Monday, October 26, 2015

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা পদ্ধতি

কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো নিয়ে অনেক প্রচলিত গল্প আছে। লক্ষ্মী দেবী ছিলেন ভৃগুর কন্যা, মায়ের নাম খ্যাতি। বৈদিক লক্ষ্মী কিন্তু শস্য-সম্পদের দেবী ছিলেন না। বরং নদীরূপিনী সরস্বতী শস্যদাত্রী হিসেবে গণ্য হতেন। কেন? নদী পলি মাটি ভরাট করে উর্বর করত ভূ-তট। এর পরে তো বৈদিক আর্যরা চাষাবাদ শিখল নিম্নবর্গ এর কাছে। সম্পদ এলো আর্যদের হাতে। শাসক বা শোষক হলেন তারা। আবার লক্ষ্মীর স্বামী একটা কাঁচা কাজ করে ফেললেন। কেমন কাঁচা? বেদম কাঁচা।

দুর্বাসা মুনি, যিনি শুধু অভিশাপ দেওয়ার জন্যই বিখ্যাত, তার অন্য কোনও গুণের কথা বিশেষ জানা যায় না, তিনি এক দিন একটা পারিজাত ফুলের মালা উপহার দিলেন ইন্দ্রকে। এরপর ইন্দ্র যখন রম্ভা-সম্ভোগে মত্ত, ওই মালা নিজের বাহন ঐরাবতের গলায় ছুড়ে দেন। বিষ্ণু মাথা ঝাঁকিয়ে সেটা ফেলে দিল মাটিতে।

তারপর পা দিয়ে চেপ্টে দিল। ব্যস! রগচটা স্বভাবের ঋষি অমনি জ্বলে উঠে উচ্চারণ করলেন অভিশাপ। অদ্ভুত সেই অভিশাপ। তিনি বললেন, কী! আমার দেওয়া মালা মাটিতে ফেলে দিলে, তাই তোমার ত্রিলোক এখন লক্ষ্মী ছাড়া হবে। অর্থাৎ লক্ষ্মীর নির্বাসন। অভিশাপে ইন্দ্রের ইন্দ্রপুরী হলো শ্রীহীন। তার রূপে-গুণে আকৃষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত ছলে বলে বিষ্ণু তাকে পত্নীরূপে গ্রহণ করেন।

আসলে লক্ষ্মী হলো লৈকিক দেবী। আগে আমাদের সমাজে বিশেষ করে গ্রামে দুর্গাপূজা নিয়ে এত মাতামাতি ছিল না। বরং কোজাগরী লক্ষ্মীপূজাই ছিল বড় উৎসব। কোজাগরীর রকমফের ছিল দেখার মতো। ছড়া কেটেই মা লক্ষ্মীকে আবাহন করত গৃহস্থ। করজোড়ে বাড়ির নারীরা একসঙ্গে বলতেন, ‘আঁকিলাম পদ দু’টি, তাই মাগো নিই লুটি। দিবারাত পা দু’টি ধরি, বন্দনা করি। আঁকি মাগো আল্পনা, এই পূজা এই বন্দনা।’ সব ছড়ার মধ্যেই থাকে বাসনা, অভিমান এবং আকাঙ্ক্ষা। পেঁচা, কড়ি, ধানের গোলা আঁকার সঙ্গে সঙ্গে তাই ছড়া কাটা হতো।

এই বাংলায় কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর চল কেন হয়েছিল, তার একটি গল্প একটু বলা যাক। অনেক বছর আগে, বাংলার এক রাজা নাকি ঘোষণা করে ছিলেনযে, লক্ষ্মী পুজোর সময়েকোনও শিল্পীর তৈরি মুর্তি অবিক্রিত থাকলেরাজা স্বয়ং সেগুলি কিনে নেবেন। তখন লক্ষ্মী পুজো হত অমাবস্যায়।আর সে দিনই নাকি দেওয়ালি পালন করা হত। সেই সময়, এক শিল্পী, দারিদ্রের প্রতীক, অলক্ষ্মীর একটি প্রতিমা তৈরি করলেন।

