Tuesday, November 10, 2015

কালী পূজার ইতিহাস, মন্ত্র, নিয়ম, সাধনা, ছবি

কালীর বিভিন্ন রূপভেদ আছে। যেমন দক্ষিণাকালী, শ্মশানকালী,ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, গুহ্যকালী,মহাকালী, চামুণ্ডা ইত্যাদি।মুলত এগুলো গাহস্থ্য ও সাধন অধিষ্ঠাত্রী নাম মিশ্রিত। তবে ধারাক্রমে বিভিন্ন তন্ত্র শাস্ত্র ও পুরানমতে ক্রমানুক্রমে কালীরগাহস্থ্য (সমাজে প্রচলিত রুপ) রুপধারা গুলো হলো

১) দক্ষিনাকালীঃ (সর্বকালে সর্বদেশের সমাজে পুজিতা) মুলত দেবীর প্রধান রুপ।তার পুজাবিধির মধ্যে কয়েকটি লাইন পরিবর্তন করে অন্যদেবীর পুজা হয়,ভৈরব, বটুক এবং শবরুপি শিব একই থাকে, শুধু নামের পরিবর্তন হয়।ইনিই কালীর প্রধান রুপ।

২) ভদ্রাকালীঃ (পাতালের দেবী, তবে বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে ইনি পুজিতা হন,তবে ভদ্রাকালী যেহেতু পাতাল কালি,তিনি নিজ থেকে পাতাল থেকে উঠে না এলে মানুষের পক্ষে তার পুজা করা সম্ভব নয়,যেমন, চট্টগ্রামের নলুয়া কালীবাড়ি, ইনি ভদ্রাকালী স্থান ভেদে এই কালী মহাকালী নামেও পরিচিত।তবে ভদ্রাকালী ও মহাকালী এক,কারন উভয়ের পুজা ধ্যানমন্ত্র এক

৩) রক্ষাকালীঃ রক্ষাকালী দক্ষিনাকালীর একটি নাগরিক রুপ।প্রাচীন কালে নগর বা লোকালয়ের রক্ষার জন্য এই দেবীর পুজা করা হতো। এই দেবীর পুজা মন্ত্র ভিন্ন এবং ইনার বাহন স্থানভেদে সিংহ

৪) রটন্তিকালীঃ পুত্র সন্তান কামনায় বিশেষ ভাবে এই দেবীর পুজা করা হয়,এছাড়া ধন বৃদ্ধির জন্যও ইনি বছরের একটি বিশেষ অমাবস্যায় পুজিত হন।শাস্ত্রানুযায়ী মাঘ মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশী তিথির নামই হলো রটন্তি,এইদিন সন্ধায় তার পুজা করতে হয়।

৫) ফলহারিনী কালীঃ গৃহ ধর্মকে সুন্দর করতে এই দেবীর আবির্ভাব, নামে ফলহারিনী হলেও অভিষ্ট সিদ্ধ দায়িনি,জানা যায় রামপ্রসাদ নিজ স্ত্রীকে এই দিন দেবীরুপে পুজা করে নারী জাতীর সম্মানের জন্য এর ফল উৎসর্গ করেন।এটিও বাৎসরিক একটি পুজা।

Kali Puja kolkata diwali

৬) নিশাকালীঃ নিশাকালী নিয়ে মতভেদ আছেবলা হয়ে থাকে ইনি জেলেদের রক্ষাকারী, দুর্যোগময় রাতে জেলেরা সমুদ্রে গেলে তার পুজা করে যেতেন,অবিশ্বাস্য হলেও সত্য তার চরন ছোয়া ফুল যে নৌকায় থাকতো সেই নৌকা কদাচিৎ ডুবতোই না। এছাড়া আধিভৌতিক ভীতি কাটানোর জন্যওএই দেবী প্রসিদ্ধ। আবার অন্যমতভেদও আছেকোন এক সময় এক গ্রামের কয়েকটি জেলে পুরুষ নৌকা নিয়ে বের হয়ে যাবার পর প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়।সেই সময় সকল জেলে পত্নী তাদের স্বামীর জন্য দেবী মন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রার্থনা করতে থাকে,সেই সময় একজন বৃদ্ধা

এসে তাদের নিশাকালীর মাহাত্ম্য কথা বলে তাদের বলেন,যে কুলে স্বয়ং দেবী জন্ম নিয়েছিলেন,সেই কুলের রুক্ষাকর্ত্রী দেবী নিজেই,তাই তার রুপ নিশাকালীর ব্রত করো,তিনিই দুর্যোগময় রাতে তোমাদের পতিদের রক্ষা করবেন, সেই থেকে জেলেকুলে ধুমধামের সাথে দেবীর স্থান হলেও কালক্রমে নিশাকালীর পুজা প্রথা বিলীন হয়ে যায়,কিন্তু স্থানভেদে কিছু জায়গায় এখনো তার পুজা বিদ্যমান।

৭) কাম্যকালীঃআমাদের বিশেষ কামনায় বা বিশেষ প্রার্থনায় যে কালীপুজা আয়োজন করা হয়,তাকেই কাম্যকালী পুজা বলা হয়,,পুজা বিধি দক্ষিনাকালীর মতই।সাধারনত অষ্টমী, চতুর্দ্দশী অমাবস্যা পুর্ণিমা ও সংক্রান্তিকে পর্বদিন বলে।পর্বসমুহের মধ্যে অমাবস্যাকে বলা হয় মহাপর্ব। বিশেষ কামনায় এই সকল তিথিতে যে পুজা করা হয় তাকেই কাম্যকালী পুজা বলা হয়।

৮) শ্মশান কালীঃ শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবীই হলেন শ্মশানকালী।তার পুজাবিধি একটু অন্যপ্রকার। সাধারনত বলা হয়ে থাকে যে গৃহীদের জন্য এই দেবীর পুজা নিষিদ্ধ।সেই সকল গৃহীই তার পুজা করতে পারে,যে শশ্বানে তাদের পরিবারের দেহ রাখা হয়েছে এবং শুধুমাত্র সেই শ্মশানকালীর পুজা তারা করতে পারেন। কিন্তু সব শ্মশানেই শ্মশানকালী থাকে না।ছোট ছোট শ্বশান মিলে একটি মহাশ্বশান হয়,আর কয়েকটি মহাশ্বশান নিয়েই শ্বশানপীঠ হয়,এই পীঠেই দেবী অবস্থান করেন।

Sunday, November 8, 2015

ধনতেরাস

আর মাত্র কয়েকটি দিন। আলোর উৎসবে মাততে চলেছে চরাচর। দীপাবলির আলোয় ভেসে যাওয়ার প্রতীক্ষায় এ শহরও। চলছে মণ্ডপের কাজ, সাজছে মহানগর, তৈরি হচ্ছে আতসবাজি। তারই মধ্যে ধনতেরাসের প্রস্তুতি।

Dhanteras gold silver lakshmi puja jewellery

Monday, October 26, 2015

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা পদ্ধতি

কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো নিয়ে অনেক প্রচলিত গল্প আছে। লক্ষ্মী দেবী ছিলেন ভৃগুর কন্যা, মায়ের নাম খ্যাতি। বৈদিক লক্ষ্মী কিন্তু শস্য-সম্পদের দেবী ছিলেন না। বরং নদীরূপিনী সরস্বতী শস্যদাত্রী হিসেবে গণ্য হতেন। কেন? নদী পলি মাটি ভরাট করে উর্বর করত ভূ-তট। এর পরে তো বৈদিক আর্যরা চাষাবাদ শিখল নিম্নবর্গ এর কাছে। সম্পদ এলো আর্যদের হাতে। শাসক বা শোষক হলেন তারা। আবার লক্ষ্মীর স্বামী একটা কাঁচা কাজ করে ফেললেন। কেমন কাঁচা? বেদম কাঁচা।

দুর্বাসা মুনি, যিনি শুধু অভিশাপ দেওয়ার জন্যই বিখ্যাত, তার অন্য কোনও গুণের কথা বিশেষ জানা যায় না, তিনি এক দিন একটা পারিজাত ফুলের মালা উপহার দিলেন ইন্দ্রকে। এরপর ইন্দ্র যখন রম্ভা-সম্ভোগে মত্ত, ওই মালা নিজের বাহন ঐরাবতের গলায় ছুড়ে দেন। বিষ্ণু মাথা ঝাঁকিয়ে সেটা ফেলে দিল মাটিতে।

তারপর পা দিয়ে চেপ্টে দিল। ব্যস! রগচটা স্বভাবের ঋষি অমনি জ্বলে উঠে উচ্চারণ করলেন অভিশাপ। অদ্ভুত সেই অভিশাপ। তিনি বললেন, কী! আমার দেওয়া মালা মাটিতে ফেলে দিলে, তাই তোমার ত্রিলোক এখন লক্ষ্মী ছাড়া হবে। অর্থাৎ লক্ষ্মীর নির্বাসন। অভিশাপে ইন্দ্রের ইন্দ্রপুরী হলো শ্রীহীন। তার রূপে-গুণে আকৃষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত ছলে বলে বিষ্ণু তাকে পত্নীরূপে গ্রহণ করেন।

আসলে লক্ষ্মী হলো লৈকিক দেবী। আগে আমাদের সমাজে বিশেষ করে গ্রামে দুর্গাপূজা নিয়ে এত মাতামাতি ছিল না। বরং কোজাগরী লক্ষ্মীপূজাই ছিল বড় উৎসব। কোজাগরীর রকমফের ছিল দেখার মতো। ছড়া কেটেই মা লক্ষ্মীকে আবাহন করত গৃহস্থ। করজোড়ে বাড়ির নারীরা একসঙ্গে বলতেন, ‘আঁকিলাম পদ দু’টি, তাই মাগো নিই লুটি। দিবারাত পা দু’টি ধরি, বন্দনা করি। আঁকি মাগো আল্পনা, এই পূজা এই বন্দনা।’ সব ছড়ার মধ্যেই থাকে বাসনা, অভিমান এবং আকাঙ্ক্ষা। পেঁচা, কড়ি, ধানের গোলা আঁকার সঙ্গে সঙ্গে তাই ছড়া কাটা হতো।

এই বাংলায় কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর চল কেন হয়েছিল, তার একটি গল্প একটু বলা যাক। অনেক বছর আগে, বাংলার এক রাজা নাকি ঘোষণা করে ছিলেনযে, লক্ষ্মী পুজোর সময়েকোনও শিল্পীর তৈরি মুর্তি অবিক্রিত থাকলেরাজা স্বয়ং সেগুলি কিনে নেবেন। তখন লক্ষ্মী পুজো হত অমাবস্যায়।আর সে দিনই নাকি দেওয়ালি পালন করা হত। সেই সময়, এক শিল্পী, দারিদ্রের প্রতীক, অলক্ষ্মীর একটি প্রতিমা তৈরি করলেন।

সেটিই একমাত্র বিক্রি হল না। রাজা সেই প্রতিমাটি কথামতো কিনে নিয়ে এলেন। লক্ষ্মীর পাশে মন্দিরে সেটিকে প্রতিষ্ঠা করেন। যে ঘরে অলক্ষ্মী থাকেন, সেখানে লক্ষ্মী থাকেন না। রাজা নিজে যখন অলক্ষ্মীকে নিয়ে এসেছেন, লক্ষ্মী চলে গেলেন রাজ্য ছেড়ে। রাজার রাজ্যপাট যেতে বসল।

রাজা তখন ধর্মের শরণাপন্ন হলেন। ধর্ম রাজাকে বললেন, আশ্বিনের পুর্ণিমায় কোজাগরী পুর্ণিমা লক্ষ্মী ব্রত পালন করে লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনতে।রাজা সেই মতো ব্রত পালন করে লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনলেন।আর অলক্ষ্মীকে ভেঙে রাজ্যের বাইরে ফেলে দিয়ে এলেন। রাজ্য আবার সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা হয়ে উঠল। আর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর চল ঘরে ঘরে শুরু হল।

লক্ষ্মী পুজোর সময় সরায় আঁকা লক্ষ্মী প্রতিমা আর মা লক্ষ্মীর একটি মৃন্ময়ী মুর্তি কে যেমন ঘরে আনা হয়, তেমনি আনা হয় নানা প্রতীক। কলা গাছের ছাল দিয়ে তৈরি নৌকা, পুরো কলাগাছ দিয়ে তৈরি একটি নারী, ধানের ছড়া, বেতের কুনকে ভর্তি ধান,আরও অনেক কিছু।

লোক সংস্কৃতির গবেষকও গুরুসদয় মিউজিয়ামের কিউরেটর বিজন কুমার মণ্ডল বলেন, “কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর সময় কলাগাছকে উর্বরতার প্রতীক ও নারী হিসাবে ভাবা হয়।ধান আমাদের প্রধান শস্য,তাই ধানকে শস্য শ্যামলার প্রতীক মনে করা হয়। আর সরাকে পৃথিবী হিসাবে কল্পনা করে তাতে নৌকার মত বাঁকা একটি রেখার ওপর ছয় রকমের লক্ষ্মী পট আঁকা হয়। এটা সারা পৃথিবীতে বাণিজ্যের প্রতীক হিসাবে লক্ষী পুজোর সময় ব্যবহার করা হয়, আবার কলা গাছের ছাল দিয়ে তৈরি নৌকাকেও ভাবা হয় বাণিজ্যের প্রতীক।

Kojagari Lakshmi Puja lokkhi

আমাদের রাজ্যের অন্যতম বড় লক্ষ্মী মুর্তি বিক্রির বাজার বসে বেহালায়। গত বছর প্রায় আঠাশ হাজার মুর্তি বিক্রি হয়েছে এখান থেকে। বেহালার পাঠক পাড়ার কাছ থেকে ট্রাম ডিপোর মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে বিক্রেতার সংখ্যা ৬০০ থেকে ৭০০ জন। এ বারে বিক্রেতাদের আশা ঠাকুর বিক্রি ত্রিশ হাজার ছাড়াবে। ব্যবসায়ি সমিতির সম্পাদক অরুন ঘোষ বলেন, “মুর্তির বাজার দর খুব একটা না বাড়লেওতৈরির খরচ বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।”

ঠাকুরের দাম শুরু ৭৫ টাকা থেকে। ছোট থেকে যত বড়র দিকে যাবেন দাম ততই বাড়বে। ছাঁচের ঠাকুরের সর্ব নিম্ন দাম ৭৫ টাকা (৫ ইঞ্চি সাধারণ সাজ), সর্বোচ্চ ৮৫০ টাকা (কৃষ্ণ নগরের দেড় ফুট মুর্তি)। যদি পিতলের ঠাকুর কিনতে চান, দাম শুরু ২৫০ টাকা থেকে।সর্বোচ্চ দাম সাড়ে আট হাজার টাকা। নতুন ধানের শীষ ও ছড়া শুরু ৬ টাকা থেকে। ডিজাইন অনুযায়ী দামের পরিবর্তন হয়। কলার ছালের নৌকা ১০১ টাকা থেকে শুরু। কলাগাছের বউশুরু ৭৫ টাকা থেকে। পটে আঁকা লক্ষ্মীসরার দাম ১৫০ থেকে শুরু। তবে লক্ষ্মীর আল্পনার পাতার দাম কিন্তু এবার যথেষ্টই বেশি।

মুর্তির দাম কম থেকে বেশি হয় জায়গা বিশেষের তৈরি প্রতিমায়। কম থেকে বেশি- টালিগঞ্জ, কালীঘাট, বেলেঘাটা, বারাসাত, কুমারটুলিও কৃষ্ণনগরের প্রতিমা। সবচেয়ে বেশি চাহিদা কৃষ্ণনগরের ঠাকুরের।এরপর কুমোরটুলিরএবংকালীঘাটের। ঠাকুর নেওয়ার সময় ঠাকুরের চোখটা শুধু দেখুন। এটাই ঠাকুর কেনার মোক্ষম টিপস। খড় মাটির তৈরি প্রতিমা স্থানীয় ভাবে তৈরি হয়। তবে দাম এবারে একটু বেড়েছে। বড় ঠাকুর ৩০০ টাকা।

নাড়ু বা মোয়ার দাম তেমন বাড়েনি, কিন্তু মাপে কমেছে। বাকি সব কিছুতে গড়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ দাম বেড়েছে। অনেকের এই পুজোতে ইলিশের দরকার হয়। ৫০০ গ্রামের একটু বড় সাইজের ইলিশের দাম ৫৫০ টাকা প্রতি কেজি।

সবজির দাম বেশ চড়া। একটা ছোট ফুল কপি ৩০ টাকা, জলপাই ৭০ টাকা, নতুন আলু ৫০ টাকা থেকে শুরু। ফলের ও ফুলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।
সব শেষে আসি পুরোহিতের কথায়। এবছর থেকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চালু হয়েছে পুরোহিতদের প্যাকেজ। তবে ব্রাহ্মণ নিয়ে আর চিন্তা নেই।

লক্ষ্মী পুজোর ইভেন্টের পুরো দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছেন ওনারা। ঠাকুর থেকে আল্পনা সব প্যাকেজে। আগের দিন সব পৌঁছে যাবে। আর সঠিক সময়ে পুরোহিত হাজির।
মা লক্ষ্মীর আরাধনা করতেই হবে। তাই অত কিছু না ভেবে বাজারে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেই হল। ধান দিয়েছেন যিনি, ধনও দেবেন তিনি। তিনি যে মা ধন লক্ষ্মীও।

Sunday, October 25, 2015

Nakhoda Mosque


Built in 1926, the Nakhoda mosque meaning Mariner is a place of prayer with a prayer hall capacity of 10,000 for the faithfuls of Islam built by Kutchi Memon Jamat. The word originated from the Arabic word masjid that indicates the location in which you reach the Sujud, the prostrations that are part of compulsory movements that must take the faithful praying.

Saturday, October 24, 2015

City Centre New Town


The City Centre New Town shopping center or multi directional differs from traditional mall for its services and activities it performs. A shopping center is a structure that encloses a supermarket or hypermarket, surrounded by a number of shops shopping mall and catering.

Sunday, October 18, 2015

কুমোরটুলি

উমার সাজ প্রায় সম্পূর্ণ। শেষবেলার রং-তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। উমার সাজঘরের কুশীলবেরা এখন দিন-রাত এক করে মৃণ্ময়ীকে সাজাতে ব্যস্ত। কুমোরটুলি সারাটা বছর থাকে প্রচারের আড়ালে। কিন্তু, এই দুর্গাপুজোর সময়টায় সেই বিশ্বকর্মা'রা আসেন যেন অন্য রূপে!

জীবন আর মাটির স্বর্গ যেন একাকার হয়ে যায়...প্রতিমা বেরিয়ে পড়ছে সাজঘর ছেড়ে...যাচ্ছে মণ্ডপ আলো করে মানুষের মনের আলো জ্বালাতে...উৎসবের কাল এল।কুমোরপাড়ার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেল সেই কাল, গভীর রাতে শিল্পী আর কারিগরদের আড্ডা, সাত-সকালের ঘুমভাঙা জীবন, মাটির টান আর সে জীবনের পরতে পরতে ভেসে আসে বন্দনার সুর। মা আসছেন...

kumartuli durga puja

Tuesday, October 13, 2015

শিউলি ফুলের ছবি

ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা পড়ছে। আশ্বিনের ডাক মানেই পুজোর ডাক! বাড়ির কাছের নদীর জলে উপুড় হয়ে চুম্বন করল কি পুজো এল-পুজো এল আকাশ?ভোরের মাটিতে শিউলি ঝরে পড়ছে। আজও সকালে হিমেল হাওয়ায় শিউলির সুবাস খুঁজে বেড়াই, এই সময় শিউলিতলা কেমন আলো করে থাকত, ভোরের শিশির মেখে সূর্যের কিরণ যখন তার উপর এসে পড়ত শিউলির তখন নববধূর বেশ। শিউলিগুলো চৌকো ফ্রেমে ধরা দিয়েছে বাড়ির জানলায়।

জানালার ধারে একটা শিউলি গাছ ছিল। ভোরের রাতে শিউলি ফুলের গন্ধে ভরে যেত সারাটা ঘর। ঝরে পড়া শিউলি ফুলের হালকা টুপটাপ শব্দ শোনা যেত সারাটা রাত ধরে। সেই টুপটাপ শব্দ শুনতে শুনতে এক সময় ষষ্ঠীর সকাল এসে পড়ত। ঠিক তখনই সারা ঘরে একটা মায়াবী আলো ছড়িয়ে পড়ত।

Monday, October 12, 2015

শরতের কাশফুল নিয়ে কবিতা, ছবি

ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা পড়ছে কি? ভাদ্র কেটে আশ্বিন এল বলে! বাড়ির কাছের নদীর জলে উপুড় হয়ে চুম্বন করল কি পুজো এল-পুজো এল আকাশ? ভোরের মাটিতে শিউলি ঝরে পড়ল বলে পদ্মেরা মাথা তুলছে, কাশের দল দোল দিচ্ছে মনের বনের আনাচ-কানাচ।

স্কুলফেরত খুদেদের দাপাদাপি কাশের বনে। কাশফুল মাথায় দিয়ে গ্রামের সেই কিশোরী যেন এই পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানবী! অচিন নদীতে নৌকো ভাসিয়ে দু’পারের কাশের জঙ্গল পেরিয়ে অজানা পথ পাড়ি দেয় যে মাঝি।

Kash Flower

Friday, October 9, 2015

বাংলার মিষ্টান্ন

যদি মিষ্টি খেতে মিষ্টি না হয়ে অন্য কোন স্বাদের হতো, সেক্ষেত্রে মিষ্টির নাম হতো কি? মিষ্টি একাধারে যেমন একটি স্বাদের নাম, ঠিক তেমনি মিষ্টি একটি বিশেষ মিষ্টান্ন জাতীয় খাদ্য প্রকার। চা’য়ে চিনি দিলে বলা হয় মিষ্টি চা। চিনি দিয়ে তৈরী বিস্কুটকে বলা হয় মিষ্টি বিস্কিট। শরবতে লবনের পরিবর্তে চিনি দিলে বলা হয় মিষ্টি শরবত। তাই যদি হয়, তাহলে বলুন তো, মিষ্টিতে চিনি দিলে সেটাকে কি বলা হবে? মিষ্টি চিনি?

মিষ্টি নিয়ে যতসব মিষ্টি মিষ্টি কথা না বাড়িয়ে, চলুন শুনি কিছু মিষ্টি কাহিনী। মিষ্টি হলো চিনির বা গুড়ের রসে ভেজানো ময়দার গোলা কিংবা দুধ- চিনি মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন আকৃতির ছানার/ময়দার টুকরো করা খাবার। বাঙ্গালির খাওয়া-দাওয়ায় মিষ্টি একটি অতি জনপ্রিয় উপকরণ। বাঙ্গালির কোন উপলক্ষ-অনুষ্ঠানই মিষ্টি ছাড়া পূর্ণতা পায় না। মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে।

বঙ্গ দেশে মিষ্টিকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য নামী-দামী মিষ্টির দোকান। সেই আদিযুগের লাড্ডু থেকে শুরু করে সন্দেশ, কালোজাম পেরিয়ে আজ মিষ্টির প্রকারভেদ শিল্পের সমপর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, স্বাদ ও আকারে এমনকি নামকরণের ভিন্নতা নিয়ে স্বতন্ত্র সত্তায় জনপ্রিয়। মিষ্টির প্রকারভেদ বাংলার মিষ্টিকে দুভাগে ভাগ করেছেন সুকুমার সেন। প্রথম ভাগে আছে একক উপাদানে তৈরী মিষ্টি।

এ ধরণের মিষ্টিতে গুড় বা চিনির সাথে আর কিছু মিশ্রিত থাকে না। যেমন গুড় বা চিনির নাড়ু ও চাকতি, পাটালি, বাতাসা, খাজা, ছাঁচ ইত্যাদি। দ্বিতীয় ধরণের মিষ্টিকে আরো দু’ রকমে ভাগ করা চলে। গুড় বা চিনির সাথে দুগ্ধজাত কোন উপকরণ ছাড়া অন্য দ্রব্য সহযোগে তৈরীকৃত মিষ্টান্ন। যেমনঃ নারকেল, তিল এসবের নাড়ু, চিঁড়ে, মুড়ি, খৈ-এর মোয়া ইত্যাদি। দুগ্ধজাত দ্রব্যযোগে তৈরী নানান ধরণের মিষ্টি রসিক ও মিষ্টিপ্রিয় বাঙ্গালির সুপরিচিত।

চিনির সাথে ছানার সংযোগে তৈরী হয় সন্দেশ ও মন্ডা। আবার এই ছানা রসে মাখিয়ে তৈরী হয় রসগোল্লা, দুধে ডোবালে রসমালাই। বেসনের ছোট ছোট দানা ঘিয়ে ভেজে তৈরী হয় বুন্দিয়া, যা দেখতে ছোট বিন্দুর মতো। কড়া পাকে প্রস্তুতকৃত বুন্দিয়াই মতিচুর, লাড্ডুর কাঁচামাল। যশোরের জামতলার মিষ্টি এটি বাংলার বিখ্যাত মিষ্টিগুলোর মধ্যে অনন্য। এটি বাংলার প্রাচীনতম একটি মিষ্টি। তবে এটি এখন বঙ্গ দেশে সর্বত্র পাওয়া যায়।

চমচম দেখতে অনেকটা লম্বাটে আকৃতি আর শরীরে মাওয়া জড়ানো মিষ্টির নাম চমচম। হালকা আঁচে পোড় খাওয়া এই মিষ্টির রঙ গাঢ় বাদামি বা লালচে। বাহিরটা একটু শক্ত হলেও এর ভেতরটা কিন্তু একদম রসে ভরপুর। একেবারে মাত্রা মতো মিষ্টি, ঘন রস আর টাটকা ছানার গন্ধমাখা পোড়াবাড়ির এই মিষ্টির স্বাদ সত্যি অতুলনীয়। কেউ কেউ তাই মজা করে বলেন- এটি এমন জিনিস, যে না খাবে সেই পস্তাবে! স্বাতন্ত্রেও এর জুড়ি মেলে না।

এর সুনাম রয়েছে বাংলা, বিহার ছাড়িয়ে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে। গাঢ় বাদামি বা লালচে রঙের এই সুস্বাদু চমচমের উপরিভাগে চিনির গুঁড়ো আর মাওয়া জড়ানো থাকে। এর ভেতরের অংশ বিশেষ কায়দায় করা হয় ফাঁপা ও রসাল নরম। চমচম সম্পর্কে ইতিহাস ঘেঁটে যতটা জানা যায়- বৃটিশ শাসন আমলে দশরথ গৌড় নামের এক ব্যক্তি টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী পোড়াবাড়িতে এসে বসতি গড়েন।

আসাম থেকে এসে দশরথ গৌড় যমুনার সুস্বাদু মৃদু পানি ও এখানকার গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে প্রথম তৈরি করেন এক ধরনের বিশেষ মিষ্টি। লম্বাটে আকৃতির এ মিষ্টির নাম দেন তিনি চমচম। তার তৈরি চমচম এলাকার লোকজন পছন্দ করতে শুরু করে। পরে সুযোগ বুঝে সে এখানে রীতিমত মিষ্টির পশরা সাজিয়ে বসেন। নাটোরের কাঁচাগোল্লা কাঁচাগোল্লার স্বাদ রসগোল্লা, পানতোয়া, এমনকি সন্দেশকেও হার মানিয়ে দেয়।

এর রয়েছে একটি আলাদা গন্ধ যা অন্য কোন মিষ্টিতে পাওয়া যায় না। হেতু ধীরে ধীরে মিষ্টি রসিকরা এ মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। তখন থেকে নাটোরের দোকানদাররা নিয়মিত এ মিষ্টি বানাতে থাকে। কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। কোনও কোনও দোকানে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন মণ ছানার কাঁচাগোল্লা তৈরি হতে লাগল। সে সময় ঘোষক দ্বারা প্রচার হতো কাঁচাগোল্লার কথা।

কাঁচাগোল্লা । এ নামেই পরিচিতি দেশ-বিদেশে। ১৭৫৭ সাল থেকে এই মিষ্টি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। ধীরে ধীরে মিষ্টিরসিকরা এই মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। ১৭৬০ সালে বাংলার শাসনকর্তা রানী ভবানীর রাজত্বকালে বিভিন্ন মাধ্যমে কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়াতে থাকে। কুমিল্লার রসমালাই কুমিল্লার রসমালাই কেবল বাংলাদেশে নয় পুরো উপমহাদেশেই ভোজনরসিকদের কাছে একটি পরিচিত খাবার।

bengali sweet

দুধের রসগোল্লা বা রসমালাই অনেক জায়গাতেই তৈরি হয়। কিন্ত কোনটাই ঠিক কুমিল্লার রসমালাইয়ের মত নয়। বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়ন করেছে কুমিল্লার রসমালাই দিয়ে। আর পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে নিয়মিতভাবে ভারতে যাচ্ছে এসব রসমালাই। উনিশ শতকে ত্রিপুরার ঘোষ সম্প্রদায়ের হাত ধরে রস মালাইএর প্রচলন হয়। সে সময় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মিষ্টি সরবরাহের কাজটা মূলত তাদের হাতেই হত।

মালাইকারির প্রলেপ দেয়া রসগোল্লা তৈরি হত সে সময়। পরে দুধ জ্বাল দিয়ে তৈরি ক্ষীরের মধ্যে ডোবানো রসগোল্লার প্রচলন হয়। ধীরে ধীরে সেই ক্ষীর রসগোল্লা ছোট হয়ে আজকের রসমালাই-এ পরিণত হয়েছে। বগুড়ার দই বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে দই তৈরি হয় না এমন জায়গা নেই। তবে স্বাদ আর মান বগুড়ার দইকে নিয়ে গেছে এক অনন্য অবস্থানে। এ জেলার প্রায় ১০০ দোকানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার দই বেচাকেনা হয়।

সে হিসেবে বছরে বিক্রি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। প্রবাসীদের আগ্রহের কারণে বগুড়ার দই পৌঁছাচ্ছে কানাডা, ফিলিপাইন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বহু দেশে। ১৯৬০-এর দশকের দিকে গৌরগোপাল পালের সরার দই তৈরি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। বগুড়ার নবাব পরিবার ও সাতানি পরিবারের কাছে দই সরবরাহ করতেন এ কারণে সে সময় তাঁর দই 'নবাববাড়ির দই' নামে পরিচিতি পায়।

তিলের খাজা এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পাল সম্প্রদায়ের লোক এ উপাদেয় খাদ্যটি তৈরি করত। ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হবার আগে শহরের দেশওয়ালী পাড়া এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার তিলের খাজা তৈরী করত। এর পর থেকেই আস্তে আস্তে তিলের খাজার প্রসার ঘটতে থাকে। তখন থেকেই ক্রমে তিলের খাজার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশে জুড়ে।

প্যারা সন্দেশ বিচিত্র সব খাবারের মধ্যে রয়েছে শত বছরের সুখ্যাতি। শুরুতে পূজা মণ্ডপের দেব-দেবীর উপাসনার উদ্দ্যেশ্যে তৈরি করা হলেও এখন এই সন্দেশ দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। জনশ্রুতি আছে যে, নওগাঁ শহরের কালিতলার মহেন্দ্রী দাস নামে এক ব্যক্তি প্রথমে প্যারা সন্দেশ তৈরি শুরু করেন। যশোরের খেজুর রসের ভিজা পিঠা খেজুর রসের রসের ভেজা পিঠা শীতকালের একটি জনপ্রিয় পিঠা।

শীতকালে ভোরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তার মধ্যে দুধ, চিনি বা গুড়ের সাথে চিতই পিঠা ভিজিয়ে এই পিঠা তৈরী করা হয়। এটি এখন শুধু আর যশোরে সীমাবদ্ধ নেই, সারা বাংলাদেশ জুড়েই রয়েছে এর জনপ্রিয়তা। মহাস্থানের কটকটি বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী বলে পরিচিত বগুড়ার মহাস্থান গড় বা পুরানো নাম পুন্ডনগর বেড়াতে গেছেন বা বনভোজনে গেছেন, অথচ মহাস্তান গড়ের কটকটি দেখে খাওয়ার স্বাদ মনে জাগেনি।

দইয়ের ঐতিহ্যবাহি খাবার হিসাবে বেশ প্রসিদ্ধ লাভ করেছে ভ্রমনপিপাসুদের মাঝে। রসকদম ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম মিষ্টান্ন। খোটখাটো অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বড় ধরনের যে কোন অনুষ্ঠানে এই মিষ্টির রয়েছে ব্যাপক কদর। এমনকি দেশের বাইরেও ভারত, আমেরিকাতেও রয়েছে এর পরিচিতি। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ বিশেষ মিষ্টির ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছেন সেখানকার ময়রারা। তাঁদের নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতায় ঐতিহ্যবাহী হয়ে উঠেছে সেসব মিষ্টি।

এর মধ্যে আছে রসগোল্লা, রাঘবসাই, মণ্ডা, আমৃতি খেজুরের নোলন গুড়ের প্যারা সন্দেশ, তিলের খাজা, পাতক্ষীরা, ক্ষীরের চমচম, রসমালাই, দই, ছানামুখি, ক্ষীর, জিলাপী, তালরসের পিঠা।

Friday, October 2, 2015

Kolkata Race Course

Kolkata Race Course rctc

Built in the year 1820, Kolkata Race Course, is one of the largest horse race venues in India, has a capacity of 30000 spectators. In its history have been hosted here also meetings of horse racing. It plays host to horse races during weekends during July to September and November to March seasons. The modern racetracks have forums and structures to accommodate the audience and allow them to make bets on races in the program. Depending on the type of competition that host, there are racecourses dedicated to the races at the trot, to those in the canter and multipurpose facilities, able to accommodate both types of stroke.

Wednesday, September 23, 2015

বেলুড় মঠ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে হাওড়া শহরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বেলুড়ে গঙ্গার পশ্চিমপাড়ে বেলুড় মঠ অবস্থিত। মঠের রামকৃষ্ণ মন্দিরটির স্থাপত্যে হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টীয় ধর্ম চেতনার সংমিশ্রণ লক্ষিত হয়।

দ্বিতল রামকৃষ্ণ সংগ্রহালয়ে রামকৃষ্ণ পরমহংস, সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দ ও অন্যান্য কয়েকজন বিশিষ্ট শিষ্যের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে পাশ্চাত্যে স্বামী বিবেকানন্দ পরিহিত লং কোট, ভগিনী নিবেদিতার টেবিল, ও মিসেস সেভিয়ারের একটি অর্গান। সংগ্রহালয়ে রামকৃষ্ণ আন্দোলন ও সমসাময়িক বাংলার ইতিহাস চিত্রের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।

kolkata belur math ramakrishna mission


Tuesday, August 25, 2015

Missionaries of Charity


Mother House of the Missionaries of Charity founded by Mother Teresa. This large spirituality inside together with the signatures of reincarnation belief gives them peace and tranquility. The Tomb of Mother Teresa is in a simple room in the refectory of the Mother House of the Missionaries of Charity, the order founded by religious born in Skopje in 1910 and died in Calcutta in 1997.

Sunday, August 16, 2015

Kolkata Port Dock



The Kolkata Dock System also includes impounded dock systems at Netaji Subhas near kidderpore which handles mostly containers and Haldia. The shipyards Kolkata Dockyard, are at the face of the River Hooghly, are among the oldest in the country. Their origin dates back to the period following the British East India Company in 1870, following the shift of power from the company to the British crown and new ports were needed. Throughout its history, the yards have built vessels for the Indian Navy. At the peak of its activity has occupied more than 16% of the total number of vessels. 

Thursday, August 13, 2015

Kolkata Municipal Corporation

Kolkata Municipal Corporation kmc

Established in 1876, Kolkata Municipal Corporation is an administrative entity determined by specific territorial limits over which stands a portion of the population. It defines, for its characteristics of tuition center in which there is the public social life of its inhabitants, the local entity key.

Wednesday, August 12, 2015

Oxford Bookstore

Oxford Bookstore

Oxford Bookstore is a Calcutta based book store chain founded in 1920 now managed by the Apeejay Surrendra Group located at the time in 15 Park Street, at the facade of Park Hotel in Kolkata. It also has a Cha Bar, library that is interested in literature independent international arts and politics progressive.

Tuesday, August 11, 2015

Kolkata Bus Service

Kolkata Bus route volvo jnnurm

Kolkata Buses are run by Calcutta State Transport Corporation that manages bus services in Greater Kolkata. Most services are operated by private companies, although this is not well known to the passengers as the bus carrying the same colors and logo of public transport in Kolkata.

Sunday, August 9, 2015

Chowringhee Road

chowringhee Jawaharlal Nehru Road dharamtala

The artery that runs along the Maidan is the largest park Jawaharlal Nehru Road, better known as Chowringhee Road, which is overlooked by numerous monuments. In front of the Victoria Memorial stands the Cathedral of St. Paul, built in the Indo-Gothic style between 1838 and 1847, and the Academy of Fine Arts Nearby is then visible the dome of the Birla Planetarium, one of the largest in the world.

Thursday, August 6, 2015

St Paul's Cathedral Kolkata


The Cathedral of St Paul is located next to the Victoria Memorial, near the Maidan, the most interesting part of the city from tourism point of view. Its an Anglican church built between 1839 and 1847 in neo Gothic style, widely used by the British during the colonial era. The most interesting part, however, is definitely the interior, especially for the decoration of the side walls and the beautiful stained glass.

Monday, August 3, 2015

The Oberoi Grand Kolkata

oberoi grand hotel kolkata

Whether traveling for leisure or business, The Oberoi Grand Kolkata Hotel is a great choice for a stay in Calcutta. The hotel is not far from the city center which is a km away and takes about 40 minutes to reach the airport. Hotel guests can take advantage of the visit to the most important attractions of the city New Empire Cinema, New Market, Shahid Minar in Kolkata.

Saturday, August 1, 2015

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ইতিহাস

কলকাতায় গেছেন অথচ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল দেখেননি এমন লোক খুব কমই আছেন। যেসব স্থাপনা ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে তার মধ্যে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল অন্যতম। এটি ভারতের অন্যতম ঐতিহ্য, যা দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে। আমি কলকাতা ভ্রমণে গেলে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল অবশ্যই ঘুরে আসি, কখনো এটি পুরনো মনে হয় না। বার বার দেখা সত্ত্বেও ছুটে যাই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে।

যে কথা বলছিলাম, প্রকৃতপক্ষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলো রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিসৌধ। কলকাতা ময়দানের দক্ষিণ কোণে অবস্থিত এবং সুরম্য উদ্যান পরিবেষ্টিত শ্বেতপাথরে নির্মিত মেমোরিয়ালটি। এর নির্মাণ শুরু হয় ১৯০৬ সালে। এরপর সৌধটির উদ্বোধন হয় ১৯২১ সালে। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট সিটি হলের স্থাপত্যশৈলীর আদলে এ স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করেন স্যার উইলিয়াম এমারসন।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল ইতালিয়ান রেনেসাঁর স্থাপত্যশৈলীতে এটি নির্মাণ করতে। শুধু ইউরোপীয় স্থাপত্যের আদলে গড়তে বিরোধিতা করেন উইলিয়াম। তিনি তার কাজে মুঘল ছাপও যুক্ত করেন। তাই এটি দেখতে অনেকটা আগ্রার তাজমহলের মতো। অনেকেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে পশ্চিমবঙ্গের তাজমহল বলে আখ্যায়িত করেন। স্মৃতিসৌধটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশাল এক উদ্যান।



ওই সময় এ উদ্যানের নকশা করেছিলেন লর্ড রেডেসডেল ও জন প্রেইন। তখন থেকে আজো উদ্যানটি ধরে রেখেছে তার সৌন্দর্য। আজো কলকাতাবাসী সকাল-বিকালে প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ছুটে আসেন এখানে। সবচেয়ে বেশি ভিড় পরিলক্ষিত হয় প্রাতঃভ্রমণের সময়। পড়ন্ত বিকালে শিশুদের নিয়ে সময় কাটাতে চলে আসেন অভিভাবকরা। সৌধের সর্বোচ্চ গম্বুজে বিউগল-ধারিণী বিজয়দ্যোতির একটি কালো ব্রোঞ্জমূর্তি রয়েছে। বায়ুপ্রবাহ শক্তিশালী হলে বল-বেয়ারিংযুক্ত একটি পাদপীঠের ওপর স্থাপিত মূর্তিটি হাওয়া মোরগের কাজ করে। সৌধের সম্মুখভাগে রয়েছে শ্বেতপাথরের কয়েকটি সিঁড়ি। এসব সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় মূল ভবনে।

ভবনের ভেতরে রয়েছে একটি জাদুঘর। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাস ও নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় এখানে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পাশে অর্থাত্ বারান্দার দিকে স্থাপন করা আছে একটি অস্থায়ী মঞ্চ। মঞ্চের সামনে দর্শকদের জন্য সারিবদ্ধভাবে রাখা চেয়ার। বিশেষ দিনে এখানে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই সঙ্গে এখান থেকে লেজার ওয়াটার শো দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। রাতের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখতে খুবই সুন্দর। দূর থেকে মনে হয় কোনো স্বপ্নপুরী বা কল্পলোকের অট্টালিকা। যে কাউকেই বিমোহিত করতে পারে এর সৌন্দর্য। মুগ্ধ হতে পারেন এর ইতিহাস-ঐতিহ্যে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কলকাতা শহরে।

Friday, July 31, 2015

হাওড়া ব্রিজ - ছবি ও ইতিহাস

ভারতের কলকাতা শহর এবং হাওড়া শহরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী বিখ্যাত সেতু হলো হাওড়া ব্রিজ। এটি হুগলি নদীর ওপর অবস্থিত। হাওড়া ব্রিজ নামে বেশি পরিচিত হলেও ব্রিজটির বর্তমান নাম রবীন্দ্র সেতু। ১৮৭১ সালে ব্রিজটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকরা। এরপর ১৮৭৪ সালে হাওড়া ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ব্রিজটি ছিল তৎকালীন ভারতবর্ষে সর্ববৃহৎ ভাসমান অবকাঠামো।

এই ব্রিজটির পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার ব্র্যাডফোর্ড লেসল। সে সময় ভারতে উন্নত প্রাযুক্তিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে লেসল ইংল্যান্ডে সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ করেন। পরে জাহাজে করে মালামালগুলো কলকাতায় এনে সেতুটির জন্য নির্ধারিত জায়গায় বসিয়ে দেন। সেতুটির দুই দিকের স্তম্ভের মাঝখানের অংশের দৈর্ঘ্য ছিল ১৫২৮ ফুট।



সে সময়ই সেতুটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৬০ লাখ রুপি। তবে সেতুটি নির্মাণের সময় ১৮৭৪ সালেই এক ঘূর্ণিঝড়ে একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরে সেগুলো মেরামত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়। ১৯৪৫ সালে পুরনো সেতুটির জায়গায় বর্তমানের ক্যান্টিলিভার সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানের রবীন্দ্র সেতুটি শক্তিশালী ঝড়কেও মোকাবিলা করতে সক্ষম। বর্তমানে এই সেতু দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় এক লাখ গাড়ি এবং ১০ লাখ পথচারী চলাচল করে।

নির্মাণের পর থেকেই সেতুটি প্রয়োজনীয়তা ও সৌন্দর্যের দিক থেকে ভারতবর্ষসহ বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। এটির নির্মাণ কৌশল এবং ব্যবহৃত উপকরণ বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।

Thursday, July 9, 2015

Guava

guava

The guava often referred to as the Spanish Guayaba is a small tree widely cultivated for the commercial value of its fruits. The place of origin of the guava is not certain, but is believed to be the area between Mexico and the southern Central America. It was then spread by humans, birds and other animals in all areas of warm-temperate America and in tropical West Indies from the XVI century. The guava was already known to the Aztecs, who called Xoxocotlan plum sand in later times the first historical date to the first decades of the sixteenth century to the work of Hernandez de Oviedo.

Thursday, July 2, 2015

সিঙ্গারা বানানোর রেসিপি - সিঙ্গারা ভাঁজ করার পদ্ধতি

বাঙ্গালীদের জাতীয় খাবার এর তালিকায় আমি সিঙ্গারাকেই সবার উপরে রাখব। দুপুরে লাঞ্চের আগে গরম গরম সিঙ্গারা আর পেয়াজ হলে কথাই নেই! সিঙ্গারার স্বাদ নির্ভর করে ভিতরের উপকরণ এর উপর। আর উপকরণ হিসেবে যদি আলু থাকে তাহলে স্বাদই থাকে আলাদা। মজার আলু সিঙ্গারার খোঁজে কলকাতার অলি-গলি চষে বেড়িয়েছি। পুরান কলকাতার সিঙ্গারা খেয়ে মন-পেট দুটোই ঠাণ্ডা হল।

সিঙ্গারার ভিতরটা সাধারণত ড্রাই হয় কিন্ত এদের সিঙ্গারা রসাল ছিল। প্রতি কামড়েই আলুর উপস্থিতি টের পাচ্ছিলাম। সিঙ্গারার সাথে তারা ঘন সস দেয়। সিঙ্গারার ভিতর আলু, আর পেয়াজের দারুন একটা মিলন ছিল! এত মজা লেগেছে যে বাসায় পার্সেলও করে নিয়ে এসেছি ।

Singara Bengali Style

উপকরণঃ

১. আলু -১/২ কেজি
২. মৌরি -১/২ চা চামচ
৩. জিরা -১/২ চা চামচ
৪. মেথি ১/২ চা চামচ
৫. পেঁয়াজ ২ টি
৬. কাঁচামরিচ ৪-৬ টি
৭. আদা ছেঁচা- ২ চা চামচ
৮. জিরা টালা এবং গুঁড়ো- ১ চা চামচ
৯. দারচিনি গুঁড়ো- ১ চা চামচ
১০. ময়দা ২ কাপ
১১. কালজিরা ১ চা চামচ

প্রণালী:

-আলু খোসা ছাড়িয়ে মটরের মত ছোট ছোট টুকরা করে নিতে হবে। কড়াইয়ে ৩ টেবিল চামচ তেল গরম করে মৌরি, জিরা ও মেথি একসাথে মিশিয়ে তেলে ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আদা ও ১টি তেজপাতা দিয়ে ভাজুন ও আলু দিন।

- একটু ভাজা হলে ১ চা চামচ লবণ ও ৩ টেবিল চামচ পানি দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করুন। আলু সিদ্ধ হয়ে গেলে নেড়ে নেড়ে ভাজতে হবে যেন আলু ভাজা ভাজা হয় এবং একটু ভেঙ্গে ভেঙ্গে যায়। জিরা ও দারচিনির গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠান্ডা হলে আলু ২৪ ভাগ করে হাতের মুঠায় ঠেসে গোল করে নিতে হবে। এতে খামিরে ভরতে সুবিধা হবে।

-ময়দায় ৪ টেবিল চামচ তেল দিয়ে ময়ান দিন। কালজিরা মেশান। আধা কাপ পানিতে ১ চা চামচ লবণ গুলে এই পানি আন্দাজমতো দিয়ে ময়দা মথে নিন। খামির শক্ত হবে। এক ঘণ্টা রেখে দিন।

-খামির ভালো করে মথে ১২ ভাগ করে নিন। একভাগ ডিম এর আকারে বেলে ছুরি দিয়ে কেটে দু’ভাগ করে নিন (লম্বায় না কেটে পাশে কাটলে ভালো)।
-একভাগ দু’হাতে ধরে কোণ বা পানের খিলির মত ভাঁজ করুন। ভিতরে ভর্তি করে ঠেসে আলুর পুর দিন। খোলামুখে পানি লাগিয়ে ভালভাবে এঁটে দাও দিন প্যকেটের মত। নীচের সুচালো অংশ একটু মুড়ে দিন। চওড়া মোড়ানো দিক উপরে দিয়ে সিঙ্গারা একটি থালায় সাজিয়ে রাখ। এভাবে সব সিঙ্গারা তৈরি করে নিন।

-কড়াইয়ে দেড় কাপ তেল মৃদু আঁচে অনেকটা সময় গরম করে নিন। আচ বেশি হলে সিঙ্গারার চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে। অর্ধেক সিঙ্গারা একবারে তেলে ছাড়ুন। মৃদু আঁচে ১৫-২০ মিনিট ভাজুন। হালকা বাদামি ও মচমচে হলে নামিয়ে নিন। জিরা, তেঁতুলের চাটনী, মেয়েনেজ বা টমেটো সসের সাথে গরম সিঙ্গারা পরিবেশন করুন। ওপরে মাখন মাখিয়েও পরিবেশন করতে পারেন।

Tuesday, June 23, 2015

Jamrul Fruit

Jamrul java apple

Jamrul or Water Apple or Java Apple or Wax Apple is a tree native to Southeast Asia and widely occurring elsewhere, having been introduced as an ornamental tree and fruit. The tree has been variously attributed to the genus Eugenia Syzygium, where time seems to have been accepted on a permanent basis.

There have been some species attributed to it, but now several varieties with different colors of fruit are all recognized as Syzygium. Syzygium jambos has several common names, reflecting the large number of regions in which it manifests itself as a tree garden or fruit or as an invader.

The names include Malabar Plum, chambakka, Chom Chom-pu or Phu. Terms such as plum rose, water apple, Malay apple, jambrosade, and Pomarrosa, or the English equivalent, rose apple. Many of these names are also applied to other species of Syzygium.

The Jambu name for this fruit is probably limited to one or two of the twenty major Indian languages, while most of the other languages ​​use similar words Jaamun, Jaambhool, etc. to another fruit, smaller than the rose apple, and dark purple as the fruit of the eggplant.

In Karnataka the common English name is rose apple and the common name is Pannerale Paneer Hannu, while the name for the other is eral. This confusion of common names in horticulture is nothing unusual also known as Boga Jamuk in Assamese and Jamrul in Bengali.

Syzygium Jambos leaves and fruits. The young leaves are a glossy red when he grows up, but become dark green at maturity. Jambos Syzygium is a large shrub or small tree of medium size, high-typically three to 15 meters, with a tendency to lower branching. Its leaves and twigs are hairless and bark, dark brown, however, is quite smooth too, with little relief or texture. The leaves are lance-shaped, two cm to 4 cm wide, 10 cm to 20 cm long, pointed, base cuneate almost no petiole, bright red when he grows up, but dark, glossy green on reaching full size. The flowers are small terminal clusters, white or greenish white, long, many stamens, giving them a diameter of 5-8 cm. In temperate regions the tree is flowering in summer.

The edible fruit of Syzygium the shape of some types of guava, for which the plant is quite closely related. Indeed, the fruit is so like the guava in appearance that people are not familiar with it can exchange for a guava on sight. However, the fragrance, flavor and texture are different, and instead of containing dozens of small hard seeds, immersed in a gelatinous tissue, as does guava, the fruit of Syzygium jambos usually contains one or two large, semi unarmed, about one cm in diameter, lying loose in the cavity a bit 'fluffy maturation.

Shaking a fruit to see if the seeds rattle, gives some indication of whether it is ripe. The skin is thin and waxy. The flowers are described by some as fragrant, though this seems to be an attribute variable. The ripe fruit, however, has a strong, pleasant floral bouquet, from which the common names like Rose apple and Pomarrosa. There are many varieties of Syzygium the world, including wild trees anonymous. In Thailand the most common variety grown wears a pale green fruit. Variety Malaysians generally have red skins.



In many regions of the fruit is a shade of pale yellow, often with a slight blush. The skin is thin and waxy, and the hollow core contains a small amount of fluff insignificant. The flesh is crunchy and watery, and the taste is characteristic, which leads to some fanciful descriptions such as like a cross between nashi and bell pepper, with a delicate rose scent and a little bitter aftertaste. There seems to be considerable variation in flavor if such a description has no merit; in South Africa, for example, there is no obvious bitter aftertaste, but the bouquet is very assertive, when you consider how pink like it or not.

Syzygium Jambos is native to Southeast Asia but is naturalized in India, especially the state of Kerala was also introduced widely in all continents except Antarctica, and has established and invasive in different regions. Concern has been expressed regarding the threat of different ecosystems, including those in different islands of Hawaii, Reunion Island, the Galapagos Islands, parts of Australia and the warmer parts of the Americas.



Rich in vitamin C, the fruit can be eaten raw or used in various regional recipes. In the countries of south-east Asia, rose apple fruit is often served with spiced sugar. The wood is dense and therefore is used as a carbon source. The tree is rich in tannins that are of some interest antimicrobial. Some parts of the plant are used in traditional medicine in the region.

Wednesday, June 17, 2015

শিশু দিবস

ভারতে শিশু দিবস প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর পালিত হয়। শিশু দিবস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়। শিশু দিবস পালনকারী প্রথম দেশ তুরস্ক। তুরস্কের অধিবাসীরা শিশু দিবস প্রথম পালন করেন ২৩ শে এপ্রিল, ১৯২০ সালে। সারা বিশ্বে বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয় ২০ শে নভেম্বর এবং আন্তর্জাতিক শিশু দিবস’ পালিত হয় ১ জুন।

১৯৬৪ সালে প্রথম ভারতে শিশু দিবস পালন করা হয়। এদিনে আমাদের প্রিয় দেশকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করার নতুন শপথ নিতে হবে সবার। শিশু দিবস পালনে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে টেলিভিশন, বেতারসহ বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

Childrens Day

সংবাপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনাসভা আয়োজিত হয়।

সর্বোপরি আজকের শিশুরাই আগামীর সক্ষম নাগরিক। তাই শিশু-কিশোরদের চারিত্রিক দৃঢ়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য-পুষ্টির দিকে নজর দিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হোক আমাদের এ বছরের শিশু দিবসের প্রত্যয়।


Thursday, May 7, 2015

বাঙালি হিন্দু বিবাহ - নিয়ম, মন্ত্র, প্রকারভেদ, পদ্ধতি

বাঙালিদের বিবাহ বলতে বোঝায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রে বসবাসকারী বাঙালি হিন্দুদের বিবাহ-সংক্রান্ত নিজস্ব প্রথা ও রীতিনীতি। উচ্চবর্ণীয় হিন্দু সমাজের বিবাহে প্রধানত দুইটি আচারগত বিভাগ লক্ষিত হয়। যথা, বৈদিক ও লৌকিক। লৌকিক আচারগুলি স্ত্রী আচার নামে পরিচিত। বৈদিক আচারগুলির মধ্যে অবশ্য পালনীয় প্রথাগুলি হল কুশণ্ডিকা, লাজহোম, সপ্তপদী গমন, পাণিগ্রহণ, ধৃতিহোম ও চতুর্থী হোম।

অতীতে বাঙালি হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহের ব্যাপক প্রচলন ছিল। বর্তমানে বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ। বর্তমান কালে পরিণত বয়সেই বিবাহ প্রথা প্রচলিত। তবে বিবাহে পণপ্রথা এখনও বহুল প্রচলিত। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ আইনসিদ্ধ হয়। ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়। নাগরিক সমাজে অসবর্ণ বিবাহও বর্তমানে প্রচলিত হয়েছে।

বিবাহে কন্যা সম্প্রদান করা হয়। তার মানে স্বামীই তার সকল দায়িত্ব নিয়ে নেন। তাই ধর্ম মতে কোন বিবাহ বিচ্ছেদ নেই। যদিও ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বিবাহ বিচ্ছেদ আইনসিদ্ধ হয় যা কার্যকর করতে আদালতের আশ্রয় নিতে হয় । কারন বিচ্ছেদ সেখানেই সম্ভব যেখানে চুক্তি সম্পাদিত হয়। তাই হিন্দু আইনে স্ত্রী সারা জীবন স্বামীর কাছ থেকে সকলঅধিকার ভোগ করতে পারেন। স্বামীর সব কিছুই তার স্ত্রীর।

সংসারিক সকল সিদ্ধান্ত স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ- সিদ্ধান্তে হয়ে থাকে। স্ত্রীকে সত্যিকার অর্ধাঙ্গী বলা হয় কেননা স্বামীর যে কোন বিষয়ে স্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু বিধান আনুসারে। স্ত্রী উপস্থিতি ছাড়া স্বামী যজ্ঞ বা কোন ধর্মীয় কার্যাদি পরিপূর্ণ করতে পারেন না। এছাড়া একমাত্র হিন্দু ইতিহাসেই দেখা যায় অনেক মহান রাজা তাঁর স্ত্রীর নিকট থেকে সিধান্ত নিয়ে রাজ্যপরিচালনার মত কাজও করেছেন।

বাঙালি সমাজে পাঁচটি শাখা রয়েছে — রাঢ়ী, বারেন্দ্র, বৈদিক, সপ্তশতী ও মধ্যশ্রেণী। বাঙালি কায়স্থ সমাজে রয়েছে চারটি শাখা — উত্তর রাঢ়ী, দক্ষিণ রাঢ়ী, বারেন্দ্র ও বঙ্গজ। এই সকল বর্ণ এবং তাদের শাখা ও উপশাখাগুলির মধ্যে বিবাহ প্রথায় দুটি বিভাগ দেখা যায় — বৈদিক ও লৌকিক। লৌকিক প্রথাগুলি মেয়েলি আচার। এই কারণে এগুলি ‘স্ত্রী আচার’ নামে পরিচিত।

বৈদিক আচারে সাম, যজুঃ ও ঋক্ বেদত্রয়ের অনুসরণকারী ব্রাহ্মণদের মধ্যে বিবাহ প্রথায় আবার সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। হিন্দু বিবাহের বৈদিক আচারগুলির মধ্যে অপরিহার্য হল কুশণ্ডিকা, লাজহোম (লাজ বা খই দিয়ে যজ্ঞানুষ্ঠান), সপ্তপদী গমন, পাণিগ্রহণ (কন্যার পাণি অর্থাৎ হস্ত গ্রহণ), ধৃতিহোম (ধারণ করার অর্থাৎ কন্যাকে ধরে রাখার যজ্ঞ) ও চতুর্থী হোম।এছাড়া পালিত হয় অরুন্ধতী নক্ষত্র দর্শন, ধ্রুব নক্ষত্র দর্শন, শিলারোহণ ইত্যাদি কয়েকটি বৈদিক প্রথাও। বৈদিক প্রথাগুলি বিধিবদ্ধ শাস্ত্রীয় প্রথা ও বিবাহের মূল অঙ্গ।

বাঙালি হিন্দু বিবাহের লৌকিক আচার বহুবিধ। এই প্রথাগুলি বর্ণ, শাখা, উপশাখা এবং অঞ্চল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের হয়। এগুলির সঙ্গে বৈদিক প্রথাগুলির কোনো যোগ নেই।

পাটিপত্র বিবাহের প্রথম আচার। এই আচার লগ্নপত্র বা মঙ্গলাচরণ নামেও পরিচিত। ঘটকের মাধ্যমে সম্বন্ধ করে বিবাহ স্থির হলে নগদ বা গহনাপত্রে যৌতুক ও অন্যান্য দেনাপাওনা চূড়ান্তভাবে স্থির করার জন্য যে অনুষ্ঠান হয়, তাকেই পাটিপত্র বলে। এই আচারের মাধ্যমেই বিবাহের অন্যান্য আচারের সূচনা ঘটে।

পানখিল বিবাহের দ্বিতীয় আচার। এটি পাটিপত্রের ঠিক পরেই পালিত হয়। পানখিলের অর্থ পান পাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে খিল দেওয়া বা খড়কে বেঁধানো। এই আচারটি প্রথমে বরের বাড়িতে এবং পরে কনের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। পানখিল আচারে বাড়ির মেয়েরা এবং প্রতিবেশিনীরা বিয়ের গান গেয়ে থাকেন। এই গানের বিষয়বস্তু হল রাম ও সীতার বিবাহ।

Bengali Wedding

দধি মঙ্গল: বিবাহের দিন বর ও কন্যার উপবাস। তবে উপবাস নির্জলা নয়। জল মিষ্টি খাওয়ার বিধান আছে। তাই সারাদিনের জন্য সূর্য্যোদয়ের আগে বর ও কন্যাকে চিড়ে ও দৈ খাওয়ানো হয়।

গায়ে হলুদ: সংস্কৃত ভাষায় এই রীতিকে বলা হয় গাত্রহরিদ্রা। হিন্দু ধর্মে কয়েকটি জিনিসকে শুভ বলা হয়। যেমন শঙ্খধ্বনি, হলুদ ইত্যাদি। প্রথমে বরকে ও নিতবরকে সারা গায়ে হলুদ মাখানো হয়। পরে সেই হলুদ কন্যার বাড়ী পাঠানো হয়। কন্যাকে সেই হলুদ মাখানো হয়।

শঙ্খ কঙ্কন:কন্যাকে শাখা পরানো হয়। এরপর বিকালে বিবাহের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বর বরণ: বর বিবাহ করতে এলে তাকে স্বাগত জানান কন্যাপক্ষ। সাধাবনত: কন্যার মা তার জামাতাকে একটি থালায় প্রদীপ, ধান দুর্ব্ব ও অন্যান্য কিছু বরণ সামগ্রী নিয়ে বরণ করেন। এরপর বরকে বাড়ীর ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় ও দুধ এবং মিষ্টি খাওয়ানো হয় ।

সাত পাক: বিবাহের মন্ডপে প্রথমে বরকে আনা হয়। এরপর কন্যাকে পিঁড়িতে বসিয়ে আনা হয়। সাধারণত: কন্যার জামাইবাবুরা পিঁড়ি ধরে থাকেন। কন্যা পান পাতা দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন। কন্যাকে পিঁড়িতে করে বরের চারপাশে সাতপাক ঘোরানো হয়।

শুভদৃষ্টি: বিবাহের মন্ডপে জনসমক্ষে বর ও কন্যা একে অপরের দিকে চেয়ে দেখন।

মালা বদল: কন্যা ও বর মালাবদল করেন। এই রীতির অর্থ হচ্ছে দুজন একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নিলেন। অর্থাৎ অগ্নি সাক্ষী রেখে পিতামাতা ও অন্যান্য স্বজনকে সাক্ষী সামনে বর ও কন্যা বিবাহে সন্মতি জানান।

সম্প্রদান: কন্যার পিতা কন্যাকে জামাতার হাতে সম্প্রদান করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ে হৃদয়ের মূল্য অনেক ! হিন্দু সম্প্রদায়ে কন্যার পিতা কন্যাকে বেদমন্ত্রে জামাতার হাতে সম্প্রদান করেন। হৃদয় আবিষ্ট বেদমন্ত্রের বিবাহ মন্ত্র:- যদ্যেত হৃদয়ং তব, তদস্তু হৃদয়ং মম।যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব। আমার হূদয় তোমার জন্য, তোমার হূদয় আমার জন্য, আমাদের দুজনের মিলিত হূদয় হোক ঈশ্বরের জন্য'।

অঞ্জলি: কন্যা ও বর খৈ অগ্নাহুতি দেন। প্রচলিত বাংলায় একে বলে খৈ পোড়া। বৈদিক যুগে মানুষ নানা ধরনের শক্তির উপাসনা করতেন। অগ্নিও তাদের মধ্যে অন্যতম।

সিঁদুর দান: বিবাহের শেষ রীতি হল বর কন্যার কপালে সিঁদুর লেপন করেন। বাঙালি হিন্দু নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় সিঁদুর পরেন। অঞ্চলভেদে এই রীতি কিছু পরিবর্তিত হয়।

প্রাচীন ভারতের শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে বিয়ের প্রকার বিন্যাস করা হয়েছিল। এর কয়েকটি ছিল সম্পূর্ণভাবে লোকাচার ভিত্তিক। তাতে কোন প্রকার মন্ত্রোচ্চারণ বা যাগযজ্ঞের প্রয়োজন হতো না। অন্যদিকে কয়েকটি বিয়ে ছিল শাস্ত্র অনুমোদিত। সেগুলোর মূল অনুষ্ঠান ছিল মন্ত্রপাঠ, যজ্ঞ অনুষ্ঠান এবং কনেকে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী বরের হাতে সম্প্রদান।

চার প্রকার বিয়ে প্রচলিত ছিল মহাভারতীয় যুগে ক) ব্রাহ্ম খ) গান্ধর্ব গ) অসুর ঘ) রাক্ষস। এর মধ্যে একমাত্র ব্রাহ্ম বিয়েতেই মন্ত্রোচ্চারণ এবং যজ্ঞের আয়োজন হতো। বৈদিক যুগের পর এর সঙ্গে যোগ হয় আরো ৪ প্রকার বিয়ে। এগুলো হল ক) দৈব খ) আর্য গ) প্রজাপাত্য ঘ) পৈশাচ। পৈশাচ ছাড়া অন্য বিয়েগুলো ছিল যজ্ঞ ও মন্ত্র নির্ভর।

এ ৮ রকম বিয়ের মধ্যে বেশিরভাগ পন্ডিতরা ব্রাহ্ম,দৈব, আর্য ও প্রজাপাত্য বিয়েকে উন্নত ও আধ্যত্মিক বিয়ে নামে অভিহিত করেছেন। শাস্ত্রজ্ঞান সম্পন্ন পাত্রের কাছে যজ্ঞ ও মন্ত্রোচ্চারণসহ কন্যাদানের নাম ব্রাহ্মবিবাহ। যজ্ঞাদিসহ অলঙ্কারাদি দিয়ে সাজিয়ে কন্যাদান দৈববিবাহ। বরের কাছ থেকে এক বা একাধিক গোমিথুন নিয়ে কন্যাদান আর্যবিবাহ।

উভয়ে মিলিত হয়ে ধর্মাচারণ কর- এ উপদেশ দিয়ে অর্চনা সহকারে কন্যাদান প্রজাপাত্য বিবাহ। অর্থের বিনিময়ে মেয়ে কিনে তাকে বিয়ে করার নাম ছিল অসুর বিবাহ। গান্ধর্ব বিবাহ মূলত প্রেমের বিয়ে। পিতামাতার অজ্ঞাতে দুজন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিক্রমে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হত। মহাভারতে অর্জুন চিত্রাঙ্গদার এ বিয়ে হয়। সমাজ মনোবিজ্ঞানী ওয়েস্টমার্ক রাক্ষস বিয়েকে ম্যারেজ বাই ক্যাপচার এবং অসুর বিবাহকে ম্যারেজ বাই পারচেজ নামে অভিহিত করেছেন। এদুটি বিবাহ ধর্ম মতে নিকৃষ্ট ও শাস্তি যোগ্য। একুশ শতকের প্রারম্ভকাল পর্যন্ত হিন্দু সমাজ বিশেষত বাঙালি সমাজে প্রজাপাত্য বিয়েই প্রচলিত।

Thursday, April 16, 2015

কালীঘাট কালী মন্দির

কালীঘাট মন্দির কলকাতার একটি প্রসিদ্ধ কালীমন্দির এবং একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতমহিন্দু তীর্থক্ষেত্র। এই তীর্থের পীঠদেবীদক্ষিণাকালী এবং ভৈরব বা পীঠরক্ষক দেবতানকুলেশ্বর। পৌরাণিক কিংবদন্তি অনুসারে, সতীর দেহত্যাগের পর তাঁর ডান পায়ের চারটি (মতান্তরে একটি) আঙুল এই তীর্থে পতিত হয়েছিল। কালীঘাট একটি বহু প্রাচীন কালীক্ষেত্র। কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, কালীক্ষেত্র বা কালীঘাট কথাটি কলকাতা নামটির উদ্ভব।

জনশ্রুতি, ব্রহ্মানন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামে দুই সন্ন্যাসী কষ্টিপাথরের একটি শিলাখণ্ডে দেবীর রূপদান করেন। ১৮০৯ সালে বড়িশার সাবর্ণজমিদার শিবদাস চৌধুরী, তাঁর পুত্র রামলাল ও ভ্রাতুষ্পুত্র লক্ষ্মীকান্তের উদ্যোগে আদিগঙ্গারতীরে বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে। পরবর্তীকালে মন্দিরের কিছু পোড়ামাটির কাজ নষ্ট হয়ে গেলে সন্তোষ রায়চৌধুরী সেগুলি সংস্কার করেন।বর্তমান এই মন্দিরটি নব্বই ফুট উঁচু।

এটি নির্মান করতে আট বছর সময় লেগেছিল এবং খরচ হয়েছিল ৩০,০০০ টাকা।মন্দির সংলগ্ন জমিটির মোট আয়তন ১ বিঘে ১১ কাঠা ৩ ছটাক; বঙ্গীয় আটচালা স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মূল মন্দিরটির আয়তন অবশ্য মাত্র ৮ কাঠা।মূল মন্দির সংলগ্ন অনেকগুলি ছোটো ছোটো মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ, শিব প্রভৃতি দেবতা পূজিত হন।

কালীঘাট কলকাতার শক্তিপূজার ইতিহাসে শুধুই একটা মন্দির নয়! এখনকার মন্দিরটার বয়স হোক না মাত্র দুশো বচ্ছর; স্থানমাহাত্ম্যেই সে মাত করে দিয়েছে সব্বাইকে। এখানেই যে প্রস্তরীভূত হয়েছে সতীর ডান পায়ের কড়ে আঙুল- কালীঘাট তাই একান্নটি শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম। এর খ্যাতির সবচেয়ে পুরনো নমুনা তাই মন্দির সংলগ্ন চত্বর থেকে উদ্ধার হওয়া গুপ্তরাজা প্রথম কুমারগুপ্তর মুদ্রা; অপেক্ষাকৃত নবীন কবি বিজয়গুপ্তর ‘মনসাভাসান’ আর মুকুন্দরামের ‘কবিকঙ্কণ চণ্ডী’-তেও এর জয়জয়কার! এই মন্দিরসংলগ্ন গঙ্গার হাত ধরেই কলকাতার বাণিজ্য শুরু; একসময়ে বণিকদের প্রথম কলকাতায় পা ফেলার জায়গাও এই কালীঘাট।

ইতিহাস বলছে, এত মাহাত্ম্য থাকা সত্ত্বেও কালীঘাটে কিন্তু কোনও জাঁকালো মন্দির ছিল না। থাকবেই বা কী করে? গভীর বনের মধ্যে, খরস্রোতা নদীর পাড়ে মুখ লুকিয়ে ছিল সতীদেহর টুকরো আশ্রয়কারী কালীক্ষেত্র; পূজা দিতে হলে যেতে-আসতে হত বনপথে বাঘের মুখ বাঁচিয়ে। এসব উৎপাত আস্তে আস্তে লোকসমাগমে তফাত গেলে প্রথম মন্দির তৈরি করে দেন রাজা মানসিংহ; মতান্তরে রাজা বসন্তরায়- সেই ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে।

Kalighat Kali Temple

তা, অত দিনের পুরনো স্থাপত্য- সে আবার থাকে নাকি? তাই ঝড়ে-জলে সেই মন্দিরের বেহাল দশা হলে আজকের মন্দিরটি তৈরি করে দেন কলকাতার সাবর্ণ-পরিবার। সেই মতো কাজ শেষ হলে জোড়বাংলা রীতির মন্দিরটি মুখ দেখায় ১৮০৯ সালে। এরও কিছু পরে ১৮৩৫ সাল নাগাদ তৈরি হয় নাটমন্দির; সৌজন্যে বিখ্যাত জমিদার কাশীনাথ রায়। পরে পরে যোগ হয় মন্দিরসংলগ্ন বিখ্যাত ষষ্ঠীতলা; ১৮৮০ সালে গোবিন্দদাস মণ্ডলের উদ্যোগে। এই ষষ্ঠীতলার সেবার অধিকার কেবল নারীদেরই- এমনটাও কলকাতার আর কোনও কালীবাড়িতে নেই। হাড়কাঠতলা, কাককুন্ড- মন্দির তৈরির শুরু থেকেই ছিল; এখনও স্বমহিমাতে যথাস্থানেই আছে।

তবে কালীঘাটের আসল খ্যাতি যে দেবীর জন্য, সে কিন্তু বঙ্গ-উপাস্যা শ্যামার মতো আদপেই নয়। কালীঘাটের কালীমূর্তি ভাস্কর্যের জন্যই আলাদা করে চোখ টেনে নেয়। বিরাট বড় টানা-টানা তিনটি চোখ, রক্তমাখা কপাল আর হাতকয়েক লৌল জিহ্বায় কালিকা বিরাজ করেন এই মন্দিরে। চতুর্ভুজা দেবীর এক হাতে অজ্ঞানতা-তমসা ছেদনকারী খড়্গ; অন্য হাতে অহংরূপী অসুরের ছিন্ন মুণ্ড- প্রবাদ মানলে অসুররাজ শুম্ভর মুণ্ড! বাকি দুই হাতে অভয়মুদ্রা ও বরদমুদ্রা। শক্তিপীঠের নিয়ম মেনে দেবীমন্দিরের অদূরেই নকুলেশ্বর শিবের আবাস। নকুলেশ্বর দর্শন না করলে প্রথামাফিক দেবীও প্রসন্ন হন না।

কালীঘাট কালীমন্দিরের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি অভিনব রীতিতে নির্মিত। মূর্তিটির জিভ, দাঁত ও মুকুট সোনার। হাত ও মুণ্ডমালাটিও সোনার। মন্দিরে মধ্যে একটি সিন্দুকে সতীর প্রস্তরীভূত অঙ্গটি রক্ষিত আছে; এটি কারোর সম্মুখে বের করা হয় না। প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ, দুর্গাপূজা ও দীপান্বিতা কালীপূজার দিন মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পু্ণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।

কালীঘাট মন্দিরের নিকটেই পীঠরক্ষক দেবতা নকুলেশ্বর শিবের মন্দির। ১৮৫৪ সালে তারা সিং নামে জনৈক পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী বর্তমান নকুলেশ্বর মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। শিবরাত্রি ওনীলষষ্ঠী উপলক্ষ্যে এই মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। কালীমন্দিরের পশ্চিম দিকে রয়েছে শ্যাম রায়ের মন্দির। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে বাওয়ালির জমিদার উদয়নারায়ণ মণ্ডল এই মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। এখানে রামনবমী ও দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৬২ সালে শবদাহের জন্য মন্দিরের অদূরে নির্মিত হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশান। বাংলার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে এই শ্মশানে। এখানকার শ্মশানকালী পূজা বিখ্যাত।

Wednesday, April 15, 2015

Bakkhali


Bakkhali is a seaside resort in the many deltaic islands spread across southern Bengal just 125 km from Kolkata. Bakkhali is unique in many ways. A few kilometers away from Kolkata, Fraserganj and Bakkhali is one of the best holiday spots for those who seek sun, sand and serenity.

Sunday, April 12, 2015

Science City Kolkata


Want fun. Science City an initiative for the promotion and popularization of science is an amusement park as one can expect to see in India. At the entrance you take notes of the attractions you want to do. Visiting the Prehistoric caves scares rainy days, and can be of the impression that it can turn into a horror movie. Otherwise the theater space, the machines here are adventures back in time! Then we find all rooms scientific experiments and mirrors and dusty fishes.

Saturday, March 28, 2015

দোল পূর্ণিমা

আজ দোল পূর্ণিমা। গগনে আজ পূর্ণচন্দ্রের উদয় সন্ধ্যা হতে। সেই স্নিগ্ধ চন্দ্রালোকে জ্যোৎস্নায় প্লাবিত ভুবন । যারা লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়েন বা যারা শুনেছেন তারা জানবেন লক্ষ্মীর পাঁচালি শুরু এই দোল পূর্ণিমা তিথিকে নিয়ে । পাঁচালি তে লেখা আছে –

দোল পূর্ণিমার নিশি নির্মল আকাশ ।
মৃদুমন্দ বহিতেছে মলয় বাতাস ।।
স্বর্ণসিংহাসনে বসি লক্ষ্মীনারায়ণ ।
কহিতেছেন নানা কথা সুখে আলাপন ।।

দেবী লক্ষ্মীর পাঁচালি এই দোল পূর্ণিমা ঘিরে। এরপর দেবর্ষি নারদ মুনি সবিস্তারে মর্তের দুর্ভিক্ষ, অনাচার জানালে দেবী হরিপ্রিয়া লক্ষ্মী দেবী তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। সুদুর বৈকুণ্ঠে থেকে নয়, মা নিজে নেমে আসেন এই ধরিত্রীতে । এখান থেকেই দেবী লক্ষ্মীর মাহাত্ম্য শুরু ।

দেবী লক্ষ্মী ‘শ্রী’, ‘ধন’, ‘সম্পদ’ , ‘ঐশ্বর্য’ , ‘সৌভাগ্য’ এর দেবী। তিনি এগুলির পূর্ণ বিকাশ ঘটান । তাইতো মর্তলোকে দেবী লক্ষ্মীর এত আরাধনা । পূর্ণ বিকাশ ঘটান বলে দেবী লক্ষ্মী পূর্ণ ভাবে প্রস্ফুটিত পদ্ম পুস্পে বিরাজিতা। তিনি হস্তে প্রস্ফুটিত বিকশিত পদ্ম ধারন করেন । অমাবস্যার পরদিন প্রতিপদ হতে শুক্ল চতুর্দশী অবধি চন্দ্র একটু একটু করে বিকশিত হতে থাকে, পূর্ণিমাতে পূর্ণ বিকশিত হয়ে যায় । দেবী লক্ষ্মী সর্বাত্মক বিকাশের দেবী, তাইতো পূর্ণিমা তিথিতে সন্ধ্যায় দেবীর আরাধনা হয় ।



অশোক, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া আর রক্তকাঞ্চনের ডালে ডালে আগুনঝরা উচ্ছলতা। মৃদুমন্দ বাতাসে ভেসে আসছে ফুলের প্রাণমাতানো গন্ধ।কোকিলের কুহুস্বর আন্দোলিত করছে আবেগবিহ্বল বাঙালি-হৃদয়। চৈত্র-প্রারম্ভের এমনই এক দিনে আবিরের রঙে রঙিন হয়ে উঠছে প্রতিটি সনাতন বাঙালি। নৃত্য, পূজা, হোমযজ্ঞে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে দোল উত্‍সব। শ্রীমতি রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরের রঙে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রা চলছে বাংলার আনাচে-কানাচে।

ভক্তরা আবির ও গুলাল নিয়ে মত্ত হয়েছে রং খেলায়। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, দোল পূর্ণিমায় বৃন্দাবনের নন্দন কাননে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে সখী রাধিকা দেবী ও গোপীগণের সাথে রঙের খেলায় মেতেছিলেন। রাধাকৃষ্ণ দোল উত্‍সব করতেন পুষ্পরেণুর মাধ্যমে। কালের আবর্তনে 'আবির' নামের লাল রঙের পাউডারে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার, এই পূর্ণিমা তিথিতেই মর্ত্যধামে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হন। তাই একে গৌর পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।

এছাড়াও এই দিনটি বসন্তোত্‍সব নামেও পরিচিত। দোলের পূর্বদিন খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বহ্নুত্‍সবের আয়োজন করা হয় যা হোলিকাদহন বা মেড়াপোড়া বা চাঁচর উত্‍সব নামে পরিচিত। সর্বশেষে, আজকের এই পবিত্র ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে সকলকে জানাই আবির-রাঙানো শুভেচ্ছা।

Sunday, March 22, 2015

Bishop House Kolkata

bishop house kolkata

The highest body of the Christian community, the Bishop of Calcutta stays in the Bishop House. The bishop, in some Christian churches, is in charge pastor of a diocese, and in Catholicism as in orthodoxy, and in all the churches who believe the historic episcopate, is considered a successor of the apostles. The word comes from the greek episcopos, which means supervisor, overseer.

Friday, March 20, 2015

ITC Sonar


Built in 1928, Virginia House is the corporate headquarters of ITC Limited. Originally incorporated as Imperial Tobacco Company of India in 1910, it became India Tobacco Company in 1970. Imperial Tobacco is a leading international company in the tobacco industry with a portfolio of brands and products. 4th producer of tobacco in the world, tobacco and accessories based in Bristol and listed on the London Stock Exchange.

Thursday, March 12, 2015

Crescent Moon


Knowing the phases of the moon can be very useful in a variety of areas from agriculture to gestation, through the study of the character and personality of each of us. The Moon, the satellite of our planet Earth, has always been the subject of investigations and scientific studies, romantic serenades and evenings spent with its nose pointing toward the night sky studded with stars. A particular celestial body, able to influence a number of factors land, agriculture mood of the people. 

Thursday, February 19, 2015

Queens Mansion Kolkata

[park-st3-queens-mansion.jpg]

Galstaun Mansion or more popularly Queens Mansion, have the distinction of being the largest mansion in Calcutta. Completed in 1923, it has a large frontage and from its roof splendid views of Calcutta and the river beyond can be obtained. The Mansion is a synthesis of Renaissance architecture, Baroque and Rococo within the city walls. The Mansion was built in the place of existing buildings.

Wednesday, February 18, 2015

Academy of Fine Arts

Academy of Fine Arts

The Academy of Fine Arts in Cathedral Road was inaugurated in 1933, to develop a modern educational institution of the arts that could satisfy the new requirements of the applied arts. It has a room where they are exposed sketches and paintings of the poet Tagore. It has an auditorium where they are organized plays and ballets. Academy of Fine Arts is a type of institution of higher learning, dedicated to the art visual and applied art. The academies may grant academic degrees for the first level equivalent to graduation and second level equivalent to Masters, while they are being depleted the old order of four-year degrees to the already treated for the purposes of public competitions and teaching.

Monday, February 16, 2015

শিবলিঙ্গ এর ইতিহাস

শিবলিঙ্গ হচ্ছে শিবের প্রতীক। শিব হলো হিন্দু সমাজের প্রধান এবং আদি দেবতা। এজন্যই বলা হয় দেবাদিদেব মহাদেব। রামায়ন যুগেরও আগে, বিভিন্ন কারণে যেখানে শিবের জটিল মূর্তি তৈরি করে পূজা করা সম্ভব হয় নি, সেখানে, অপেক্ষাকৃত নির্মান পদ্ধতি সহজ বলে শিবের প্রতীক হিসেবে শিবলিঙ্গের পূজার প্রচলন হয়।

শিবলিঙ্গ বলে যেটাকে আমরা জানি বা দেখি, সেটা আসলে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গের সমষ্টি; পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকূলের সৃষ্টির জন্য যাদের ভূমিকা অপরিহার্য। এই সৃষ্টিকার্য বর্তমানে প্রকাশ্যে লজ্জাকর ব্যাপার হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের বিষয়। কারণ, এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমাদের জন্ম এবং এর উপরেই টিকে রয়েছে পৃথিবী এবং আমাদের তথা প্রাণীকূলের তাবৎ ভবিষ্যৎ ও আশা-আকাঙক্ষা।



মহাদেব‬ বা শিব বলতেই আমাদের চিত্তজগৎ একটি মুর্তির উদয় হয় যিনি যোগাসনে উপবিষ্ট, বাঘের ছাল পরিহিত, ত্রিশুল ও ডমরুধারী, গলায় তার সাপ ইত্যাদি। কিন্তু এমন একটি মানুষ আমরা ছবির পাতায় এবং পাথর বা মাটির প্রতিমার মধ্যে ছাড়া তো বাস্তবে দেখতে পাই না। অথচ বহুকাল থেকেই দেশে সাড়ম্বরে শিবপূজা চলে আসছে। শিব উপাখ্যান নানাভাবে ছড়িয়ে আছে পুরাণে, গাথায়, কাব্যে, শিল্পকলায়। ভারতে এক সুবিপুল জনসমাজ শৈবকৃষ্টির অনুশীলন নিয়ে চলেছে।

Thursday, January 29, 2015

Kalakand Bengal

http://4.bp.blogspot.com/_WaEyH7tLEqA/TLh41snfvlI/AAAAAAAAAGA/v4sP1qGX_4M/s1600/kalakand.jpg

Kalakand is a popular Indian sweet reputed for its exquisite taste, made out of solidified, sweetened milk and cottage cheese. It is a very popular sweetmeat in Bengal. As is the case in almost all Asian cuisines, even in India there is a strict separation of the flow unlike using a western, which includes appetizers, dishes, etc, everything is served on the board of India at the same time, including desserts. 

Monday, January 26, 2015

Birla Planetarium Kolkata

http://4.bp.blogspot.com/_nl5WdrFFkO0/RhAFbEkBSNI/AAAAAAAABK0/C3imalQLxf0/s1600/chow11-birla+pauls.jpg

The Birla Planetarium of Kolkata is an educational museum building with a dome, within which a planetarium projects the image of the heavenly bodies and their movements in the sky. Birla Planetarium is the largest planetarium in Asia and the second in the world. It was inaugurated in 1963 by the Prime Minister of India Jawaharlal Nehru. A great place for children to learn about the space in a fun, MP Birla Planetarium is the largest of its kind in India. Along with the models of the solar system, has a series of films every day that explains the mysteries of space so children can understand.

Sunday, January 25, 2015

Republic Day Kolkata

Air Show republic day kolkata

The Indian Republic Day is celebrated on January 26 each year to commemorate the birth of the Republic. One of the highlights of the festival is the grand parade and celebrations aiming to bring together all the diversity of its various regions to form one colourful collage that represents the true spirit of the state. The parade is broadcast across the state on radio and television and serves as one of the biggest attractions of the day. 

Friday, January 23, 2015

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু - জীবনী, বানী ও মৃত্যু রহস্য

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করার জন্য যে সকল মহান ব্যক্তি, লড়াকু যোদ্ধা জীবন উৎসর্গ করেছেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস তাঁদের মধ্যে অন্যতম। অহিংসায় নয়, উদারতায় নয়, শক্তি প্রয়োগ করেই ব্রিটিশকে ভারত থেকে তাড়াতে হবে- এই মন্ত্রকে ধারণ করে আমৃত্যু লড়াই-সংগ্রাম চালিয়েছেন। সশস্ত্র বিপ্লববাদীদের সংগঠক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যে কারণে বিপ্লবী যোদ্ধারা তাঁকে নেতাজী বলে সম্বোধন করতেন।

ভারতের যুব সম্প্রদায়কে নেতাজী বলেছিলেন "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব"। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনেরও অন্যতম নেতা। সুভাষচন্দ্র বসু (জন্ম: ২৩ জানুয়ারি, ১৮৯৭ – তথাকথিত মৃত্যু: ১৮ অগস্ট, ১৯৪৫ (যদিও এই মত বিতর্কিত) ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তি নেতা। তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত। তিনি পরপর দুবার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধির সাথে রাজনৈতি মতাদর্শগত মতভেদের কারণে কংগ্রেসের অনাস্থার ফলে এই পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।

নেতাজী বিশ্বাস করতেন, মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি স্বাধীনতা আদায়ে যথেষ্ট নয়। তাই তিনি সশস্ত্র বিপ্লববাদী প্রতিরোধের পক্ষ নিয়েছিলেন। তিনি অল-ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক নামে পৃথক একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করেন। তিনি সাম্রাজ্যবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটানোর জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। জাপান-অধিকৃত সিঙ্গাপুরে রাশবিহারী বসুর তত্ত্বাবধানে ভারতীয় উপমহাদেশের যুদ্ধবন্দীদের নি্যে গঠন করেন আজাদ-হিন্দু ফৌজ। এই ফৌজ নিয়ে তিনি উত্তরপূর্ব ভারতীয় সীমায় প্রবেশ করে ইম্ফল অবধি দখল করতে সক্ষম হন। ব্রিটিশরা তাঁকে ১১ বার জেলে পাঠিয়েছিল।

১৮৯৭ সালে ২৩ জনুয়ারী উড়িষার কটক শহরে এক বাঙালি পরিবারে নেতাজির জন্ম হয়। তাঁর বাবা জানকিনাথ বসু একজন বিখ্যাত আইনজীবি ছিলেন। তাঁর ছাত্রজীবন শুরু হয় কটকের রভিন সাও কলেজিয়েট স্কুলে। কলকাতার স্কটিস চার্চ কলেজ থেকে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।এরপর তিনি কেমব্রিজ ইউনিভারসিটির ফিটজউইলিয়াম কলেজ পড়াশোনা করেন। ১৯২০ সালে তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস এ-পরীক্ষা দেন এবং চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান দেন।

Netaji Subhash Chandra Bose

ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতাজী স্বাধীনতা সংগ্রামী চিত্তরঞ্জন দাসের সাথে কাজ করা শুরু করেন। ১৯২৪ সালে এপ্রিল মাসে কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার হিসাবে নিযুক্ত হন। চিত্তরঞ্জন দাস তখন কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন। যদিও সুভাষ চন্দ্রের বেতন ছিল মাসে ৩০০০ টাকা, তিনি সিদ্ধান্ত নেন মাসে ১৫০০ টাকা বেতন নেওয়ার। ওই বছর অক্টোবর মাসে নেতাজীকে সরকার বিরোধী কাজ করার জন্য গ্রেফতার করে কলকাতার আলিপুর জেলে রাখা হয়।

১৯৩০ সালে ২৩ জানুয়ারি তিনি ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে এক পদযাত্রায় প্রধান ভূমিকা পালন করার জন্য তাকে আবার আটক করা হয়। ওই বছর জেল থেকে বেরিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি কলকাতার মেয়র হিসাবে নিযুক্ত হন। বিপ্লববাদী শসস্ত্র আন্দোলনের জন্য ব্রিটিশ সরকার নেতাজীকে তার বাড়িতেই নজর বন্দি করে রাখে। ১৯৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে ইউরোপে চলে জান। ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি ইউরোপের বহু রাজনৈতিক নেতা ও মহান ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসেন।

কারণ তিনি উপলব্দি করতেন, ভারতমাতাকে ব্রিটিশ সরকারের হাত থেকে স্বাধীন করতে হলে বাইরের দেশের সেনা ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা দরকার হবে। ১৯৩৭ সালে সুভাষ চন্দ্র বোস তাঁর ব্যক্তিগত সচিব এমিলিকে সহধর্মীনী করেন। ১৯৪২ সালে তাদের কন্যা সন্তান অনিতার জন্ম হয়। দিত্বীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুভাষ চন্দ্র বোস প্রস্তাব করলেন, কবে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের স্বাধীনিতার অনুমোদন দেবে তার জন্য বসে না থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুবিধা নেওয়া উচিত।

তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নির্ভর করে অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও কুটনৈতিক সমর্থনের উপর। তাই তিনি ভারতের জন্য একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী মূলত গড়ে উঠেছিল জাতীয়তাবাদী নেতা রাস বিহারি বসুর হাতে। ১৯৪৩ সালে রাস বিহারি বসু এই সেনাবাহিনীর দ্বায়িত্ব সুভাষ বোসের কাছে হস্তান্তর করেন। একটি আলাদা নারী বাহিনীসহ এতে প্রায় ৮৫,০০০ হাজার সৈন্য ছিল। এই বাহিনীর কর্তৃত্ব ছিল প্রাদেশিক সরকারের হাতে। যার নাম দেওয়া হয় "মুক্ত ভারতের প্রাদেশিক সরকার"।

এই সরকারের নিজস্ব মুদ্রা, আদালত ও আইন ছিল। অক্ষ শক্তির ৯ টি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দান করে। আই.এন.এর সৈন্যরা জাপানিজদের আরাকান ও মেইক্টিলার যুদ্ধে সাহায্য করে। সুভাষ চন্দ্র বোস আশা করেছিলেন, ব্রিটিশদের উপর আই.এন.এর হামলার খবর শুনে বিপুল সংখ্যাক সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে হতাশ হয়ে আই.এন.এতে যোগ দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হল না। বরং যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে জাপান তার সৈন্যদের আই.এন.এ থেকে সরিয়ে নিতে থাকে।

এবং জাপান থেকে অর্থের সরবরাহ কমে যায়। অবশেষে, জাপানের আত্মসমর্পন এর সাথে সাথে আই.এন.এ ও আত্মসমর্পন করে। ধারণা করা হয়, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস ১৯৪৫ সালের ১৯ আগষ্ট টোকিও যাবার পথে, তাইওয়ানে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক তারিখ ও স্থান সম্পর্কে এখনো বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। তাঁর দেহাবশেষ কোনোদিনও উদ্ধার করা যায়নি।

Thursday, January 22, 2015

Nandan Kolkata

[nandan2.jpg]

Nandan, the West Bengal Film Centre, a center devoted entirely to the cinema and one of the main symbols of the city's culture and Bengalis, was baptized, inaugurated in 1985 and chaired by the director most celebrated in the history of Indian cinema, Satyajit Ray and now, therefore, will be under the direction of his son, Sandip Ray, himself a director.

Wednesday, January 21, 2015

বাঙালির চা পান

বৌদ্ধ পুরাণে কথিত আছে, একদা গৌতম বুদ্ধ মঠে বসে ধ্যান করছিলেন কিন্তু ধ্যানে পূর্ণ মনোসংযোগ স্থাপন কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিলো না। বারবার চোখ বুজে আসছিল, ঘুমে ঢুলে পড়ছিলেন তিনি। অগত্যা আর যাতে কখনোই চোখ বুজে না আসে সে জন্য নিজের চোখজোড়ার পাতা স্বহস্তে ছিঁড়ে নিয়ে মাটিতে নিক্ষেপ করেন তিনি। চোখের পাতা দুটি যেখানে পড়েছিল, সেখান থেকেই নাকি তখন পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো জন্ম নেয় একটি চা গাছ, যার পাতা চিবিয়ে বা পানিতে ভিজিয়ে খেলে চোখ থেকে ঘুম ঘুম ভাব দূর হবেই!

