Thursday, August 25, 2016

Mayapur Iskcon


The Hare Krishna movement is the name by which is best known International Society for Krishna Consciousness, or ISKCON, the association founded in New York in 1966 by the spiritual master Bhaktivedanta Swami Prabhupada. ISKCON movement is based on the teaching of the mystical Bengali Chaitanya, according to a disciplic line of spiritual teachers (guru parampara) that the Gaudiyas date back to Krishna.

The doctrine, as for other current Gaudiya, is based on the focus of religious faith in the figure of Krishna, here understood as the Bhagavad. God, the Supreme Person, in one with his eternal, Radha, here understood as a manifestation of the same Bhagavat, and in that of Chaitanya and its Panca-tattva, here understood as the manifestation of deity Krishna and his eternal paredra Radha , and the promotion of an active missionary activity.

Wednesday, August 17, 2016

রাখি বন্ধন উৎসব - ছবি ও ইতিহাস

ইতিহাস সবসময় একাধিক মতবাদ প্রদান করে, এই একাধিকত্তের মধ্যে কোনটি উল্লেখযোগ্য তা নিজ নিজ গ্রহণযোগ্যতার উপর নির্ভরশীল। এবার চলে আসা যাক অতীতে, এই রাখির প্রবর্তন হয় কি ভাবে? কি ভাবে সূত্রপাত এই ভারতব্যাপী নিদারুণ বন্ধুত্বতার মহোৎসবের?

রাখিবন্ধনের দিন গণেশের বোন গণেশের হাতে একটি রাখি বেঁধে দেন। এতে গণেশের দুই ছেলে শুভ ও লাভের হিংসে হয়। তাদের কোনো বোন ছিল না। তারা বাবার কাছে একটা বোনের বায়না ধরে। গণেশ তখন তাঁর দুই ছেলের সন্তোষ বিধানের জন্য দিব্য আগুন থেকে একটি কন্যার জন্ম দেন। এই দেবী হলেন গণেশের মেয়ে সন্তোষী মা। সন্তোষী মা শুভ ও লাভের হাতে রাখি বেঁধে দেন।

পুরাণ বলছে , মহাভারতে আছে, একটি যুদ্ধের কৃষ্ণের কবজিতে আঘাত লেগে রক্তপাত শুরু হলে পাণ্ডবদের স্ত্রী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। এতে কৃষ্ণ অভিভূত হয়ে যান। দ্রৌপদী তাঁর অনাত্মীয়া হলেও, তিনি দ্রৌপদীকে নিজের বোন বলে ঘোষণা করেন এবং দ্রৌপদীকে এর প্রতিদান দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। বহু বছর পরে, পাশাখেলায় কৌরবরা দ্রৌপদীকে অপমান করে তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে কৃষ্ণ দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে সেই প্রতিদান দেন। এইভাবেই রাখিবন্ধনের প্রচলন হয় ।

Rakhi Bandhan Kolkata images wallpapers

অন্য মতে, একটি জনপ্রিয় গল্প অনুযায়ী, চিতোরের রানি কর্ণবতী ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে একটি রাখি পাঠান। গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহ চিতোর আক্রমণ করলে বিধবা রানি কর্ণবতী অসহায় বোধ করেন এবং তিনি হুমায়ুনকে একটি রাখি পাঠিয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। কর্ণবতীর রাখি প্রেরণে অভিভূত হয়ে হুমায়ুন চিতোর রক্ষা করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেন।

আবার ইতিহাসের সবচেয়ে নবীনতম মতবাদ অনুযায়ী, বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাঙালির এই প্রথম জাতীয়তাবাদী জাগরণের পেছনে রবীন্দ্রনাথ যে প্রেরণা দিয়েছেন তাঁর প্রাথমিক বীজবপন করেছিলেন রাখিবন্ধনের মধ্য দিয়ে। রাখিবন্ধন উত্সব প্রবর্তন করে হিন্দু-মুসলিমে সম্প্রীতি ও সান্নিধ্যের সুযোগ তৈরি করতে চাইলেন। নিজে পথে নামলেন, সাধারণ মুসলিম প্রবীণের হাতে রাখি পরালেন, মিছিলের পুরোভাগে থেকে গাইলেন বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান। তাই তো তিনি লিখতে পেরেছিলেন বাঙালির প্রাণ বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন এক হউক, এক হউক, এক হউক, হে ভগবান।

Monday, August 15, 2016

ভারতের স্বাধীনতা দিবস - সংগ্রাম, ইতিহাস

স্বাধীনতা দিবস হল ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি জাতীয় ছুটির দিন। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসনকর্তৃত্ব থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। তারই স্মৃতিতে প্রতি বছর ১৫ অগস্ট ভারতে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রধানত অহিংস অসহযোগ ও আইন অমান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘ স্বাধীনতা আন্দোলনের পর ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজিত হয়ে ভারত অধিরাজ্য ও পাকিস্তান অধিরাজ্য নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এই বিভাজনের সময় ধর্মীয় দাঙ্গায় প্রচুর জীবন ও সম্পত্তি হানি ঘটেছিল। ভারত বিভাজনের ফলে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন জওহরলাল নেহেরু। এই দিন দিল্লির লাল কেল্লার লাহোরি দরজার উপর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর পর থেকে প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলন করে ভাষণ দেন।