সেটিই একমাত্র বিক্রি হল না। রাজা সেই প্রতিমাটি কথামতো কিনে নিয়ে এলেন। লক্ষ্মীর পাশে মন্দিরে সেটিকে প্রতিষ্ঠা করেন। যে ঘরে অলক্ষ্মী থাকেন, সেখানে লক্ষ্মী থাকেন না। রাজা নিজে যখন অলক্ষ্মীকে নিয়ে এসেছেন, লক্ষ্মী চলে গেলেন রাজ্য ছেড়ে। রাজার রাজ্যপাট যেতে বসল।

রাজা তখন ধর্মের শরণাপন্ন হলেন। ধর্ম রাজাকে বললেন, আশ্বিনের পুর্ণিমায় কোজাগরী পুর্ণিমা লক্ষ্মী ব্রত পালন করে লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনতে।রাজা সেই মতো ব্রত পালন করে লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনলেন।আর অলক্ষ্মীকে ভেঙে রাজ্যের বাইরে ফেলে দিয়ে এলেন। রাজ্য আবার সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা হয়ে উঠল। আর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর চল ঘরে ঘরে শুরু হল।

লক্ষ্মী পুজোর সময় সরায় আঁকা লক্ষ্মী প্রতিমা আর মা লক্ষ্মীর একটি মৃন্ময়ী মুর্তি কে যেমন ঘরে আনা হয়, তেমনি আনা হয় নানা প্রতীক। কলা গাছের ছাল দিয়ে তৈরি নৌকা, পুরো কলাগাছ দিয়ে তৈরি একটি নারী, ধানের ছড়া, বেতের কুনকে ভর্তি ধান,আরও অনেক কিছু।

লোক সংস্কৃতির গবেষকও গুরুসদয় মিউজিয়ামের কিউরেটর বিজন কুমার মণ্ডল বলেন, “কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর সময় কলাগাছকে উর্বরতার প্রতীক ও নারী হিসাবে ভাবা হয়।ধান আমাদের প্রধান শস্য,তাই ধানকে শস্য শ্যামলার প্রতীক মনে করা হয়। আর সরাকে পৃথিবী হিসাবে কল্পনা করে তাতে নৌকার মত বাঁকা একটি রেখার ওপর ছয় রকমের লক্ষ্মী পট আঁকা হয়। এটা সারা পৃথিবীতে বাণিজ্যের প্রতীক হিসাবে লক্ষী পুজোর সময় ব্যবহার করা হয়, আবার কলা গাছের ছাল দিয়ে তৈরি নৌকাকেও ভাবা হয় বাণিজ্যের প্রতীক।

Kojagari Lakshmi Puja lokkhi

আমাদের রাজ্যের অন্যতম বড় লক্ষ্মী মুর্তি বিক্রির বাজার বসে বেহালায়। গত বছর প্রায় আঠাশ হাজার মুর্তি বিক্রি হয়েছে এখান থেকে। বেহালার পাঠক পাড়ার কাছ থেকে ট্রাম ডিপোর মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে বিক্রেতার সংখ্যা ৬০০ থেকে ৭০০ জন। এ বারে বিক্রেতাদের আশা ঠাকুর বিক্রি ত্রিশ হাজার ছাড়াবে। ব্যবসায়ি সমিতির সম্পাদক অরুন ঘোষ বলেন, “মুর্তির বাজার দর খুব একটা না বাড়লেওতৈরির খরচ বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।”

