একডালিয়া এভারগ্রিন দূর্গা পুজো

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত বিখ্যাত দূর্গা পুজো একডালিয়া এভারগ্রিন। ১৯৪৩ থেকে গড়িয়াহাটে এই ক্লাবের পুজো হয়ে আসছে। সিংহি পার্কের পুজোই মূলত একডালিয়া এভারগ্রিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিবছরই দেশের কোনও না কোনও বিখ্যাত মন্দিরের আদলে প্যান্ডেল তৈরি করেন একডালিয়া এভারগ্রিনের উদ্যোক্তারা। শুধু প্যান্ডেল নয়, সেইসঙ্গে একডালিয়া এভারগ্রিনের অন্যতম আকর্ষণ ঝাড়বাতি। মণ্ডপ প্রাঙ্গনে বিশালাকারের ঝাড়বাতি লাগানো হয়।

শুধু জাঁকের বহরেই একডালিয়া কলকাতার প্যান্ডেল হপারদের আবশ্যিক ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে। নয়ের দশক থেকে শহরে থিম পুজোর আগ্রাসন শুরু হলেও উত্তরের বাগবাজার, সিমলা ব্যায়াম সমিতি বা মধ্য কলকাতার কলেজ স্কোয়ারের মতোই একডালিয়াকে তা স্পর্শ করতে পারেনি। তবে, বাকিদের মতো সাবেকিয়ানা আঁকড়ে থাকলেও প্রতিমা, মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জায় স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে একডালিয়া।



কলকাতার সর্বজনীন পুজোর নিরিখে উত্তর কলকাতাই ছিল পথিকৃত। শহরের বেড়ে ওঠার আর্থ-সামজিক ইতিহাসের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাগবাজার থেকে সিমলা ব্যায়াম সমিতির মতো পুজো কলকাতার বারোয়ারি পুজোর সংজ্ঞা নিরূপণ করেছিল। যদিও প্রায় একই সময়ে সংলগ্ন এলকায় আরও অনেক সর্বজনীন পুজোর সূচনা হয়। পরে সেই রেশ গিয়ে পড়ে দক্ষিণে। এতশত বারোয়ারি পুজোর ভিড়ে এখনও শতায়ু পুজো হাতে গোনা। তবে উত্তরে নয়ের কোঠায় পা রাখা পুজো খুঁজে পাওয়া যায়। নানা ঝড়-ঝাপটা সামলে তারা আজও টিকে আছে সসম্মানে।

উত্তরের থেকে ভিড় দক্ষিণে টেনে আনার ক্ষেত্রে মাইলস্টোন অবশ্যই একডালিয়া। সেই আকর্ষণের নিরিখে সাতের দশকের শুরুতে দক্ষিণ কলকাতার পুজো বলতে লোকে একডালিয়াকেই বুঝত। পাশের বালিগঞ্জ কালচারাল, সমাজসেবী, সংঘশ্রী, আদি বালিগঞ্জ, মুদিয়ালি, কলকাতার বারোয়ারি পুজোর ইতিহাসে দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বকারী হলেও একমাত্র একডালিয়া বাকিদের পিছনে ফেলে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। পরে নয়ের দশকের শেষ পর্ব থেকে সুরুচি, শিবমন্দির, কসবা শীতলামন্দির, বাদামতলা বারোয়ারির ময়দানে নামলেও তাঁর একডালিয়া কাউকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে না।