Saturday, October 4, 2014

বিজয়া দশমী - ছবি

মাত্র কয়েক দিন আগে যেখানে ছিল আলোর রোশনাই, ঢাকের শব্দ, আড্ডার মাদকতা আর অনাবিল আনন্দ সেখানেই এখন নীরবতা আর শূন্যতা। ঠাকুরদালানে জ্বলতে থাকা প্রদীপের মৃদু আলোয় তখন শুধুই খেলে বেড়ায় আলো-আঁধারির স্মৃতিকথা। প্রতি বছর পুজো শেষে এটাই পুজো প্রাঙ্গণের পরিচিত ছবি। নিজের অজান্তেই ছলছল করে চোখ দু’টি। ঠিক যেন আপনজনের দূরে চলে যাওয়া বেদনা গ্রাস করে অবুঝ, সরল মনকে।

নবমী নিশি পেরোতেই বিষাদের করুণ সুর বেজে ওঠে মনে। ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন তখন ঘোর বাস্তব। পাঁচ দিনের উৎসবের রেশ রয়ে যায় বছর ভর। এমনই এই উৎসবের মহিমা। তবু পুজোর ক’টা দিনের উষ্ণ মুহুর্ত যেন হয়ে ওঠে সারা বছরের আনন্দের উৎসবিন্দু।

Durga Baran dala

রথযাত্রা কিংবা জন্মাষ্টমীতে যার প্রস্তুতির সূচনা তারই সমাপ্তি ঘটে নবমী নিশিতে। এমনটাই তো চলছে যুগ যুগ ধরে। তবু মন মানে না। পুজোয় রঙিন মুহূর্তগুলো যেন ঘুরে ফিরে আসে কর্মব্যস্ত একঘেয়ে জীবনের আনাচে কানাচে। হয়তো এই কারণেই কখনও একঘেঁয়ে লাগে না পুজোটাকে।

ঠাকুর থাকবে কতক্ষন, ঠাকুর যাবে বিসর্জন! দশমীর সকাল থেকেই ঢাকের কাঠি, তাই বলে যাচ্ছে। পুজো, পুজো, পুজো, পুজো শেষ। কাল থেকেই স্কুল, কলেজ, পড়াশোনা, দৈনন্দিন জীবনযাপন। বিসর্জনের পরও, নিরাকার দেবী সারা বছর থেকে যাবেন আমাদের কাজের মধ্যে, আমাদের অধ্যবসায়। বিদায়কালে, এই চেতনাই আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।

দশমীর সন্ধ্যা থেকেই আবারও শুরু হয় এক বছরের নীরব প্রতীক্ষা। মাটির বেদীর উপরে তখন প্রতিমার পরিবর্তে শোভা পায় শুধুই প্রাণহীণ প্রতিমার পাটা। এ যেন বছর পেরিয়ে আপন মেয়ের ঘরের ঘরে ফেরা। তাইতো মিশে আছে এত আনন্দ, এত আন্তরিকতা। আর বিজয়া মানেই মেয়ের ঘরে ফেরার জন্য আবার এক বছর প্রতীক্ষার সূচনা। তাই মন খারাপ হয়। আজও দশমী এলেই মনে পড়ে যায় মেয়ের বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা।

No comments:

Post a Comment