দমদম বিমানবন্দর

দমদম এয়ারপোর্ট এর ইতিহাস এর শুরু ১৯২০ এর দশক থেকে। তখন অবশ্য সারা পৃথিবীতেই বিমান চলাচলের প্রথম যুগ । দমদম এ ১৯২০ এর দশক থেকে প্লেন ওঠা নামা শুরু হয়ে গিয়েছিল । অবশ্য দমদম পাকা পাকি বিমানবন্দর হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে আরো পরে। প্রথমের ১৯২০ এর দশকে দমদম ছিল প্রায় একটা মাঠ। সেই সময় রাডার দমদম এ এসেছিল বলে মনে হই না।

আকাশ থেকে দমদম এর এয়ার স্ট্রিপ দেখা বেশ কষ্টকর আর সেই অচেনা মাঠের ভিতর নামা টাও বিপদ্জন্নক ছিল। তাই কলকাতাতে নামতে আসা বিমান বেশির বেশিরভাগ বিমান দম দম এর বদলে ময়দানে নামার চেস্টা করতো। আকাশ থেকে ময়দান সহজে দেখাও যেত তাই ময়দানে নামা সহজও ছিল। নিচের ছবিটা ১৯২৫ সালের ময়দানে নামা সেই থেকে শুরু হলো কলকাতা তে বিমান চলাচলের ইতিহাস। এবার ১৯২৯ এর ঘটনা। কলকাতার আকাশে প্লেন দেখা গেছে সেটাও একটা খবর।

ইম্পেরিয়াল এয়ারওয়েস আজকের ব্রিটিশ এয়ারওয়েস ১ জুলাই ১৯৩৩ এ লন্ডন কলকাতা রুট সুরু করে দিল। রুট তা ছিল এই রকম - করাচি, যোধপুর, দিল্লি, কানপুর, এলাহাবাদ, কলকাতা। সেই বছরের ৯ ডিসেম্বর রুট চলে এলো সিঙ্গাপুর পর্যন্ত। তবে এই সব গুলি ছিল ডাক এর জন্য।

২য় বিশ্বযুদ্ধ এর সময়। দমদম এর ইতিহাস আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এক নির্লিপ্ত যোগ। যুদ্ধ এর সময় দমদম এর গুরুত্ব খুব বেড়ে গিয়েছিল। তখন সুদুর প্রাচ্য এর লড়াই জোর কদমে চলছে। সিঙ্গাপুর জাপানীদের হাতে চলে গিয়েছে। জাপানী সৈন্য চলে এসেছে ভারতের পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত। পুরো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এর পূর্ব দিকের শেষ বড় শহর হলো কলকাতা। পূর্বদিকে মিলিটারি সাপ্লাই লাইন এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটো কেন্দ্র ছিল কলকাতার বন্দর আর দমদম বিমানবন্দর ।

২য় বিশ্বযুদ্ধ এর সময় জাপানি প্লেন আক্রমণ এর ভয় ছিল। রেড রোড হয়ে গিয়েছিল কিছু দিনের রানওয়ে। সেই রেড রোড রানওয়ে যখন আবার সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো তখন সেই খবর কিন্তু পৃথিবীর অনেক নিউসপেপারই ছাপিয়েছিল। সত্যিই তো। এটা একটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার খবর। যুদ্ধ এর সময় তার গুরুত্ব কম ছিল না। জাপানি হানার ফলে দমদম এর গুরুত্ব আরো বেড়ে গেল। পাল্টা হানার মূল কেন্দ্র হলো দমদম। আমেরিকার বিখ্যাত ১২ এয়ার ফোর্স এর ঘাটি হলো খড়গপুর। আরো ৩-৪ নতুন এয়ার স্ট্রিপ খোলা হলো। মিলিটারি অভিযানে দমদম এর উপরে নির্ভরতা কমল। তবে যুদ্ধ ও তো শেষ হয়ে আসছিল।



যুদ্ধ এক সময় শেষ হলো। যুদ্ধ শেষ হবার পরেও দমদম এর দরকার শেষ হোলো না । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধতে যদি ভালো কিছু হয়ে থাকে তা হলো বিমান ব্যবস্থার উন্নতি। বিশ্বযুদ্ধ শেষ এর পরেই জোয়ার এলো যাত্রীবাহী বিমান পরিবহণের। দমদম আস্তে আস্তে হয়ে উঠলো যাত্রীবাহী বিমান পরিবহণের গুরুত্ত্বপূর্ণ একটা বিমানবন্দর। প্যান এম, ব্রিটিশ এয়ার আরো কত আন্তর্জাতিক বিমান উড়ত তখন দমদম থেকে।

ইউরোপ আর পূর্ব এশিয়া এর ভিতর যোগাযোগ পথের ওপরে থাকার জন্য দমদমে প্লেন আসার বিরাম হয়নি। প্লেনকে তেল ভরতে আজকের থেকে অনেক বেশি। বিমানের গতিও ছিল কম। তা ছাড়া বিমান খুব বেশি উচু দিয়ে যেতে পারত না। তাই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্যাংকক, অস্ট্রেলিয়া এই সব জায়গা থেকে ইউরোপ এ যেতে গেলে কলকাতাতে নামার দরকার হত। তা ছাড়া কলকাতা তখন ছিল ভারত এর প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র। মোটা টাকার টিকিট কেটে যাবার মতো লোক ছিল। পরে পরিস্থিতি পাল্টে গেল।