ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতা ভ্রমন

ইচ্ছে করলেই আপনারা কয়েকটা দিন ঘুড়ে আসতে পারেন কলকাতা শহরটিতে। অবসরে আপনি আপনার কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রোগ্রাম করতে পারেন কলকাতা ঘুরে আসতে। ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে কথিত শহর কলকাতা বাঙালির কৃষ্টি ও সভ্যতার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এই শহরে একদা জন্মগ্রহণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, জ্যোতি বসু প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত বাঙালিরা। আজ এই শহরের বাসিন্দা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, মৃণাল সেন, মহাশ্বেতা দেবী, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো কৃতী ব্যক্তিত্ব। ঐতিহাসিক কালবিচারের নিরিখে এই শহর খুব একটা প্রাচীন নয়।

তবে নানা জাতি নানা ভাষার মিলনভূমি আজকের কলকাতা শহর শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীই নয়, একটি যথার্থ বিশ্বনগরী এবং বিশ্বভাতৃত্ববোধের প্রতীক। কলকাতা, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী, প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র এবং বৃহত্তম শহর। হুগলী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত কলকাতা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটান বা মহানগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম মহানগর অঞ্চল। কলকাতা পৌরএলাকার উত্তর দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা, পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা অবস্থিত। পশ্চিম দিকে হুগলি নদী এই শহরকে হাওড়া জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

১৭৭২ সালে মুর্শিদাবাদ শহর থেকে বাংলার রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতা শুধুমাত্র বাংলারই নয়, বরং সমগ্র ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। ১৯২৩ সালে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের অধীনে কলকাতার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কর্তৃপক্ষ কলকাতা পৌরসংস্থা স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর কলকাতা নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী ঘোষিত হয়। এই সময় কলকাতা ছিল আধুনিক ভারতের শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতির এক পীঠস্থান।

কলকাতা শহরের প্রসিদ্ধি এই শহরের বৈপ্লবিক আন্দোলন ও সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তীকালে বামপন্থী গণআন্দোলনগুলিতে এই শহর এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে আধুনিক ভারতের প্রধান সাংস্কৃতিক আন্দোলনগুলিরও প্রাণকেন্দ্র এই কলকাতা। এই কারণে এই শহরকে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে অভিহিত করা হয়। আবার কলকাতা শহরে বিভিন্ন ভাষা, জাতি ও ধর্মাবলম্বী মানুষদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় সহাবস্থানের জন্য এই শহরকে আনন্দ নগরী বা সিটি অফ জয় নামেও অভিহিত করা হয়।

রাজা রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, রোনাল্ড রস, সুভাষচন্দ্র বসু, মাদার তেরেসা, সত্যজিৎ রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সি ভি রামন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের কর্মভূমি কলকাতা মহানগরী তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য আজও বিশ্ববাসীর চোখে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।



হোটেল বুকিং

মারকুইস স্ট্রিটে নেমে আপনার প্রথম কাজ হবে হোটেল খুঁজে নেওয়া। পুরো মারকুইস স্ট্রিট এবং পার্ক স্ট্রিট জুড়ে অসংখ্য চলনসই হোটেল আছে। পেট্রাপোল (ওরা বলে, বর্ডার) থেকে আসা বাসগুলো যেখানে থামে সেখানে দাড়িয়ে আশেপাশে তাকালেই এর অনেকগুলো চোখে পড়বে। এসি, নন এসি, সব ধরণের রুমই আছে। সাধারণত ৫০০ থেকে ১০০০ এর ভেতরে ভাড়া। আরো বেশি ভাড়ার ভালো হোটেলও আছে। প্রথম দিনে আপনি পছন্দসই হোটেল নাও পেতে পারেন। প্রথম দিনের জন্য আপনি বরং সবচে কাছের হোটেল এ উঠুন, পরদিন খুঁজে নিতে পারবেন আপনার সাধ ও সাধ্যের মধ্যে থাকা হোটেলগুলো।

পার্ক স্ট্রিট থেকে কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলোও থাকবে আপনার নাগালের ভেতরে। ট্যাক্সি, বা রুট নাম্বার জেনে নিতে পারলে ট্রাম ও পাবলিক বাস ব্যবহার করতে পারবেন সহজেই। আর যদি চিকিৎসার জন্য আসেন, সেক্ষেত্রে সেন্ট্রাল কলকাতায় না থেকে বাই পাস বা মুকুন্দপুর-সন্তোষপুরের আশেপাশে থাকাই ভালো। হসপিটালগুলোর বেশিরভাগ এ এলাকাতেই। আর থাকার খরচও কম।

দর্শনীয় স্থানগুলো

নিউ মার্কেট- হাটা পথের দূরত্ব। ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম- হাটা পথের দূরত্ব। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল- ২ কিমি। ইন্ডিয়ার ইতিহাস এখানে সচিত্র সংরক্ষণ করা আছে। বিড়লা প্লানেটোরিয়াম- ২ কিমি। সায়েন্স সিটি- ৭ কিমি। বাচ্চা কাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক। নিক্কো পার্ক- ১২ কিমি। বিড়লা মন্দির-৪ কি.মি. # ইডেন গার্ডেন- ২ কিমি রেসকোর্স ময়দান- ২ কিমি। কফি হাউজ- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। এ্যকোয়াটিকা- ১৫ কিমি। সমূদ্রতল দেশের একটা ডামি করার চেষ্টা করা হয়েছে। হাওড়া ব্রিজ, শিয়ালদহ এবং মহাকরণও রাখতে পারেন তালিকায়। মেট্রো রেলে একটা ট্রিপ দিতে পারেন।

কলকাতাতে ঘুরতে গেলে গ্রুপে যাওয়াই ভালো। অনেক দিক দিয়ে সাশ্রয় হবে। সাধারণত ট্যাক্সি মিটার এবং রিজার্ভ, দু’ভাবেই যাওয়া যায়। মিটারে গেলে যা বিল আসে তার ডাবল দিতে হয়। এখানে মিটার থেকে বিল পেপার প্রিন্ট হয়ে আসে।