বাংলা ব্যান্ড মিউজিক

বাংলা ব্যান্ড, বাংলা রক মিউজিক মানেই একটা প্রচণ্ড ঝিংকুচিকু কিংবা অপসংস্কৃতির আসর। প্রায়োন্মাদ ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকিয়ে, গলা ফাটিয়ে, উদ্দাম অঙ্গভঙ্গিতে চেঁচিয়ে চলেছে পাঁচ-ছ’টি তরুণ। এবার আপনি সগর্বে ঘোষণা করুন, বাংলা ব্যান্ডের আপনি আপাদমস্তক বুঝে ফেলেছেন। যে সিদ্ধান্তের অনুসিদ্ধান্ত হল বাংলা ব্যান্ড, বাংলা রক মানে একটা প্রচণ্ড অপসংস্কৃতির আখড়া। যা বন্ধ হওয়া অবিলম্বে প্রয়োজন। কিন্তু সত্যিই কী তাই? ওপরে বাংলা ব্যান্ড সম্পর্কে যে ‘জেনারেলাইজড কনসেপশন’-টা দেওয়া হল, তার সঙ্গে একমত হবেন অনেকেই।

বলতেই পারেন, পরশপাথর, চন্দ্রবিন্দুর মতো ‘পেলব’ ব্যান্ডের হাত ধরে বাংলা ব্যান্ডের উত্থান হয়েছিল। ফসিলস, ক্যাকটাস, লক্ষ্মীছাড়াদের উগ্র গানবাজনার জেরেই তার সলিলসমাধি ঘটেছে। মেলোডির জায়গা নিয়েছে ‘গান কম, বাজনা বেশি’-র ফর্মুলা। কারও মতে আবার বাংলা ব্যান্ড আসলে এক ধূমকেতুর নামান্তর। কালের খেয়ালে তেড়েফুঁড়ে উঠেছিল। কালের নিয়মেই তলিয়ে গেছে। নিন্দুকেরা বলতেই পারেন, বাংলা ব্যান্ডের সে পুরনো জৌলুস আর নেই। সত্যিই কি তাই? বাজারি প্রচারের মাপকাঠিতে যদি ধরা হয়, তা হলে আপাতদৃষ্টিতে এরকমটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক।

১৯৯৮-’৯৯ থেকে শুরু করে বাংলা ব্যান্ড জাঁকিয়ে বসেছিল কলকাতা–সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে। ব্যান্ড ছাড়া কলেজ ফেস্ট? ভাবাই যেত না। একটা সময় ছিল, যখন পাঁচটা সংস্কৃতিমনস্ক ছেলে এক জায়গায় হলে লিটল ম্যাগাজিন বের করার কথা ভাবত। নব্বইয়ের শেষে এবং দু’হাজারের শুরুর দিকে সেভাবেই পাঁচজন সংস্কৃতিমনস্ক এক জায়গায় হলেই তৈরি হয়েছে ব্যান্ড। তার সবকটাই যে বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে এমন নয়।

তবে আবার বাণিজ্যিক সাফল্যের মুখ দেখেছে, এমন ব্যান্ডের সংখ্যাও কম নয়। না হলে কেনই বা ব্যান্ড-এ-মাতরম্‌ কিংবা ব্যান্ডওয়াগনের মতো শো-‌গুলো আয়োজন করবে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল? কেন বাংলা ব্যান্ডের গান নিয়ে আলাদা ‘স্লট’ রাখবে কলকাতার এফ এম স্টেশনগুলো? তার মানে কিছু নিশ্চয়ই ছিল ব্যান্ডের গানে।

তা হলে ছবিটা পাল্টাল কেন? কোন জাদুমন্ত্রে টেলিভিশন, রেডিও থেকে রাতারাতি লোপাট হয়ে গেল বাংলা ব্যান্ডের গান, খবর, গতিবিধি?

সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে একটু চোখ রাখা যাক এই মুহূর্তের বাংলা ব্যান্ডগুলোর কনসার্টের দিকে। খুব কম কনসার্টই আছে, যেখানে বাংলার প্রথম সারির ব্যান্ড পারফর্ম করতে উঠলে হাউসফুল বা প্রায় হাউসফুল ভিড় হয় না। যদি পাল্টা প্রশ্ন ওঠে, ‘এখনও এসব শুনতে লোকে ভিড় করে?’ তাহলে জানবেন, দীর্ঘদিনের মধ্যে তিনি কোনও শো-ই দেখতে যাননি। একটা হাতে গরম উদাহরণ দিই। গত ১৩ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগে ফসিলস, চন্দ্রবিন্দুদের নিয়ে যে কনসার্ট আয়োজন করেছিল একটি এফ এম স্টেশন, সেখানে প্রত্যাশার প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক দর্শক এসেছিলেন। ঢুকতেই দেওয়া যায়নি সকলকে।

বাংলা ব্যান্ডের জন্য শ্রোতা যদি নাই থাকেন, তা হলে শো-‌তে ঢোকার লাইনে যাঁরা তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও ফিরে গেলেন, তাঁরা কারা? অনুষ্ঠানটা যে রেডিও স্টেশনের ছিল, সেই রেড এফ এম সচেতনভাবেই তাদের প্লে লিস্টে একটিও বাংলা গান বাজায় না। সেখানেই যদি এত ভিড় হয়ে থাকে, তাহলে যারা বাংলা গানের বা বাংলা ব্যান্ডের হয়ে সওয়াল করে, তারা যদি অনুষ্ঠান আয়োজন করে, তাদের অনুষ্ঠানে উন্মাদনা কোথায় পৌঁছতে পারে?



যে সময়টাকে বাংলা ব্যান্ডের মন্দার বাজার বলা হচ্ছে এসেও অডিটোরিয়াম উপচে পড়া ভিড় কীসের ইঙ্গিত দেয়? জনপ্রিয়তা ছাড়া কীভাবে ব্যাখ্যা করব এই ছবিকে, যেখানে স্টেজে উঠে জনপ্রিয় ব্যান্ডের জনপ্রিয়তম গায়ক যখন হুঙ্কার ছাড়েন, ‘বসে বসে রক শো হয় না’ তখন ব্যারিকেড ভেঙে হুড়মুড়িয়ে স্টেজের সামনে চলে আসেন দর্শক-শ্রোতারা। নিজের চোখে এই দৃশ্যগুলো দেখলে কেউই বলতে পারবেন না, যে বাংলা ব্যান্ড জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। আসলে যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলা বেসিক অ্যালবাম (যা সাধারণভাবে সোলো অ্যালবাম নামেও পরিচিত) এবং বাংলা ব্যান্ডকে একঘরে করে রেখেছে রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো।

১০-১৫ বছর আগের কথা ভাবুন। বাংলা ফিল্মের গানের পাশাপাশি গুরুত্ব দিয়ে মিউজিক চ্যানেল এবং এম এম স্টেশনগুলোতে নিয়মিত বাজানো হত। রমরমিয়ে চলতও সেগুলো। তখনও ইন্টারনেট এবং ইউটিউবের এতটা বাড়বাড়ন্ত হয়নি। শুনতে চাই বললেই দুম করে পছন্দের ব্যান্ডের গান ডাউনলোড করে শুনে নেওয়া যেত না। ভরসা তাই সেই এফ এম আর টিভি চ্যানেলগুলোই। অজস্র শ্রোতা হাপিত্যেশ করে থাকতেন কখন সঙ্গীত বাংলায় ‘একলা ঘর’-এর নতুন ভিডিওটা দেখাবে। কখন রেডিও মির্চির বিশেষ শো ‘বেতার মির্চি’-তে ‘লক্ষ্মীছাড়া’ আনপ্লাগড গাইবে ‘জীবন চাইছে আরও বেশি’। ওই একই শো-‌তে ফসিলস এপিসোড তো ব্যান্ড ইতিহাসের লোকগাথায় ঢুকে গেছে। সেসময় এফ এম আর টিভি চ্যানেলগুলোতে নিয়ম করে বাজানো হত কবীর সুমন, মৌসুমি ভৌমিক, নচিকেতাদের গান। সঙ্গে অবশ্যই বাংলা ব্যান্ড।