ঠাকুরের দাম শুরু ৭৫ টাকা থেকে। ছোট থেকে যত বড়র দিকে যাবেন দাম ততই বাড়বে। ছাঁচের ঠাকুরের সর্ব নিম্ন দাম ৭৫ টাকা (৫ ইঞ্চি সাধারণ সাজ), সর্বোচ্চ ৮৫০ টাকা (কৃষ্ণ নগরের দেড় ফুট মুর্তি)। যদি পিতলের ঠাকুর কিনতে চান, দাম শুরু ২৫০ টাকা থেকে।সর্বোচ্চ দাম সাড়ে আট হাজার টাকা। নতুন ধানের শীষ ও ছড়া শুরু ৬ টাকা থেকে। ডিজাইন অনুযায়ী দামের পরিবর্তন হয়। কলার ছালের নৌকা ১০১ টাকা থেকে শুরু। কলাগাছের বউশুরু ৭৫ টাকা থেকে। পটে আঁকা লক্ষ্মীসরার দাম ১৫০ থেকে শুরু। তবে লক্ষ্মীর আল্পনার পাতার দাম কিন্তু এবার যথেষ্টই বেশি।

মুর্তির দাম কম থেকে বেশি হয় জায়গা বিশেষের তৈরি প্রতিমায়। কম থেকে বেশি- টালিগঞ্জ, কালীঘাট, বেলেঘাটা, বারাসাত, কুমারটুলিও কৃষ্ণনগরের প্রতিমা। সবচেয়ে বেশি চাহিদা কৃষ্ণনগরের ঠাকুরের।এরপর কুমোরটুলিরএবংকালীঘাটের। ঠাকুর নেওয়ার সময় ঠাকুরের চোখটা শুধু দেখুন। এটাই ঠাকুর কেনার মোক্ষম টিপস। খড় মাটির তৈরি প্রতিমা স্থানীয় ভাবে তৈরি হয়। তবে দাম এবারে একটু বেড়েছে। বড় ঠাকুর ৩০০ টাকা।

নাড়ু বা মোয়ার দাম তেমন বাড়েনি, কিন্তু মাপে কমেছে। বাকি সব কিছুতে গড়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ দাম বেড়েছে। অনেকের এই পুজোতে ইলিশের দরকার হয়। ৫০০ গ্রামের একটু বড় সাইজের ইলিশের দাম ৫৫০ টাকা প্রতি কেজি।

সবজির দাম বেশ চড়া। একটা ছোট ফুল কপি ৩০ টাকা, জলপাই ৭০ টাকা, নতুন আলু ৫০ টাকা থেকে শুরু। ফলের ও ফুলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।
সব শেষে আসি পুরোহিতের কথায়। এবছর থেকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চালু হয়েছে পুরোহিতদের প্যাকেজ। তবে ব্রাহ্মণ নিয়ে আর চিন্তা নেই।

লক্ষ্মী পুজোর ইভেন্টের পুরো দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছেন ওনারা। ঠাকুর থেকে আল্পনা সব প্যাকেজে। আগের দিন সব পৌঁছে যাবে। আর সঠিক সময়ে পুরোহিত হাজির।
মা লক্ষ্মীর আরাধনা করতেই হবে। তাই অত কিছু না ভেবে বাজারে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেই হল। ধান দিয়েছেন যিনি, ধনও দেবেন তিনি। তিনি যে মা ধন লক্ষ্মীও।

Sunday, October 25, 2015

Nakhoda Mosque


Built in 1926, the Nakhoda mosque meaning Mariner is a place of prayer with a prayer hall capacity of 10,000 for the faithfuls of Islam built by Kutchi Memon Jamat. The word originated from the Arabic word masjid that indicates the location in which you reach the Sujud, the prostrations that are part of compulsory movements that must take the faithful praying.

Saturday, October 24, 2015

City Centre New Town


The City Centre New Town shopping center or multi directional differs from traditional mall for its services and activities it performs. A shopping center is a structure that encloses a supermarket or hypermarket, surrounded by a number of shops shopping mall and catering.

Sunday, October 18, 2015

কুমোরটুলি

উমার সাজ প্রায় সম্পূর্ণ। শেষবেলার রং-তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। উমার সাজঘরের কুশীলবেরা এখন দিন-রাত এক করে মৃণ্ময়ীকে সাজাতে ব্যস্ত। কুমোরটুলি সারাটা বছর থাকে প্রচারের আড়ালে। কিন্তু, এই দুর্গাপুজোর সময়টায় সেই বিশ্বকর্মা'রা আসেন যেন অন্য রূপে!

