রাজভবন

স্বাধীনতা লাভের পর কলকাতার বুকে ১৮০৩ সালে নির্মিত প্রাসাদতম বাড়িটি এখনকার রাজভবন নামে পরিচিত। এখন যেটি রাজ্যপালের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কলকাতার স্বর্ণযুগের প্রাক্কালে এই প্রাসাদতম বাড়িটিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রাসাদ নামে ডাকা হত।

উল্লেখ্য, ১৭৯৯ সালের আগে রাজভবনকে 'বাকিংহাম বাড়ি' বলা হত। ভারতের তত্‍কালীন গর্ভনর লর্ড ওয়েলসলি ব্রিটিশ স্বার্থের জন্য প্রাসাদটি নিয়ে নেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই বাড়িটি থেকেই ব্রিটিশরা গোটা দেশজুড়ে শাসন চালানো সম্ভব হবে। ঠিক চার বছর পরই প্রাসাদটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়। সেই সময় বাড়িটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ৬৩,২৯১ পাউন্ড। আজকের দিনের যার মূল্য ৩.৮ মিলিয়ন পাউন্ড। তবে প্রাসাদের মতো বাড়িটি বানানোর পরই ব্রিটিশ তহবিল থেকে অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ১৮০৫ সালে ব্রিটিশ শাসক ওয়েলসলিকে দেশে চলে যেতে হয়।



চুরাশি হাজার স্কোয়ার ফুট জায়গা নিয়ে অবস্থিত বাড়িটির পরিকল্পনায় ছিলেন ইংলন্ড থেকে আসা ক্যাপ্টেন চার্লস ওয়াট। নিওক্ল্যাসিক্যাল স্টাইলে তৈরি হয় রাজভবন। ১৮৬০ সালে ভাইসরয় লর্ড এলগিন রাজভবনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। রাজভবনে যোগ হয় ধাতব বেশ কিছু স্থপতি। তারপরে লর্ড কার্জন রাজভবনে বিদ্যুত্‍ ও লিফটের ব্যবস্থা করেন। এই লিফটি 'বার্ড কেজ লিফট' নামে পরিচিত। এখনও যা রাজভবনে অবস্থিত।

রাজভবনের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম দিক মিলিয়ে মোট ৬টি রাজকীয় গেট রয়েছে।ছটি গেটের মধ্যে ৪ টি গেটের ফলকের মাথায় সিংহের প্রতিমূর্তি হয়েছে। ৪ টি গেট এমন ভাবে তৈরি করে হয়েছে যেখান দিয়ে রাজভবনের বিরাট প্রাসাদের সামনের দিকটি ভালো করে দেখা যায়। রাজভবনের উত্তরের একটি গেটে (যে গেটটি প্রধান গেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়) দিকে চীনা কামান রাখা রয়েছে। কামানটির চারধারে ছটি পিলার দিয়ে ঘেরা আছে। ১৮৪২ সালে চীনের নানকিং থেকে আনা হয়। কামানটির নীচেই মার্বেল পাথরের ফলকে এর উল্লেখ রয়েছে।