পিৎজার প্রাচীন ইতিহাস

পিৎজা জনপ্রিয় একটি খাবার। শুধু যে জল খাবার হিসেবেই এর পরিচয় এমন নয়, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে অফিসের লাঞ্চ হিসেবেও এর জনপ্রিয়তা কম নয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর গণ্ডি পেরিয়ে প্রাচ্যের দেশগুলোতেও এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। জনপ্রিয় এই খাবারটির পেছনের ইতিহাস চলুন জেনে নেয়া যাক।

মিশরীয়রা পাতলা রুটি বানাত। ভারতীয়রা বানাত আগুনে পোড়ানো নান ও তন্দুরি রুটি। কিন্তু তারা রুটির ওপরে কিছু দিত না। তবে পারস্যে রুটির ওপর নানান রকমের মসলা দেয়া হতো। ধারণা করা হয়, এখান থেকেই এসেছে পিৎজার আইডিয়া। তবে প্রাচীন গ্রীসেও পাতলা রুটি বানানো হতো। এই রুটিকে বলা হতো ‘প্লাকোনাটস’। এই প্লাকোনাটসের ওপর নানা ধরনের মসলা ও সবজি দিত তারা। এমনটি করত নেপলসের লোকজনও। তবে আধুনিক পিৎজার মাতৃভূমি বলা হয় নেপলসকে। অবশ্য প্রাচীনকালে নেপলস ছিল রোমের অংশ। তখন ইতালির সর্বত্রই পিৎজা তৈরি হতো। ইতিহাস বলছে, পিৎজার উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে মধ্যযুগীয় পিৎজা তৈরি হয় গ্রীসে। আর আধুনিক পিৎজার উৎপত্তি ইতালিতে।

জল খাবার হিসেবে যাত্রা শুরু করা পিৎজা গোড়ার দিকে ছিল রোমের পমপি এবং এর নিকটবর্তী নিওপোলিস শহরের প্রধান খাবার। প্রথম শতাব্দীতে পিৎজার ধারণা পাওয়া যায়। তখন পিৎজা বলতে খোলা গোলাকৃতির রুটি বোঝানো হতো। তখন মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব বেশি স্বচ্ছল ছিল না। তাই তারা বড় গোল রুটি ব্যবহার করতো প্লেটের বিকল্প হিসেবে। ঐ রুটির ওপর বিভিন্ন ধরনের খাবার রেখে রুটিসহ খেয়ে তারা উদরপূর্তি করত। পিৎজা শব্দটির উৎপত্তিও এই রুটি থেকে। তখন রুটিকে তারা বলতো ‘পিট্টা’। ধারণা করা হয়, এই শব্দটি পরিবর্তীত হয়ে ‘পিৎজা’ শব্দটি এসেছে।

পিৎজার গোরাপত্তনের ইতিহাস ও শুরুর দিকে কিছু প্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারা যায় মার্কাস গ্যাভিয়াস অ্যাপিসিয়াসের রান্নার বই থেকে। বইটিতে পিৎজা তৈরির বিভিন্ন প্রণালীর মধ্যে একটি হলো, খোলা রুটির ওপর মুরগির মাংস, রসুন, তেল, পনির দিয়ে রান্না করা। এই প্রণালীটিকেই বর্তমান পিৎজা তৈরির প্রণালীর ভিত্তি হিসেবে মনে করা হয়।

বর্তমান পিৎজার অত্যাবশকীয় উপাদান টমেটোর সস ও পনির। খোলা রুটির ওপর টমেটোর সস ও পনির দিয়ে তৈরি পিৎজা ১৯০৫ সালে ইতালি থেকে আমেরিকার নিউইয়র্কে যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই এই পিৎজা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে। এখন তো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পাওয়া যায় জনপ্রিয় এ খাবার।