আজ মহাষ্টমী পূজা

শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহাষ্টমী। মহাষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা ও সন্ধি পূজা পালন হবে আজ। গতকাল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ উদ্দীপনা ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে মহাসপ্তমী। ভোরে নবপত্রিকা স্নান দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের সপ্তমীর দিন। এরপর ছিল স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ, ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, চন্ডি ও মন্ত্র পাঠ, দেবীর পায়ে ভক্তদের পুস্পাঞ্জলী প্রদানসহ নানা আয়োজন।

মহাসপ্তমী শেষে শারদীয় দুর্গাপুজার সবচেয়ে আকর্ষনীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন আজ। দেবীর সন্ধিপূজা আর কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে পালান হবে দিনটি। কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা। শাস্ত্রে ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুস্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মন অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে।



বাঙালির ঘরের মেয়ে উমা এসেছে বাপের বাড়িতে। তারই নাকি আবার পুজো। প্রকাণ্ড প্রতিমার সামনে বসেছে আমাদের ছোট্ট চিন্ময়ী দেবী, মহাশক্তি রূপে। গঙ্গাস্নানের পরে সে পরেছে রক্ত-লাল বেশ, চন্দন, কুমকুমে চর্চিত, পুষ্পে শোভিত, আলতা, সিন্দুরে অর্চিত সে। শুরু হয়েছে কুমারী পুজো। কুমারী রক্তবর্ণাভা শক্তিহস্তা ভয়ানকি” দেবীদুর্গা যেন রক্তজিহ্বা, রক্তচক্ষু দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছেন এই নিষ্পাপ শিশুকে, উদ্রেক করছেন ভয় এই রক্তাক্ত পৃথিবীতে।

কুমারীর কপালের বড় লাল টিপ সূচনা করছে জাগতিক মিলনের। গাঢ় পরিনয়ের আভা মিশেছে সিন্দুরের সঙ্গে, তারই রেশ টেনে তৈরি হয়েছে প্রতিস্তুতির রক্তিম মালা। একটা ছোট্ট মেয়ে উল-ফুলের মুকুট মাথায় পরে সূচনা করছে সৃষ্টির আর শুভ সঞ্চারের।