ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান

বাঙাল-ঘটি যদি না থাকত তা হলে কলকাতার ফুটবল হয়ত এমন বাঁধনছেড়া উন্মাদনার জন্ম দিতে পারত না। পঞ্চাশ দশকের আগে পর্যন্ত মোহনবাগান ভারতীয় ফুটবলের মুখ। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ঝড় তুলেছিল মোহনবাগান। তার পর থেকে তারাই ভারতীয় ফুটবলের মূল প্রতিনিধি। তিরিশ দশকে মহামেডান স্পোর্টিং পর পর পাঁচবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইংরেজ দলগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের সেভাবে কোনও জোরালো প্রতিনিধিত্ব ছিল না। পঞ্চাশ দশকের তথাকথিত ‘বাঙাল’ সমর্থকরা ইস্টবেঙ্গল দলকে উৎসাহ দিতে মাঠে নেমে যেতে শুরু করল। দলের পাঁচ দুরন্ত খেলোয়াড় ভেঙ্কটেশ, আপ্পারাও, ধনরাজ, আমেদ আর সালে- পঞ্চপাণ্ডব নামে বিখ্যাত হয়ে উঠল। ধীরে ধীরে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলে মোহনবাগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উজ্জ্বল হতে শুরু করল।



ছাত্রসমাজ ও বাংলার তরুণসমাজ অনিশ্চয়তা আর বিভ্রান্তির অস্থিরতা কাটাতে দিনের শেষে চলে আসত কলকাতা ময়দানে ফুটবল খেলা দেখতে। ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান বা মহামেডান স্পোর্টিং দলের রথে চেপে পছন্দের খেলোয়াড়ের সঙ্গে নিজেকে আইডেন্টিফাই করে জেতার স্বাদ, সাফল্যের আনন্দ পেতে চাইত তারা। এমনই এক অনিশ্চিত, বিভ্রান্তিকর সময়ে খেলার মাঠ তাদের সাফল্যের স্বাদ দিত। এই কারণেই বাংলায় তখন ফুটবল হয়ে উঠেছিল এর জনপ্রিয়।