কলকাতা ময়দান

শহরের কেন্দ্রস্থলে বিশাল এ সবুজ প্রান্তর রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে৷ ব্রিটিশ আমলের ফৌজি কেল্লা ফোর্ট উইলিয়ামের চারদিকে সুরক্ষামূলক খোলা প্রান্তর হিসেবে গড়ে তোলা এই গড়ের মাঠ কলকাতাবাসীর অবসর কাটানোর জায়গা৷ প্রচলিত বাগধারাই আছে – চলো যাই গড়ের মাঠে, ফিটন চড়ে, হাওয়া খেতে৷ এখনও সরকারি ছুটির দিন বা রবিবারে লোকে সপরিবারে আসেন ঘোড়ার গাড়ি চড়ে ময়দানকে ঘিরে এক চক্কর মারতে৷ যদিও সাহেবি আমলের ল্যান্ডো, ব্রুহ্যাম বা ফিটন গাড়িগুলো এখন ভোল বদলেছে৷

রবিবারের ছুটির দিনে কলকাতা ময়দানে এখনও অনেকে আসেন সপরিবারে৷ দলবেঁধে আসে ছোটরা, ফুটবল-ক্রিকেট খেলতে৷ অনেকেই ঘোড়ায় চড়ে পাক মারে৷ অনেকে আসেন জোড় বেঁধে৷ এরা সাধারণত বসেন ভিড় থেকে দূরে, নির্জনে৷ কলকাতা ময়দান অনেক প্রেমের জন্ম দেখেছে, হয়ত বা মৃত্যুও৷ শহরে খেলার জায়গা কম৷ মেয়েদের আলাদা খেলার জায়গা তো নেইই৷ বিশাল ময়দান সেই সুযোগ করে দেয় মেয়েদের, যারা ছেলেদের মতোই ফুটবল খেলতে ভালোবাসে৷ স্কুলছুটির বিকেলগুলোয় ওরাও আসে৷



শুধু ফুটবল ক্রিকেট নয়, রাগবির মতো অপ্রচলিত খেলাও দেখা যায় ময়দানে৷ বিদেশিরা সাগ্রহে এগিয়ে আসেন নতুন খেলার প্রশিক্ষণ দিতে৷ আর যারা নেহাতই ছোট, তাদের জন্যেও থাকে ছোটখাটো আয়োজন৷ তাতে খুব চমকদার কিছু যে থাকে, তা নয়৷ কিন্তু ছোটরা তাতেই খুশি৷ যেমন মেরি গো রাউন্ডে চড়ে এই খুকিটি৷ কলকাতা ময়দান জনপ্রিয় তার মাদারিওয়ালাদের জন্যেও৷ বাঁদর, কুকুর, ছাগল নিয়ে যারা ছোটখাট খেলা দেখায়৷ আগে ভালুকের খেলাও দেখা যেত, কিন্তু বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইনে তা নিষিদ্ধ হয়েছে৷

নিয়মিত যাতায়াত করতে করতে ওরাও বন্ধু হয়ে যায়৷ যেমন এই দুই চাওয়ালা আর এক ঘোড়ার সহিস৷ জায়গাটা যে একসময় ফৌজি এলাকা ছিল, তার প্রমাণ ওই দুই কামান৷ কলকাতা শহরের অনেক জায়গা থেকেই ট্রাম উঠে গেছে, কিন্তু যে পথে ট্রাম এখনও চালু, তা এই ধর্মতলা-খিদিরপুর রুটে৷ যাতায়াত করে একেবারে ময়দানের গা ঘেঁষে৷ ময়দানের সবুজ উপভোগ করতেও অনেকে এই ট্রামটিতে চড়েন৷ এরাও কলকাতা ময়দানের অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ এই ঘোড়াদের দল৷ পোষা ঘোড়া যদিও, তবে ছাড়াই থাকে এরা, নিজেদের মনে ঘাস খায়৷ বর্ষায় ঘাস আরেকটু বাড়লে আসে মেষপালকেরা৷ খুব অন্যরকম লাগে সেই কলকাতাকে৷