উইলিয়াম শেক্সপীয়ার কে ছিলেন

উইলিয়াম শেক্সপীয়ার জন্মেছেন স্ট্রাটফোর্ড অন এভোন শহরে সম্ভবত ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল । তার বাবা জন শেক্সপীয়ার ছিলেন একজন বিত্তবান নাগরিক । তিনি স্ট্রাটফোর্ড অন এভোন শহরের পৌরসভার একজন প্রধান ছিলেন । উইলিয়াম শেক্সপীয়ার ছিলেন তার তৃতীয় সন্তান । বিভিন্ন নথিপত্র থেকে দেখা যায় শেক্সপীয়ার এর বাবা ছিলেন একজন অকাট মূর্খ কিন্তু তিনি শহরের মেয়র হতে পেরেছিলেন কেবলমাত্র একটি গুনে যে তিনি ভাল ব্যবসায়ী ছিলেন । সে যুগে ব্যবসায়ীরাই নগর প্রশাসন ব্যাবস্থায় শরীক হতে পারত । উল্লেখ্য তিনি পশমজাত দ্রব্যের ব্যবসা করতেন ।

উইলিয়াম শেক্সপীয়ার বেশিদূর পড়াশুনা করতে পারেননি । কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার আগেই তার পড়াশুনার ইতি ঘটে ।কিন্তু নিজ চেষ্টায় তিনি ল্যাটীন ও গ্রীক ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন খুব ভাল্ভাবেই ।

শেক্সপীয়ার এর শৈশব কেটেছে খুব দুরন্তপনায়, যেমন মাছ ধরা, শিকার করা ইত্যদিতে ।পাশাপাশি তিনি প্রচুর মঞ্চনাটকও দেখেছেন । থিয়াটারের দল এলে শহরের মেয়রের অনুমতির প্রয়োজন হত যেহেতু শেক্সপীয়ার বাবা ছিলেন শহরের শেরিফ সেহেতু তিনি মঞ্চনাটক নিয়ে প্রচুর আগ্রহী ছিলেন । ছোট ছোট থিয়াটারের দল্গুলো প্রধান প্রধান চরিত্রগুলোর অভিনেতা শহর থেকে ভাড়ায় আনা হত আর এলাকার ছোট ছোট ছেলেদের দিয়ে গৌণ চরিত্রগুলো করানো হত ।

মুলত উইলিয়াম শেক্সপীয়ার এর ছাত্রাবস্থা থেকেই নাট্যপ্রীতির প্রকাশ ঘটেছিল এবং কিশোর বয়স থেকেই শুরু করেছিলেন নাট্যরচনা, প্রযোজনা আর অভিনয় । একসময়ে তার পিতার ব্যাবসায়ে মন্দাভাব দেখা যায় এবং বাধ্য হয়ে তাকে বাবার ব্যাবসার কাজ দেখতে হল আর বিদ্যালয় ছাড়তে হল । প্রচন্ড হাড়ভাঙ্গা খাটুনি সত্তেও তার নাট্য প্রীতিতে ভাটা পড়েনি । নাটক ছিল তার নেশা সেই নেশার হাত থেকে তিনি ইহ জীবনে মুক্তি পাননি ।



উইলিয়াম শেক্সপীয়ার বিয়ে করেছিলে এন হ্যাথাওয়েক নামক এক কৃষক কন্যাকে যার সাথে শেক্সপীয়ার মুলত ব্যবসা করতেন । ব্যাবসা থেকেই প্রণয় হয়েছিল । এন হ্যাথাওয়েক শেক্সপীয়ার এর থেকে ৮ বছরের বড় ছিলেন ।পন্ডীতেরা তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে নানা সংশয় বোধ করলেও আসলে তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সকল সংশয়ের উর্দ্ধে। দাম্পত্যের তিন বছর পর তাদের প্রথমা কন্যা জন্মছিল ।

দু বছরের মাথায় তাদের দুটি জমজ সন্তান হয় যাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে । সংসার বেড়েছে এদিকে আর্থিক অবস্থাও বেশী ভাল নয় । সে সময় তার জীবনে নেমে এল কুটীল মেঘ । শুধু শেক্সপীয়ার নয় সকল চাষীদের জীবনে নেমে এসেছিল নির্মম আঘাত । প্রতিপত্তি ভূস্বামীরা কৃষি ব্যবসাকে লাভজনক করার জন্য একে একে চাষীদের উতখাত করে সম্পত্তি বাড়িয়েছিল শেক্সপীয়ারেরও একজন প্রতিপত্তিশালী ভূস্বামী শ্ত্রু ছিল তার নাম ছিল টমাস লুসি । তিনি পিড্রিটান ধর্মালম্বি ছিলেন । সেজন্য শহরবাসীদের নাচ গান হোই হল্লার অভিনয় ইত্যাদি ছিল তার দু চোখের বিষ ।

গোটা জাতটাই উচ্ছন্নে যাচ্ছে এ বিষয়ে তিনি ছিলেন সন্দেহাতীত । সুতরাং শেক্সপীয়ার পরিবার বহু পূর্ব থেকেই এই ভূস্বামীর নজরে পড়েছিলেন্। এছাড়া আরেকটা কারন ছিল সেটা হল জমি সংক্রান্ত ব্যাপার, যা হোক টমাস লুসি শেক্সপীয়ার এর বাবাকে সর্বশান্ত করেছিলেন আর এবার শেক্সপীয়ার কে শায়েস্তা করার জন্য উদ্যত হলেন । সুতরাং তার নামে একটা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিলেন । টমাস তার নিজের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য শেক্সপীয়ার কে তাকে আটকে রেখে চাবুকের আঘাতে আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে। মুক্তি পেয়ে শেক্সপীয়ার লুসির বিরুদ্ধে একটি কবিতা লিখে বাড়ির গেটে টাঙ্গিয়ে রাখে ।

ফলে শত্রুদের অত্যাচার আরো বেড়ে গেল। জীবনের তীক্ত অভিজ্ঞতা আর বিচ্চছদের বেদনায় ক্ষত বিক্ষত হয়র শেক্সপীয়ার লন্ডনে এসে উপস্থিত হলেন । এবং রঙ্গালয়ে একটি কাজ পেয়ে গেলেন । এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি । পচিশ বছর ধরে রংগমঞ্চের সাথে শেক্সপীয়ার তার জীবনকে অংগীভূত করেছিলেন । রংগমঞ্চের আলোকে বসে তিনি তার কবি প্রতিভাকে বিকশিত করেছিলেন এবং সর্বমানবের কবি হয়ে উঠেছিলেন ।