Thursday, March 24, 2016

বসন্ত উৎসব শান্তিনিকেতন

শান্তিনিকেতনে দোলোৎসবই বসন্ত উৎসব বলে প্রচলিত। ফাগুন মাস বসন্তকাল, এবং দোল অর্থাৎ হোলিখেলা এই মাসেরই অঙ্গ। জাতিধর্ম নির্বিশেষে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই সামিল হই এই উৎসবে। এই বিশেষ উৎসব শান্তিনিকেতনে এক নতুন মাত্রায় মাত্রা পায়। দোলের সাতদিন আগে থেকে সাজো সাজো রব পরে যায় শান্তিনিকেতনে বীরভূম জেলায়। সাধারণত ভুবন মাঠেই এই উৎসব পালিত হয়।

বিরাট মঞ্চ বাঁধা হয় মাঝখানে এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা তৈরী হয় মূল মঞ্চে পৌঁছানোর। কলাকুশলীরা অর্থাৎ বিশ্বভারতীর ক্ষুদে ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে বড়রা সামিল হয় এই উৎসবে। শাড়ি পরিহিত সুন্দর সাজ তাদের। মেয়েরা হলুদ ও সবুজ রঙের শাড়ি পরে, গলায় উত্তরীয়, চুলে বা খোঁপায় পলাশ ফুল, কপালে চন্দনের টিপ্। ছেলেরা পরনে রঙিন ধুতি, পাঞ্জাবি, গলায় উত্তরীয়। যেটা শান্তিনিকেতনের প্রাচীন ঐতিহ্য।



অনুষ্ঠান শুরু হয়, ছোট শিশুদের নাচ দিয়ে। নাচতে নাচতে তারা মঞ্চের দিকে ঢুকে যায়। তারপরে এক এক করে আস্তে থাকে নাচের দল। নাচের সাথে সাথে কবি গুরুর গান ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগলো যে দোল।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন রঙের স্রোত বয়ে চলেছে এমনই নাচের ছন্দ, এমনই নৃত্য সুষমা। আবার কেহ ডান্ডি নাচছে, কেউ বা রবীন্দ্রীক, কেউ মনিপুরী। কারণ সর্ব ভারতীয় মিলন ক্ষেত্র এই শান্তিনিকেতন। কবিগুরু তো চেয়েছিলেন, ছেলেমেয়েরা সব কিছুতেই পারদর্শী হয়ে উঠুক। সকাল সাতটায় শুরু হয় এই অনুষ্ঠান। সবশেষে আবীর ছড়াতে ছড়াতে সবাই এক হয়ে যায়। সে দৃশ দেখে মনে হয়, এক স্বর্গীয় সুন্দর্য।

সন্ধাবেলায় এখানেই নৃত্যনাট্য হয়। সেও এক সুন্দর মনোরঞ্জন অনুষ্ঠান। কোথাও কোথাও বাউলদের গান শোনা যায়। তাঁরাও এই উৎসবেরই এক অঙ্গ। তাঁদের গানে বোলপুরের আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। চারিদিকে আলোর রোশনাই, সে এক জমজমাট হৈ হৈ রব পরে যায় বোলপুরের শান্তিনিকেতনে।







Kolkata Holi Celebration

Kolkata Holi party

The play of colors, but it's due to the story of Radha and Krishna. The young man asked his mother why his beloved Radha was clear and he was so dark. The mother then told him that coloring the complexion of Radha, he would not have noticed the difference. It's game launch color reminds one of the erotic games that Krishna used to do with the Gopis Young cowherd, of which there are various artistic representations , such as in a painting of 1788 in Kangra.

