মার্বেল প্যালেস

প্রাচীন কলিকাতা শহরের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি শ্রী নীলমণি মিত্রের দত্তক পুত্র শ্রী রাজেন্দ্র মল্লিক তাদের পারিবারিক সংগ্রহীত মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে একটি সংগ্রহশালা গড়ার পরিকল্পনা করেন। প্রায় ২৫বিঘা জমির উপর মার্বেল প্যালেস নির্মিত হয়। ১৮৩৫ সালে ফ্রান্সের টেকাডোরা প্রাসাদের অনুকরণের এই ভবন তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় পাঁচ বছর। প্রায় পাঁচ হাজার মিস্ত্রী এই প্যালেস তৈরির কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা নিয়েছিল।

প্যালেসের একতলার অভ্যর্থনা কক্ষে আছে দেশবিদেশের প্রায় ১২০/১২৫ রকমের পাথর। রাজেন্দ্র মল্লিক শিল্পকলার প্রতি ভীষণ ভাবে অনুরক্ত ছিলেন। দেশবিদেশ থেকে সংগৃহীত জিনিসপত্রের সম্ভারে সমৃদ্ধ এই সংগ্রহশালা। এই সংগ্রহশালায় বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীদের শিল্পকর্ম নজরকাড়ার মতো, ম্যারেজ অব ক্যাথেড্রাল, ভেনাস এন্ড কিউপিড থেকে রাজা রবি বর্মা শোভা পাচ্ছে। অসংখ্য প্রাচীন ঘড়ি, ঝাড়বাতি, ফুলদানি থেকে শুরু করে মার্বেল পাথরের হরেক শিল্পকর্ম এখানে বর্তমান। গোলাপ কাঠের একটি টুকরোতে তৈরি রানী ভিক্টোরিয়ার মূর্তি দেখলে তাক লেগে যায়। বাগানে আছে একটি বিশালাকার ফোয়ারা।



প্যালেসের আরও একটি বিখ্যাত দর্শনিয় জিনিস হল ছোট একটি চিড়িয়াখানা। এটি সম্ভবত কলিকাতার প্রাচীনতম চিড়িয়াখানা। বেশকিছু জীবজন্তুর সাথে হরেকরকমের পাখির সম্ভার দেখার মতো।

এই প্যালেস দর্শনের জন্যে কোন প্রবেশমূল্য না থাকলেও প্যালেস দর্শনের জন্যে সরকারি অনুমতিপত্র প্রয়োজন হয়।