কালো জাম

জাম বা কালো জাম খেতে কম বেশি সবারই ভালো লাগে। একেক দেশে জামকে বিভিন্ন ভাবে চিনে যেমন ব্ল্যাক প্লাম‚ জাম্বুল‚ জাম্বোলান‚ জাম্বাস‚ মালাবার প্লাম‚ রজামান‚ নেরেডু‚ কালা জামুন‚ নাভাল‚ জামালি‚ জাভা প্লাম ইত্যাদি। জাম সাধারণত জুন আর জুলাই মাসে পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে টক-মিষ্টি স্বাদের জাম খুব জনপ্রিয়। ছোট ছোট কালো কালো জাম বেশ লোভনীয় রসালো ফল। খাদ্য হিসেবে তো বটেই, ওষুধ হিসেবেও ব্যাপক সমাদর রয়েছে এই ফলের।

জামের আদি নিবাস ভারতবর্ষ। পরবর্তীতে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বৃটিশ উপনিবেশগুলো জাম বেশি দেখা যায়। জামকে একেক জায়গায় একেক নামে ডাকা হয়। যেমন জাম্বুল, জাম্ভুল, জাভা প্লাম, জামুন, ডুহাট প্লাম, জ্যামসন প্লাম, কালো প্লাম, পর্তুগীজ প্লাম ইত্যাদি। তেলেগু ভাষায় একে ডাকা হয় নেরেন্দু পান্ডু, মালায়লাম ভাষায় নাভাল পাজহাম, তামিল ভাষায় নাভা পাজহাম এবং কানাড়া ভাষায় নেরালে হান্নু। ফিলিপাইনে জামকে বলা হয় ডুহাট।

বেশির ভাগ মানুষেরই ধারণা জামের ইংরেজি নাম Blackberry, আসলে তা নয়! জামের ইংরেজি নাম হলো Jambul। এর বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium cumini এবং এটি Myrtaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। জামগাছ চিরসবুজ বৃক্ষ। এর পাতা বেশ চকচকে হওয়ায় আলংকারিক গাছ হিসেবেও জামগাছ লাগানো হয়। জামের পুষ্টিমূল্য অত্যধিক। এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অত্যন্ত বেশি। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক জামের উপকারিতা:



১) রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে : জামে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। আর আয়রন থাকার ফলে রক্তে হেমোগ্লোবিন বেড়ে যায় ফলে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে | যারা রক্তল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য জাম খুবই ভালো ।

২) চোখ ও ত্বকের জন্য ভালো : এতে ভিটামিন ‘এ’ আর ‘সি’ আছে। এছাড়াও এতে থাকে বিভিন্ন মিনারেল যা আমাদের চোখ এবং ত্বকের জন্য খুব উপকারী।

৩) হজমে সাহায্য করে : জাম খেলে পেট ঠান্ডা হয় ফলে দ্রুত হজম হয়। তাই যাদের অম্বলের সমস্যা আছে তারা বেশি করে জাম খেলে উপকার পাবেন।

৪) ত্বক ফ্রেশ রাখে : অ্যাসট্রিনজেন্ট প্রপার্টি থাকার ফলে জাম ত্বক অয়েল ফ্রি রাখে। এছাড়াও অ্যাকনে আর কালো ছোপ দূর হয় ।

৫) ইনফেকশনের হাত থেকেও রক্ষা করে : জামে উপস্থিত অক্সিলিক অ্যাসিড‚ গ্যালিক অ্যাসিড‚ ম্যালিক অ্যাসিড‚ ট্যানিন‚ বেটুলিক অ্যাসিড ইনফেকশন দূরে রাখে। এছাড়াও জাম অ্যান্টি ম্যালেরিয়াল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়ালও।

৬) দাঁত এবং মাড়ি সুস্থ রাখে : আগেই বলেছি এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি আছে‚ এর সাহায্যে দাঁত এবং মাড়ি ভালো থাকে। এছাড়াও মুখের দুর্গন্ধ দূরে রাখতেও সাহায্য করে ।

৭) সিজনল ডিজিজ থেকে রক্ষা করে : জামে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি থাকে ফলে শরীর ইমিউনিটি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরকে কমন সিজানাল ডিজিজ এর হাত থেকে রক্ষা করে ।

৮) হার্ট ভালো রাখে : জামের মধ্যে উপস্থিত পটাসিয়াম হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে | একই সঙ্গে উচ্চ রক্ত চাপ কমায় ফলে কার্ডিও ভাসকুলার ডিজিজ দূরে রাখে।

৯) রক্তে চিনির মাত্র নিয়ন্ত্রণ করে : যাদের ডায়বেটিস হয়েছে তাদের জন্য জাম খুব ভালো। এতে অ্যান্টি ডায়েবেটিক প্রপার্টি আছে যা রক্তে চিনির মাত্রা কমায়।

এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ার ফলে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া বা বারবার মূত্রত্যাগ যা ডায়বেটিসের লক্ষণ এগুলো ও নিয়ন্ত্রণে রাখে। শুধু ফল নয়‚ এই গাছের পাতা‚ ডাল‚ ফলের বিচি সব কিছু দিয়েই ডায়েবেটিসের ট্রিটমেন্ট করা হয়।
Kalyan Panja is a photographer and a travel writer sharing stories and experiences through photographs and words since 20 years
NextGen Digital... Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...