি শুরু করে দেও।

১৭। সত্যিকারের ভালোবাসার অর্থ হলো যতক্ষন তা কষ্ট না দেয় ততক্ষন দেওয়া।

১৮। তুমি যদি শতশত লোকের খুধা মিটাতে না পারো তাহলে শুধুমাত্র একজনকে খাওয়াও।

১৯। শান্তির শুরুই হয় হাসির মাধ্যমে।

২০। গতকাল চলে গেছে, আগামিকাল এখনো আসেনি, আমাদের জন্য আছে আজকের দিন, এখনই শুরু করা যাক।

২১। কিছু লোক তোমার জীবনে আশির্বাদ হয়ে আসে, কিছু লোক আসে শিক্ষা হয়ে।

২২। আশা করো না যে তোমার বন্ধু নির্ভুল ব্যাক্তি হবে বরং তোমার বন্ধুকে নির্ভুল হতে সহায়তা করো এটাই প্রকৃত বন্ধুত্ব।

২৩। ঈশ্বর আমাদের সফলতা চায় না, তিনি চান আমরা যেন চেষ্টা করি।

Mother Teresa wallpaper

Friday, August 25, 2017

গণেশ চতুর্থী - নিয়ম, মন্ত্র, ছবি, পদ্ধতি

আজ, হিন্দু পৌরাণিক অনুযায়ী গণেশ চতুর্থী বা গণেশউৎসব। শিব ওঁ পার্বতী পুত্র গনপতি, নিজে মর্তে নেমে সমস্ত ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন এই বিশেষ দিনে। হিন্দু পঞ্জিকা মতে ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে গনেশ বা গজানন এই মর্তে পূজিত হন।

শ্রী গণেশ কে মঙ্গল মূর্তি, বিঘ্নহর্তা নামে ডাকা হয় । বলা হয় সমস্ত শুভ কাজের শুরু শ্রী গণেশের নাম নিয়ে করলে তা সফল হয় । দেবতাদের মধ্যে তাঁকে প্রথম পূজ্য বলা হয় । ঋক বেদে গণনাং ত্বা গণপতিং হবামহে মন্ত্রে গণপতির আহ্বান দেখা যায় । যজু বেদের মন্ত্রে গণেশ কে দেব গনের মধ্যে গণপতি, প্রিয় গনের মধ্যে প্রিয়পতি এবং নিধি গনের মধ্যে নিধিপতি বলা হয়েছে ।

গনপতয়ে স্বাহা মন্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়- কৃষ্ণ যজু বেদের কাণ্বসংহিতা এবং ঐ বেদের মৈত্রায়নী সংহিতা তে । মৈত্রায়নী সংহিতা ও তৈত্তিরীয় আরণ্যকের গণপতির গায়ত্রী উল্লেখ সহকারে তাঁর বর্ণনা আছে । গণেশ পুরানে গণেশ কেই ওঁঙ্কার রূপী ভগবান বলা হয় । পুরান মতে গণেশ ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর পুত্র – তথা কুমার কার্ত্তিকের অনুজ ।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে গণেশ ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় উৎপন্ন হন এবং ইনি ভগবান বিষ্ণুর মতো চক্র, শঙ্খ, গদা, পদ্ম ধারন করেন । বামন পুরান মতে ভগবতী মাতা পার্বতী স্বীয় দেহ থেকে ভগবান গণেশ কে প্রকট করেন । আবার বরাহ পুরান মতে গণেশের সৃষ্টি হয়েছিল ভগবান শিবের মুখ থেকে। গণেশের মুখ কিভাবে গজানন হল – তা নিয়ে পুরানে একাধিক কাহানী দেখা যায় ।

ganesh chaturthi images

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে গ্রহরাজ শণি দেব গণেশ কে দর্শন করলে গণেশের মুণ্ড পাত হয় । পুরানে শনি দেবতার দৃষ্টিকে হানিকারক বলা হয় । আবার শিব পুরান মতে গণেশের মুণ্ডচ্ছেদ করেন স্বয়ং তাঁর পিতা মহাদেব । বরাহ পুরানেও শিব দ্বারা গণেশের মুণ্ডপাতের ঘটনা দেখা যায় । এতে মহাদেবী গৌরী ভীষনা রুষ্টা হলে শাপযুক্ত ঐরাবতের মস্তক কেটে গণেশের ধড়ে লাগিয়ে তাঁকে পুনর্জীবন দিয়ে দেবতাদের মধ্যে সর্ব অগ্রে পূজ্য ঘোষোনা করা হয় । গণ+ ঈশ= গণেশ । গণ অর্থে সমষ্টি যিনি ঈশ্বর বা নায়ক। তিনিই গণেশ ।

গণ শব্দটির মধ্যে আর একটি অর্থ আছে। এর অর্থ সেনাবাহিনী । গনেদের দের অগ্র দেখে তাঁর এক নাম গনণায়ক । গণেশ কে একদন্ত নামে ডাকা হয়। বলা হয় গণেশের একটি দাঁত কেটেছিলেন পরশুরাম । মহাভারত স্বহস্তে লিখেছিলেন গণেশ । ব্যাস ঋষি বলতেন আর গণেশ লেখতেন । গণেশ হল ‘গন শক্তি’ এর প্রতীক ।

মূষিককে শ্রী গণেশের বাহন বলা হয় । এই অপকারী প্রানীটি কিভাবে বাহন হল – এর মধ্যেও তত্ত্ব কথা আছে । মূষিক তাঁর দন্ত দিয়ে জিনিষপত্র কেটে তছনছ করে। ভালো মতো দেখলে দেখা যায় মূষিক অত্যন্ত ধৈর্য নিষ্ঠা সহকারে একস্থানে বসে এগুলো কাটে । যা আমদের ধৈর্যপরায়ন ধীর স্থির হবার শিক্ষা দেয় । তাছারা জীব অষ্টপাশে বদ্ধ । ঘৃনা, অপমান, লজ্জা, মান, মোহ, দম্ভ, দ্বেষ, বৈগুণ্য ইত্যাদি অষ্ট পাশ । শ্রী গণেশের বাহন এই অষ্টপাশ ছিন্ন করবার শক্তি দেয় । আগামীকাল গণেশ চতুর্থী। সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। শ্রী গণেশের চরণে প্রনাম জানিয়ে বলুন-

ওঁ দেবেন্দ্র- মৌলি- মন্দার মকরন্দ কণারুণাঃ ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজরেণবঃ ।