Wednesday, October 29, 2014

Field Stork


Ciconiidae are a family of birds belonging to the order of Ciconiiformes. The best known species of the family is probably the white stork who also lives in Europe and makes long migrations in Africa . Birds are generally large, with a wingspan of between 1.8 and 2.5 m. They have long legs and slender, suitable for walking in shallow water, a long neck and strong, a large beak and sharp. The largest representative of the family is the Indian Marabou which has a wingspan of 2 feet and weighs 6-7 kg.

Monday, October 27, 2014

Kite Festival



Kite Festival is held during Makar Sankranti. The local kite craftsmen build their kites according to the old tradition, using river reeds dried in the open air, natural string, glue made by mixing flour and water, wax paper or tissue paper. The festival takes place on the terraces, where dozens of kites rise up into the sky from the early morning.

Wednesday, October 22, 2014

দীপাবলী উৎসব

দীপাবলী অর্থ আলোর উৎসব। এ-কে দেওয়ালীও বলা হয়। এর সময়কাল কার্তিক মাসের অমাবস্যার সন্ধ্যা। শুধু ভারতবর্ষ নয়, পৃথিবীর সর্বত্র এ উৎসব পালিত হয়। তবে আলো-কে আমন্ত্রণ-বরণ করার উপাচার অনেকটা পৃথিবীর সর্বব্যাপী । বৌদ্ধ, জৈন ও খৃস্টানরাও অন্যভাবে আলোর উৎসব পালন করেন।

শ্রীরাম চন্দ্র রাবণ বধ করে অযোধ্যায় আসলে প্রজারা তাঁকে স্বাগত জাননোর জন্য রাতব্যাপী অযোধ্যায় আলোকসজ্জা করে। অসুর শক্তির পরাজয়, মন্দ শক্তির পতনের এই উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে অযোধ্যার প্রজারা যেভাবে আলো আর উৎসবের আয়োজন করেছিল সেই ধারাবাহিকতায় আজও বিশ্বব্যাপী হিন্দুরা অসত্যের পরাজয় আর সত্যের জয়কে স্মরণ করতে দীপাবলীতে আলোর উৎসব করে থাকে।

দীপাবলীর অন্য তাৎপর্য হচ্ছে শ্রীশ্রীকালীপূজা ও দীপাবলী অনুষ্ঠিত হয় কার্তিক মাসে। কার্তিক মাসটি মৃতের মাস বলে পরিগণিত। এই মাসে মৃত পিতৃপুরুষদের গতিপথ আলোকিত করতে আকাশপ্রদীপ জ্বালানো হয়। মৃত পুরুষদের মুক্তি কামনায় এই আলোর প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। যেহেতু মাকালী কালভয়হারিণী, ত্রিনয়নে তার চন্দ্র-সূর্য-অগ্নি অনন্ত কোটি প্রদীপ্ত তারকা তাই তিনিই পিতৃপুরুষদের পথপ্রদর্শক।

তাঁর আলোকেই অন্ধকার থেকে জ্ঞানের পথে, যমলোক থেকে শাশ্বত মুক্তির পথে মানুষ গমন করতে পারে এই বিশ্বাস থেকে দীপাবলীর সাথে কালীপূজা জড়িয়ে আছে।

Kolkata Deepavali images wallpaper

সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শক্তির দেবী হিসেবে যুগ যুগ ধরে কালী পূজা বা শ্যামা পূজার আয়োজন করে আসছেন। এ উপলক্ষ্যে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। যে রাত, দেবীর গায়ের বর্ণের মতনই ঘোর কালো। মূলত ঋক বেদের ‘রাত্রি সূক্তে’ যে দেবীর খোঁজ মেলে তাঁকেই কালীর আদি সূত্র বলে মেনে নেওয়া হয়।

প্রাচীন প্রথা অনুসারে দীপাবলীর সন্ধ্যায় তেল দিয়ে সহস্র মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার মাটির প্রদীপের পরিবর্তে কলাগাছের খোলে প্রদীপ জ্বালানোও লক্ষণীয়। এখনও অনেক স্থানে এ সব প্রথা চালু আছে। তবে বর্তমানে শহরাঞ্চলে অনেকে তেলের প্রদীপের পরিবর্তে মোমবাতি ব্যবহার করেন।

তারা এই দিনটি "শারদীয়া নব-শস্যেষ্টি" হিসেবেও পালন করেন।


Friday, October 17, 2014

মুগ ডাল দিয়ে দারুণ সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি

এই শীতের দিনে গরম গরম রুটি-পরোটার সাথে নিরামিষ খেতে দারুণ লাগে। অন্যদিকে গরম ভাতের সাথে ডাল চচ্চড়ির যেন জুড়ি নেই। এই সবজি আর ডালকে একত্রিত করে দারুণ একটি রেসিপি আজ নিয়ে এসেছেন শৌখিন রাঁধুনি সায়মা সুলতানা। সোনালি মুগডালের সাথে শীতের সবজি দিয়ে দারুণ এই সুস্বাদু এই খাবারটি তৈরি হয় খুব অল্প সময়েই। আসো দেখে নেই বন্ধুরা এই মজাদার মুগ ডালের চচ্চড়িটি কিভাবে রান্না করবে, সকালে রুটি/পরোটার সাথে দারুন লাগে।

moong dal khichuri recipe images

প্রয়োজন:

মুগ ডাল ১ কাপ
পেয়াজ কুচি ১/২ কাপ
হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ
লাল মরিচ গুঁড়া ১ চামচ
আদা-রসুন বাটা ২ চা চামচ
জিরা বাটা ১ চা চামচ
কাঁচামরিচ ৫/৬টি
ধনিয়া পাতা, তেল ও
লবণ পরিমাণ মতো
টমেটো

যেভাবে রান্না করবে:

প্রথমে মুগডাল হালকা লালচে করে ভেজে, ধুয়ে রাখ।

কড়াইতে তেল দিয়ে পেঁয়াজ লালচে করে ভেজে টমেটো ও ওপরের সব মসলা সহ ডাল দিতে হবে। ভালো করে কষিয়ে পরিমান মত পানি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ডাল সিদ্ধ হলে মাখা মাখা হবে। ডাল নামানোর আগে কাচাঁমরিচ ও ধনিয়া ওপরে ছড়িয়ে দিতে হবে।

রুটি/ভাত/পোলাও ইত্যাদির সাথে পরিবেশন করতে পারো।

Saturday, October 11, 2014

Indian Museum Kolkata

http://1.bp.blogspot.com/-8J9vqCvvMe8/ThmfC-bAqUI/AAAAAAAAEO4/MbWMDlS2vRw/s1600/Kolkata_Indian_Museum+%252816%2529.JPG

Indian Museum tells the story of India with rare objects with a very rich collection of artifacts, which you will find in rooms with different gemstone archaeology, paintings, stuffed animals, sculptures and remains a place to visit when you come to the Kolkata. Indian Museum is one of the oldest museums in the world. Its establishment dates back to 1814 and was the work of the Danish botanist Nathaniel Wallich.

Friday, October 10, 2014

Marble Palace Kolkata


Marble Palace is a palladian style mansion built in 1835 by Raja Rajendra Mullick, a wealthy merchant avid collector of works of art, whose descendants own the rights of ownership. Constitutes one of the major tourist attractions of the city and is the best preserved and most elegant residence in the Calcutta of the nineteenth century.

Thursday, October 9, 2014

Butterfly Kiss

http://4.bp.blogspot.com/_D_FJU15AaxA/SkeMtEtqy-I/AAAAAAAABQo/B7g9zdlsGcE/s1600/butterfly+-+science+city.JPG

The butterfly is an insect that, like moths. The distinction between butterflies and moths does not answer a scientific classification taxonomy, but derives from common usage. Based on this distinction, popular, some authors in the past have suggested a distinction between butterflies, which correspond to the modern classification and moths. Today this distinction, however, is not scientifically accepted.

Wednesday, October 8, 2014

Feast of Grandparents Day

http://4.bp.blogspot.com/_r-4wztt8w_Y/TI9yoxKDE4I/AAAAAAAAAPs/gI4R9tQHOzA/s1600/CSWD.jpg

The Feast of the grandparents is a recurrence calendar, as a time to celebrate the important role played by grandparents within families and society in general. The task of promoting initiatives to enhance the role of grandparents, at that date, it is by law to Regions, Provinces and Municipalities. The Grandparents Day was introduced in the United States in 1978 during the presidency of Jimmy Carter on the proposal of Marian McQuade, a housewife of West Virginia, the mother of fifteen children and grandmother of forty grandchildren.

Monday, October 6, 2014

Babui Pakhi: Weaver Bird


The weaver birds are a family of small birds, passerines, which are characterized by bright colors and habit of building nests of large and complex structure. Birds are passerines of small to medium sized 11-24 cm long, with a beak short and stout. In most species there is a marked sexual dimorphism males have liveries in very bright colors while females have a rather resigned.

Saturday, October 4, 2014

বিজয়া দশমী - ছবি

মাত্র কয়েক দিন আগে যেখানে ছিল আলোর রোশনাই, ঢাকের শব্দ, আড্ডার মাদকতা আর অনাবিল আনন্দ সেখানেই এখন নীরবতা আর শূন্যতা। ঠাকুরদালানে জ্বলতে থাকা প্রদীপের মৃদু আলোয় তখন শুধুই খেলে বেড়ায় আলো-আঁধারির স্মৃতিকথা। প্রতি বছর পুজো শেষে এটাই পুজো প্রাঙ্গণের পরিচিত ছবি। নিজের অজান্তেই ছলছল করে চোখ দু’টি। ঠিক যেন আপনজনের দূরে চলে যাওয়া বেদনা গ্রাস করে অবুঝ, সরল মনকে।

নবমী নিশি পেরোতেই বিষাদের করুণ সুর বেজে ওঠে মনে। ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন তখন ঘোর বাস্তব। পাঁচ দিনের উৎসবের রেশ রয়ে যায় বছর ভর। এমনই এই উৎসবের মহিমা। তবু পুজোর ক’টা দিনের উষ্ণ মুহুর্ত যেন হয়ে ওঠে সারা বছরের আনন্দের উৎসবিন্দু।

Durga Baran dala

রথযাত্রা কিংবা জন্মাষ্টমীতে যার প্রস্তুতির সূচনা তারই সমাপ্তি ঘটে নবমী নিশিতে। এমনটাই তো চলছে যুগ যুগ ধরে। তবু মন মানে না। পুজোয় রঙিন মুহূর্তগুলো যেন ঘুরে ফিরে আসে কর্মব্যস্ত একঘেয়ে জীবনের আনাচে কানাচে। হয়তো এই কারণেই কখনও একঘেঁয়ে লাগে না পুজোটাকে।

ঠাকুর থাকবে কতক্ষন, ঠাকুর যাবে বিসর্জন! দশমীর সকাল থেকেই ঢাকের কাঠি, তাই বলে যাচ্ছে। পুজো, পুজো, পুজো, পুজো শেষ। কাল থেকেই স্কুল, কলেজ, পড়াশোনা, দৈনন্দিন জীবনযাপন। বিসর্জনের পরও, নিরাকার দেবী সারা বছর থেকে যাবেন আমাদের কাজের মধ্যে, আমাদের অধ্যবসায়। বিদায়কালে, এই চেতনাই আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।

দশমীর সন্ধ্যা থেকেই আবারও শুরু হয় এক বছরের নীরব প্রতীক্ষা। মাটির বেদীর উপরে তখন প্রতিমার পরিবর্তে শোভা পায় শুধুই প্রাণহীণ প্রতিমার পাটা। এ যেন বছর পেরিয়ে আপন মেয়ের ঘরের ঘরে ফেরা। তাইতো মিশে আছে এত আনন্দ, এত আন্তরিকতা। আর বিজয়া মানেই মেয়ের ঘরে ফেরার জন্য আবার এক বছর প্রতীক্ষার সূচনা। তাই মন খারাপ হয়। আজও দশমী এলেই মনে পড়ে যায় মেয়ের বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা।

দূর্গা পূজার ইতিহাস, মন্ত্র

দুর্গা মূলত শক্তি দেবী। বৈদিক সাহিত্যে দুর্গার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে দুর্গার বিশেষ আলোচনা ও পূজাবিধি তন্ত্র ও পুরাণেই প্রচলিত। যেসকল পুরাণ ও উপপুরাণে দুর্গা সংক্রান্তআলোচনা রয়েছেসেগুলি হল: মৎস্যপুরাণ, মার্কণ্ডেয় পুরাণ, দেবীপুরাণ, কালিকাপুরাণ ও দেবী-ভাগবত। তিনি জয়দুর্গা,জগদ্ধাত্রী,গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা, চণ্ডী, নারায়ণী প্রভৃতি নামে ও রূপে পূজিতা হন ।

বছরে দুইবার দুর্গোৎসবের প্রথা রয়েছে – আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষেশারদীয়া এবং চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে বাসন্তী দুর্গাপূজা। দুর্গা (সংস্কৃত:दुर्गा); অর্থাৎ "যিনি দুর্গ বা সংকট থেকে রক্ষা করেন" । অন্যমতে,"যে দেবী দুর্গম নামক অসুরকে বধকরেছিলেন" । দেবী দুর্গার অনেকগুলি হাত। তাঁর অষ্টাদশভূজা, ষোড়শভূজা, দশভূজা, অষ্টভূজা ওচতুর্ভূজা মূর্তি দেখা যায় ।

তবে দশভূজা রূপটিই বেশি জনপ্রিয়। তাঁর বাহন সিংহ । মহিষাসুরমর্দিনী- মূর্তিতে তাঁকে দেখা যায় । হিন্দুশাস্ত্রে দুর্গা শব্দটিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে: দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ। উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।। রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ । ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চা কারঃ পরিকীর্তিত । অর্থাৎ, "দ" অক্ষরটি দৈত্য বিনাশ করে, উ-কার বিঘ্ন নাশ করে, রেফ রোগ নাশ করে, "গ" অক্ষরটি পাপ নাশ করে এবং আ-কার শত্রু নাশ করে। এর অর্থ, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা।

অন্যদিকে শব্দকল্পদ্রুম বলেছে, "দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা"। অর্থাৎ, যিনি দুর্গ নামে অসুরকে বধ করেছিলেন, তিনি সব সময় দুর্গা নামে পরিচিত । শ্রীশ্রীচণ্ডী অনুসারে যে দেবী "ন িঃশেষদেবগণশক্ত িসমূহমূর্ত্যাঃ" (সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি), তিনিই দুর্গা। শ্রী শ্রী চণ্ডীতে দেবীর তিনটি রুপ কল্পনা করা হয়েছে । তমোগুণময়ী মহা কালী, রজোগুণময়ী মহালক্ষী এবং সত্ত্বগুণময়ী মহাসরস্বতী । মনসা, শীতলা, ষষ্ঠী, গন্ধেশ্বরী, সুবচণী, অন্নপূর্ণাদিও এই মহাশক্তিরই অংশভূতা।

শক্তিবাদএই দেবী দুর্গাকেই কেন্দ্র করে অঙ্কুরিত, পরিবর্ধিত ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত। ধ্যানাশ্রিত মূর্তি: দেবী দুর্গা: কেশরাজি সমাযুক্তা, অর্ধেন্দুকৃত শেখরা এবং ত্রিনয়না। তাঁর বদন পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় সুন্দর, বর্ণ অতসী ফুলের মত হরিদ্রাভ। তিনি ত্রিলোকে সুপ্রতিষ্ঠাতা, নবযৌবন সম্পন্না, সর্বাভরণ-ভূষিতা, সুচারু-দশনা, পীনোন্নত-পয়োধরা। তাঁর বামজানু কটি ও গ্রীবা এই স্থানত্রয় একটু বঙ্কিমভাবে স্থাপিত । তিনি মহিষাসুর মর্দিনী এবং মৃনালের ন্যায় দশবাহু সমন্বিত। তাঁর দক্ষিণ পঞ্চকরে উর্ধ্ব-অধ:ক্রমে ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, তীক্ষ্ণবাণ ও শক্তি এবং বাম করে ঐরুপক্রমে খেটক ধেনু, পাশ, অঙ্কুশ, ঘন্টা, পরশু শোভিত।

দেবীর পদতলে ছিন্ন-স্কন্ধ মহিষ। উক্ত মহিষ থেকে উদ্ভূত এক খড়গপাণি দানব। দেবীর নিক্ষিপ্ত শূল ঐ দৈত্যর হৃদয় বিদীর্ণ করেছে। তাতে দৈত্যর দেহ রুধিরাক্ত,চক্ষু রোষ কষায়িত । দেবী নাগপাশযুক্ত, তাতে দৈত্যের কেশ আকর্ষণ করে আছেন। তাতে দৈত্যের রুধির বমন ও দ্রুকুটিতে ভীষণ দর্শণ হয়েছে। দেবীর দক্ষিণপদ সিংহোপরি এবং বামপদ দৈত্যের কাঁধে অবস্থিত । দেবী অষ্টশক্তি যথা উগ্রচণ্ডা, প্রচণ্ডা, চণ্ডোগ্রা, চণ্ড নায়িকা, চণ্ডা, চণ্ডাবতী, চণ্ডরুপা ও অতিচণ্ডিকা পরিবেষ্টিতা।

দেবী ধর্ম, অর্থ,কাম ও মোক্ষ এই চতুর্বর্গ ফলদাত্রী এবং জগদ্ধাত্রী।দেবীপূজার দুটি ধারা একদিকে তিনি অতি সৌম্যা মাতৃরুপা স্নেহ বাৎসল্যে জগত পালন করেন। আশ্রিত, ভক্ত, সাধক,সন্তানকে দান করেন ভয় ও অভয়। ভীষণা মূতি হয়ে তঁার সংহার নীলা- আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে কালান্তক অভিযান। দেবী পূজার ফলও দ্বিবিধ-ভক্তি ও মুক্তি। রাজা সুরথ, রামচন্দ্র, অর্জুন,শিবাজী রাণা প্রতাপ, গোবিন্দ সিং প্রমুখ অভ্যূদয়কামী রাজণ্যবর্গ ও স্বদেশপ্রেমী সাধকগণ দেবীর ভীষণা মূর্তির সাধনা করেন- বীর্য,ঐশ্বর্য, রাজ্য,শত্রুবধ, বিজয়, স্বাধীনতা লাভ করেছেন।

অপর দিকে সমাধি বৈশ্য, রামপ্রসাদ, কমলা কান্ত,বামাক্ষ্যাপা, রামকৃষ্ণ প্রমূখ ভাব সাধকগণ দেবীর করুণাময়ী, দয়াময়ী, সৌম্যামূর্তির সাধনা, উপাসনা করে লাভ করেছেন প্রেম ভক্তি, জ্ঞান, বৈরাগ্য-মহামুক্তি। রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য পূজা করেছিলেন উত্তরায়ণে বসন্তকালে। উত্তরায়নই দেবদেবীর পূজার প্রকৃষ্ট সময়। দু’জনই দেবী পূজায় স্ব স্ব অভীষ্ট ফল লাভ করেছিলেন।রাজা সুরথ রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন আর সমাধি বৈশ্য পেয়েছিলেন মহামুক্তি। দেবীর কল্পারম্ভ অর্থ সঙ্কল্পঃ সঙ্কল্প অর্থ দেবী বা দেব পূজার উদ্দেশ্য।

এই উদ্দেশ্যই মানুষকে দেব বা দেবীপূজায় নিয়োজিত করে। সংকল্প যেখানে স্থির, গভীর একাগ্র, শ্রদ্ধযুক্ত পূজা সেখানেই সার্থকতা মণ্ডিত। সকল দেবদেবী পূজাতেই সংকল্প আছে । কিন্ত দুর্গা পূজার সঙ্কল্প একটু বৈশিষ্টপূর্ণ। দুর্গা পূজার সঙ্কল্পসাত প্রকার। কৃষ্ণানবমী, প্রতিপদ,যষ্ঠী ,সপ্তমী,অষ্টমী বা নবমীতেও সংকল্প করে পূজা করতে পারেন। কল্পারম্ভ বা সংকল্প করা মানে চণ্ডীর ঘটস্থাপণ করে যথাশক্তি পূজা। বোধন অর্থ দেবীকে জাগ্রত করে আহ্ববান করা । পৃথিবীর এক বছর (ছয় মাস দিন ও ছয় মাস রাত্রি) দেবগণের একদিন।

অর্থাৎ পৃথিবীর এক বছর দেবগণের একদিন। শ্রাবণ থেকে পৌষ দেবগণের রাত্রি এবং মাঘ থেকে আষাঢ় দেবগণের দিন। শ্রী হরির শয়ণ থেকে উত্থান পর্যন্ত রাত্রি। তাই শ্রাবণ থেকে পৌষ দেবদেবীর পূজায় বোধণ অপরিহার্য। শারদীয় দুর্গোৎসব দেবদেবিগণের রাত্রি বিধায় বোধন করতে হয় । এ সময়টাকে দক্ষিনায়ন বা পিতৃপক্ষও বলে। তাই দেবীর আবাহনের পূর্বে পিতৃপক্ষ অনুযায়ী তর্পণাদির ব্যবস্থা আছে। অনুষ্ঠানের নাম “মহালয়া পার্বণ শ্রাদ্ধম”। দেবীপূজা জাতি গঠনের প্রেরণা। সংহতিই জাতি গঠন বা রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি । এই সংহতিকে জাতির কল্যাণে সার্থক প্রয়োগেই রাষ্ট্র নির্মাণ পূণাঙ্গ হয় ।

