সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৪

ঘুড়ি উৎসব

পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়। এই দিন বাঙালিরা বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করে খাকে। তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো অন্যতম। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানোব পরে সন্ধ্যায় মশাল জালিয়ে পটকা ফুটিয়ে ফানুস উড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উৎসবের মাধ্যমে সমাপ্তি করা হয়। ঢাকা শহরের প্রান কেন্দ্র পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় এই দিনটিকে ঘিরে ঐতিহ্যময় উৎসবের আয়োজন করা হয়। আমরা পুরান ঢাকা বাসী এই দিন টার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি।

বাংলা পৌষমাসের সংক্রান্তিতে এই উৎসব পালিত হয়। তবে গ্রীষ্মকালে পিঠেপুলি রুচিকর নয় বলে, বর্ষা বা শীতকালেই এই জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত পিঠেপর্বের মধ্যে পৌষ সংক্রান্তির পৌষপার্বণই সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ। এই দিনটি হিন্দু পঞ্জিকায় মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ সংক্রান্তি নামেও পরিচিত।



প্রাচীন হিন্দুরা এই দিনটিতে পিতৃপুরুষ অথবা বাস্তুদেবতার উদ্দেশ্যে তিল কিংবা খেজুড় গুড় দিয়ে তৈরি তিলুয়া এবং নতুন ধান থেকে উৎপন্ন চাল থেকে তৈরি পিঠের অর্ঘ্য প্রদান করতেন। এই কারণে পৌষ সংক্রান্তির অপর নাম তিলুয়া সংক্রান্তি বা পিঠে সংক্রান্তি। এই প্রাচীন উৎসবের একটি রূপ অদ্যাবধি পিঠেপার্বণের আকারে বাঙালি হিন্দু সমাজে প্রচলিত,তবে এই প্রাচীন উৎসব টি পুরান ঢাকা বাসীর মাঝে ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত্‌।

ঘুড়ি উৎসবঃ পৌষ সংক্রান্তির দিন পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় সারাদিনব্যাপি ঘুড়ি উড়ানো হয়। এইদিন ঘুড়ি উড়ানোর জন্য তারা আগে থেকে ঘুড়ি বানিয়ে এবং সুতায় মাঞ্জা দিয়ে প্রস্তুতি নিত, তবে ধীরে ধীরে মাঞ্জা দেয়ার প্রচলন টি হারিয়ে যাচ্ছে। আজ কাল বাস্ত ঢাকা বাসীর সময় স্বল্পতার কারনে মাঞ্জা দেয়ার বদলে রক সূতার আগমন হয়েছে।

ঘুড়ি উৎসব বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। মুঘল আমল থেকে এই উত্সব পালিত হয়ে আসছে। এই উৎসবে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে। পুরোন ঢাকার অধিবাসীদের কাছে এটি অত্যন্ত উৎসবমুখর দিন যা সাধারণত শীতকালে পালিত হয়। এই দিন টি পালনের জন্য দেশ দেশান্তর থেকে মানুষ ছুটে আসে পুরান ঢাকায়। পৌষ সংক্রান্তি সকল বয়সের মানুষের কাছে একটি প্রানের উৎসব হিসেবে পরিচিত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন