আই. টি. সি.

ইংরেজের শাসনের অধীনে থেকে ও ঔপনিবেশিক সুবিধা নিয়ে ইম্পেরিয়াল টোবাকো কোম্পানি তামাক চাষ করবার জন্য ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হেডকোয়ার্টার হয় পশ্চিম বাংলার কলকাতা। এটি একটি কনগ্লোমেরেট। অর্থাৎ একই কোম্পানির অধীনে এনে অধিক মুনাফার সুবিধা পাবার জন্য দুই তিনটি করপোরেশান – যারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবাসা করে – তাদের একজায়গায় একত্রিত করে ব্যবসা।

হোটেল, নানান ধরণের পণ্য উৎপাদন, পেপারবোর্ড, প্যাকেজিং, ইনফরমেশান টেকনলজি এবং সর্বোপরি তামাক চাষসহ নানান এগ্রোবিজিনেসে এই মাল্টি-ইন্ড্রাস্ট্রি কনগ্লোমেরেট জড়িত। প্রধান ব্যবসা তামাক। নামেও যেমন তেমনি কাজেও তেমন তামাক চাষের সাম্রাজ্য কায়েম ইম্পেরিয়াল টোবাকো কম্পানি।

উনিশশ সত্তর সালে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করা হয়: ইন্ডিয়ান টোবাকো কম্পানি লিমিটেড। আবার ১৯৭৪ সালে শুধু আই. টি. সি. লিমিটেড। নামের মাঝখানের ফুলস্টপ তুলে দেওয়া হয় ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। দুই হাজার বারো-তেরো অর্থ বছরে আইটিসির বাৎসরিক আয় দাঁড়ায় ৮.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।



ভারতের সিগারেট ব্যবসার ৮১ ভাগ আইটিসি লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে। তাদের প্রধান প্রধান ব্রান্ডগুলো খুবই পরিচিত। দিল্লীতে ১৯৭১ সালে আইটিসি সঙ্গীত সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ধ্রুপদী হিন্দুস্তানী সঙ্গীতের তারানা মেশানো শুরু করে। উচ্চমার্গীয় সঙ্গীত চর্চার সঙ্গে ব্যবসা ও নিজেদের ভাবমূর্তি তৈয়ারির এই কৌশল কর্পোরেট জগতে প্রশংসিত। তামাক চাষ ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে পৃথিবী ব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে ওঠার কারণে নিজেদের ভাবমূর্তি অক্ষূন্ন রাখার কর্পোরেট প্রয়াস আরও তীব্র হয়।

উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উসিলায় নিজেদের বাজারি প্রচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার জন্য ১৯৭৭ সালে আইটিসি সঙ্গীত রিসার্চ একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি ট্রাস্ট। এই ট্রাস্ট তামাক কোম্পানি হিসাবে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখবার একটি প্রতিষ্ঠান।