Durga Visarjan images

বৈদিক সূক্তে দেবী নিজেই বলেছেন ‘অহং রাষ্ট্রী’। আমি এই বিশ্ব রাজ্যের অধীশ্বরী । দেবী প্রতিমায় আমরা যে পূজা করি তার দিকে দৃষ্টি দিলে এই রাষ্ট্র পরিকল্পনার নিখুঁত দিকটি কি প্রকাশিত হয় না? প্রত্যেক রাষ্ট্রে চারটি শ্রেণীর মানুষ দেখা যায়। বুদ্ধিজীবী, বীর্যজীবী, বৃত্তিজীবী ও শ্রমজীবী। এ চারশক্তির পূর্ণ অভিব্যক্তি ও পরস্পরের সাহচর্য যেখানে অবিঘ্নিত সে জাতি বা রাষ্ট্র অপ্রতিহত গতিতে তার লক্ষ্যপথে এগিয়ে যেতে সর্মথ। পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র ভাবনা থেকেই এ দেশে সৃষ্টি হয়েছিল ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র চার বর্ণ বিভাগ ।

এ বিভাগ ভেদ- বুদ্ধি প্রণোদিত নয়। দেবীর দক্ষিণে লক্ষী ও গণেশ বামে সরস্বতী ও কার্তিকেয় । লক্ষী ধনশক্তি বা বৈশ্য শক্তি। গণেশ জনশক্তি ,শূদ্রশক্তি বা শ্রমশক্তি। সবস্বতী জ্ঞানশক্তি বা ব্রহ্মণ্যশক্তি এবং দেব সেনাপতি কার্তিকেয় ক্ষাত্রশক্তির দেবতা। দেবী দুর্গা যখন আমাদের মধ্যে অবতীর্ণ হোন তখন তিনি একা আসেন না। পুত্রকন্যা স্বরুপ চার শক্তিকে নিয়েই আসেন। দেবীর প্রতিমা দর্শনেলব্ধ জ্ঞানই রাষ্ট্রীয় জ্ঞান বা রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞান। বস্তুত দুর্গা প্রতিমাই জাতীয় প্রতিমা। দেবী পূজায় সমাজের সকল স্তরের লোকই প্রয়োজন।

হাত কর্মের প্রতীক। আলস্য, নিদ্রা,তন্দ্রা,জড়তা,নিবীর্যতার মহাপাপ দূরীভূত করে জাতির মধ্যে সর্বত: প্রসারি কর্মশক্তি জাগিয়ে তোলার জন্যই তিনি দশভূজা। দশে মিলে কাজ করার, কল্যাণ করার, সুন্দর সমাজ গড়ার কাজ নিয়েছেন বলেই তিনি দশভূজা । জাতির সকল প্রকার অশুভ বিনাশ করার জন্যই তিনি দশ প্রহরণধারিণী । পশুরাজ সিংহ কেন দেবীর বাহন? কালিকা পুরাণ মতে শ্রী হরি দেবিকে বহন করছেন।হরি শব্দের এক অর্থ সিংহ। শ্রী শ্রী চণ্ডীতে উল্লেখ আছে গিরিরাজ হিমালয় দেবীকে সিংহ দান করেন।

শিবপুরান বলেন ব্রহ্মা দুর্গাকে বাহনরুপে সিংহ দান করেছেন শুম্ভ ও নিশুম্ভ বধের সুবিধার্থে। দেবীর বাহ্য লক্ষণের সাথে সিংহের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে দেবীর বাহন রুপে সিংহ কেন? দেবী নিখিল বিশ্বে রাষ্ট্রী বা সম্রাজ্ঞী। সিংহ পশু রাজ্যের সম্রাট। দেবী অস্ত্রধারিণী, সিংহও দন্ত- নখরধারী। দেবী জটাজুট সমাযুক্ত, সিংহ কেশরী। দেবী মহিষাসুর মর্দিনী, সিংহ মহিষের সাথে যুদ্ধ বিজয়ী । সিংহর থাবায় এমন শক্তি যে এক থাবায় মহিষের খুলি মস্তক থেকে ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। সিংহ একটি মহাবীর্যবান পশু। আধ্যাত্বিকতার দিক থেকেও বিচার করা যেতে পারে।

অসীম শক্তি শালী সিংহের কাছে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে আত্মসর্মপণের। দেবীর পদতলে নিত্য শরনাগত। জীব মাত্রই পশু। পশু চায় পশুত্ব থেকে মুক্তি ,চায় দেবত্বে উন্নীত হতে। তাই মাতৃচরণেঐকান্তিক শরণাগতি। সিংহ পশু শ্রেষ্ঠ হয়েও দেবশক্তির আধার হয়েছেন শুধু দেবির শরণাগতির প্রভাবেই। অপরদিকে দেবীর লক্ষ্য লোক কল্যাণ।

সত্ত্বগুণময়ী মা রজোগুণোময়ী সিংহকে বাহন নিয়ন্ত্রন করে লোকস্থিতি রক্ষা করছেন। রজোগুণের সংঙ্গে তমোগুণের সমন্বয় ঘটলে লোককল্যাণ না হয়ে হবে লোকসংহার। তাতে আসুরিকতা ও পাশবিকতার জয় হবে। এই পাশবিকতা ও আসুরিকতার সংহার করে, উচ্ছেদ করে লোকস্থিতি ও সমাজ কল্যাণকর কাজ সমাধা করতে চাই রজোগুণাত্বক শক্তির সাধনা। তাই দেবি সত্ত্বগুণময়ী হয়ে রজোগুণাত্মক সিংহকে করেছেন বাহন, অর্থাৎ অনুগত আজ্ঞাবহ ভৃত্য। দেবী দুর্গার প্রনাম মন্ত্র: সর্ব মঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে। শরণ্যে ত্রাম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোহস্তুতে ।

