পোর্ট ব্লেয়ার

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারত প্রজাতন্ত্রের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির রাজধানী আন্দামানের শহর পোর্ট ব্লেয়ার। ছোট বড় প্রায় ৫৭২টি দ্বীপ নিয়ে এই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। এর মধ্যে মাত্র ৩৬টিতে জনবসতি গড়ে উঠেছে। এক নজরে দেখে নেই আমাদের প্ল্যান টি।

সকাল এর প্রথম ফ্লাইট ধরে আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার শহর এ পৌছানো। তারপর হোটেল এ চেক-ইন করে হালকা একটু ফ্রেস হয়ে আমরা সেলুলার জেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিব। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি পূর্বতন কারাগার। ১৯০৬ সালে এই কারাগারটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বহু বিশিষ্ট আন্দোলনকারী যেমন বটুকেশ্বর দত্ত, উল্লাসকর দত্ত ও বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে এই কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। এখন এই দালানটি জাতীয় স্মৃতি স্মারক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে একমাত্র সেলুলার জেলটিই পোড়ামাটির ইঁটে নির্মিত। প্রতি সন্ধায় সেলুলার জেলের ময়দান স্টেডিয়ামে একটা লাইট এন্ড সাউন্ড শো-এর আয়োজন করা হয় | অপূর্ব আলো এবং সাউন্ড-এর ব্যবহার করে পর্যটকদের মনকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্বাধীনতার প্রাক্কালে |

আজকে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করবো হ্যাবলক দ্বীপ এর উদ্দ্যেশে। খেয়া নৌকা বা ফেরি তে করে আমরা যাবো। হ্যাবলক দ্বীপ এ পৌছানোর পর আমাদের গাইড আমাদের কে নিয়ে যাবে "রাধা নগর" সমূদ্র সৈকতে। বিদেশীরা এই বিচকে বলে স্বর্গরাজ্য | তাই এখানে তাদের ভিড় সবথেকে বেশি | জানতে পারলাম এই বিচটি বিশ্বের বুকে সপ্তম সৌন্দর্যের সমুদ্র সৈকত | ধবধবে সাদা সৈকতের বালি এবং বিশাল সবুজ বনানীতে সম্পূর্ণ হ্যাবলক আবৃত |



এই যাত্রা পথে জাহাজ সমুদ্রের যে অংশ অতিক্রম করে তা একেবারে ঘন নীল | যা না দেখলে বিশ্বাস হয়না | আমরা যে বোর্টে যাবো সে বোটগুলোকে বলা হয় গ্লাসবোট | অর্থাৎ তলদেশ হয় কাঁচের | এতে বোটে বসে থাকা মানুষেরা সমুদ্রের অতল গভীরতার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন | এছাড়া রয়েছে স্কুবা ডাইভিং | ওয়াটার মাস্ক মুখে পড়ে একবুক বাতাস নিয়ে বোট থেকে ঝাঁপ দিতে হবে মাঝ সমুদ্রের অতল গহ্বরে। তারপর আমরা দুপুরের পরে আবার ফিরে আসবো।

আমরা সকাল সকাল নাস্তে সেরে সারাদিন রস দ্বীপ এবং কোরাল দ্বীপ ভ্রমনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়বো। চারিদিক সমুদ্রে ঘেরা এই অঞ্চলটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২০০ মিটার উঁচু | পুরনো বাড়ির ধ্বংসাবশেষ (জাপানি উপনিবেশের প্রাক্কালে তৈরী), গীর্জার বিক্ষিপ্ত ভাঙ্গা অংশ, যুদ্ধের জন্য নির্মিত বাঙ্কার এখানে দেখতে পাওয়া যায় যদিও সবই এখন অবলুপ্তির পথে | চারিপাশে শুধুই নারকেল গাছ এবং গাছগুলির নিচে হাজারে হাজারে নারকেল |

বিশ্বের সাতটি কোরাল আইল্যান্ডের মধ্যে আন্দামান অন্যতম | সেই কোরাল প্রাচীরের অজস্র মণিমুক্তার ওপর দাড়িয়ে মনে হতেই পারে এটি কোনো হিরক রাজার দেশ যেখানে অনন্ত গভীরতায় নির্ভিক মাছের ঝাঁক খেলা করছে | সব থেকে চমৎকার মনে হয় যখন সেই বাহারি রঙের মাছের ঝাঁক আমাদের মাঝে রেখে দুপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় |

আরো থাকবে ফরেস্ট যাদুঘর, সামুন্দ্রিকা (নেভাল মেরিন যাদুঘর)সেখানে সামুদ্রিক প্রাণী, মাছ, প্রবল, ঝিনুক, শংখ, শামুকের যত প্রজাতি হতে পারে সেগুলোর সব নমুনা রাখা আছে, বিজ্ঞ্বান কেন্দ্র, জারোয়াদের ছবি, তাদের ব্যবহৃত পোশাক, কৃত্রিম উপায়ে হাতে তৈরী তাদের নির্মিত বাড়ি ঘর, অস্ত্র, বাজনা, বাসন এরকম সবকিছুরই নমুনা আছে সেখানে। তারপর আমরা চলে যাবো করবাইন কভ সমূদ্র সৈকত এ।

সেখান থেকে বিকালে আমরা চলে আসবো কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ওখানকার স্থানীয় বাজারে। আন্দামান থেকে ফিরতি ফ্লাইটে কলকাতা ফেরত আসা।