জীবন আর মাটির স্বর্গ যেন একাকার হয়ে যায়...প্রতিমা বেরিয়ে পড়ছে সাজঘর ছেড়ে...যাচ্ছে মণ্ডপ আলো করে মানুষের মনের আলো জ্বালাতে...উৎসবের কাল এল।কুমোরপাড়ার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেল সেই কাল, গভীর রাতে শিল্পী আর কারিগরদের আড্ডা, সাত-সকালের ঘুমভাঙা জীবন, মাটির টান আর সে জীবনের পরতে পরতে ভেসে আসে বন্দনার সুর। মা আসছেন...

kumartuli durga puja

Tuesday, October 13, 2015

শিউলি ফুলের ছবি

ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা পড়ছে। আশ্বিনের ডাক মানেই পুজোর ডাক! বাড়ির কাছের নদীর জলে উপুড় হয়ে চুম্বন করল কি পুজো এল-পুজো এল আকাশ?ভোরের মাটিতে শিউলি ঝরে পড়ছে। আজও সকালে হিমেল হাওয়ায় শিউলির সুবাস খুঁজে বেড়াই, এই সময় শিউলিতলা কেমন আলো করে থাকত, ভোরের শিশির মেখে সূর্যের কিরণ যখন তার উপর এসে পড়ত শিউলির তখন নববধূর বেশ। শিউলিগুলো চৌকো ফ্রেমে ধরা দিয়েছে বাড়ির জানলায়।

জানালার ধারে একটা শিউলি গাছ ছিল। ভোরের রাতে শিউলি ফুলের গন্ধে ভরে যেত সারাটা ঘর। ঝরে পড়া শিউলি ফুলের হালকা টুপটাপ শব্দ শোনা যেত সারাটা রাত ধরে। সেই টুপটাপ শব্দ শুনতে শুনতে এক সময় ষষ্ঠীর সকাল এসে পড়ত। ঠিক তখনই সারা ঘরে একটা মায়াবী আলো ছড়িয়ে পড়ত।

Monday, October 12, 2015

শরতের কাশফুল নিয়ে কবিতা, ছবি

ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা পড়ছে কি? ভাদ্র কেটে আশ্বিন এল বলে! বাড়ির কাছের নদীর জলে উপুড় হয়ে চুম্বন করল কি পুজো এল-পুজো এল আকাশ? ভোরের মাটিতে শিউলি ঝরে পড়ল বলে পদ্মেরা মাথা তুলছে, কাশের দল দোল দিচ্ছে মনের বনের আনাচ-কানাচ।

স্কুলফেরত খুদেদের দাপাদাপি কাশের বনে। কাশফুল মাথায় দিয়ে গ্রামের সেই কিশোরী যেন এই পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানবী! অচিন নদীতে নৌকো ভাসিয়ে দু’পারের কাশের জঙ্গল পেরিয়ে অজানা পথ পাড়ি দেয় যে মাঝি।

Kash Flower

Friday, October 9, 2015

বাংলার মিষ্টান্ন

যদি মিষ্টি খেতে মিষ্টি না হয়ে অন্য কোন স্বাদের হতো, সেক্ষেত্রে মিষ্টির নাম হতো কি? মিষ্টি একাধারে যেমন একটি স্বাদের নাম, ঠিক তেমনি মিষ্টি একটি বিশেষ মিষ্টান্ন জাতীয় খাদ্য প্রকার। চা’য়ে চিনি দিলে বলা হয় মিষ্টি চা। চিনি দিয়ে তৈরী বিস্কুটকে বলা হয় মিষ্টি বিস্কিট। শরবতে লবনের পরিবর্তে চিনি দিলে বলা হয় মিষ্টি শরবত। তাই যদি হয়, তাহলে বলুন তো, মিষ্টিতে চিনি দিলে সেটাকে কি বলা হবে? মিষ্টি চিনি?

মিষ্টি নিয়ে যতসব মিষ্টি মিষ্টি কথা না বাড়িয়ে, চলুন শুনি কিছু মিষ্টি কাহিনী। মিষ্টি হলো চিনির বা গুড়ের রসে ভেজানো ময়দার গোলা কিংবা দুধ- চিনি মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন আকৃতির ছানার/ময়দার টুকরো করা খাবার। বাঙ্গালির খাওয়া-দাওয়ায় মিষ্টি একটি অতি জনপ্রিয় উপকরণ। বাঙ্গালির কোন উপলক্ষ-অনুষ্ঠানই মিষ্টি ছাড়া পূর্ণতা পায় না। মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে।

বঙ্গ দেশে মিষ্টিকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য নামী-দামী মিষ্টির দোকান। সেই আদিযুগের লাড্ডু থেকে শুরু করে সন্দেশ, কালোজাম পেরিয়ে আজ মিষ্টির প্রকারভেদ শিল্পের সমপর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, স্বাদ ও আকারে এমনকি নামকরণের ভিন্নতা নিয়ে স্বতন্ত্র সত্তায় জনপ্রিয়। মিষ্টির প্রকারভেদ বাংলার মিষ্টিকে দুভাগে ভাগ করেছেন সুকুমার সেন। প্রথম ভাগে আছে একক উপাদানে তৈরী মিষ্টি।

এ ধরণের মিষ্টিতে গুড় বা চিনির সাথে আর কিছু মিশ্রিত থাকে না। যেমন গুড় বা চিনির নাড়ু ও চাকতি, পাটালি, বাতাসা, খাজা, ছাঁচ ইত্যাদি। দ্বিতীয় ধরণের মিষ্টিকে আরো দু’ রকমে ভাগ করা চলে। গুড় বা চিনির সাথে দুগ্ধজাত কোন উপকরণ ছাড়া অন্য দ্রব্য সহযোগে তৈরীকৃত মিষ্টান্ন। যেমনঃ নারকেল, তিল এসবের নাড়ু, চিঁড়ে, মুড়ি, খৈ-এর মোয়া ইত্যাদি। দুগ্ধজাত দ্রব্যযোগে তৈরী নানান ধরণের মিষ্টি রসিক ও মিষ্টিপ্রিয় বাঙ্গালির সুপরিচিত।

চিনির সাথে ছানার সংযোগে তৈরী হয় সন্দেশ ও মন্ডা। আবার এই ছানা রসে মাখিয়ে তৈরী হয় রসগোল্লা, দুধে ডোবালে রসমালাই। বেসনের ছোট ছোট দানা ঘিয়ে ভেজে তৈরী হয় বুন্দিয়া, যা দেখতে ছোট বিন্দুর মতো। কড়া পাকে প্রস্তুতকৃত বুন্দিয়াই মতিচুর, লাড্ডুর কাঁচামাল। যশোরের জামতলার মিষ্টি এটি বাংলার বিখ্যাত মিষ্টিগুলোর মধ্যে অনন্য। এটি বাংলার প্রাচীনতম একটি মিষ্টি। তবে এটি এখন বঙ্গ দেশে সর্বত্র পাওয়া যায়।

চমচম দেখতে অনেকটা লম্বাটে আকৃতি আর শরীরে মাওয়া জড়ানো মিষ্টির নাম চমচম। হালকা আঁচে পোড় খাওয়া এই মিষ্টির রঙ গাঢ় বাদামি বা লালচে। বাহিরটা একটু শক্ত হলেও এর ভেতরটা কিন্তু একদম রসে ভরপুর। একেবারে মাত্রা মতো মিষ্টি, ঘন রস আর টাটকা ছানার গন্ধমাখা পোড়াবাড়ির এই মিষ্টির স্বাদ সত্যি অতুলনীয়। কেউ কেউ তাই মজা করে বলেন- এটি এমন জিনিস, যে না খাবে সেই পস্তাবে! স্বাতন্ত্রেও এর জুড়ি মেলে না।