Friday, October 3, 2014

ম্যাডক্স স্কোয়্যার

ম্যাডক্সের আড্ডা। আর সুন্দরীদের টানে পারলে পুজোর চার দিনই ওখানে কাটিয়ে দেওয়া যায়। এটাই আসলে পুজোর ম্যাজিক। সেখানে দেদার খাওয়া হত।



ছেলেবেলার পুজো

ছেলেবেলার পুজোর একটা অদ্ভুত গন্ধ থাকত। ওই যে সলিল চৌধুরির ওই গানটা…‘আয়রে ছুটে আয় পুজোর গন্ধ এসেছে’। সেটা তখন পেতাম। কিন্তু এখন আর পাই না। এখন ব্যপারটা অনেকটা উত্সবের মতো। গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। বছরের চারটে দিন তো একটা উত্সব হবেই, ব্যাপারটা অনেকটা এমন।

Dhaaki bengal durga puja dhak

এখনকার জেনারেশন এ সব তো পায়ই না। কই আমার বন্ধুদের তো শুনি না মহালয়ার ভোরে ছেলেমেয়েদের জোর করে ঘুম থেকে তুলে মহালয়া শোনাচ্ছে। কোথাও সেই সংস্কৃতিটা হয়তো হারিয়ে যাচ্ছে। আমার পুজো চিরকালই পাড়াময়।

সিদুঁর খেলা রাঙিয়ে উমা বিদায়

উৎসবের শেষে বিষাদের সুর। আজ বিজয়া দশমী। ঘরের উমার এ বার বাপের ঘর থেকে বিদায় নেওয়ার পালা।মনের কোণে বিষাদ। ফের এক বছরের অপেক্ষা।সকাল থেকেই বিভিন্ন বাড়িতে এবং মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সিঁদুর খেলা। মঙ্গল কামনা করে একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে দিচ্ছেন মহিলারা। দেশের বাইরেও প্রবাসী বাঙালিরা মেতে উঠেছেন সিঁদুর খেলায়।

জমজমাট খাওয়াদাওয়া, দেদার আড্ডা সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং। কদিন এটাই ছিল রুটিন। উৎসবের আনন্দ পূর্ণতা পেল সিদুঁর খেলায়।



Thursday, October 2, 2014

আজ মহানবমী - ছবি

যেও না নবমী নিশি লয়ে তারা দলে, তুমি গেলে দয়াময়ী এ পরাণ যাবে। নবমীর নিশি পোহালেই মার যাবার পালা। মন সবারই ভারাক্রান্ত, একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা। মন খারাপের রঙ জামকে নিয়েই আমাদের নবমীর রাতের সোনামুখী সিল্ক।

তবুও যেন এ রঙ পরিতৃপ্তির, চারদিনের উৎসবের টুকরো টুকরো সোনালী স্মৃতি ছিটিয়ে আছে মীনা কাজের মধুবনী আঁকা আঁচলে, আমরা গেঁথে রাখছি মঙ্গলসূত্রে। ভোগের বেগুনভাজার ব্যঞ্জনবর্ণ, পঞ্চকশাইয়ের জাম ফল, খুঁজে পাওয়া জারুল ফুল, আবার নবমী পুজোর ব্যবহৃত খাল, বিলে ফুটে থাকা বেগুনী কুমুদ ফুলকে পেয়েছি আমরা কুরশের কাজের রুমালে।

এই রঙ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের পশ্চিম প্রান্তে, আরব সাগরের পারে। সব্বাই মেতে উঠেছে নবরাত্রির গরবা, ডান্ডিয়ার রাসে। নৃত্যবিলাসীরাও সেজে উঠছে এই একই নির্দিষ্ট রঙে।

নবমীর সকাল হলেই যেন মনটা কেমন খারাপ হতে থাকে। বেলা গড়িয়ে যতই বিকেল হতে থাকে ততই গভীর হতে থাকে মন খারাপ। আর সন্ধের পর থেকে ঢাকের আওয়াজেও যেন বিষাদের সুর। নবমীর রাতটা এলেই মনে হতে থাকে আজই পুজো শেষ। কাল ভাসান হলেই আবার সেই একঘেয়ে জীবনে ফেরা। আর মাত্র এক দিন ছুটি। তারপরই অফিস। আবার অফিস যেতে হবে ভাবলেই মুড অফ হয়ে যায়। আর নবমীর রাতে না চাইতেও মনে আসে এই চিন্তা।

সবচেয়ে কাছের মানুষদের সঙ্গে কাটান, নিজের সবচেয়ে পছন্দের রেস্তোরাঁয় খেতে যান, সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটা পরুন। যাতে এর পরেও এই বছরের নবমী নিশির কথা ভাবলে আপনার মনটা খুশিতে ভরে ওঠে। নবমী নিশিটা তাই রাখুন এক্সক্লুসিভলি পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্য। শেষবেলাটা পরিবারের সঙ্গে কাটালে দেখবেন পুজো চলে গেলেও মন খারাপ হবে না।

Dhunuchi Naach

কুমারী পূজার ইতিহাস

মাতৃপূজার প্রচলন পৃথিবীর বিভিন্নভাবে দেখা গেলেও ভারতবর্ষের মতো শক্তির সাধনা আর কোথাও দেখা যায়না। এখানে বহুরূপে শতনামে শক্তির আরাধনা হয়। দুর্গাপূজার সময় কিছু কিছু পূজামণ্ডপে দেবীর কুমারী রূপের পূজার আয়োজন করা হয়। মহাশক্তির বরেণ্য সাধক-সন্তান শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরীজী তাঁর শ্রীশ্রী দশমহাবিদ্যা গ্রন্থে নানাভাবে দর্শন করেছেন নিখিল ব্রহ্মাণ্ডের প্রসূতী ব্রহ্মবিদ্যারূপিণী আদ্যাশক্তি মা’কে।

