পহেলা বৈশাখ : স্বাগত বাংলা নববর্ষ

১৪ এপ্রিল মানে বাংলা সনের প্রথম দিবস। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ। কালের যাত্রায় বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন যুগে ক্ষণ গণনার প্রথা চালু করা হয়। এর মধ্যে ইসায়ী বা ইংরেজী সনের হিসাব দুনিয়া ব্যাপী প্রচলিত। অঞ্চল এবং ভাষা ভেদেও ক্ষণ গণনার প্রথা চালূ রয়েছে। আরবী সন বা হিজরী সালের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব মধ্যপ্রাচ্য ব্যাপী। ফার্সিদেরও পৃথক সন রয়েছে। কালের আবর্তে বাংলায় ক্ষণ গণনার প্রথাও চালু হয়।

এটা নিশ্চয়ই বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের জন্য গর্বের বিষয়। বাংলা যাদের মুখের ভাষা, জন্মভুমির ভাষা তারা এ নিয়ে গর্ব করবেন। সুতরাং এই ভাষার ক্ষণ গণনার হিসাবের প্রথম দিন নিয়ে কিছুটা আবেগ থাকতেই পারে।

বাংলা সন কোন মুসলমান নাকি কোন হিন্দু, মোগল, পাঠান বা ফার্সিয়ানরা আবিস্কার করেছেন, সেটা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নাই। যারা বা যিনি এই সন আবিস্কার করেছেন বাংলা ভাষাভাষি মানুষদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ পেতে পারেন। বাংলা ভাষার ঐতিহ্য অতি প্রাচীন। অন্তত এটা বলা যায় বাংলা ভাষার প্রচলন এই অঞ্চলে এরও বহু আগে শুরু হয়েছিল। যে কারনে এই ভাষার সাথে সঙ্গতি রেখে ক্ষণ গণনা করার একটি পদ্ধতিও চালু করা হয়।



যদিও বাংলা সন চালুর বয়স ৫০০ বছর হয়েছে। কারন হিজর‍ী সানের সাথে সঙ্গতি রেখে এটার হিসাব শুরু করা হয়েছিল। তখন এই অঞ্চলে মুসলমানদের আধিপত্য ছিল। এই ক্ষণ গণনাকে এ অঞ্চলের বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সকলেই আলিঙ্গন করে নিয়েছিলেন। কারন বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলমানই বেশি। কাজেই এই ক্ষণ গণনা পদ্ধতিটির পৃথক কোন ধর্মীয় আবেগ বা আবহ তৈরির কোন সুযোগ থাকতে পারে না। এটা নিয়ে বারাবারিও কিছু নেই।

পহেলা বৈশাখ নামটি উচ্চারিত হবার সাথে সাথে দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে মহা উৎসবের একটি চিত্র। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নারীদের শাড়ি ও ছেলেদের পায়জামা পাঞ্জাবি পোশাকে সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে। এদিনে তাদের পূজা এ আরাধনার পবিত্র রং লাল সাদা রঙ্গের কাপড় পরে দলে দলে শোভাযাত্রা বের করে দুঃখকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে । বিভিন্ন কনসার্ট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান পহেলা বৈশাখে যোগ করে নতুন মাত্রা । কালক্রমে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখ পূজার সকল আসর অনুষ্ঠান বর্তমানে পহেলা বৈশাখে রুপ নিয়েছে । এদিনে নতুন বস্ত্র পরিধান করে ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে,প্রদীপ জ্বালিয়ে রাতে গানের আসর বসায় যাতে গানে গানে সব রোগ শোক দূরীভূত হয় ।