স্টার থিয়েটার

১৮৮৩ সালের দিকে বিখ্যাত অভিনেতা ও নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ এবং বিনোদিনী দাসী স্টার থিয়েটার গড়ে তুলেছিলেন । কারণ গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারের মালিক ছিলেন একজন অবাঙ্গালী ব্যবসায়ী প্রতাপচাঁদ জহুরী, যিনি থিয়েটারকে ব্যবসা হিসেবেই দেখতেন । কথিত আছে বিনোদিনীকে থিয়েটার ছেড়ে দিতে ধনী যুবক গুর্মুখ রায়ের ৫০,০০০ টাকার প্রস্তাব দেন । বিনোদিনী প্রস্তাবে না হয়ে বরং বাংলা থিয়েটারের উন্নতির জন্য নতুন থিয়েটার খুলতে রাজি হন এবং একই সাথে গুর্মুখ রায়ের রক্ষিতা হতেও রাজি হন ।

তার অধীনে কাজ করা গিরিশ ঘোষ এবং বিনোদিনী কার পক্ষেই বনিবনা হচ্ছিলনা । তারা আলাদা করে স্টার থিয়েটার গড়ে তোলেন । বিনোদিনী গিরিশচন্দ্র ঘোষ কে নিজের গুরু এবং দেবতা বলে আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন । তাঁর কাছেই তিনি উঁচুমানসম্পন্ন অভিনয় কলা শেখেন । রক্ষিতা হিসেবে তিনি বিনোদিনী দাসীকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন । কিন্তু স্টার থিয়েটার গড়ে তোলার জন্যে যিনি অর্থ দিয়েছিলেন, নিজের প্রেমিক গিরিশচন্দ্র ঘোষকে ছেড়ে বিনোদিনীকে তাঁর রক্ষিতা হতে হয় ।



স্টার থিয়েটারে কাজ করার সময় তিনি খ্যাতির তুঙ্গে ছিলেন । এ অবস্থায় গিরিশচন্দ্রসহ তাঁর সহকর্মীদের বিরোধিতার মুখে উক্ত থিয়েটারে বিনোদিনীর পক্ষে তিন বছরের বেশি সময় কাজ করা সম্ভব হয়নি । বিনোদিনীর ইচ্ছা ছিল যে নতুন থিয়েটার তৈরি হবে তা বিনোদিনীর নামে বি-থিয়েটার হবে । কিন্তু কিছু মানুষের প্রতারনার শিকার তিনি হন । যাঁদের মধ্যে তাঁর নিজের অভিনয় গুরু গিরিশচন্দ্রও ছিলেন । বিনোদিনীর ত্যাগ স্বীকারে যে নতুন থিয়েটার তৈরি হয় বিনোদিনীর নাম তাতে থাকেনি । এই নতুন থিয়েটারের নাম হয় স্টার থিয়েটার ।