কিন্তু যত দিন এগিয়েছে, ততই এফ এম স্টেশন আর মিউজিক চ্যানেলগুলোতে জাঁকিয়ে বসেছে ফিল্মের গান। এই মুহূর্তে ফিল্মের গানের বাড়বাড়ন্তের কারণটা এক ‘ওপেন সিক্রেট’। রেডিও কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলের অন্দরমহলে খোঁজ নিলেই জানা যায়, ফিল্ম প্রোডাকশন হাউসগুলো কীভাবে তাদের হাতের পুতুল করে রেখেছে। কলকাতা শহরে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি রেডিওকর্মীর আক্ষেপ, তাঁরা কবীর সুমন, নচিকেতাদের পাশাপাশি বাংলা ব্যান্ডের গানও সমান গুরুত্ব দিয়ে বাজাতে চান। কিন্তু সেই অনুমতি কর্তৃপক্ষ দেন না। বরং প্লে-‌লিস্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ফিল্মের গান। কারণ, নিজেদের ফিল্মের গান বাজানোর শর্তে আগে থেকেই ‘স্লট’ কিনে রেখেছে প্রোডাকশন হাউসগুলো। ফলে ব্যান্ডের জন্য সময় নেই।

কলকাতার এক নামজাদা রেডিও জকি বলছিলেন, ‘গানও এখন অনেকটাই বাজারের আর পাঁচটা পণ্যের মতোই। বাজারে নতুন পণ্য আনার আগে তার বিজ্ঞাপন এবং মার্কেটিংয়ের ওপরে জোর দেওয়া হয়। গানের মার্কেটিংটা হয় এফ এম স্টেশনে বারবার বাজিয়ে সেটাকে সুপরিচিত করে তোলার মাধ্যমে। মুম্বইয়ের গানের বাজারে এই ফর্মুলা অনেক আগেই প্রয়োগ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ভাবে সেটা সফলও হয়েছে। শ্রোতারা কোন গান শুনবেন, অর্থের জোরে সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন অর্থবান প্রোডিউসাররা। ফলে তাঁদের প্রযোজনা করা ফিল্মের গানই বারবার বাজছে রেডিও স্টেশনে। এবার বোধহয় কলকাতার পালা।

আস্তে আস্তে কলকাতার রেডিও স্টেশনগুলোও ফিল্মের প্রোডিউসারদের হাতের পুতুল হয়ে যাবে। তখন ইচ্ছে না থাকলেও আমাদের বাংলা ব্যান্ড বা কবীর সুমনের গান না বাজিয়ে, যতই বলো আমায় বোকা ভোলা, কাল হবি তুই আমার কোকাকোলা— জাতীয় গান বাজাতে হবে।’ ‌একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, কলকাতায় একটা রেডিও স্টেশন (রেড এফ এম) ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ হিন্দি গান বাজাতে শুরু করেছে। ১০০ শতাংশ হিন্দি গান— অর্থাৎ কলকাতার বুকে ব্যবসা করতে নেমেও একটিও বাংলা গান প্লে-‌লিস্টে না রাখার সিদ্ধান্ত!‌

বাংলা গানকে ব্রাত্য করে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা কতটা সমর্থনযোগ্য, সে বিচার শ্রোতারাই করবেন। তবে মজার তথ্য হচ্ছে, এই স্টেশনগুলোই যখন স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করতে একটি লাইভ শো-‌র আয়োজন করে, তখন ডাক পড়ে সেই প্লে-‌লিস্টে ব্রাত্য থাকা বাংলা ব্যান্ডগুলোরই। তা হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? দাঁড়াল এই যে, ফসিলস, ক্যাকটাস, চন্দ্রবিন্দুদের গান অনুষ্ঠানে বাজানো যায় না। কিন্তু তাদের আয়োজন করা লাইভ–শো সুপারহিট করতে বাংলা ব্যান্ডেরই শরণাপন্ন হতে হয়। এরপরেও যখন কোনও এফ এম চ্যানেলের প্রতিনিধি বলে দেন, ‘বাংলা ব্যান্ড জনপ্রিয়তা হারিয়েছে’, তখন বিষয়টা ‘ধাঁধার চেয়েও জটিল’ বলেই মনে হয়। স্টেজ শো-‌তে আছি কিন্তু প্লে-‌লিস্টে নেই!‌ বাংলা ব্যান্ড যদি জনপ্রিয়তাই হারিয়ে থাকে, তা হলে লোক টানতে নিজেদের আয়োজন করা শো-‌তে বাংলা ব্যান্ডকে ডাকা কেন? তাদের দিয়েই সেই শো-‌র থিম সং বানানো কেন? এই রহস্যের সমাধান করবে কে?

আসলে গোটা ভারতেই গানবাজনার বাজারটা পাল্টে গিয়েছে। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ব্যান্ড এবং সোলো অ্যালবামের জগতেও ছবিটা একই রকম। মিউজিকের গতিবিধিটাও ফিল্ম প্রোডিউসাররাই ঠিক করে দিচ্ছেন। টাকার লড়াইয়ে ওই প্রোডিউসারদের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা প্রায় কোনও ব্যান্ড বা সোলো গায়কেরই নেই। কয়েকদিন আগেই মুখ খুলেছেন হিন্দি ব্যান্ড ‘ইউফোরিয়া’-র লিড ভোকালিস্ট পলাশ সেন। ‘ধুম’, ‘মায়েরি’, ‘অব না যা’-র মতো একাধিক সুপারহিট গান উপহার দেওয়া গায়ক কিছুদিন আগেই ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে মুম্বইয়ের বাজারে ফিল্ম মিউজিকের দাপটে কীভাবে ব্যান্ডগুলোকে কোণঠাসা করে রেখে দেওয়া হয়েছে, সেটা নিয়ে খুল্লামখুল্লা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। কলকাতার ব্যান্ডগুলোও পলাশের সঙ্গে একমত। তারাও বলছে, মুম্বই হোক বা কলকাতা— অর্থশক্তির কাছে তাঁদের হার মানতে হচ্ছে।

চ্যানেল এবং এফ এম স্টেশনগুলোকে ব্যান্ডের গান না চালানো নিয়ে প্রশ্ন করলে, যে জবাবটা তারা দেয়, সেটা হল ব্যান্ডের গান চিৎকার, চেঁচামেচিতে ভরা। সত্যিই কি তাই? উদাহরণ হিসেবে টানা যাক উগ্রতার ‘অভিযোগে’ সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত ফসিল্‌সের নাম। ‘চক্রব্যূহ’-র মতো কড়াপাকের গান রয়েছে ফসিল্‌সের ঝুলিতে। আজ থেকে বছর দশেক আগেও কিন্তু সেগুলো এফ এম-‌এর প্লে লিস্টে নিয়মিত বাজত। লোকে তো শুনতও।

সেই ফসিল্‌সের হাত ধরেই কিন্তু বাংলা ব্যান্ডে ‘মহাকাশ’-এর মতো গানও এসেছে। যা চরম ব্যাতিক্রমী একটি কম্পোজিশন। মজা হচ্ছে, ফসিলসের এবং অন্য ব্যান্ডগুলোর মূলধারার উগ্র গান যেভাবে পৌঁছেছে, নতুন এবং ভিন্নধারার গান কিন্তু পৌঁছয়নি। বলা ভাল পৌঁছে দেওয়া হয়নি। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন এফ এম এবং চ্যানেল নির্ভর শ্রোতারাই। কারণ শ্রোতাদের কাছে নতুন গান পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্বটা এখনও মূলত রেডিও স্টেশনই করে। কজন আর মিউজিক চ্যানেল খুলে সার্ফ করেন আগের মতো। এম টিভি, ভি টিভিদের জমানা যে এখন অতীত।

