সফেদা ফল উপকারিতা

দেশের মানুষের কাছে সফেদা পরিচিত একটি ফল। সফেদা গাছ বহুবর্ষজীবী, চিরসবুজ। খয়েরি রঙের মিষ্টি, রসালো এ ফল চোখে পড়ে মাগুরাসহ দেশের সর্বত্র।
সফেদা গাছ ১০০ ফুটের মতো লম্বা হতে পারে। এই গাছ ঝড়-বাতাসে টিকে থাকতে পারে। এর ছালে দুধের ন্যায় সাদা প্রচুর আঠালো কষ থাকে। পাতা সুন্দর, মাঝারি আকারের, সবুজ ও চকচকে। এগুলো একান্তর, উপবৃত্তাকার বা ডিম্বাকার।

সফেদা ফল বড় উপবৃত্তাকার আকৃতির। এর ব্যাস ৪-৮ সেন্টিমিটার হয়। দেখতে অনেকটা মসৃণ আলুর মতো। এর ভেতরে দুই থেকে পাঁচটি বীজ থাকে। ভেতরের শাঁস হালকা হলুদ থেকে মেটে বাদামি রঙের হয়। বীজ কালো। সফেদা ফলে খুব বেশি কষ থাকে। এটি গাছ থেকে না পাড়লে সহজে পাকে না। পেড়ে ঘরে রেখে দিলে পেকে নরম ও খাওয়ার উপযোগী হয়। নতুন সফেদা গাছে ফল আসতে পাঁচ-আট বছর লাগে। এতে বছরে দুবার ফল আসতে পারে। যদিও গাছে সারা বছর কিছু কিছু ফুল থাকে।



সফেদা খুবই পুষ্টিকর একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম সফেদায় রয়েছে ৮৩ ক্যালরি, ৩.৯ গ্রাম মিনারেল, ৫.৬ গ্রাম ফাইবার, ১৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১৪.৭ গ্রাম ভিটামিন।

সফেদা ফলের রয়েছে ঔষধি গুণ। সফেদায় প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ রয়েছে। নিয়মিত সফেদা খেলে ওরাল ক্যানসার প্রতিরোধ ও দাঁত ভালো থাকে। পাকা সফেদায় পেতে পারেন পটাশিয়াম, কপার, আয়রন, ফোলেট, নিয়ামিন ও পান্টোনিক অ্যাসিড, যা মেটাবলিক ফাংশন ভালো রাখে। ত্বকে বয়সের ছাপ দূর করে। শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে, ফুসফুস ভালো রাখে। সফেদার বীজের নির্যাস কিডনি রোগ সারাতে সাহায্য করে। সফেদা হজমে সাহায্য করে।

সফেদা ফলের চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে কলম পদ্ধতিই সবচেয়ে ভালো। বীজ থেকেও গাছ জন্মানো যেতে পারে। তবে বীজ থেকে সৃষ্ট গাছে ফল আসতে বিলম্ব হয়। সারা বছরই সফেদা গাছে ফল ধরে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায়। বাজারে বেশ ভালো দামে সফেদা বিক্রি হয়।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
sr7themes.eu.org