হাওড়া জেলার প্রাচীন জনপদ

হাওড়া জেলার প্রাচীন জনপদগুলির মধ্যে আমতার শ্রী শ্রী মেলাইচণ্ডী র মন্দিরটি বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে। সুবিশাল এই মন্দিরের প্রতিটি অংশে প্রাচীনতা দেখা যায়। মেলাইচণ্ডী দেবী চণ্ডীর ৫১ রূপের বা ৫১ দেবীপীঠের অন্যতম একটি পীঠ। দুঃখের বিষয় আমতায় থেকেও অনেকে এই তথ্য সম্পর্কে সচেতন নন। তাদের সকলের জন্যই আমাদের এই প্রয়াস।

প্রাচীন দলিল দস্তাবেজ থেকে জানা যায় প্রায় ৫০০ বছর আগে মুসলিম রাজত্বকালে বর্ধমান - হাওড়া - হুগলী জেলা হিসেবে তখন ভাগ ছিল না। সেই সময় মেলাইচণ্ডীর মন্দির বর্ধমান রাজের অধীন ছিল। পরে হিন্দু রাজারা বর্ধমানের শাসনভার গ্রহণ করেন। তখন আদি বর্ধমান রাজ মেলাইচণ্ডীর মন্দির জনৈক তান্ত্রিক ব্রাহ্মণকে দান করেন। তখন হাওড়া হুগলী বর্ধমানের অধীন ছিল। পরে হাওড়া পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে উঠলে মেলাইচণ্ডী মন্দির হাওড়াতে অবস্থান করতে থাকে। এটা মেলাইচণ্ডী মন্দিরের বর্ধমান-রাজের থেকে হাওড়া জেলার অধীন হবার ইতিহাস।



কিন্তু দেবী চণ্ডীর ইতিবৃত্ত শুরু হয়েছে তারও অনেক আগে। মেলাইচণ্ডীর ইতিহাস বিষয়ক একটি গ্রন্থ থেকে জানা যায় আমতায় বসবাসকারী দেবী চণ্ডীর উপাসক ও পরম ভক্ত শ্রী জটাধারী চক্রবর্তী একদিন গভীর রাতে দেবী চণ্ডীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে স্বপ্নে জানান যে, আমি জয়ন্তী গ্রামে আছি। সেখানে গিয়ে তুই আমার নিত্য পূজা করগে যা। ঘুম ভেঙ্গে গেল জটাধারীর। এ তিনি কি দেখলেন! কি শুনলেন! সর্ব শরীর রোমাঞ্চিত হতে লাগল তাঁর। পরের দিনই কাকভোরে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। আমতার পশ্চিম দিকে বয়ে চলা দামোদরের তীরে এসে উপস্থিত হলেন। নদী পেরোতে হবে।