এ তো গেল প্রাচীন পুরাণের কথা, চায়ের উৎপত্তিস্থল যে চিন দেশ

আমরা তো ছোটবেলায় ব্যাকরণ বইতেও বারবার করে পড়েছি: চা শব্দটি চৈনিক, চিনদেশ হতে আগত, সেখানকার আদ্যিকালের কিংবদন্তী-কাহিনি থেকে জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চিনের মহামহিম দিগ্বিজয়ী সম্রাট শেন্ নাং এই বলে এক বিচিত্র আইন জারি করেছিলেন যে সবাইকে জল পান করার আগে তা অবশ্যই ঠিকমতো ফুটিয়ে নিতে হবে।

তো একদিন সম্রাটের খাওয়ার জন্য জল পাত্রে ফোটাতে দেওয়া হয়েছে, কোত্থকে যেন কিছু চা বৃক্ষের পাতা উড়ে এসে তাতে পড়লো। ব্যাস, জলের রঙ পাল্টে গিয়ে এমন এক পানীয় তৈরি হলো যা তখনকার দিনে ছিল অভূতপূর্ব। আর এরপরেই নাকি গরম পানিতে পাতা ভিজিয়ে তৈরি করে চা পানের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে গোটা চিনদেশে, তারপর সেখান থেকে তো পুরো দুনিয়াতেই।

পুরাণ বা কিংবদন্তীর বিবরণ ছাড়িয়ে এখন আসা যাক লিখিত ইতিহাসের বাস্তব বর্ণনায়। এই ভারতীয় উপমহাদেশ তথা অবিভক্ত বাংলা অঞ্চলে কী করে চায়ের আবির্ভাব হলো ও বাঙালির চা-প্রীতি কী করে অতীত থেকে আজকের দিন অব্দি বিবর্তিত ও বর্ধিত হয়েছে― তা নিয়েই এই নিবন্ধে আলাপ করবো। বিষয়টা ভাবানোর মতো যে ভারতীয় উপমহাদেশ বা বাংলা মুলুকে চায়ের প্রচলন করবার মূল নায়ক চিনদেশি বণিক বা রাষ্ট্রদূতেরা নন― যদিও অনেক চিনা পর্যটক ও ধর্মপ্রচারক এই অঞ্চলে প্রাচীন যুগ হতেই বহুবার এসেছিলেন।

সেই ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দেও বঙ্গদেশ ঘুরে গেছেন ফা হিয়েন, ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে এসেছিলেন হিউয়েন ৎসাঙ কিন্তু তাঁদের লিখে যাওয়া ভ্রমণ-বৃত্তান্তের কোথাও চায়ের নামগন্ধটুকুও নেই। এমনকি পঞ্চদশ শতকে চিন থেকে যে ছয়জন দূত বিভিন্ন সময়ে বঙ্গদেশে এসেছিলেন, তাঁদের পাঠানো সরকারি রিপোর্টে এই অঞ্চলে চা-পানের কোনো কথা নেই। চায়ের নাম নেই দুই দেশের তখনকার পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আদান-প্রদানের জন্য উপযোগী পণ্যের তালিকাতেও। মোগল আমলে নবাব আলিবর্দী খাঁ-র খাদ্য তালিকায় কফির বাধ্যতামূলক উপস্থিতি থাকলেও চায়ের হদিশ সেখানে মেলে না।

তবে ১৫৯৮ সালে আসাম ঘুরে যাওয়া ওলন্দাজ পর্যটক জন হিউগেন তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করার সময় লিখেছিলেন, আসাম অঞ্চলের আদিবাসীরা এক ধরনের বন্য চা গাছের পাতা তরকারি হিসেবে রসুন ও তেল দিয়ে রান্না করে খেয়ে থাকে। এমনকি তাঁরা পানীয় হিসেবেও তা পান করে, কিন্তু সেই পানীয় তৈরির প্রক্রিয়া আদতে কীরকম বা নিদেনপক্ষে তা প্রচলিত চায়ের ধরনেরই কোনো পানীয় কিনা―সেসব তথ্য আর ওই পর্যটক জানাতে পারেননি।

সুতরাং বাঙালিকে চা ধরানোর পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ইংরেজ বণিকরাই― এ নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু ইংরেজ বণিকেরা কোত্থকে চায়ের সন্ধান পেল তা নিয়ে আপাতত দুই রকমের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন যে আরব বণিকেরা প্রথম চায়ের সন্ধান পায় চিনাদের থেকে। তাঁরা দেখে-শুনে সেটাকে অবসরে মন-প্রাণ চাঙ্গা করার উপযোগী পানীয় হিসেবে লুফে নেয়। পরে তাঁদের বাণিজ্য জাহাজে চা-পানের আয়োজন দেখে ইংরেজ বণিকেরা চায়ের কথা জানতে পারে। তবে এই মতের সপক্ষে বিশেষ তথ্য-প্রমাণ নেই।

আর ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে তুলনামূলকভাবে পোক্ত মতটি হলো, সপ্তদশ শতকে সরাসরি চিন থেকে আমদানিকৃত চা ব্রিটেনে কফির দোকানগুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রচলিত হলেও প্রথমদিকে বিশেষ জনাদর পায়নি। তবুও ১৬৫৭ সালে লন্ডনে প্রথমবারের মতো একটি চায়ের দোকান স্থাপিত হয়। ওদিকে ১৬৬০ সালে ব্রিটেনের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের সাথে বিয়ে হয় পর্তুগালের রাজকন্যার। উল্লেখ্য, পর্তুগিজরা চায়ের খোঁজ পেয়েছিল চিন-ফেরত একদল ধর্মযাজকের মাধ্যমে, তাও আবার এক শতাব্দী আগেই।

নতুন রাণী তখন প্রথমবারের মতো ইংরেজ রাজপরিবারের অন্দরমহলে তাঁর স্বদেশ হতে পাওয়া চা-পানের অভ্যাস আমদানি করতে সক্ষম হন। এভাবে আস্তে ধীরে রাজপরিবারের অন্দর থেকে সাধারণ ইংরেজ জনগণের মধ্যেও চা-পান ও চা সম্পর্কে কৌতুহল তৈরি হতে থাকে। এর কিছুদিন পরেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চিনের ক্যান্টন শহরের (এখন এই শহরের নাম গোয়াঙঝু) বাণিজ্যিক বন্দর থেকে রুপোর বিনিময়ে কোহঙ নামের এক চিনা ট্রেডিং কোম্পানির মাধ্যমে ব্রিটেনে চা আমদানি শুরু করে।

তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অনেক রকমের পণ্যই আমদানি করতো, কিন্তু চা আমদানি শুরু করবার পর তা অভাবনীয় বাণিজ্যিক লাভের মুখ দেখে। প্রথমদিকে শরীর সুস্থ রাখবার “টনিক” হিসেবে চা-কে ইংরেজ সমাজে উপস্থাপন করা হলেও সপ্তদশ শতাব্দীতে এসে তা সবার জন্যে সমান উপভোগ্য এক পানীয় হিসেবেই চূড়ান্ত জনপ্রিয় বলে গণ্য হতে থাকে ।

প্রাথমিকভাবে কেবল ব্রিটেনের অভিজাত পরিবারগুলোতে চায়ের প্রচলন ঘটলেও পরবর্তীকালে ক্রমান্বয়ে তা সেখানকার প্রায় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের নিকট আদরণীয় হয়ে ওঠে । এবং বছরখানেকের মধ্যে চা শীতপ্রধান বিলাতের নাগরিকদের ক্লান্তিকর জীবনকে চাঙ্গা ও উপভোগ্য করে তোলার জন্য দৈনন্দিনের অপরিহার্য উষ্ণ পানীয়রূপে প্রতিষ্ঠা পায়।

উপমহাদেশে ইংরেজের আগমণ ও চা চাষের প্রচলন

স্বদেশে চায়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে চিন থেকে চা আমদানির পরিমাণও সঙ্গত কারণেই বাড়াতে হয়। তবে এদের তাতে তেমন সমস্যাও তৈরি হয়নি। আর্থিক লাভ ভালোই হচ্ছিল, উপরন্ত চিনের বাজারে তাদের দাপট ও প্রভাবও নেহাত কম ছিল না। বঙ্গদেশে যেসব ইংরেজ এসেছিলেন, তাঁরা তখন সেখানে থেকেও নিয়মিত চা খেতেন, এবং তা নির্ঘাত চিন থেকেই আনা হতো । এই ধারণার সপক্ষে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধানে পাই, ১৭৯৩ সালে আপজন প্রকাশিত ইংরেজি-বাংলা অভিধানে চা শব্দটির দেখা মেলে, আছে “চা-পানি” শব্দটিও।

এছাড়া ১৭৯৭ সালে প্রকাশিত জন মিলারের “সিক্ষ্যাগুরু” বইতে সংকলিত জনৈক সাহেবের দেওয়ান এবং চাকরের মধ্যে একটি সংলাপেও সাহেবের চা-পানের অভ্যাসের উল্লেখ মেলে। কিন্ত একটা বড় গোলমাল বাঁধে ১৮৩৩ সালে আফিম যুদ্ধের সময়। ব্রিটেন ও চিনের মধ্যেকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে ফাটল ধরার প্রভাব পড়ে চায়ের বাজারেও। শিল্প-গবেষক অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, চা আমদানির খরচ তখন হঠাই বেড়ে দাঁড়ায় বছরে নয় মিলিয়ন পাউন্ড। অতএব প্রকৃতপক্ষে পয়সা বাঁচানোর লক্ষ্য থেকেই সদ্য দখলীকৃত ভারতের জমিতে চা চাষের কথা তাদের ভাবতে হয়।

যদিও এর আগে ১৭৭৪ সালে চিন থেকে চা-বীজ এনে ভূটানে চাষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সে যাত্রা উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়― আবার এর চৌদ্দ বছর পর আরেকবার কলকাতার শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনেও চা গাছ রোপণ করে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টাও ফলপ্রসূ হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮৩৪ সালে চা সমিতি তৈরি করেন, যাদের কাজ ছিল ভারতে চা চাষ ও চা শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা। সমিতির সদস্য ছিলেন মোট বারোজন, যাঁদের মধ্যে দেশীয় দুই সদস্যই জাতে ছিলেন বাঙালি― রাধাকান্ত দেব ও রামকমল সেন।

এই সমিতি ১৮৩৫ সালে চা গাছ ও চায়ের বীজ সংগ্রহের জন্য চিন সফর করে। কিন্তু আফিম যুদ্ধের আগেই ১৮১৫ সালে একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা কারলেন লেটারের আসাম থেকে প্রেরিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে আসামের “সিংকো” জাতিসত্তার আদিবাসীরা এক ধরনের বন্য পাতা দিয়ে পানীয় তৈরি করে পান করে থাকে(পূর্বে উল্লেখিত ওলন্দাজ পর্যটক জন হিউগেনের বিবরণের সঙ্গে সাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়)।

এই প্রতিবেদন লেখার বছর কয়েক বাদে, ১৮২৩ সালে আসামে মেজর চার্লস রবার্ট ব্রুস এক ধরণের ব্যতিক্রমী চা গাছ আবিস্কার করতে সমর্থ হন, যার পাতাকেই সম্ভবত কারলেন লেটার “বন্য পাতা” বলে চিহ্নিত করেছিলেন। যদিও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বোটানিস্ট একে “এক জাতের বন্য ক্যামেলিয়া” বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

অবশ্য চা সমিতির চিন সফরের পর মেজর ব্রুসের খুঁজে পাওয়া গাছটিকে ইংরেজ উদ্ভিদতত্ত্ববিদরা বহু গবেষণা করে অবশেষে এক জাতের দেশীয় চা বলে স্বীকৃতি দেন। এরপর ১৮৩৭ সালে অবশেষে প্রথমবারের মতো আসামে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরীক্ষামূলকভাবে চায়ের আবাদ শুরু করে। ভারতে সংগঠিত চা উৎপাদন শিল্পেরও গোড়াপত্তন হয়। আর দেশীয় জাতের সেই চা গাছ আবিস্কারের স্বীকৃতি হিসেবে রবার্ট ব্রুসকে আসামে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চা উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

১৮৩৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরীক্ষামূলক তকমা ঝেড়ে ফেলে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদনের জন্য কাজ শুরু করে। বাণিজ্যিক চা বাগান স্থাপনের প্রস্তাব অতঃপর লন্ডন ও ভারতের বিভিন্ন কোম্পানির নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়। ১৮৩৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চা চাষের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে লন্ডনের তিনটি ও কলকাতার একটি কোম্পানি। এই স্বতন্ত্র কোম্পানিগুলোকে একত্র করে “আসাম কোম্পানি” নামের একটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি গঠিত হয়। তবে ইংরেজদের পাশপাশি একজন উদ্যোগি অথচ অধুনা বিস্মৃত বাঙালিও চা শিল্প স্থাপনের উদ্যোগে মোটেও পিছিয়ে ছিলেন না, তিনি দ্বারকানাথ ঠাকুর। তিনিই তখন উদ্যোগ নিয়ে স্থাপন করেন “দ্য বেঙ্গল টি অ্যাসোসিয়েশন” নামের আরেকটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি।

আসাম কোম্পানির মূলধন ছিল ৫০ লক্ষ টাকা, তাঁর কোম্পানির মূলধন ছিল ১০ লক্ষের কাছাকাছি। দ্বারকানাথের এই উদ্যোগের বিষয়ে অবগত হয়ে আসাম কোম্পানির কলকাতা-ভিত্তিক অংশীদার “কোকেরেল অ্যান্ড কোম্পানি” তাঁর সাথে যোগাযোগ করে বেঙ্গল টি অ্যাসোসিয়েশনকেও তাঁদের কোম্পানির সাথে যুক্ত করে নেয়। এভাবে আসামে কোম্পানির চা বাগান স্থাপনের অভিযান বিস্তৃত থেকে বিস্তৃততর হতে থাকে। ১৮৫৩ সালের হিসেবে তাঁদের অধীনে থাকা চা বাগানগুলোর মোট আকার ছিল ২,০০০ একর। ১৮৯৬-৯৭ সালে তা পাঁচগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়ায় ১০,০০৯ একরে।

প্রথমদিকে কোম্পানি ভেবেছিল আসামে চা বাগান তৈরি করা হবে চিনের মডেল অনুযায়ী। ১৮৪০ সালের দিকে সে অনুযায়ী চিন থেকে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ছাড়াও অভিজ্ঞ চিনা শ্রমিক নিয়ে আসারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক পেনাং ও সিঙ্গাপুর থেকে তিনশ জন শ্রমিক সংগ্রহ করে তাঁদের আসামে নিয়ে আসা হয়। কাকতালীয়ভাবে ১৮৪০ সালেই ইংরেজ রাজকর্মচারী কর্নেল ডেভিডসন তাঁর সেই সময়ের ঢাকা ভ্রমণের স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, একদিন ঘোড়ায় চড়ে ঢাকার রাস্তায় বেড়াতে গিয়ে তিনি প্রায় ডজনখানেক চিনদেশি ব্যক্তিকে দেখতে পান।

অবাক হয়ে তাঁদের চিনা ভাষায় সম্বোধন করলে তাঁরা প্রথমে অবাক হয়, পরে আনন্দসহযোগে চিৎকার করে জানায় যে তাঁরা সবাই চা উৎপাদক। আসামের দিকে যাত্রা করছে। তাঁদের উদ্দেশ্য হলো, সেখানকার স্থানীয় চা কোম্পানিতে কর্মরত দেশীয় শ্রমিকদের উত্তম চা উৎপাদন কৌশল শেখানো। ডেভিডসন যেসব চিনদেশি চা শ্রমিকদের ঢাকার রাস্তায় দেখেছিলেন তাঁরাই নিশ্চয়ই পরে আসাম কোম্পানির চা বাগানে গিয়ে যোগ দিয়েছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এইসব চিনদেশি চা শ্রমিকদের শেষমেশ এদেশের অভিজ্ঞতা তেমন বিশেষ সুখকর হয়নি ।

যেসব আড়কাঠি এই চা শ্রমিকদের এ দেশে নিয়ে এসেছিল, তারা কেউই কোনো শ্রমিককে প্রতিশ্রুত পরিমাণে পারিশ্রমিক দিতে সমর্থ হয়নি। এই নিয়ে কলকাতা ও পাবনায় দাঙ্গাও বেঁধেছিল তখন। আবার কোনো কোনো শ্রমিক দুই মাস জাহাজে ভ্রমণ করে ভারতে আসার পর ফের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে তিন মাস বেকার বসে থাকতে রাজি ছিলেন না। ফলে অনেক চিনদেশি শ্রমিককেই কোম্পানি বাড়তি পয়সা খরচ করে তাঁদের আপন দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়। এবং এরকম তিক্ত অভিজ্ঞতা বারবার হবার ফলে কোম্পানি চিনদেশি শ্রমিক আমদানি বন্ধ করে দিয়ে স্রেফ স্থানীয় বাঙালি ও আদিবাসী শ্রমিকদের চা বাগানের কাজে নিয়োগ দিতে শুরু করে।



স্টেশনের কর্নেল সাহেব

আসাম কোম্পানি গঠন হওয়ার কয়েক বছর পরে দার্জিলিঙে চা বাগান স্থাপনের উদ্যোগ নেন একজন ব্রিটিশ সার্জন, ডা. ক্যাম্পবেল। চিনদেশ থেকে আনা চা-বীজ তিনি রোপণ করে একটি ছোট্ট নার্সারি গড়েছিলেন ১৮৪৫ সালে। এর দুই বছর পরে ব্রিটিশ কোম্পানির উদ্যোগে আরো কয়েকটি চা-নার্সারি স্থাপিত হয়। দার্জিলিঙে ১৮৫৩ সালের দিকে বাণিজ্যিকভাবে বাগান তৈরি করে চা উৎপাদন আরম্ভ হয়। ১৮৭৪ সালের দিকে বাগানের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৩টি ও স্থানীয় চা-শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় কুড়ি হাজারেরও অধিক। তৎকালীন পূর্ববাংলার সীমানার মধ্যে চা চাষের প্রথম উদ্যোগ গৃহীত হয় চট্টগ্রামে।

১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের ডিস্ট্রিক কালেক্টর মি. স্কন্স সর্বপ্রথম চা আবাদের প্রচেষ্টা চালান অসমীয়া চা-বীজ ও চিন থেকে আনা চা-বীজের সাহায্যে। প্রায় একই সময়ে জনৈক মি. হুগো কর্ণফুলী নদীর তীরে কোদালা এলাকায় চা বাগান তৈরি করতে উদ্যোগী হন। ১৮৪৩ সালে চট্টগ্রামে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়। এরপরের চল্লিশ বছরে যথাক্রমে এখনকার বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ব্রিটিশদের প্রচেষ্টায় উপযুক্ত জায়গা-জমি খুঁজে বের করে চা বাগান স্থাপন ও চা উৎপাদন শুরু হয়।

মূলত ফিনলে কোম্পানির উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে চা শিল্পের দ্রুত বিস্তার ঘটে। প্রসঙ্গত চা বাগানকে ঘিরে একজন ইংরেজ সিভিলিয়ানের লেখা একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেত পারে। বিবরণটুকু লভ্য সিভিলিয়ান আর্থুর ড্যাশের স্মৃতিকথায়, যিনি ১৯১০ সালে চট্টগ্রামে শহরে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছিলেন। ড্যাশ জানাচ্ছেন, ফিনলে টি কোম্পানির কর্মকর্তারা তাঁর কাছে দাবী করেন যে তাদের তৈরি শিপিং লাইনই(যার নাম ছিল “দ্য ক্ল্যান লাইন”) চট্টগ্রাম বন্দরকে পঞ্চাশ বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে নৈমিত্তিক ব্যবহারের ফলে।

আর টি কোম্পানির আমদানি-রপ্তানির সুবিধার জন্যই মূলত বেঙ্গল রেলের কর্মকর্তাবৃন্দ এখানে রেললাইন ও স্টেশন স্থাপন করতে উদ্যোগী হন। আর্থুর ড্যাশের স্মৃতিকথার এই অংশ থেকে তখনকার দিনে ব্যবসা-বান্ধব ব্রিটিশ-রাজের কাছে চা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব কীরকম ছিল তা কিছুটা হলেও অনুধাবন করা যায়। আর এই উপমহাদেশে আসার পরও ইংরেজ সাহেবদের চা-পানের অভ্যাস যে বহাল তবিয়তে অটুট ছিল তা বোঝা যায় ইংরেজ সিভিলিয়ান জর্জ অ্যাটকিনসনের আঁকা ১৮৬০ সালে প্রকাশিত তাঁর কারি অ্যান্ড রাইস শীর্ষক একটি চিত্র-অ্যালবামের তৃতীয় সংস্করণে ছবিটি আছে।

আগের সংস্করণগুলো দেখার সুযোগ ঘটেনি। তাই সেসব সংস্করণে এই ছবিটি ছিল নাকি সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। একটি এনগ্রেভিং দেখলে। যার শিরোনাম স্টেশনের কর্নেল সাহেব। ছবিটিতে দেখা যায়, আরামকেদারায় আয়েশ করে বসে কর্নেল সাহেব, প্রায় পাশেই এক খাসনামা দাঁড়িয়ে আছেন হাতের ট্রে-তে চায়ের কাপ নিয়ে। একটু দূরে আরেক দেশীয় কর্মচারীকে দেখা যাচ্ছে জলন্ত উনুনে একটি জলধারী কেটলি চাপিয়ে হাতে এক টুকরো কাগজ নিয়ে বসে থাকতে ছবিটি দেখে আমাদের মনে হতে পারে, সম্ভবত ওই কেটলির ফুটন্ত পানি দিয়েই তখন চা তৈরি করে সাহেবকে পরিবেশন করা হচ্ছিলো।

বাঙালির চা-প্রীতির বিচিত্র দিক

ব্রিটিশ বেনিয়ারা প্রধানত তৎকালীন অবিভক্ত বঙ্গদেশের বিস্তৃত ব্যাপক অঞ্চল জুড়েই তাঁদের চা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, চা চাষের প্রাথমিক উদ্যোগের সাথে বাঙালি শিল্পপতিদের জড়িত থাকার কথাও আমরা জেনেছি। কিন্তু বাঙালি উনিশ শতকের শেষার্ধে এসেও ঠিক সেভাবে চায়ের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেনি, উনিশ ও বিশ শতকের সন্ধিক্ষণে এসে বলা চলে বাঙালি চায়ে আস্তে-ধীরে মজতে শুরু করে। স্বামী বিকেকানন্দর ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্ত নিজের ছোটবেলার স্মৃতি থেকে লিখেছেন ঔষধ হিসেবে চা পানের কথা। তাঁর কলিকাতার পুরাতন কাহিনী ও প্রথা বইতে তিনি লিখেছেন:

আমরা যখন খুব শিশু তখন একরকম জিনিস শোনা গেল চা। সেটা নিরেট কি পাতলা কখনও দেখা হয়নি। আমাদের বাড়িতে তখন আমার কাকীর প্রসব হইলে তাঁহাকে একদিন ঔষধ হিসাবে চা খাওয়ান হইল। একটা কালো কেটলী মুখে একটা নল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ভিতর কুঁচো পাতার মতন কি দিলে, গরম জল দিলে, তারপর ঢাললে, একটু দুধ চিনি দিয়ে খেলে। আমরা তো দেখে আশ্চর্য, যা হোক দেখা গেল, কিন্তু আস্বাদনটা তখনও জানিনি। আর লোকের কাছে গল্প, যে একটা আশ্চর্য জিনিস দেখেছি, এই হল প্রথম দর্শন। তখন চীন থেকে চা আসত, ভারতবর্ষে তখনও চা হয়নি।

অবশ্য মহেন্দ্রনাথ হয়তো খেয়াল না করেই শেষ লাইনে একটা ভুল তথ্য দিয়েছিলেন, তাঁর জন্মেরও (১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ) বেশ কয়েক বছর আগে তখনকার ভারতবর্ষে চা উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। যাই হোক, তাঁর এই বিবরণ থেকে এটা বোঝা যায় যে মধ্যবিত্ত বাঙালির ঘরে নিত্যদিনের পানীয় বা নিছক বিলাসী পানীয় হিসেবেও চা পান তখন শুরু হয়নি।

তবে শুধু লিকার চা-ই নয়, দুধ-চিনি মিশিয়ে চা খাওয়ার ব্যাপারটিও বাঙালি সমাজের অজানা ছিল না, মহেন্দ্রনাথের ভাষ্য থেকে এও টের পাওয়া যায়। ধারণা করা যায়, উনিশ শতকের শেষার্ধে এসে চা শহুরে শিক্ষিত ও অভিজাত ধনশালী ব্যক্তিদের শখের পানীয়রূপে পরিচিতি পেতে শুরু করে, পরে তা ক্রমান্বয়ে সাধারণ মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের রোজকার পান-অভ্যাসের গণ্ডীতেও এসে পড়ে। এবং বিশ শতকে এসে চা পানের অভ্যাস চূড়ান্তভাবে ব্যাপক আকার গ্রহণ করে।

ঐতিহাসিক গৌতম ভদ্র স্বামী বিবেকানন্দের চা প্রীতির একটি বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর লেখায়, তা থেকে বোঝা যায়, নিছক সন্ন্যাসীপনার বশে চা-পানের তৃপ্তিকে তিনি দূরে সরিয়ে রাখতে চাননি:

“ক্ষমতা ও লোকনিন্দার থোড়াই কেয়ার করতেন বিবেকানন্দ, তাই ১৮৮৬ সালেই ঠাকুরকে [শ্রীরামকৃষ্ণ] পোড়ানোর রাতেই দরমা জ্বালিয়ে কেটলি করে চা খেয়েই তিনি ও তার গুরুভাইরা রাত কাবার করেছেন। দারুণ অভাবেও বরাহনগরের মঠে স্বামীজি চা ছাড়েননি, অন্যদেরও ধরিয়েছেন। জেলা কোর্টে দাঁড়িয়ে হলফ করে চা খাওয়ার পক্ষে সওয়ালও করেছিলেন।

স্বামী বিবেকানন্দের যেমন চায়ের প্রতি টান ছিল দারুণভাবে, তেমনি তাঁরই প্রায় সমবয়সী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছিলেন চা ও চা-পানের বিষয়ে ভীষণ আগ্রহী।

শান্তিনিকেতনে চা-চক্র বা চা-এ পরিপূর্ণ আড্ডার নাম তিনি দিয়েছিলেন “চাক্র”। এমনকি এই চা-চক্র বা চাক্রের প্রবর্তনের দিনে লিখেছিলেন একটি গানও, যা পরে লিপটন টি কোম্পানির বিজ্ঞাপনেও সাদরে ব্যবহৃত হয়েছিল: হায় হায় হায়/ দিন চলি যায়।/চা-স্পৃহ চঞ্চল/ চাতকদল চল/ চল, চল হে!/ টগবগ-উচ্ছল/ কাথলিতল-জল/ কল কল হে!/এল চীনগগন হতে/পূর্বপবনস্রোতে/ শ্যামল রসধরপুঞ্জ,/শ্রাবণবাসরে/রস ঝরঝর ঝরে/ভুঞ্জ হে ভুঞ্জ/ দলবল হে! গানের এর পরের অংশটি আরো মজাদার।

সেখানে রবীন্দ্রনাথ পুঁথিবিশারদ, গণিতবিদ, কাব্যরসিক, চিত্রকর, বাউণ্ডুলে থেকে শুরু করে এমনকি শশব্যস্ত হিসাবরক্ষকদেরকেও কর্মজীবনের গ্লানি চটপট ভুলবার জন্যে চা-পানের আহ্বান জানিয়েছেন। আগ্রহী পাঠকেরা চাইলে গানটির পূর্ণপাঠ “প্রহাসিনী” গ্রন্থে দেখে নিতে পারেন।

কাজী নজরুল ইসলামের চায়ের প্রতি টান তো ছিল রীতিমতো কিংবদন্তীতুল্য। কিছুক্ষণ পর পর চা না পেলে তাঁর চলতই না। কথিত আছে যে যথাযোগ্য পরিমাণ চা ও পান দিয়ে তাঁকে একটা ঘরে আটকে রেখে বহু গান লিখিয়ে এবং সুর করিয়ে নিয়েছিলেন গ্রামোফোন কোম্পানির কর্মকর্তারা। কবি নজরুলের চা-প্রীতি প্রসঙ্গে জসীম উদ্‌দীনের “যাঁদের দেখেছি” স্মৃতিকথা থেকে একটা বিশেষ অংশ দীর্ঘ হলেও কেবল এর অভিনবত্ব ও ঘটনার চমৎকারিত্বের জন্য উদ্ধার করে এখানে রাখা যেতে পারে। তখন নজরুল বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় সমিতির আমন্ত্রণে ফরিদপুরে গিয়েছেন, রাতে জসীম উদ্‌দীনের বাড়িতে রয়েছেন। বসেছে গানের আসর, এমন সময়:

রাত্রিবেলা এক মুস্কিলে পড়া গেল। চা না পাইয়া কবি অস্থির হইয়া উঠিলেন। এই পাড়াগাঁয়ে চা কোথায় পাইব? নদীর ওপারে গিয়া যে চা লইয়া আসিব, তাহারও উপায় নাই। রাত্রিবেলা কে সাহস করিয়া এত বড় পদ্মা-নদী পাড়ি দিবে? তখন তিন-চার গ্রামে লোক পাঠান হইল চায়ের অনুসন্ধানে। অনেক খোঁজাখুজির পর আলিম মাতব্বরের বাড়ি হইতে কয়েকটা চায়ের পাতা বাহির হইল। তিনি একবার কলিকাতা গিয়া চা খাওয়া শিখিয়া আসিয়াছিলেন। গ্রামের লোকদের চা খাওয়াইয়া তাজ্জব বানাইয়া দিবার জন্য কলিকাতা হইতে তিনি কিছু চা-পাতা লইয়া আসিয়াছিলেন।

গ্রামের লোকদের খাওয়াইয়া চা-পাতা যখন কম হইয়া আসিত, তখন তাহার সহিত কিছু শুকনা ঘাসপাতা মিশাইয়া চায়ের ভাঁড়ার তিনি অফুরন্ত রাখিতেন। তিনি অতি গর্বের সহিত তাঁহার কলিকাতা-ভ্রমণের আশ্চর্য কাহিনী বলিতে বলিতে সেই চা-পাতা আনিয়া কবিকে উপঢৌকন দিলেন। চা-পাতা দেখিয়া কবির তখন কী আনন্দ! এই মহামূল্যবান চা এখন কে জ্বাল দিবে? এ-বাড়ির বড়বৌ, ও বাড়ির ছোটবৌ―সকলে মিলিয়া পরামর্শ করিয়া যাহার যত রন্ধনবিদ্যা জানা ছিল সমস্ত উজাড় করিয়া সেই অপূর্ব চায়ের রন্ধন-পর্ব সমাধা করিল। অবশেষে চা বদনায় ভর্তি হইয়া বৈঠকখানায় আগমন করিল।

কবির সঙ্গে আমরাও তাহার কিঞ্চিত প্রসাদ পাইলাম। কবি তো মহাপুরুষ। চা পান করিতে করিতে চায়ের রাঁধুনীদের অজস্র প্রশংসা করিতেছিলেন। আমরাও কবির সঙ্গে ধূয়া ধরিলাম। গ্রাম্য-চাষীর বাড়িতে যত রকমের তরকারী রান্না হইয়া থাকে, সেই চায়ের মধ্যে তাহার সবগুলিরই প্রসাদ মিশ্রিত ছিল। কমিউনিস্ট কর্মী আবদুল হালিম বড় সমালোচনা-প্রবণ। তাঁহার সমালোচনা মতে সেই চা-রামায়ণের রচয়িত্রীরা নাকি লঙ্কাকাণ্ডের উপর বেশী জোর দিয়াছিলেন। আমাদের মতে চা-পর্বে সকল ভোজনরসের সবগুলিকেই সমমর্যাদা দেওয়া হইয়াছিল। পরবর্তীকাল বহু গুণীজনের কাছে এই চা খাওয়ার বর্ণনা পরিবেশন করিয়া কবি আনন্দ করিতেন।

আরেক কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় নাকি এক জমিদারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে চা খায় কিনা। না-বোধক উত্তর আসায় তাঁর মন্তব্য ছিল, “কিন্তু তোমাকে তো ভদ্রলোকের মতোই দেখায়”! অবশ্য যে দ্বিজেন্দ্রলাল লিখেছিলেন “বিভব সম্পদ কিছু নাহি চাই, শুধু বিধি যেন প্রাতে উঠে পাই ভাল এক পেয়ালা চা”, তাঁর পক্ষে চা-প্রীতির ক্ষেত্রে এমন কট্টরপন্থী হওয়াটাই স্বাভাবিক। গৌতম ভদ্রের লেখায় পাই, একইভাবে ভদ্রতার সাথে চা-পানের অভ্যাসকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন রাজশেখর বসু ওরফে পরশুরাম। তিনি নাকি বলতেন: এক জনের বাড়িতে গেলাম, আর এক কাপ চায়ের দেখা পেলাম না, এই রকম কারও কাছে কোনও ভদ্রলোকের যাওয়া উচিত নয়।

ঢাকার নবাব আবদুল গনিও নাকি প্রায় প্রত্যেক সকালেই তাঁর বাড়িতে চায়ের আসর বসাতেন। তিনি নিজেও প্রতিদিন চা খেতে ভালোবাসতেন। এখনকার ঢাকার বেগুনবাড়ি এলাকায় তিরিশ বিঘা জমি কিনে সাফসুতরো করে নাকি তিনিও চা চাষের চেষ্টা চালিয়েছিলেন (এই ফাঁকে জানিয়ে রাখা যায়, উনিশ শতকের ঢাকা শহরে অবশ্য ইংরেজদের পাশাপাশি আর্মেনিয়ান বণিকরাও চা বিপণনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৮৭০ সালে শাঁখারীবাজারে আর্মেনিয়ানরা প্রতিষ্ঠা করেন শহরের সবচেয়ে আধুনিক ও অভিজাত চায়ের দোকান। নবাবপুরের ক্যাপিটাল রেস্তোরাঁও তখন চমৎকার চা পরিবেশনের জন্য দারুণ বিখ্যাত হয়ে ওঠে)।

বাঙালির চা-প্রীতির প্রসঙ্গে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম চা সংক্রান্ত পুস্তকের সংবাদ না জানানোটা উচিত হবে না। ১৯০০ সালে কলকাতার ৪ নং উইলিয়মস লেনের দাস মুদ্রণযন্ত্রে জনৈক অমৃতলাল ঘোষের দ্বারা “চা প্রস্তুত প্রণালী শিক্ষা” নামের একটি অভিনব বই মুদ্রিত হয়েছিল। ১১২ পৃষ্ঠার বইটির লেখকের নাম গিরীশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বইটি থেকে জানা যায়, লেখক কাছাড়ের জিরিঘাট চা-বাগানে টি-মেকার হিসেবে কাজ করেন। বইটিতে চা সংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটি তথ্য সংকলিত হয়েছিল, যেমন চায়ের প্রকারভেদ, চা তৈরির কায়দা-কানুন, চাষের পরিবেশ, চায়ের মোড়কীকরণ ইত্যাদি।

লেখক ভূমিকাতে লিখেছিলেন চা প্রস্তুত সম্পর্কে বঙ্গভাষায় কোনো গ্রন্থ নাই বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। আজকাল চা ব্যবসায়ে বহু সংখ্যক দেশীয় লোক লিপ্ত হইয়া জীবিকা নির্ব্বাহের সোপান করিতেছেন। এ সম্বন্ধে যা কিছু বিজ্ঞান আছে, সকলই ইংরেজী ভাষায়। সর্ব্বসাধারণের দন্তস্ফূট জন্যও উহা উপযোগী নহে। আমি সেই অভাব দূরীকরণের জন্য অনেকানেক ইংরেজী ভাষার চা বিজ্ঞান সমালোচনায় নিজের দীর্ঘকাল চা সম্বন্ধে জ্ঞানের যোজনা করিয়া অত্র গ্রন্থ লিখিলাম।

চা-বিরোধী দ্রোহ : ব্রাহ্মসমাজ থেকে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র

চায়ের প্রতি একদল বাঙালির আগ্রহ যেমন জন্মাচ্ছিল, তেমন এর বিরুদ্ধে আরেকদল বাঙালিই বিভিন্ন সময়ে প্রকান্ড বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসেছিলেন। একেকসময় নানাবিধ কারণে চা-বিরোধীতায় নেমেছেন অনেক বিখ্যাত বাঙালি ব্যক্তিত্বও। সেইসব কারণ কখনো নির্মিত হয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতাকে মিশিয়ে, কখনোবা চা বাগানের শ্রমিকদের অধিকারের প্রসঙ্গটিকে ঘিরে।

ব্রাহ্ম সমাজের সদস্যরা উনিশ শতকের শেষার্ধে চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে বেশ সোচ্চার হয়েছিলেন । চা-বাগানের শ্রমিকদের ওপর মালিকপক্ষের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁরা বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করেছিলেন তখন। ব্রাহ্ম সমাজ থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতেও এ নিয়ে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য রামকুমার বিদ্যারতœ আসাম অঞ্চলে ব্রাহ্মধর্মের প্রচার করতে গিয়ে চা-শ্রমিকদের দুর্দশার সাথে সরেজমিনে পরিচয় লাভ করেছিলেন।

