শহীদ মিনার

1828 খ্রীষ্টাব্দে নির্মিত অক্টারলোনি স্মৃতিস্তম্ভটির, ভারতের স্বাধীনতার দু’দশক পরে 1969 খ্রীষ্টাব্দে শহীদ মিনার নামে পুর্ননামকরণ করা হয়। অর্থাৎ, স্মারকটি সকল স্বদেশপ্রেমী বা সংগ্রামীদের সম্মানে নামকরণ করা হয়, যারা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের জীবন বলিদান করেন। বিস্ময়কর, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি জড় পদার্থের স্মৃতিস্তম্ভ কিভাবে ভাগ্যকে প্রভাবিত করে। তবুও, স্থানীয়রা, এটিকে প্রসঙ্গক্রমে 'স্মৃতিস্তম্ভ' হিসাবে উল্লেখ করে। অক্টারলোনি স্মৃতিস্তম্ভটি, 1814-1816 খ্রীষ্টাব্দে, আ্যংলো নেপালি যু্দ্ধে, স্যার ডেভিড অক্টারলোনির বিজয়কে স্মরণ রেখে তৈরী করা হয়েছিল।

শহীদ মিনার ভারতের আরেক জনপ্রিয় কুতুব মিনারের কথা মনে করিয়ে দেয়। আংশিকভাবে উভয়ই লম্বা স্তম্ভ। তবে শহীদ মিনারের স্থাপত্য তুলনামূলকভাবে ফ্যাকাশে। কুতুব মিনারের স্তম্ভ শীর্ষের উপর খোদিত মহীয়ান ভাস্কর্যের আমরা মূল্যবিচার করতে পারি। শহীদ মিনারের চূড়ায় পৌঁছাতে দর্শনার্থীদেরকে 223-টি সিঁড়ি নিয়ে গঠিত একটি সর্পিলাকার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়।



সন্ধ্যাবেলায়, শহীদ মিনার সুসজ্জিত হয়ে ওঠে এবং পায়ে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে শীর্ষে ওঠা শুধুমাত্র আপনার পেশীর ব্যায়ামের একটি নিখুঁত উপায়ই নয় বরঞ্চ পার্শ্ববর্তী দৃশ্য পরিদর্শনেও চোখকে প্রাণবন্ত করে তোলে। মিনারটিতে দু’টি তল রয়েছে। আপনি চাইলে অলিন্দতেও আপনার জায়গা নিতে পারেন। মূখ্য স্থানান্তরণ হল দ্বিতীয় তলে। সেখান থেকে পরবর্তী অলিন্দ পর্যন্ত, কয়েকটি ছোট সিঁড়ি রয়েছে।

রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও র্যা্লী বা ফেরি বর্তমানে শহীদ মিনারে সঞ্চালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতির আগ্রহের বিবেচনায়, শহীদ মিনার সারা বছর ধরে একটি খুবই ব্যস্ত জায়গা হয়ে রয়েছে।