বাংলা ফিল্মের রমরমার বাজারে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ‘হিট’ গায়ক-‌সঙ্গীত পরিচালক অনুপম রায়। তাঁর ফিল্মের গানগুলো যে সুপারহিট সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পাশাপাশি এটাও প্রশ্ন, অনুপমের নন-‌ফিল্ম গানগুলো কি ততটা প্রচার পেয়েছে?’ অনুপম ভাল গান বানাচ্ছেন না এমন তো নয়। তা হলে কোন ম্যাজিকে অনুপমের ফিল্মের গানগুলো লোকের মুখে মুখে ঘুরছে, অন্যদিকে ততটা হিট নয় তাঁর বেসিক অ্যালবামের গানগুলো?’ তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, হয়ত গুণগত মানের বিচারে ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’— এর মতো ফিল্মি গানের তুলনায় ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ অ্যালবামের ‘রাতপোশাক’-এর মান খারাপ। তা হলে প্রশ্ন হচ্ছে, কেন লাইভ শো-‌তে অনুপম ‘রাতপোশাক’ গাইতে শুরু করলে হাততালিতে ফেটে পড়ে অডিটোরিয়াম? ‌

বাংলায় সর্বাধিক জনপ্রিয় মিউজিক চ্যানেল সঙ্গীত বাংলা পরিচিতি পেয়েছিল বাংলা ব্যান্ডের হাত ধরেই। ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে ‘ব্যান্ড-‌এ-‌মাতরম্‌’ এবং ‘ব্যান্ড-‌এ-‌মাতরম্‌ ২’ নামে ওই ‘ব্যান্ড ট্যালেন্ট হান্ট’ শো-‌তে অংশ নিয়েছিল প্রায় দু’শোরও বেশি ব্যান্ড। সেখান থেকেই উঠে এসেছিল ঈশান, পৃথিবী, মিসিং লিঙ্কের মতো শক্তিশালী ব্যান্ড। সুপারহিট হওয়া সত্ত্বেও কেন তৃতীয় বছরে সেই শো বন্ধ হয়ে গেল, সেটা বলতে পারেন না কেউই।

যে সদ্যোজাত চ্যানেল সেই ‘ব্যান্ড-‌এ-‌মাতরম্‌’–কে হাতিয়ার করে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেল, সেখানে রমরমিয়ে বাজে বিশেষ একটি প্রোডাকশন হাউসের ফিল্মের গান। কট্টর ব্যান্ডভক্তদের মতে, এটা স্রেফ বেইমানি। তাঁরা বলছেন, ‘যে ঘরানার গানবাজনাকে হাতিয়ার করে ওই চ্যানেলগুলো বিখ্যাত হল, আজ সেই ব্যান্ড মিউজিককেই ঝেড়ে ফেলেছে তারা।’

আর বাংলার জনপ্রিয়তম ব্যান্ড ফসিল্‌স কী বলছে? রূপম ইসলাম কয়েকদিন আগেই আক্ষেপ, ‘নতুন শিল্পীদের উঠে আসার রাস্তা ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রায় কোনও প্ল্যাটফর্মই নেই। কেউ যদি কপালগুণে কোনও পরিচালকের নজরে পড়ে যায় তা হলেই শুধু নতুন শিল্পীর উঠে আসার জায়গা আছে।’ রূপম বলছিলেন, ‘রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলের স্লট পয়সা দিয়ে কিনে নেওয়া হচ্ছে। কলকাতার বাজারে এক বা দু’জন ব্যক্তি সেই স্লটগুলো কিনে নেন।’