স্বাধীনতা দিবসে সারা ভারতে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ভারতীয়রা এই দিন তাঁদের পোষাক-পরিচ্ছদ, যানবাহন ও বাড়িতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত করেন। দেশাত্মবোধক গান ও দেশপ্রেমমূল চলচ্চিত্র সম্প্রচারিত হয়। এই দিনটি পারিবারিক পুনর্মিলন ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একত্রে মিলিত হওয়ার একটি দিনও বটে।

যে সব চলচ্চিত্র বা গ্রন্থে স্বাধীনতা ও দেশভাগের কথা রয়েছে, সেগুলিও এই দিন সম্প্রচারিত বা পঠিত হয়ে থাকে। ১৫ অগস্ট এবং তার আগের ও পরের দিনগুলিতে দেশে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি হানার আশঙ্কা থাকে। তাই এই সময় দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা

Independence Day Kolkata

১৭শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় বণিকরা ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করতে শুরু করে।.১৮শ শতাব্দীতে অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তির বলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি স্থানীয় রাজ্যগুলিকে পরাজিত করে ভারতে নিজেদের শাসন কায়েম করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারত শাসন আইন (১৮৫৮) পাস হয় এবং ব্রিটিশ রাজশক্তি ভারতের প্রত্যক্ষ শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেয়। পরবর্তী কয়েক দশকে ধীরে ধীরে ভারতে সুশীল সমাজ গড়ে ওঠে।

এই গড়ে ওঠার পিছনে অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি ছিল ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার প্রভৃতি শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে উদ্যোগী হয়। সেই সঙ্গে দমনমূলক রাওলাট আইনও পাস হয়। এর ফলে ভারতীয় আন্দোলনকারীরা স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি জানাতে থাকেন। এই সময় ভারতীয় জনসাধারণের অসন্তোষ সারা দেশব্যাপী অহিংস অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের জন্ম দেয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোহনদাস করমচন্দ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী)।

১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার ভারতে আংশিক স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করার পর আইনসভা গঠিত হয়। এরপর নির্বাচনে কংগ্রেস জয়লাভ করে। পরবর্তী দশকটি ভারতের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার দশক। এই দশকেই ভারত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়, কংগ্রেস সর্বশেষ বারের জন্য অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে এবং অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের ইসলামি জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটে। এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটে ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে। তবে স্বাধীনতা লাভের আগে ভারতীয় উপমহাদেশ ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে বিভাজিত হয়।

১৯২৯ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং ২৬ জানুয়ারি তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কংগ্রেস জনসাধারণের কাছে আবেদন জানায়, যতক্ষণ না ভারত পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করছে ততক্ষণ তারা যেন আইন অমান্য কর্মসূচি পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস কর্তৃক প্রচারিত নির্দেশাবলি অনুসরণ করেন। এই ধরনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ধারণার প্রসার এবং ভারতের স্বাধীনতা অনুমোদনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা।

১৯৩০ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস ২৬ জানুয়ারি তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে এসেছে। সেই সময় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জনসভার আয়োজন করা হত। সেই জনসভায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীনতার শপথ গ্রহণ করতেন। জওহরলাল নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, এই জনসভাগুলি ছিল শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর এবং এই সব সভায় কোনও প্রকার ভাষণ দেওয়া হত না বা কোনও সনির্বন্ধ মিনতি জ্ঞাপন করাও হত না।

গান্ধী ভেবেছিলেন যে এই সব জনসভার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কিছু সৃজনশীল কাজও করা যায়। যেমন, চরকা কাটা, সামাজিকভাবে অস্পৃশ্যদের সেবা করা, হিন্দু-মুসলমান সমন্বয়, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অথবা এই সব কটি কাজই। ১৯৪৭ সালে ভারত প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি তারিখে। সেই থেকে ২৬ জানুয়ারি তারিখটি ভারতে সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে

১৯৪৬ সালে ব্রিটেনে লেবার সরকার গঠিত হয়। সদ্যসমাপ্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের সরকারি অর্থভাণ্ডার প্রায় নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে, ভারতে ক্রমবর্ধমান অস্থির পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা স্বদেশের সম্মতি বা আন্তর্জাতিক সাহায্য তো পাবেই না, তার উপর স্থানীয় বাহিনীর উপরেও নির্ভর করতেও পারবে না। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি ঘোষণা করেন, ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই ভারতকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের অধিকার প্রদান করবে।

ভারতের নবনিযুক্ত ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন মনে করেন, কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে ক্রমান্বয়িক বিতর্ক অন্তর্বর্তী সরকারের পতনের কারণ হতে পারে। তাই তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনটি এগিয়ে আনেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের দ্বিতীয় বার্ষিকী ১৫ অগস্ট তারিখটিকে ক্ষমতা হস্তান্তরের তারিখ হিসেবে নির্ধারিত করেন।

১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে, সরকার ব্রিটিশ ভারতকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে এবং উক্ত দুই রাষ্ট্রের সরকারকে অধিরাজ্য মর্যাদা দেওয়া হবে এবং ব্রিটিশ কমনওয়েলথ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্ণ অধিকারও দেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ পাস হয়।

উক্ত আইন বলে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ব্রিটিশ ভারত দ্বিধাবিভক্ত হয় এবং স্বাধীন ভারতীয় অধিরাজ্য ও পাকিস্তান অধিরাজ্য (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখণ্ড সহ) গঠিত হয়। দুই রাষ্ট্রেরই গণপরিষদের উপর রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ আইনি কর্তৃত্ব স্বীকৃত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই এই আইনটি ব্রিটিশ রাজশক্তির সম্মতি লাভ করেছিল।