তাঁর দৃষ্টিতে এই মা ব্রহ্মশক্তি ব্রহ্মময়ী, নির্গুণ ব্রহ্মের অচিন্ত্যগুণ প্রকাশিনী আদ্যাশক্তি সনাতনী, সমগ্র জীব-জগতের আশ্রয় স্বরূপ। নিষ্কলা হয়েও পরমাকলা-পরম ঐশ্বর্য্যময়ী। তাঁর বাণী- আকাশে আকাশবরণী নিত্য প্রকাশ...ইনি যে- দুহিতর্দিবঃ।। মাগো তুমি যে আকাশেরই মেয়ে! তুমি আকাশ ক্রোড়ে আকাশরাণী।

মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত দেবী মাহাত্ম্য শ্রীশ্রী চণ্ডী নারায়ণীস্ততির পঞ্চদশ শ্লোকে রয়েছে- ‘‘কোমারী রূপ সংস্থানে নারায়ণী নমোহস্তুুতে।।’’ কুমারী কে? অপাপবিদ্ধা নিত্যশুদ্ধা সৃজনকারিণী ব্রহ্মশক্তি। কুমারী ব্রহ্মরূপিণী স্ত্রীশক্তি। এটির ইংরেজী প্রতিশব্দ নিষ্কল পবিত্র ও অসঙ্গা।

তন্ত্রসারে এক থেকে ষোল বছর পর্যন্ত নারীকে কুমারী বলা হয়েছে। বয়স অনুসারে কুমারীর নামকরণও করা হয়েছে। প্রথম বর্ষের কুমারী সন্ধ্যা, দু’বছরের কন্যার নাম সরস্বতী, তৃতীয় বর্ষে তিনি ত্রিধামূর্তি, চতুর্থ বর্ষে কালিকা, পঞ্চম বর্ষে সুভগা, ষষ্ঠা বর্ষে উমা, সপ্তম বর্ষে মালিনী, আট বছরের মেয়ে কুব্জিকা, নয় বছরে কালসর্ন্দভ‍া, দশম বর্ষে অপরাজিতা, একাদশে রুদ্রাণী, দ্বাদশ বর্ষে ভৈরবী, তের বছরের কুমারী মহালক্ষ্মী, চৌদ্দ বছরে পীঠনায়িকা, পনের বছরে তাঁর নাম ক্ষেত্রজা। আর ষোড়শ বর্ষে অম্বিকা। কিন্তু শাস্তের স্পষ্ট নির্দেশ দশ বৎসর বয়স পর্যন্ত কুমারীর পূজা করা উচিত। তার উদ্র্ধে নয়। ‘অত ঊর্ধ্বং ন কর্তব্যং সর্বকার্য্য বিগর্হিতা।’

belur math kumari puja durga

দেবী ভগবতে কুমারীর নামকরণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে এক বছরের কন্যা পূজার যোগ্য নয়। দু’বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত কুমারীর পূজা হবে। কুমারী প্রসন্ন‍া হলে সাধকদের অভীষ্ট প্রদান করেন। এখ‍ানে বয়স অনুসারে নামকরণও পৃথক। দুই বৎসরের কন্যার নাম কুমারিকা, তিন বছরে ত্রিমূর্তি, চতুর্থ বর্ষীয়া কন্যা কল্যাণী, পঞ্চম বর্ষে রোহিণী, ছয় বছরে কালিকা, সপ্তম বর্ষে চণ্ডিকা, আট বছরের কন্যা সুভদ্রা, নয় বছর পর্যন্ত বয়সের কুমারী পূজার ফলও পৃথক পৃ্থক।

দু’বছরের কুমারীর পূজা দ্বারা দুঃখদারিদ্র ও শত্রুনাশ এবং আয়ু বৃদ্ধি হয়। ধনসম্পদ, ধান্যাগম, ও বংশবৃদ্ধি হয়। কল্যাণীর পূজা সাধককে বিদ্বান, সুখী এবং বিজয়ী করে। রোহিণীর পূজায় ধনেশ্বর্য লাভ। ষষ্ঠ বর্ষীয়া শঙ্করী, দুর্গা বা কালিকার অর্চনায় শত্রুরা মোহিত হয়, দারিদ্র ও শত্রু বিনষ্ট হয়। অভীষ্ট সিদ্ধির জন্য সুভদ্রার পূজা বিধেয়। তন্ত্রে যে কোন বর্ণ ও জাতির কুমারীকে দেবী জ্ঞানে পূজার কথা বলা হয়েছে। জগৎজননীর অনন্য প্রকাশ এই কুমারীর মধ্যে। মাতৃ্শক্তি ছাড়া এই জগতে কোন প্রাণের সৃষ্টি কী সম্ভব!