হোলিকা দহন

দোল পূর্ণিমার পূর্ব দিন আমরা একটি খড়ের ঘর তৈরী করে তাকে আগুনে পোড়াই। লোক চলতি ভাষায় একে বুড়ীর ঘর পোড়ানো বলা হয় । এই উৎসব হোলিকা দহন নামে পরিচিত । এই সম্পর্কে একটি ঘটনার উল্লেখ পুরাণে পাই। বিষ্ণু হিরণ্যক্ষকে বধ করে। এরপর কশ্যপ মুনির অপর সন্তান হিরণ্যকশিপু ভায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তীব্র ভাবে বিষ্ণু বিরোধী হয়ে পড়েন।

Holika Dahan holi

হিরণ্যকশিপুর স্ত্রী কয়াদুর গর্ভে প্রহ্লাদের জন্ম হয় । হিরণ্যকশিপু তাঁর পুত্রকে আসুরিক বিদ্যা গ্রহণের জন্য অসুর গুরু শুক্রের আশ্রমে প্রেরন করলো। তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন বিষ্ণু এক পরিকল্পনা করলো । হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক এমন ব্যবস্থা করা হল এতে প্রহ্লাদ পুড়ে মরবে। একদা হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে চিতায় উঠলো। চিতায় আগুন ধরানো হলে পাহাড় প্রমান আগুনের শিখা উঠলো। এই দিনটি হোলিকা দহন নামে পালিত হয়ে আসছে।


হোলি উৎসব

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হোলির রীতি ও বিশ্বাস বিভিন্ন। বাংলা অঞ্চলে বৈষ্ণব প্রাধান্য রীতি প্রচলিত। রঙ উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে। শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে থেকে সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একতা থাম বানিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করে ‘হোলিকা দহন’ হয়। পরের দিন রঙ খেলা। বাংলাতেও দোলের আগের দিন এইরকম হয় যদিও তার ব্যাপকতা কম, একে আমরা বলি ‘চাঁচর’।

এই চাঁচরেরও অন্যরকম ব্যাখ্যা আছে। দোল আমাদের ঋতুচক্রের শেষ উৎসব। পাতাঝরার সময়, বৈশাখের প্রতীক্ষা। এই সময় পড়ে থাকা গাছের শুকনো পাতা, তার ডালপালা একত্রিত করে জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্যে এক সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে নতুনের আহ্বান হচ্ছে এই হোলি। বাংলায় দোলের আগের দিন ‘চাঁচর’ উদ্যাপনকে এভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়।

অঞ্চল ভেদে হোলি বা দোল উদ্যাপনের ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত লোককথার ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু উদযাপনের রীতি এক। ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন পূর্বভারতে আর্যরা এই উৎসব পালন করতেন। যুগে যুগে এর উদ্যাপন রীতি পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। পুরাকালে বিবাহিত নারী তার পরিবারের মঙ্গল কামনায় রাকা পূর্ণিমায় রঙের উৎসব করতেন।

Kolkata holi shantineketan basanta utsav

দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি মীমাংসা’য় রঙ উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক হোলিকোৎসব পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়। হর্ষবর্ধনের নাটক রত্নাবলী তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ আছে। এমনকি আল বেরুনীর বিবরণে জানা যায় মধ্যযুগে কোন কোন অঞ্চলে মুসলমানরাও হোলিকোৎসবে সংযুক্ত হত।

মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের রঙ উৎসব। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়।শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে। দোলের পূর্বদিন খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বিশেষ বহ্নুৎসবের আয়োজন করা হয়। এই বহ্নুৎসব হোলিকাদহন বা মেড়াপোড়া নামে পরিচিত। উত্তর ভারতে হোলি উৎসবটি বাংলার দোলযাত্রার পরদিন পালিত হয়।

দোলযাত্রা উৎসব শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসব নামে পরিচিত। অতীতে শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয়ে বসন্তের আগমন উপলক্ষ্যে একটি ছোটো ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নাচগান, আবৃত্তি ও নাট্যাভিনয় করা হত। পরবর্তীকালে এই অনুষ্ঠানটি পরিব্যপ্ত হয়ে শান্তিনিকেতনের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব বসন্তোৎসবের আকার নেয়। ফাল্গুনী পূর্ণিমা অর্থাৎ দোলপূর্ণিমার দিনই শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসবের আয়োজন করা হয়। পূর্বরাত্রে বৈতালিক হয়। দোলের দিন সকালে ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল গানটির মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সন্ধ্যায় গৌরপ্রাঙ্গনে রবীন্দ্রনাথের কোনো নাটক অভিনীত হয়।