নবপত্রিকা এবং কলা বৌ স্নান

মার্কণ্ডেয় পুরানের যুগ থেকে আনুমানিক ১২০০/১৩০০ বছর আগে রামায়নে বর্ণিত না থাকলেও সেকালে নবপত্রিকার নবরাত্রি উৎসব ছিল। নয়টা বিশেষ ঔষধীয় গুন্সম্পন্ন গাছের মানুষ পুজা করত। এই নয়টা গাছ হল কদলী, কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, অশোক, বিল্ব, দাড়িম্ব, মান, ধান্য।

কদলী যেমন খাদ্যমূল্য আছে তেমনি অনেক রগেরও ঔষধ। সর্বাংশ কাজে লাগে। তাই ধরা হয় কদলীতে যে প্রাশক্তির অধিষ্ঠান তার নাম ব্রহ্মাণী। সে কালে আলু ছিল না, লকে কচু খেত। এর বিভিন্ন ধরনের গুন। কচুর মধ্য অনেক গুন থাকায় এর শক্তির যে শক্তির অধিষ্ঠান তাকে বলা হয় কালিকা।

কাচা হলুদ চর্মরোগের ঔষধ। হলুদের হলুদেরগুন থাকায় একে মানুষ পুজা করত। এর পরাশক্তির তার নাম দুর্গা। জয়ন্তী লতা শ্বেতী রোগে ব্যবহার হয়। এতে যে শক্তি আছে তার নাম কার্ত্তিকী। অশোক ফুল নানা রগের ঔষধ। স্ত্রীরোগের ঔষধ অশোকারিষ্ট। এর দেবীর নাম হল শোকরোহিতা।

কাঁচা বেল বহু গুন সম্পন্ন। এর অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম শিবা। দাড়িম্ব বা ডালিম । খাদ্য হিসাবে ঔষধীয় গুন সম্পন্ন । এতে যে দেবীর কল্পনা করা হয় তার নাম রক্তদন্তিকা মান কচুতে যে দেবীর অধিষ্ঠান কল্পনা করা হয় তার নাম চামুণ্ডা।

আর ধানে যে দেবীর অধিষ্ঠান তার নাম মহালক্ষ্মী । নব পত্রিকা বলতে নটা দেবীর কল্পনা করা হত- এগুলো পৌরানিক কল্পনা। এদের জন্য নটা পৃথক রাত্রি হয়েছিল দেবী পক্ষে। পিতৃপক্ষ শেষে প্রতিপদ থেকে নবমী তিথি পর্যন্ত। দেবী দুর্গা প্রবেশ করার আগে ওই নয়টা ঔষধিকে স্নান করিয়ে স্থাপন করা হয়- এক বলে নবপত্রিকার প্রবেশ। যাকে বলে কলা বৌ।

লোকের ধারনা কলা বৌ বুঝি গণেশের বৌ। কলা বৌ গণেশের বৌ নয় বরং মা। দেবতাদের বা দিকে থাকে দেবী। কিন্তু গণেশের দান দিকে আছে কলা বৌ । নবপত্রিকা উৎসবকে উত্তর ভারতের লোকারা নব রাত্রি উৎসব বলে। বাঙলায় নবাব হোসেন সাহের সময় রামের জয় কে কেন্দ্র করে কংসনারায়ণ রায় এর প্রবর্তন করেন।