মনোময় মহীশূর

কর্নাটকের এই সাংস্কৃতিক রাজধানীতে দেখার জিনিসের কোনও অভাব নেই। কয়েকটা দিন অনায়াসে কাটিয়ে আসতে পারেন। শহর ঘোরার একটা আলাদা আনন্দ থাকে। বিশেষ করে পায়ে হেঁটে ঘুরতে পারলে তো কথাই নেই। একটা শহর গড়ে ওঠার পিছনে থাকে কতই না জানা অজানা ইতিহাস। কর্নাটকের এই সাংস্কৃতিক রাজধানীতে দেখার জিনিসের কোনও অভাব নেই।

মহীশূর শহরটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। শহর সফরের তালিকায় প্রথমেই রাখুন মাইসোর প্যালেস। বিশাল এই প্যালেসটি বাইরে থেকে দেখেই মুগ্ধ হতে হয়। তবে বলে রাখি ছবি তুলতে চাইলে প্যালেসের বাইরে থেকেই যত খুশি ছবি তুলে নিন, কারণ প্যালেসের ভিতরে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। ভিতরে ঢুকতেই অসাধারণ আর্কিটেকচার এবং রয়্যাল অ্যান্টিক কালেকশন দেখে মন ভরে ওঠে। দেখুন অপূর্ব কারুকার্য করা গোলাপ কাঠের দরজা।

দরজাও যে এত সুন্দর হতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হত না। সিলিংয়ের দিকে তাকালে অবাক হতে হয়। সম্পূর্ণ সিলিং আইভরির কাজ করা। এছাড়া রয়েছে মার্বেলর অপূর্ব সব স্ট্যাচু আর অসাধারণ পেন্টিংয়ের কালেকশন। ন্যশনাল হলিডেতে সন্ধেবেলা এই প্যালেস সেজে ওঠে এক লক্ষ আলোক মালায়। মাইসোর প্যালেস তখন এক অন্য রূপে সেজে ওঠে। পরবর্তী গন্তব্য বৃন্দাবন গার্ডেন। কাবেরী নদীর উপরে কৃষ্ণাজা সাগর ড্যামের ঠিক নীচেই রয়েছে এই অপূর্ব বাগান। প্রতিদিন সন্ধেবেলা এখানে মিউজিকাল ফাউন্টেন শো অনুষ্ঠিত হয়।

এবার আসুন জগমোহন প্রাসাদে জয়চামরাজেন্দ্র আর্ট গ্যালারিতে। বহু বিখ্যাত শিল্পীর আঁকা ছবি রয়েছে এই গ্যালারিতে। দেখতে পাবেন রাজা রবি বর্মার আঁকা ছবিও। হাতে সময় থাকলে দেখে নিন সেন্ট ফিলোমেনার চার্চটিকে। নিও গথিক আর্কিটেকচারাল স্টাইলে তৈরি এই চার্চটি খুবই সুন্দর।

এবার চলুন প্রায় ১০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চামুণ্ডী পাহাড়। এখান থেকে গোটা শহরের একটা প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়। মাইসোর শহরের প্রায় সব জায়গা থেকেই এই সবুজে ঢাকা এই পাহাড়ি টিলাটি দেখা যায়। পাহাড়ের গা বেয়ে গাড়ি আমাদের নিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে চামুন্ডির উদ্দেশ্যে। টিলায় আর এক আকর্ষণ চামুণ্ডেশ্বরীর বিখ্যাত মন্দির। কথিত, দেবী চামুণ্ডেশিবরী এই পাহাড়েই মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। মন্দিরচত্বরে সারাবছরই দেশি বিদেশি পর্যটকের ভিড় থাকে। মন্দিরে ঢোকার মুখে রয়েছে সারি দেওয়া ফুল, ধূপকাঠি, প্রসাদের দোকান। মন্দিরের অন্য প্রান্তে দেখা মিলবে কষ্ঠি পাথরের নন্দী ষাঁড়ের মন্দির।

এরপর আসুন শ্রীরঙ্গপত্তনম। এখানেই হারদার আলি এবং টিপু সুলতান রাজত্ব করেছিলেন। ঘুরে দেখুন শ্রীরঙ্গনাথস্বামী মন্দির, বন্দিনিবাস, জামা মসজিদ, দরিয়া দৌলত প্রসাদ এবং হায়দার আলি ও টিপু সুলতানের সমাধি। ঘুরতে ঘুরতে মনে হয় যেন হারিয়ে যাচ্ছি ইতিহাসের পাতায়।

শ্রীরঙ্গপত্তনম থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরেই রঙ্গনাথিট্টু পাখিরালয়। এটি প্রকৃতপক্ষে কাবেরী নদীর মিয়েন্ডারে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ছটি দ্বীপের সমষ্টি। ধীর লয়ে বয়ে চলা কাবেরী, সারি সারি গাছের সারির মাঝে পাখির কলতান, এখানে কয়েকঘণ্টা সময় কাটাতে দিব্যি লাগে। রঙ্গনাথিট্টুতে প্রায় হাজার রকমের পাখির প্রজাতি রয়েছে। সারাবছরই এখানে নানারকম পাখির দেখা মিললেও শীতকালে সাইবেরিয়া, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রলিয়া থেকে বহু পাখি এখানে এসে ভিড় জমায়। বোটে করে রঙ্গনাথিট্টু সফর করতে পারেন। পাখির পাশাপাশি দেখা মিলবে নানারকম মাছ এমনকী কুমিরের।



কীভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে হাওড়া-মাইসোর স্পেশাল ট্রেন রয়েছে। এছাড়া হাওড়া যশোবন্তপুর দুরন্ত (শুক্রবার), গুয়াহাটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস ইত্যাদি ট্রেনে বেঙ্গালুরু আসা যায়। বেঙ্গালুরু থেকে মাইসোর পর্যন্ত প্রচুর বাস এবং ট্রেন রয়েছে। তাছাড়া গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন। এছাড়া কলকাতা থেকে ইন্ডিগো, স্পাইস জেটে সরাসরি মাইসোর আসা যাবে।

কী কিনবেন

মাইসোরের চন্দনকাঠের তৈরি জিনিস খুবই বিখ্যাত। তবে সরকারি দোকান থেকেই কিনুন। না হলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিনতে পারেন সাউথ ইন্ডিয়ান সিল্ক শাড়ি।