কলকাতার ঐতিহ্য ট্রাম

কলকাতার ট্রাম । কলকাতার বুকে এক প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী এই ট্রাম। ট্রামে চড়েন নি এরকম কলকাতার পাবলিক বোধহয় হাতে গোনা। ১৮৭৩ সালের ২৪ এ ফেব্রুয়ারি শিয়ালদহ ও আর্মেনিয়ান ঘাটের মধ্যে ২.৪ কিলোমিটার পথে কলকাতায় প্রথম ট্রাম চলে। যদিও সঠিক পরিচালনার অভাবে সেই বছরেরই ২০ নভেম্বর এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৮৮০ সালে লন্ডনে ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি লিমিটেড গঠিত হওয়ার পর ঘোড়ায় টানা ট্রামক্যালকাটা ট্রামওয়েজ অ্যাক্ট, ১৯৫১ পাস হয়। ট্রাম নিয়ে অনেকের জীবনেই অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অনে চালু হয়।

১৮৮২ সালে পরীক্ষামূলক স্টিম ইঞ্জিন চালু করা হয়।১৯৫১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তির বলে কের হয়তো বা ট্রামেই চড়ে তার জীবনের প্রেমের ইনিংস শুরু। এই ট্রামে যেতে যেতে কলকাতার সৌন্দর্য উপোভোগ করা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। এখন ট্রামের সংখ্যা কমে গেলেও ট্রামে চড়ে ঘোরার যে আনন্দ তা আরামের এসি বাস ও দিতে পারবেনা।



হতে পারে ট্রাম খুব মন্থরগতিতে চলে ফলে অনেক সময় লেগে যায় তবে যারা আমার মত ভ্রমণপ্রেমিক, নিজের জীবনের প্রত্যেক মুহূর্ত যারা কলকাতাকে নিয়ে উপভোগ করতে চান, যাদের কাছে মানে ভিক্টোরিয়া, প্রিন্সেপ ঘাটের পাশাপাশি ট্রামও তাদের জন্য এটা সত্যিই আদর্শ যান। কলকাতাকে ছোটবেলায় অনেক ট্রামে চড়েছি। বড় হয়ে সেভাবে আর ট্রামে চড়া হয়নি।

তবে সেদিন ই কলেজ থেকে ফেরার পথে ট্রামে করে হাজরা থেকে বালিগঞ্জ স্টেশন এলাম। ভিতরে বসেই খুব নস্টালজিক লাগছিল। ছোটবেলার স্মৃতিগুলো মনে পরে যাচ্ছিল। এখনকার ছেলেমেয়েরা হয়তো ট্রামে চড়ার আনন্দ বুঝবেনা কারণ এখন জীবন খুব ফাস্ট। তথাপি বলব ট্রাম বেঁচে থাকুক যতদিন কলকাতা বাঁচবে আর এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই।