দীঘা ও মন্দারমণি ভ্রমণ

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ব্রাইটন অফ দি ইস্ট-দীঘা বীচ। দিঘা আজকের নয় আবিস্কার ওয়ারেন হেস্টিংসের। ১৭৮০ বেঙ্গল গেজেটে বীরকুল উল্লেখিত দীঘায় নগর গড়ার উল্লেখ পাওয়া যায় ১৮২৩ নবরুপে আবিষ্কার করেন পথহারা এক ইংরেজ দীঘা বীচের। তবে অতীত বিনষ্ট হলেও অবস্থান ছিল তার সাগরবেলা থেকে ৮ কিমি. অরণ্য বন্দরে। আর ১৯৪৭ স্বাধীনাত্তোর কালে বালিয়াড়িতে বৃক্ষ রোপন করে গড়ে ওঠে আজকের দীঘা ড. বিধানচন্দ্র রায়ের হাতে।

যাত্রী চাহিদা মেটাতে নবরুপে প্রসার পাচ্ছে ওঢ়িশা সীমান্তবর্তী ৩কিমি. জুড়ে দীগা নগরী-নাম তার নিউ দিঘা। নতুনের আগমনের ভিড়ে টইটুম্বুর পুরাতন অর্থাৎ ওল্ড দীঘা আজ চটকহীন। খড়গপুরের দুরত্ব ১২৩, কন্টাই ৩১ কিমি. দীঘা থেকে। দীঘার সমুদ্র আজ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সপ্তাহান্তিক ছুটি কাটাবার মনোরম পরিবেশ। ২০০৮ এ ভারতের পূর্ব উপকূলের শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্রের শিরোপাও পেয়েছে দীঘা। এর শান্ত সমাহিত রুপটি ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠেছে। সমুদ্র এগিয়ে এসেছে-গ্রাস করেছে নগরজীবন।

বড় বড় পাথরখন্ডে রোধ করা হয়ছে সামদ্রিক গ্রাস। তবে আজ ক্ষত বিক্ষত বীচে প্রলেপ পড়ে আছে কংক্রিটের। বীচের হুটোপটিও তাই কিছুটা বিঘ্নিত । তারই ফাক ফোকরে ঢেউয়ের তালে তালে দেহটা নাচিয়ে তুলে অতি সহজেই উপভোগ করা যায় সমুদ্র স্নান । বাজারের নিচু দিয়ে মাইলখানেক জুড়ে চলে স্নানের হুটোপুটি। জোয়ারের জলে স্নাত এই সাগরবেলা ভেসে ওঠে ভাটায়। তবে নতুন দীঘার বীচটি যথেষ্ট প্রসস্ত-বালির আধিক্য সমতল ও একসাথে। নতুন করে মাথা তুলেছে ঝাউবীথিকা আজ দীঘা বীচে। সঝের বেলায় বিজলী আলোয় সমুদ্রে চিকমিকানী হাসি পর্যটকদের ঘর থেকে টেনে আনে বেলাভূমিতে।

এমনকি বিদায়ী সূর্যের সোণালী দীপ্তি পশ্চিম আধাকে শ্বেতশুভ্র আর বাকি আধা সমুদ্রকে নিলাভ করে তোলে। বর্ণময় আলো- আধারীর ঐ বর্ণলী দীঘার এক অনন্য প্রাপ্তি। তেমনি আকর্ষণ দীঘার সূর্যোদয়ের অসীম নীলাকাশ আর সীমাহীন বারিধি-তারই পাড়ে লেক হয়েছে কানন গড়ে-সীমান্তের পথে কৃত্তিমতা দোষে দুষ্ট অমরাবতি। বোডিং-এরও ব্যবস্থা মেলে লেকের জলে। অমরাবতির কাজলা দীঘিতে দুর্বর সংগ্রহের সর্প উদ্যান গড়েছেন সর্পবিশারদ দীপক মিত্র। ফেব্রুয়ারি ৪, ২০০৩ এ দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম মেরিন একোয়ারিয়াম নতুন আর পুরাতনের মাঝে হাসপাতালের বিপরিতে।

২৩ টি বিশাল কেশে সামদ্রিক প্রানী ও জীব জগৎকে দেখে নেওয়া যায় ১১-১৫ টায়। দীঘার আর এক আকর্ষণ ন্যাশনাল কাউন্সিল অব সাইন্স মিউজিয়ামের দীঘা বিজ্ঞান কেন্দ্র। নানান মডেলের কারিকুরিতে শিক্ষামূলক বিজ্ঞানকে মজাদার করে তোলা হয়েছে। ফান গ্লাস এ আপনিও মিলিযে নিন আপনার উচ্চতা ও কঙ্কালের সাঙ্গে সাইকেল রেস, ইগলুর মত ঘরে বসে তারামগুল দর্শন, আরও কত কি! চারপাশ ঘিরে সায়েন্সপার্কটিও মজায় ভরা। আর হয়েছে জুরাসিক পার্ক একই চত্বরে। কালিপুজা ও হলি ছাড়া ৩৬৩ দিন ৮- ২০ পর্যন্ত খোলা।