প্রণাম করি সেই মহাভয় বিনাশিনীকে, যিনি নিদারুণ দুঃখ থেকে পরিত্রাণ করেন। তিনি পরম করুণাময়ী, যাঁর স্বরূপ ব্রহ্মাদি দেবতারাও জানেন না, যাঁর কোন অন্ত খুজেঁ পাওয়া যায় না। তাই তিনি জন্মরহিতা হলেও জগতের কল্যাণে আত্মপ্রকাশ করেন। সর্বত্র ব্যাপ্ত হয়ে তিনিই আছেন। তাই তিনি অদ্বিতীয়া-একা।

লক্ষ্য করার বিষয় যে দুর্গাপূজার জন্য শরৎ ও বসন্ত ঋতুই নির্ধারিত। শরৎকালে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজা শারদীয়া এবং বসন্তকালে দেবী দুর্গাার নাম বাসন্তী পূজা। পুরাণে কথিত আছে যে সূর্যের উত্তরায়ণ দেবতাগণের দিবা এবং দক্ষিণায়নে দেবতাগণের রাত্রি। দক্ষিণায়নে দেবতারা নিদ্রিত থাকেন। শরৎকালে পড়ে দক্ষিণায়নে। এসময় দেবতার জাগরণের জন্য শারদীয়া পূজায় দেবীর বোধন ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করা হয়। বোধণ অর্থ জাগরণ বা নিদ্রা থেকে জাগ্রত করা। অকালে অর্থাৎ নিদ্রাকালে দেবীকে জাগিয়ে তোলা হয় বলে শারদীয়া পূজার নাম অকাল বোধন। বসন্তকালে দেবতারা জাগ্রত থাকেন বলে দেবীর বোধন করতে হয় না।

মহাসপ্তমী আজ - ছবি

স্বপ্নে এমনটাই আদেশ ছিল বোধহয় তাঁর। সেই থেকেই কৃষ্ণনগরের চট্টোপাধ্যায় পরিবারে অপরাজিতা রঙের দেবী পুজোর প্রচলন। ভক্তের কাছে তিনি ‘নীল দুর্গা’। বনেদি বাড়ির আনাচে, কানাচের অভিজাত বৈভব, তাঁর রাজকীয় নীল রঙের গায়ে।

এই দিনই তো দৃঢ়চরিত্রা এই বীরাঙ্গনা দেবী যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন মহিষাসুরের সঙ্গে। আসুরিক শক্তিকে নির্মূল করে, পৃথিবীকে দুর্গতি থেকে রক্ষা করেই তিনি হয়েছেন দুর্গতিনাশিনী দুর্গা।

মর্তে তাঁর পুজো আরম্ভ করেন নীলকলেবর শ্রীকৃষ্ণ আবার অকালবোধনে ১০৮ টি নীল পদ্ম অর্পণ করেন শ্রীরামচন্দ্র। সর্বশক্তিময়ীর শক্তির রঙকে উপেক্ষা না করেই, লাল রঙ থাকলো আঁচলে আর কুঁচিতে।

Wednesday, October 1, 2014

নবপত্রিকা এবং কলা বৌ স্নান

মার্কণ্ডেয় পুরানের যুগ থেকে আনুমানিক ১২০০/১৩০০ বছর আগে রামায়নে বর্ণিত না থাকলেও সেকালে নবপত্রিকার নবরাত্রি উৎসব ছিল। নয়টা বিশেষ ঔষধীয় গুন্সম্পন্ন গাছের মানুষ পুজা করত। এই নয়টা গাছ হল কদলী, কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, অশোক, বিল্ব, দাড়িম্ব, মান, ধান্য।

কদলী যেমন খাদ্যমূল্য আছে তেমনি অনেক রগেরও ঔষধ। সর্বাংশ কাজে লাগে। তাই ধরা হয় কদলীতে যে প্রাশক্তির অধিষ্ঠান তার নাম ব্রহ্মাণী। সে কালে আলু ছিল না, লকে কচু খেত। এর বিভিন্ন ধরনের গুন। কচুর মধ্য অনেক গুন থাকায় এর শক্তির যে শক্তির অধিষ্ঠান তাকে বলা হয় কালিকা।

কাচা হলুদ চর্মরোগের ঔষধ। হলুদের হলুদেরগুন থাকায় একে মানুষ পুজা করত। এর পরাশক্তির তার নাম দুর্গা। জয়ন্তী লতা শ্বেতী রোগে ব্যবহার হয়। এতে যে শক্তি আছে তার নাম কার্ত্তিকী। অশোক ফুল নানা রগের ঔষধ। স্ত্রীরোগের ঔষধ অশোকারিষ্ট। এর দেবীর নাম হল শোকরোহিতা।

কাঁচা বেল বহু গুন সম্পন্ন। এর অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম শিবা। দাড়িম্ব বা ডালিম । খাদ্য হিসাবে ঔষধীয় গুন সম্পন্ন । এতে যে দেবীর কল্পনা করা হয় তার নাম রক্তদন্তিকা মান কচুতে যে দেবীর অধিষ্ঠান কল্পনা করা হয় তার নাম চামুণ্ডা।

আর ধানে যে দেবীর অধিষ্ঠান তার নাম মহালক্ষ্মী । নব পত্রিকা বলতে নটা দেবীর কল্পনা করা হত- এগুলো পৌরানিক কল্পনা। এদের জন্য নটা পৃথক রাত্রি হয়েছিল দেবী পক্ষে। পিতৃপক্ষ শেষে প্রতিপদ থেকে নবমী তিথি পর্যন্ত। দেবী দুর্গা প্রবেশ করার আগে ওই নয়টা ঔষধিকে স্নান করিয়ে স্থাপন করা হয়- এক বলে নবপত্রিকার প্রবেশ। যাকে বলে কলা বৌ।

লোকের ধারনা কলা বৌ বুঝি গণেশের বৌ। কলা বৌ গণেশের বৌ নয় বরং মা। দেবতাদের বা দিকে থাকে দেবী। কিন্তু গণেশের দান দিকে আছে কলা বৌ । নবপত্রিকা উৎসবকে উত্তর ভারতের লোকারা নব রাত্রি উৎসব বলে। বাঙলায় নবাব হোসেন সাহের সময় রামের জয় কে কেন্দ্র করে কংসনারায়ণ রায় এর প্রবর্তন করেন।