এর সুনাম রয়েছে বাংলা, বিহার ছাড়িয়ে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে। গাঢ় বাদামি বা লালচে রঙের এই সুস্বাদু চমচমের উপরিভাগে চিনির গুঁড়ো আর মাওয়া জড়ানো থাকে। এর ভেতরের অংশ বিশেষ কায়দায় করা হয় ফাঁপা ও রসাল নরম। চমচম সম্পর্কে ইতিহাস ঘেঁটে যতটা জানা যায়- বৃটিশ শাসন আমলে দশরথ গৌড় নামের এক ব্যক্তি টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী পোড়াবাড়িতে এসে বসতি গড়েন।

আসাম থেকে এসে দশরথ গৌড় যমুনার সুস্বাদু মৃদু পানি ও এখানকার গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে প্রথম তৈরি করেন এক ধরনের বিশেষ মিষ্টি। লম্বাটে আকৃতির এ মিষ্টির নাম দেন তিনি চমচম। তার তৈরি চমচম এলাকার লোকজন পছন্দ করতে শুরু করে। পরে সুযোগ বুঝে সে এখানে রীতিমত মিষ্টির পশরা সাজিয়ে বসেন। নাটোরের কাঁচাগোল্লা কাঁচাগোল্লার স্বাদ রসগোল্লা, পানতোয়া, এমনকি সন্দেশকেও হার মানিয়ে দেয়।

এর রয়েছে একটি আলাদা গন্ধ যা অন্য কোন মিষ্টিতে পাওয়া যায় না। হেতু ধীরে ধীরে মিষ্টি রসিকরা এ মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। তখন থেকে নাটোরের দোকানদাররা নিয়মিত এ মিষ্টি বানাতে থাকে। কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। কোনও কোনও দোকানে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন মণ ছানার কাঁচাগোল্লা তৈরি হতে লাগল। সে সময় ঘোষক দ্বারা প্রচার হতো কাঁচাগোল্লার কথা।

কাঁচাগোল্লা । এ নামেই পরিচিতি দেশ-বিদেশে। ১৭৫৭ সাল থেকে এই মিষ্টি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। ধীরে ধীরে মিষ্টিরসিকরা এই মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। ১৭৬০ সালে বাংলার শাসনকর্তা রানী ভবানীর রাজত্বকালে বিভিন্ন মাধ্যমে কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়াতে থাকে। কুমিল্লার রসমালাই কুমিল্লার রসমালাই কেবল বাংলাদেশে নয় পুরো উপমহাদেশেই ভোজনরসিকদের কাছে একটি পরিচিত খাবার।

bengali sweet

দুধের রসগোল্লা বা রসমালাই অনেক জায়গাতেই তৈরি হয়। কিন্ত কোনটাই ঠিক কুমিল্লার রসমালাইয়ের মত নয়। বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়ন করেছে কুমিল্লার রসমালাই দিয়ে। আর পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে নিয়মিতভাবে ভারতে যাচ্ছে এসব রসমালাই। উনিশ শতকে ত্রিপুরার ঘোষ সম্প্রদায়ের হাত ধরে রস মালাইএর প্রচলন হয়। সে সময় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মিষ্টি সরবরাহের কাজটা মূলত তাদের হাতেই হত।

মালাইকারির প্রলেপ দেয়া রসগোল্লা তৈরি হত সে সময়। পরে দুধ জ্বাল দিয়ে তৈরি ক্ষীরের মধ্যে ডোবানো রসগোল্লার প্রচলন হয়। ধীরে ধীরে সেই ক্ষীর রসগোল্লা ছোট হয়ে আজকের রসমালাই-এ পরিণত হয়েছে। বগুড়ার দই বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে দই তৈরি হয় না এমন জায়গা নেই। তবে স্বাদ আর মান বগুড়ার দইকে নিয়ে গেছে এক অনন্য অবস্থানে। এ জেলার প্রায় ১০০ দোকানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার দই বেচাকেনা হয়।