এ নিয়ে পরে তিনি “কুলি কাহিনী” নামের একটি আবেগঘন উপন্যাস লেখেন ও ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র সঞ্জীবনী পত্রিকাতেও এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন রচনা করেন। এরপর ব্রাহ্ম সমাজের আরেকজন সংগঠক দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীও সরেজমিনে আসামের প্রায় সব চা বাগানে ঘুরে আসার পর চা শ্রমিকদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার ও নির্মম নির্যাতনের বিবরণ নিয়ে বহু প্রবন্ধ লেখেন।

তাঁরা রাজনীতির ময়দানেও এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন শুরু করেন। ফলে ১৯০১ সালের দিকে ব্রিটিশ-রাজ চা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় শ্রম আইন যথাযোগ্যভাবে সংশোধন করে। ঠিক এমনভাবেই চা বাগানে শ্রমিক নির্যাতনের হেতু অনেক সচেতন বাঙালিই তখন চা ও চা-শিল্পের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একে তাই নিছক যুক্তিহীন উপেক্ষা বা ক্রোধ বলা যাবে না।

বাবুদের বৈঠকখানায় চা-পানের আসর, প্রিয়গোপাল দাশের করা কাঠখোদাই-চিত্র

এছাড়া কেউ কেউ তুমুল স্বদেশীয়ানার আমলে ইংরেজের তৈরি পানীয় গ্রহণ করাটা গর্হিত অপরাধ―এরকম ধারণার কারণেও চা ছুঁতে চাননি। “নেটিভ”-দের ভয়াবহভাবে শোষণ করে সাদা চামড়ার শাসকের ভাঁড়ার ভরবার আয়োজন (ভাঁড়ার ভরেওছিল বৈকি, উনিশ শতকের শেষে বাংলা অঞ্চলে উৎপাদিত চা তো ইউরোপে পরম দাপটে চিনদেশি চায়ের বাজার ধ্বসিয়ে ছেড়েছিল) সফল করবার উদ্দেশ্যে বানানো পানীয় গ্রহণ করাটাও নিশ্চয় স্বাধীনতার স্বাদ পেতে চাওয়া দ্রোহী বাঙালিদের দৃষ্টিতে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো কর্ম ছিল না।

নব স্বদেশী-আদর্শে উদ্বুদ্ধ শিক্ষিত সমাজের বেশিরভাগ সদস্যই এমন মত পোষণ করতেন। অবশ্য তাঁদের আদর্শিক দিক থেকে দেখলে এতে আপত্তি জানানোর তেমন কিছু তখন ছিল না। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “পরিণীতা” উপন্যাসের নায়িকা ললিতা তাই প্রেমিক শেখরের ইচ্ছা অনুসারে চা খায় না, কারণ শেখর আপাদমস্তক কট্টর স্বদেশী― এজন্য চা কিংবা চা-পান, এ দুই-ই তাঁর নিকট বিকটরূপে অসহ্য। মদ্যপানের পাশাপাশি চা-পানও হয়ে ওঠে এলিট সমাজের কারো কারো কাছে বাবুয়ানার উপযুক্ত প্রতীক। বিংশ শতকের শুরুতে শিল্পী প্রিয়গোপাল দাশ তাঁর তৈরি করা একটি অনবদ্য কাঠখোদাই চিত্রেও ধরে রেখেছিলেন কলকাতার বাবুদের বৈঠকখানায় বসে চা-পানের বিলাসী আয়োজন ও খাসনামার চা পরিবেশনের দৃশ্য ।

হরিপদ রায়ের আঁকা ব্যঙ্গচিত্র, পাক্কা চা-খোর

এরপর আসে বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রচণ্ড চা বিরোধী বিদ্রোহের পালা। লর্ড কার্জনের বক্তৃতায় চা পানের সপক্ষে প্রচারের কথা দেখে তিনি স্বভাবতই চায়ের মধ্যে দেখতে পান সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজের নয়া কূটকৌশলের ছায়ারেখা। বাংলার সর্বস্তরে চায়ের জনপ্রিয়তাকে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র বাঙালিকে অলস ও নেশাতুর করার পথে ইংরেজের সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেন উনিশশো পঁয়ত্রিশ সালের ৭ই ডিসেম্বর দেশ পত্রিকায় তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ “চা-এর প্রচার ও দেশের সর্বনাশ”-এ। চা-পানে বাঙালিকে উৎসাহিত করার জন্য ইংরেজদের গৃহীত বহুমুখী অদ্ভুত কূটনীতি ও চোখ-ধাঁধানো কৌশলই ছিল সে লেখায় তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য।

চা চাষের ফলে বাংলার অর্থনীতি কীরকম দুর্বল হয়ে পড়ছে তা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন। শেষে চা কীরকম স্বাস্থ্যগত ক্ষতি করে তারও বর্ণনা দিয়েছেন। তবে আচার্যের এই প্রবন্ধের প্রধান ভাবগত ঝোঁকটা চা-পানের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও আত্মিক ক্ষতির রুক্ষ বিবরণের দিকেই বলে মনে হয় । নিতান্ত অসচেতন উদাসী আয়েশী মনোভাব ও লাগামছেঁড়া-মাত্রাছাড়া বিলাসিতার কারণেই বাঙালি যে “ইংরেজের কথায়” চা-পানের অভ্যাসে ক্রমেই নিমজ্জিত হচ্ছে, সাম্রাজ্যবাদী শোষকের বিজ্ঞাপনে প্রলুদ্ধ হয়ে চা পান করছে― এ সিদ্ধান্তে তিনি আগাগোড়া নিঃসন্দেহ ছিলেন বোঝা যায়।

আমরা ধারণা করতে পারি, হয়তোবা তাঁর ভেতরে গভীর ক্ষোভ নিহিত ছিল আসলে বাঙালির এই আয়েশী মনোভঙ্গিকে কেন্দ্র করেই। এবং এই প্রবন্ধের পরও তিনি চায়ের বিরুদ্ধে আরো দুটি প্রবন্ধ রচনা করেন যথাক্রমে বাংলা ও ইংরেজিতে: চা-পান ও দেশের সর্বনাশ এবং Evils of Tea Drinking। শুধু কলমের লেখায় নয়, তুলির রেখাতেও এক শিল্পী চেয়েছিলেন চা-পান ও চা-সেবনকারীদের পরোক্ষভাবে খানিক ব্যঙ্গ করতে। প্রফুল্লচন্দ্রের আন্দোলন চলবার সময়ই “বসুমতী” পত্রিকায় প্রকাশিত হয় সে সময়ের পরিচিত অঙ্কণশিল্পী হরিপদ রায়ের আঁকা এক ব্যঙ্গচিত্র, শিরোনাম পাক্কা চা-খোর।

ছবিতে দৃশ্যমান সেই চা-খোরের স্বাস্থ্য ভঙ্গুর, গাল তোবড়ানো, খালি পা, চোখজোড়া কোটরাবদ্ধ, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, মাথার চুল উশকো-খুশকো ও হাতে অমোঘ নিয়মেই একটি চায়ের কাপ। একটি টেবিলে সে বিশাল বড় এক চায়ের কেটলি ও একখানা পিরিচ সামনে রেখে চেয়ারে উপবিষ্ট। মাটিতে পড়ে আছে অগুণতি নিঃশেষিত সিগারেটের দগ্ধ ফিল্টার। টেবিলের ওপরও দেখা যায় একটি জলন্ত সিগারেট ― সিগারেটের খোলা প্যাকেট ও দেশলাই-বাক্সও চোখে পড়ে।

কার্যত চা সেবনকারীমাত্রেই যে ভয়ানক বাজে স্বাস্থ্যের অধিকারী ও দৃশ্যত অর্ধোন্মাদ গোছের ― হরিপদ রায় তাঁর আঁকা এই কার্টুনের মাধ্যমে শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মানসপটে এহেন একটি নেতিবাচক ধারণা জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠা করতেই ইচ্ছুক ছিলেন কি? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অবশ্য সহজ নয়।

চায়ের প্রচার ও ইংরেজের বিপণন কৌশল

পূর্বে উল্লেখিত আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের “চা-এর প্রচার ও দেশের সর্বনাশ” প্রবন্ধ থেকেই একটি কৌতুহলোদ্দীপক তথ্য পাওয়া যায়। তিনি জানাচ্ছেন, ইংরেজরা চা পানের দিকে বাঙালিদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য কলকাতার দুই বড় চৌরাস্তা, বৌবাজার ও ঠনঠনিয়ার মোড়ে চায়ের দোকান স্থাপন করেছিল, যেখান থেকে বিনামূল্যে সবাইকে চা তৈরি করে খাওয়ানো হতো― বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্যে ক্ষুদ্র মোড়কে এক পয়সার চা পাতাও বিনা পয়সায় বিলি করা হতো ।

দেশভাগের পর, ১৯৫১ সালেও বরিশাল শহরে এমন কার্যক্রম চলতে দেখা যেত। পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন নদীপথে চা পানের সপক্ষে প্রচার করে বেড়াতো টি অ্যাসোসিয়েশনের নৌবহর। বিশাল এক কেটলিশোভিত মোটরগাড়ি চায়ের সপক্ষে সুনিপুণ প্রচার চালিয়ে বেড়াতো বাংলার বিভিন্ন মফস্বল শহরেও।

ইংরেজ আমলে বিভিন্ন রেলস্টেশনে স্থাপিত চা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনী সাইনবোর্ড

কার্যত এসবই ছিল ইংরেজদের উর্বর মস্তিস্কপ্রসূত বিপণন কৌশল। ইউরোপে তখন চায়ের বাজারে মন্দা ধরেছিল বলে কেউ কেউ ধারণা করেন, সেজন্যই নাকি বাঙালি জাতের মধ্যে বাজার ধরবার জন্য এইসব নাছোড়বান্দা কিন্তু রোমাঞ্চকর চেষ্টা। “ন্যায়-অন্যায় জানিনে”, তবে শুধু এটুকুই বলবো রাস্তাঘাটে বিনা পয়সায় চা খাওয়ানো বা চা পাতা বিলি করার অভিনব ঘটনার মতোই বঙ্গদেশে চা কোম্পানির বিজ্ঞাপনী কৌশলও ছিল দারুণ ব্যতিক্রমি, ভীষণ চমকপ্রদ এবং বেশ মজাদারও কখনোসখনো।

তখনকার দিনে ভারতবর্ষের বড় বড় রেল স্টেশনে টি বোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছিল চা সংক্রান্ত নানারকমের রঙিন ও চিত্তকর্ষক বিজ্ঞাপনী ফলক। অবিভক্ত ভারতবর্ষের জনগণের মধ্যে প্রচলিত প্রায় সব প্রধান ভাষাতেই এসব ফলক লেখা হয়েছিল। বাংলাদেশের রংপুর জেলার কাউনিয়া ও পাবনার ঈশ্বরদি স্টেশনে গেলে এখনও নজরে পড়তে পারে এরকম কিছু সেকালের সাইনবোর্ড।

তারপর যে অঞ্চলে যে ভাষা চালু, সেখানে ঠিকঠিক সেই ভাষায় বক্তব্য লিখে বসিয়ে দেওয়া হতো ফলকগুলো। ফলকের নকশা বা ছবি অবশ্য সবখানেই একরকম থাকতো। যেমন, একটি সাইনবোর্ডে দেখা যায় সাদা কুর্তা ও লালরঙা ফেজটুপি পরিহিত এক যুবকের ছবি, যথারীতি হাতে চায়ের কাপ, নিচে লেখা: থাকলে মায়ের, বাপের আশীর্ব্বাদ/ ভাল চা আর কাপড় যায় না বাদ।

আবার কোনো ফলকে মেলে চায়ের নানাবিধ গুণগান, কোনোটিতে আবার সগর্বে ঘোষণা― চা-ই হলো “একমাত্র গ্রীষ্মের শীতল পানীয়”। হলুদ রঙের আরেকটি ফলকে নজরে পড়ে ওপরপানে সাদা হরফে বড় করে লেখা গরম চা, সাথে ধূমায়িত চায়ের কাপ হাতে ঘোমটা টানা এক বাঙালি বধূর সাদামাটা প্রতিকৃতি, একটু নিচেই তুলনামূলক ক্ষুদ্র অক্ষরে চা সম্পর্কে দুই লাইনের পদ্য: যাহাতে নাহিক মাদকতা দোষ/কিন্তু পানে করে চিত্ত পরিতোষ। এখানে খুব সম্ভবত ইংরেজ কবি উইলিয়াম কুপারের The cups that cheer, but not inebriate লাইনটিরই চমৎকার ভাবানুবাদ করে সাইনবোর্ডে বসিয়ে দিয়েছিলেন টি বোর্ডের কোনো দক্ষ বিপণন পরিকল্পনাকারী ।

বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার বক্তব্য নিয়ে পূর্বাশা পত্রিকায় প্রকাশিত সেন্ট্রাল টি বোর্ডের বিজ্ঞাপন

তখনকার পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত চায়ের বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে আসা যাক এবার। পূর্বাশা পত্রিকায় প্রকাশিত ইন্ডিয়ান সেন্ট্রাল টি বোর্ডের একটি বিজ্ঞাপনের কথাই প্রথম বলি। এখানে “মডেল” হয়েছেন বিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, তাঁর নামের ওপরেই দেখা যাচ্ছে এক আপাত সরল ঘোষণা : “আমি রোজ চা খাই, দিনে অন্তত দু’বার করে। চা পানে স্বাস্থ্যহানি হয় বলে আমি জানিনে। বরং বরাবর দেখেছি সকাল বেলা এক কাপ চা খাওয়ার পর দেহ-মনের জড়তা দূর হয়ে যায় এবং কাজে বেশ উৎসাহ আসে।

নিছকই সাদামাটা বিবৃতি, কিন্তু বিজ্ঞাপনের বিন্যাস ও ভাবনার চোরাস্রোতের দিকে একটু খেয়াল করে তাকালে এর ভেতরের উচ্চাভিলাষী উদ্দেশ্যটা নজরে পড়তেও পারে। এই বিজ্ঞাপন ছাপা হবার বছর কয়েক আগে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের চা-বিরোধী কঠোর বিদ্রোহ ঢেউ তুলে দিয়েছে শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোজগতের মধ্যে। আচার্যের ওই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমতও হয়েছিলেন অনেকে। তাই টি বোর্ডের দরকার পড়লো প্রফুল্লচন্দ্রের মতোই আরেক বিখ্যাত বিজ্ঞানীকে, যিনি কিনা চায়ের সমাদর করে চা শিল্পের অনুকূলে বক্তব্য রাখতে পারবেন।

এভাবেই টি বোর্ড তাদের জ্ঞাতসারে বা অজান্তেই চা-শিল্পকে ঘিরে মুখোমুখি করিয়ে দিয়েছিল বাংলার দুই বিজ্ঞান-সাধককে । শুধু কি এই বিজ্ঞাপন? সমসাময়িক অনুষঙ্গ নিয়ে নানামুখি বিজ্ঞাপনের কারিশমা দেখাতে ভারতীয় চায়ের ব্যবসায়ীদের জুড়ি ছিল না। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী উত্তাপময় সময়ে “প্রবাসী” পত্রিকায় প্রকাশিত ইন্ডিয়ান টি মার্কেট এক্সপ্যানশান বোর্ডের একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এমন বাণীও: অশান্তি-উদ্বেগের গ্লানি চা-ই দূর করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইন্ডিয়ান টি মার্কেট এক্সপ্যানশান বোর্ডের বিজ্ঞাপন, প্রবাসী পত্রিকায়

রবীন্দ্রনাথের কবিতা থেকে আরম্ভ করে বাড়ির গৃহিণীদের আকৃষ্ট করে লেখা আবেগঘন কথকতা ― কোনো কিছুই চায়ের বিজ্ঞাপনে অধরা থাকেনি। কোনো বিজ্ঞাপনে ভারতের সর্বধর্মের প্রিয় পানীয় চা এমন বার্তা তো আরেক বিজ্ঞাপনে চায়ের রোগ সারানোর নানাবিধ গুণের বর্ণনা। চায়ের উৎপাদন প্রক্রিয়া, চা ব্যবসার সাফল্য― এসব নিয়ে তো বিজ্ঞাপন রয়েছেই। বিভিন্ন ভারতীয় উৎসবের সাথে মিলিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়াটাও তখন একটা রেওয়াজ হিসেবে ছিল চা কোম্পানিগুলোর ভেতরে। তবে চায়ের বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে অভিনবত্ব এনেছিলেন কবি অজিত দত্ত, তখন তিনি সেন্ট্রাল টি বোর্ডের উপদেষ্টা হয়ে আসেন।

তিনি নিজে থেকেই সেখানে ডেকে আনেন চিত্রশিল্পী অন্নদা মুন্সীকে। তাঁর দেশীয় লোকছড়ার আঙ্গিকে লেখা বিজ্ঞাপনী বার্তার সাথে মিলিয়ে অসাধারণ সব ছবি এঁকে লাগসই সঙ্গত করতে থাকেন অন্নদা মুন্সী। একটি উদাহরণ: “ঘুমপাড়ানী মাসি পিসী ঘুম দিয়ে যেও/বাটি ভরে চা দেবো হাসি মুখে খেও/ঘুমপাড়ানী মাসি পিসী ঘুম দিয়ে যা/ খোকার বাপ ঘরে আসবে করতে হবে চা।” অতীব মনোহর ছন্দময় বার্তার সাথে বাংলার গ্রামীণ পটচিত্রের নিখুঁত অণুকরণে আঁকা শিশুকে কোলে করে মায়ের ঘুম পাড়ানোর চিত্রের সমন্বয়ে নির্মিত এই বিজ্ঞাপন যে কাউকে অন্তর থেকে মুগ্ধ করতে সক্ষম, এতে কোনোই সন্দেহ নেই।

তবু এক কাপ চা

চা-পান নিয়ে বাঙালির নানাকরম চাপান-উতোর সেই উনিশ শতক থেকেই চলছে। এই তর্ক থামবার নয় বটে। তবে ভাবাবার মতো অবশ্যই । ঔপনিবেশিক বাংলায় চায়ের প্রচলন ও সেখান থেকে জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে এর উত্তরণের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস আজও লেখা হয়নি। আশা করি ভবিষ্যতে ইতিহাস বিশারদ কোনো যোগ্য গবেষক আমাদের জীবনে কী করে এই বিদেশি পানীয়টি প্রায় স্বদেশী দ্রব্যের মতোই রীতিমতো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়লো―তার বিশদ বিবরণ সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন। আর চা-পানের অভ্যাস তো আর নিছক উগ্র নেশা নয়, বাঙালির কাছে এ এক সহজিয়া বিলাসিতা।