আবার দীঘাকে ঘিরে পর্যটক, বিশেষত বিদেশী পর্যকদের একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে এয়ার ট্রিপ, রোপওয়ে, জলক্রিড়া, পাচতারা হোটেল, দাদন পাত্রবাড়-জলদা-চাঁদপুরে বিলাসবহুল রিসোর্ট অচিরেই রুপ পেতে চলেছে। শংকরপুর দীঘা থেকে ১৩ কিমি. দূরে নতুন গড়ে তোলা মৎস প্রকল্পটিও বেড়িয়ে নেওয়া যায় বাসে। লোকাল বাস যাচ্ছে দীঘা-কলকাতা সড়কে ৮ কিমি. দূরের রামনগর পেরিয়ে আরও ১’শ কিমি দূরের ১৪ মাইল হয়ে। ১৪ মাইল থেকে ভ্যান রিক্সা যাচ্ছে চম্পাখালের বুক বেয়ে ৪ কিমি. দূরের শংকরপুরে। কলকাতা-দীঘা ১০.৩০ টার বাসটি সংকরপুর হয়ে দীঘা যাচ্ছে। আর ৯ টায় দীঘা ছেড়ে শংকরপুর হয়ে কলকাতায় আসছে সিএসটিসির একমাত্র বাস।

এ ছাড়াও সিএসটিসির বাস যাচ্ছে ৬ টা, ৭.৩০টা ও ১৬ টায় দীঘা ছেড়ে আধা ঘণ্টায় শংকরপুর পৌছে আধাঘণ্টার বিশ্রাম নিয়ে বাস ফেরে শংকরপুর থেকে দীঘায়। দীঘা থেকে শ’তিনেক টাকায় ট্যাক্সিতেও বেড়িয়ে ফেরা যায় শংকরপুর। ভ্যান স্টান্ডের ডাইনে শংকরপুর ফিশিং হারবার প্রজেক্ট। সিধে যেতে সাগরবেলা। দুয়ের মাঝে ব্যবধান ১ কিমি। দীঘা-শংকরপুর রোপওয়েও গড়তে চলছে। ঝাউ ও কেয়া ছাওয়া সবুজের বনানী ও মাইলের পর মাইল জুড়ে ঝাউ শুধু ঝাউ। তেমনি পরিত্যক্ত জাহাজ, রুপলী বালিয়াড়ি ধু ধু করছে চারপাশ।

সামনে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশের নীলে গোলা বঙ্গোবসাগরের সুনীল জলরাশি। নীরালা সাগর বেলায় ভারতের বৃহত্তম যেটি রয়েছে মৎস প্রকল্পের শংকরপুরে। ট্রলার ও জেলে নৌকার আনাগোনা কর্মযজ্ঞ চলছে মাছ নিয়ে তেমনি সাথী খোজে হারমিট ক্র্যাব অর্থাৎ সন্নাসী কাকড়ারা সারা বীচে। প্রশাস্ত বীচ, মাটি শক্ত; ঘন সন্নিবিষ্ট ঝাউ বিথীকা-উচু উচু বালিয়াড়ি। টাটা শিল্প সংস্থার তাজ হোটেল গ্রুপ দিয়ে চলেছে ট্যুরিস্ট ভিলেজ শংকরপুরে। আর গড়তে চলেছে সিংগাপুরের এক সংস্থা, রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগম ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের উদ্যোগে ১২০ কোটি টাকা ব্যায়ে ১২ কিমি. ব্যাপ্ত পর্যটন নগরী সংকরপুরে।

পলি ব্যাগ ফ্রি-জোনদিঘা ও শংকরপুর। কলকাতার ধর্মতলা, বিরাটি, উল্টাডাঙ্গা থেকে নিয়মিত বাস রয়েছে। ট্রেনেও যাওয়া যায় হাওড়া থেকে দীঘা। তাম্রলিপ্ত সুঃ ফাস্ট ৬.৪০ ছেড়ে পৌছে ১০.৫কান্ডারী এক্সপ্রেস ২.১০ ছেড়ে পৌছায় ৫.৫ এ দুরন্ত এক্সপ্রেস সকাল ১১.১৫য় ছেড়ে পৌছে ২.১৫। থাকার জন্য ২০০-৫০০০এর অধিক মূল্যমানের হোটেল রুম পাওয়া যায়। খাওযার জন্য রয়েছে সমুদ্রের তাজা মাছসহ সবকিছই।সময় সূচি বর্তমান কালের দেখে নেবেন l

মন্দারমণি যায়নি এমন বাঙালী আজ আর পাওয়া মুশকিল । ভ্রমনপ্রেমীদের কাছে মন্দারমণি আজ এক দারুন উইক এন্ড স্পট। একদম সি বিচের উপর একের পর এক রিসর্ট। ঘর বা বারান্দাই বসে সারাদিন সমুদ্রের ঢেউ গোনার খেলা, নিরালা বিচে আপনজনের সাথে বহুদূর হেঁটে যাওয়া এক কথাই মন্দারমণি অসাধারণ।



কখন যাবেন :-

সারা বছর যখনই চান যেতে পারেন মন্দারমণি। বৃষ্টির দিনগুলোই তো মন্দারমণি অসাধারন। শীতের মরসুমেও বেশ ভিড়।

যাবেন কিভাবে :-

গাড়িতে বা বাসে দীঘার পথে কাঁথির পর চাউলখোলা, এখান থেকে বাঁদিকের রাস্তাটি ধরে সোজা মন্দারমণি। বাসে এলে চাউলখোলা থেকে গাড়ি, ট্রেকার বা মোটরভ্যান পাওয়া যায়। ট্রেনে এলে কাঁথি থেকে গাড়িতে মন্দারমণি চলে আসুন।

এবার মাথা গোঁজার ঠা৺ই :-

এসে তো পড়লেন, এবার একটা থাকার জায়গা তো চাই। পকেটের জোর বুঝে ঢুকে পড়ুন কোন এক রিসর্ট বা হোটেলে। আপনার পেট পূজোর দায়িত্বটাও তারাই নেবে। এবার মন খুলে কাটান অন্তত দুটো রাত। মন্দারমণি আপনাকে উজাড় করে দেবে, চেটে-পুটে নেবার দায়িত্ব কিন্ত আপনার।