সে হিসেবে বছরে বিক্রি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। প্রবাসীদের আগ্রহের কারণে বগুড়ার দই পৌঁছাচ্ছে কানাডা, ফিলিপাইন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বহু দেশে। ১৯৬০-এর দশকের দিকে গৌরগোপাল পালের সরার দই তৈরি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। বগুড়ার নবাব পরিবার ও সাতানি পরিবারের কাছে দই সরবরাহ করতেন এ কারণে সে সময় তাঁর দই 'নবাববাড়ির দই' নামে পরিচিতি পায়।

তিলের খাজা এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পাল সম্প্রদায়ের লোক এ উপাদেয় খাদ্যটি তৈরি করত। ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হবার আগে শহরের দেশওয়ালী পাড়া এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার তিলের খাজা তৈরী করত। এর পর থেকেই আস্তে আস্তে তিলের খাজার প্রসার ঘটতে থাকে। তখন থেকেই ক্রমে তিলের খাজার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশে জুড়ে।

প্যারা সন্দেশ বিচিত্র সব খাবারের মধ্যে রয়েছে শত বছরের সুখ্যাতি। শুরুতে পূজা মণ্ডপের দেব-দেবীর উপাসনার উদ্দ্যেশ্যে তৈরি করা হলেও এখন এই সন্দেশ দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। জনশ্রুতি আছে যে, নওগাঁ শহরের কালিতলার মহেন্দ্রী দাস নামে এক ব্যক্তি প্রথমে প্যারা সন্দেশ তৈরি শুরু করেন। যশোরের খেজুর রসের ভিজা পিঠা খেজুর রসের রসের ভেজা পিঠা শীতকালের একটি জনপ্রিয় পিঠা।

শীতকালে ভোরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তার মধ্যে দুধ, চিনি বা গুড়ের সাথে চিতই পিঠা ভিজিয়ে এই পিঠা তৈরী করা হয়। এটি এখন শুধু আর যশোরে সীমাবদ্ধ নেই, সারা বাংলাদেশ জুড়েই রয়েছে এর জনপ্রিয়তা। মহাস্থানের কটকটি বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী বলে পরিচিত বগুড়ার মহাস্থান গড় বা পুরানো নাম পুন্ডনগর বেড়াতে গেছেন বা বনভোজনে গেছেন, অথচ মহাস্তান গড়ের কটকটি দেখে খাওয়ার স্বাদ মনে জাগেনি।

দইয়ের ঐতিহ্যবাহি খাবার হিসাবে বেশ প্রসিদ্ধ লাভ করেছে ভ্রমনপিপাসুদের মাঝে। রসকদম ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম মিষ্টান্ন। খোটখাটো অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বড় ধরনের যে কোন অনুষ্ঠানে এই মিষ্টির রয়েছে ব্যাপক কদর। এমনকি দেশের বাইরেও ভারত, আমেরিকাতেও রয়েছে এর পরিচিতি। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ বিশেষ মিষ্টির ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছেন সেখানকার ময়রারা। তাঁদের নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতায় ঐতিহ্যবাহী হয়ে উঠেছে সেসব মিষ্টি।

এর মধ্যে আছে রসগোল্লা, রাঘবসাই, মণ্ডা, আমৃতি খেজুরের নোলন গুড়ের প্যারা সন্দেশ, তিলের খাজা, পাতক্ষীরা, ক্ষীরের চমচম, রসমালাই, দই, ছানামুখি, ক্ষীর, জিলাপী, তালরসের পিঠা।

Friday, October 2, 2015

Kolkata Race Course

Kolkata Race Course rctc

Built in the year 1820, Kolkata Race Course, is one of the largest horse race venues in India, has a capacity of 30000 spectators. In its history have been hosted here also meetings of horse racing. It plays host to horse races during weekends during July to September and November to March seasons. The modern racetracks have forums and structures to accommodate the audience and allow them to make bets on races in the program. Depending on the type of competition that host, there are racecourses dedicated to the races at the trot, to those in the canter and multipurpose facilities, able to accommodate both types of stroke.